লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৭]

প্রথম আসক্তি সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, আসক্তি রোগ, আসক্তি ব্রণ (ফোঁড়া) ও আসক্তি শল্য (তীক্ষ্ণ ছুরি) সদৃশ। সেইজন্য হে ভিক্ষুগণ, তথাগত অনাসক্ত (তৃষ্ণাবিমুক্ত), বীতশল্য হয়ে অবস্থান করেন। হে ভিক্ষুগণ, যদি কোনো ভিক্ষু এরূপ আকাঙ্ক্ষা করে, ‘আমি অনাসক্ত ও বীতশল্য হয়ে অবস্থান করব।’ তাহলে সেই ভিক্ষু ‘চক্ষু’ বলে মনে করতে পারবে না;‘চক্ষুতে’ বলে মনে করতে পারবে না;‘চক্ষু হতে’ বলে মনে করতে পারবে না;‘চক্ষু আমার’ বলে মনে করতে পারবে না। ‘রূপ’ বলে মনে করতে পারবে না; ‘রূপে’ বলে মনে করতে পারবে না; ‘রূপ হতে’ বলে মনে করতে পারবে না; ‘রূপ আমার’ বলে মনে করতে পারবে না। ‘চক্ষু-বিজ্ঞান’ বলে মনে করতে পারবে না;‘চক্ষু-বিজ্ঞানে’ বলে মনে করতে পারবে না, ‘চক্ষু-বিজ্ঞান হতে’ বলে মনে করতে পারবে না;‘চক্ষু-বিজ্ঞান আমার’ বলে মনে করতে পারবে না। ‘চক্ষু-সংস্পর্শ’ বলে মনে করতে পারবে না;‘চক্ষু-সংস্পর্শে’ বলে মনে করতে পারবে না;‘চক্ষু-সংস্পর্শ হতে’ বলে মনে করতে পারবে না;‘চক্ষু-সংস্পর্শ’ আমার বলে মনে করতে পারবে না। চক্ষু-সংস্পর্শ হেতু যে সুখ বা দুঃখ বা অদুঃখ-অসুখ-বেদনা উৎপন্ন হয়, ‘তা’ ও বলে মনে করতে পারবে না; ‘তাতে’ ও মনে করতে পারবে না; ‘তা হতে’ বলে মনে করতে পারবে না; ‘তা আমার’ বলেও মনে করতে পারবে না।”

শ্রোত্র, ঘ্রাণ, জিহ্বা, কায়, মন ও সর্ব সম্পর্কেও এইরূপ।

তিনি এভাবে মনে না করার সময় জগতে কোনো কিছুতে আসক্তি উৎপাদন করেন না, অনাসক্তি হেতু উদ্বিগ্ন হন না, অনুদ্বিগ্ন অবস্থায় তিনি স্বয়ং পরিনির্বাপিত হন এবং প্রকৃষ্টরূপে জানতে পারেন, ‘(আমার) জন্মবীজ ক্ষীণ হয়েছে, ব্রহ্মচর্যব্রত উদ্‌যাপিত হয়েছে, করণীয় কার্য কৃত হয়েছে, এ জীবনে (আসবক্ষয়ের জন্য) আর অন্য কর্তব্য নাই।”

সপ্তম সূত্র সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [১]