লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৯]

সর্প সূত্র

আমি এরূপ শুনেছি। একসময় ভগবান রাজগৃহের বেলুবন কলন্দকনিবাপে অবস্থান করছেন। সে-সময় ভগবান ঘন-অন্ধকার রাত্রিতে উন্মুক্ত স্থানে উপবিষ্ট ছিলেন এবং গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল।

তখন পাপীরাজ মার ভগবানের ভয়, ত্রাস, লোমহর্ষণ উৎপাদনের জন্য বৃহৎ সর্পরাজবেশ ধারণ করে ভগবানের নিকটে উপস্থিত হলো। তার কায় যেন একটিমাত্র বৃক্ষে নির্মিত বিরাট নৌকা, ফলা বৃহৎ কাঠের বাক্স সদৃশ; চক্ষুযুগল কোশলরাজের (রথচক্র প্রমাণ) মস্তবড় কাঁসার পাত্রের ন্যায়। মেঘ গর্জনকালে বিদ্যুচ্ছটা বের হওয়ার ন্যায় তার মুখ হতে জিহ্বা বের হচ্ছিল, এবং কামারের ভস্ত্রার শব্দের মতো তার শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ হচ্ছিল।

তখন ভগবান ‘ইনি পাপীরাজ মার’ বলে জ্ঞাত হয়ে তাকে গাথায় বললেন :

‘যিনি খোলা জায়গায় অবস্থান করেন সেই মুনিশ্রেষ্ঠ আত্মসংযত হন। তিনি তথায় গৃহবাসের তৃষ্ণা ত্যাগ করে বিচরণ করেন, তা শুধু তাদৃশ মুনির পক্ষেই সমীচীন। সেখানে সিংহ-ব্যাঘ্রাদি বহু প্রাণী, বহু প্রকার প্রচ- ভীতি এবং নানাবিধ ডাঁশ-সরীসৃপের বিচরণ করলেও সেই মহামুনির লোমও কম্পিত হয় না, শূন্যাগার হতেও স্থানান্তরে যান না। যদি আকাশ বিদীর্ণ হয়, পৃথিবী কম্পিত হয়, সমস্ত প্রাণীকুল সন্ত্রস্ত হয়, এমনকি বুকে (বা হৃদয়ে) শল্য বিদ্ধ করে, তবুও বুদ্ধগণ আসক্তিবশে পঞ্চস্কন্ধের রক্ষা করেন না।’

তখন পাপীরাজ মার ‘ভগবান আমাকে জেনেছেন, সুগত আমাকে জেনেছেন’ বলে দুঃখী ও দুর্মনা হয়ে সেখানেই অন্তর্ধান করল।

ব্যাখ্যা [২]