লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২১]

রাজত্ব সূত্র

একসময় ভগবান কোশলরাজ্যে হিমালয় পর্বতের অরণ্যকুঠিরে অবস্থান করছেন। তখন নির্জনে, নিভৃতে অবস্থানের সময় ভগবানের এরূপ চিত্তবিতর্ক উৎপন্ন হলো : ‘হত্যা না করে, হত্যা না করিয়ে, (পরের ধন) বাজেয়াপ্ত না করে, বাজেয়াপ্ত না করিয়ে, অনুশোচনা না করে, অনুশোচনা না করিয়ে ধর্মতভাবে রাজত্ব করা সম্ভব কি?

তখন পাপীরাজ মার ভগবানের চিত্তপরিবিতর্ক জ্ঞাত হলো এবং ভগবানের কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, ‘ভন্তে, হত্যা না করে, হত্যা না করিয়ে, (পরের ধন) বাজেয়াপ্ত না করে, বাজেয়াপ্ত না করিয়ে, অনুশোচনা না করে, অনুশোচনা না করিয়ে ধর্মতভাবে ভগবান রাজত্ব করুক, সুগত রাজত্ব করুক।’ ‘হে পাপীমার, তুমি আমার মধ্যে কী দেখ যে আমাকে এরূপ বলছ, ‘ভন্তে, হত্যা না করে, হত্যা না করিয়ে, (পরের ধন) বাজেয়াপ্ত না করে, বাজেয়াপ্ত না করিয়ে, অনুশোচনা না করে, অনুশোচনা না করিয়ে ধর্মতভাবে ভগবান রাজত্ব করুক, সুগত রাজত্ব করুক?’ ‘ভন্তে, ভগবানের চারি ঋদ্ধিপাদ ভাবিত, বহুলীকৃত, অর্জিত, আয়ত্ত, উৎপাদিত, সুপরিচিত ও উত্তমরূপে গৃহীত হয়েছে। ভগবান ইচ্ছা করলে পর্বতরাজ হিমালয়কে (স্বর্ণে রূপান্তরিত করার সংকল্পাবদ্ধ হয়ে) স্বর্ণ বলে চিন্তা করলে হিমালয় পর্বত স্বর্ণে পরিণত হবে।’

(তখন ভগবান বললেন :)

‘দুটি বিশুদ্ধ সুবর্ণময় পর্বতও একজনের পক্ষে যথেষ্ট নয়, এটি জ্ঞাত হয়ে সমচর্যা করা উচিত। যিনি দুঃখের মূল কারণ দেখেছেন, তিনি কীভাবে কামগুলোতে (পঞ্চকামগুণে) নত হবেন? তাই জগতে উপধিকে (আসক্তিকে) ‘বন্ধন’ বলে জ্ঞাত হয়ে (উপধি) বিনাশের জন্য মানুষের শিক্ষা করা উচিত।’

তখন পাপীরাজ মার ‘ভগবান আমাকে জেনেছেন, সুগত আমাকে জেনেছেন’ বলে দুঃখী ও দুর্মনা হয়ে সেখানেই অন্তর্ধান করল।

দ্বিতীয় বর্গ সমাপ্ত।

স্মারক-গাথা :

পাষাণ, সীংহ, প্রস্তরখণ্ড, উপযুক্ত, মানস;
পাত্র, আয়তন, পিণ্ড, কৃষক, রাজত্বে দশ।

ব্যাখ্যা [২]