লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২৩]

প্রস্তরখণ্ড সূত্র

আমি এরূপ শুনেছি। একসময় ভগবান রাজগৃহের মর্দনকুক্ষি মৃগদায়ে অবস্থান করছেন। সে-সময়ে ভগবানের পা প্রস্তরখণ্ডে বিক্ষত হয়েছিল। তাই দীর্ঘকাল ধরে ভগবানের শারীরিক দুঃখ-বেদনা তীব্র, তীক্ষ্ণ, কটু, বিরক্তিকর ও অমনোজ্ঞ লাগছে। ভগবান ব্যথিত না হয়ে স্মৃতি-সম্প্রজ্ঞানে সেই বেদনা সহ্য করছেন। তখন ভগবান চার ভাঁজযুক্ত সঙ্ঘাটি বিছালেন এবং (তার ওপর) দক্ষিণপার্শ্ব হয়ে পায়ের ওপর পা রেখে স্মৃতি-সম্প্রজ্ঞানে সিংহশয্যায় শয়ন করলেন। অতঃপর পাপীরাজ মার ভগবানের কাছে উপস্থিত হয়ে ভগবানকে গাথায় বলল :

‘অলসভাবে বা (কবির ন্যায়) চিন্তামগ্ন হয়ে শয়ন করছেন কেন? আপনার তো বহু প্রকার অর্থ (হিত বা সুখ বা সাফল্য) নেই। তাহলে একাকী নির্জন শয়নাসনে নিদ্রামগ্ন হয়ে কেন শয়ন করছেন?’

(তখন ভগবান বললেন)

‘আমি অলসভাবে কিংবা চিন্তামগ্ন হয়ে শয়ন করছি না। আমি শোক ধ্বংস করে অর্থ (হিত বা সুখ বা সাফল্য) অর্জন করেছি। তাই সকল প্রাণীর প্রতি হিতানুকম্পী হয়ে একাকী নির্জন শয়নাসনে শয়ন করছি।

‘যাদের বৰে শল্য প্রবিষ্ট, শরাঘাতে যাদের হৃদয় মুহুর্মুহু কম্পমান; শল্যবিদ্ধ হয়ে তারাও নিদ্রামগ্ন হয়, আর আমি শল্যবিহীন হয়ে কেন শয়ন করব না?

‘আমি (সিংহাদির গমনাগমন পথে) জাগরিত হতেও শঙ্খিত হই না, শয়ন করতেও ভয় পাই না। দিবা-রাত্রি আমার কোনো অনুতাপ হয় না। জগতের কোথাও আমার পরিহানি দেখতে পাই না। তাই আমি সকল প্রাণীর প্রতি হিতানুকম্পী হয়ে শয়ন করি।’

তখন পাপীরাজ মার ‘ভগবান আমাকে জেনেছেন, সুগত আমাকে জেনেছেন’ বলে দুঃখী ও দুর্মনা হয়ে সেখানেই অন্তর্ধান করল।

ব্যাখ্যা [২]