লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২০]

বহুসংখ্যক সূত্র

আমি এরূপ শুনেছি। একসময় ভগবান শাক্যরাজ্যের শিলাবতীতে অবস্থান করছেন। সে-সময়ে বহুসংখ্যক ভিক্ষু ভগবানের অনতিদূরে অপ্রমত্ত, বীর্যসম্পন্ন ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে অবস্থান করছেন। তখন পাপীরাজ মার বৃহৎ বেণীবদ্ধ কেশরাজিসম্পন্ন, মৃগচর্ম নির্মিত বস্ত্র পরিহিত, জরাজীর্ণ-বক্রদেহসম্পন্ন ব্রাহ্মণবেশ ধারণ করল এবং উদুম্বর দণ্ড গ্রহণপূর্বক হাঁপাতে হাঁপাতে ভিক্ষুগণের নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, ‘ভদন্তগণ, আপনারা গাঢ় কালোবর্ণ চুলসম্পন্ন, তরুণকালে প্রব্রজিত, (জীবনের) প্রথম বয়সের সুন্দর যৌবনে স্থিত, পঞ্চকামগুণে অননুরক্ত। ভদন্তগণ, মনুষ্যকাম (পঞ্চকামগুণ) উপভোগ করুন। সন্দৃষ্টিক (দৃশ্যমান ভোগ বা সুখ) ত্যাগ করে ক্ষণিক (সুখের) পশ্চাদ্ধাবন করবেন না।’ ‘হে ব্রাহ্মণ, আমরা সন্দৃষ্টিক (দৃশ্যমান ভোগ বা সুখ) ত্যাগ করে ক্ষণিক (সুখের) পশ্চাদ্ধাবন করছি না। আমরা ক্ষণিক (সুখ) ত্যাগ করেই সন্দৃষ্টিক (সুখের) পশ্চাদ্ধাবন করছি। কারণ, ক্ষণস্থায়ী কামগুলোকে ভগবান বহু দুঃখ, বহু কষ্ট ও অধিকতর আদীনব বলেছেন। এই ধর্ম সন্দৃষ্টিক, অকালিক, এসে দেখার যোগ্য, (নির্বাণে) ঔপনায়িক, এবং বিজ্ঞগণ কর্তৃক স্বয়ং জ্ঞাতব্য।’ এরূপ বলা হলে পাপীরাজ মার মাথা নত করে জিহ্বা নিঃসারণপূর্বক কপালে ত্রিবিধ ভ্রূকুটি তুলল এবং লাঠিতে ভর করে প্রস্থান করল।

অতঃপর সেই ভিক্ষুগণ ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদনপূর্বক একান্তে উপবেশন করলেন। একান্তে উপবিষ্ট সেই ভিক্ষুগণ ভগবানকে বললেন, ‘ভন্তে, এখানে আমরা ভগবানের অনতিদূরে অপ্রমত্ত, বীর্যসম্পন্ন ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে অবস্থান করছিলাম। তখন বৃহৎ বেণীবদ্ধ কেশরাজিসম্পন্ন, মৃগচর্মনির্মিত বস্ত্র পরিহিত, জরাজীর্ণ-বক্রদেহসম্পন্ন জনৈক ব্রাহ্মণ উদুম্বর দণ্ড গ্রহণপূর্বক হাঁপাতে হাঁপাতে আমাদের কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, ‘ভদন্তগণ, আপনারা গাঢ় কালোবর্ণ চুলসম্পন্ন, তরুণকালে প্রব্রজিত, (জীবনের) প্রথম বয়সের সুন্দর যৌবনে স্থিত, পঞ্চকামগুণে অননুরক্ত। ভদন্তগণ, মনুষ্যকাম (পঞ্চকামগুণ) উপভোগ করুন। সন্দৃষ্টিক (দৃশ্যমান ভোগ বা সুখ) ত্যাগ করে ক্ষণিক (সুখের) পশ্চাদ্ধাবন করবেন না।’ এরূপ বলা হলে আমরা সেই ব্রাহ্মণকে বললাম, ‘হে ব্রাহ্মণ, আমরা সন্দৃষ্টিক (দৃশ্যমান ভোগ বা সুখ) ত্যাগ করে ক্ষণিক (সুখের) পশ্চাদ্ধাবন করছি না। আমরা ক্ষণিক (সুখ) ত্যাগ করেই সন্দৃষ্টিক (সুখের) পশ্চাদ্ধাবন করছি। কারণ, ক্ষণস্থায়ী কামগুলোকে ভগবান বহু দুঃখ, বহু কষ্ট ও অধিকতর আদীনব বলেছেন। এই ধর্ম সন্দৃষ্টিক, অকালিক, এসে দেখার যোগ্য, (নির্বাণে) উপনায়িক, এবং বিজ্ঞগণ কর্তৃক স্বয়ং জ্ঞাতব্য।’ ভন্তে, আমরা এরূপ বললে সেই ব্রহ্মণ মাথা নত করে জিহ্বা নিঃসারণপূর্বক কপালে ত্রিবিধ ভ্রূকুটি তুলল এবং লাঠিতে ভর করে প্রস্থান করল।’

‘হে ভিক্ষুগণ, সে ব্রাহ্মণ নয়। পাপীরাজ মার তোমাদের প্রজ্ঞাচক্ষু বিনাশের জন্য এসেছিল।’ তখন ভগবান এর অর্থ জ্ঞাত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এই গাথাটি ভাষণ করলেন :

“যিনি দুঃখের মূল কারণ দেখেছেন, তিনি কীভাবে কামগুলোতে (পঞ্চকামগুণে) নত হবেন? তাই জগতে উপধিকে (আসক্তিকে) ‘বন্ধন’ বলে জেনে (উপধি) বিনাশের জন্য মানুষের শিক্ষা করা উচিত।”

ব্যাখ্যা [২]