এক সময় অনেক স্থবির ভিক্ষু মচ্ছিকাসন্ডে অবস্থান করছিলেন, আম্রবনে। সে সময় একদিন অনেক স্থবির ভিক্ষু পিণ্ডাচরণ হতে প্রত্যাবর্তনের পর আহার কৃত্য সম্পাদন করে মন্ডলমালে (বৃত্তাকার কক্ষে) একত্রিত ও উপবিষ্ট হলে তাদের মধ্যে এই ধর্মালোচনা আরম্ভ হলো, “বন্ধুগণ, সংযোজন বা সংযোজনীয় ধর্মসমূহ কি অর্থত ও ব্যঞ্জনত পৃথক পৃথক নাকি অর্থত এক কিন্তু ব্যঞ্জনত পৃথক পৃথক?” তখন কিছু কিছু স্থবির ভিক্ষু বললেন, “বন্ধুগণ, সংযোজন বা সংযোজনীয় ধর্মসমূহ অর্থত ও ব্যঞ্জনত পৃথক পৃথক”। অপর কিছু কিছু স্থবির ভিক্ষু বললেন, “বন্ধুগণ, সংযোজন বা সংযোজনীয় ধর্মসমূহ অর্থত এক কিন্তু ব্যঞ্জনত পৃথক পৃথক।”
সেই সময় চিত্ত গৃহপতি কোনো কার্যোপলক্ষে মিগপথকে উপস্থিত হলেন। তিনি শুনলেন যে অনেক স্থবির ভিক্ষু নাকি পিণ্ডাচরণ হতে প্রত্যাবর্তনের পর আহারকৃত্য সম্পাদন করে মন্ডলমালে (বৃত্তাকার কক্ষে) একত্রিত ও উপবিষ্ট হলে তাদের মধ্যে এই ধর্মালোচনা আরম্ভ হলো, “বন্ধুগণ, সংযোজন বা সংযোজনীয় ধর্মসমূহ কি অর্থত ও ব্যঞ্জনত পৃথক পৃথক নাকি অর্থত এক ব্যঞ্জনত পৃথক পৃথক?” তখন কিছু কিছু স্থবির ভিক্ষু বললেন, “বন্ধুগণ, সংযোজন বা সংযোজনীয় ধর্মসমূহ অর্থত ও ব্যঞ্জনত পৃথক পৃথক”। অপর কিছু কিছু স্থবির ভিক্ষু বললেন, “বন্ধুগণ, সংযোজন বা সংযোজনীয় ধর্মসমূহ অর্থত এক কিন্তু ব্যঞ্জনত পৃথক পৃথক।”
তখন চিত্ত গৃহপতি যেখানে স্থবির ভিক্ষুগণ ছিলেন সেখানে উপস্থিত হয়ে স্থবির ভিক্ষুগণকে অভিবাদন করে একপাশে বসলেন। একপাশে উপবিষ্ট চিত্ত গৃহপতি স্থবির ভিক্ষুগণকে বললেন, “ভন্তে, আমি এরূপ শুনেছি। অনেক স্থবির ভিক্ষু নাকি পিণ্ডাচরণ হতে প্রত্যাবর্তনের পর আহার কৃত্য সম্পাদন করে মন্ডলমালে (বৃত্তাকার কক্ষে) একত্রিত ও উপবিষ্ট হলে তাঁদের মধ্যে এই ধর্মালোচনা আরম্ভ হলো, ‘বন্ধুগণ, সংযোজন বা সংযোজনীয় ধর্মসমূহ কি অর্থত ও ব্যঞ্জনত পৃথক পৃথক নাকি অর্থত এক কিন্তু ব্যঞ্জনত পৃথক পৃথক?’ তখন কিছু কিছু স্থবির ভিক্ষু বললেন, ‘বন্ধুগণ, সংযোজন বা সংযোজনীয় ধর্মসমূহ অর্থত ও ব্যঞ্জনত পৃথক পৃথক।’ অপর কিছু কিছু স্থবির ভিক্ষু বললেন, ‘বন্ধুগণ, সংযোজন বা সংযোজনীয় ধর্মসমূহ অর্থত এক কিন্তু ব্যঞ্জনত পৃথক পৃথক’। “গৃহপতি তা এরূপই।”
“ভন্তে, সংযোজন বা সংযোজনীয় ধর্মসমূহ অর্থত ও ব্যঞ্জনত পৃথক পৃথক। তদ্ধেতু ভন্তে, আমি আপনাদেরকে (এ বিষয়ে) উপমা প্রদান করব। এখানে কোনো কোনো বিজ্ঞ পুরুষ উপমা প্রয়োগেও ভাষিত বিষয়ের অর্থ বুঝতে সক্ষম হন। যেমন ভন্তে, একটি কালো ষাঁড় ও একটি শ্বেত ষাঁড় একটি রজ্জু (রশি) বা জোয়াল দ্বারা সংযুক্ত আছে। যে ব্যক্তি এরূপ বলে, ‘কালো ষাঁড়টি শ্বেত ষাঁড়ের সংযোজন (বন্ধন), শ্বেত ষাঁড়টি কালো ষাঁড়ের সংযোজন (বন্ধনের কারণ)’। “এরূপ ভাষণকারী কি যথার্থই (সম্যক) বলেন?” “গৃহপতি, নিশ্চয়ই নয়।” “ভন্তে, কালো ষাঁড়টিও শ্বেত ষাঁড়ের সংযোজন নয়, শ্বেত ষাঁড়ও কালো ষাঁড়ের সংযোজন নয়। যে রজ্জু (রশি) বা জোয়াল দ্বারা ষাঁড়গুলো সংযুক্ত (আবদ্ধ) তা-ই সেখানে সংযোজন।”
“একইভাবে ভন্তে, চক্ষুও রূপসমূহের সংযোজন নয়, রূপসমূহও চক্ষুর সংযোজন নয়। তথায় তদুভয়ের প্রত্যয়ে উৎপন্ন যে ছন্দরাগ, তা সেখানে সংযোজন। শ্রোত্রও (কর্ণ) শব্দসমূহের সংযোজন নয়, শব্দসমূহও শ্রোত্রের সংযোজন নয়। তথায় তদুভয়ের প্রত্যয়ে উৎপন্ন যে ছন্দরাগ, তা-ই সেখানে সংযোজন। ঘ্রাণও (নাসিকা) গন্ধসমূহের সংযোজন নয়, গন্ধসমূহও ঘ্রাণের সংযোজন নয়। তথায় তদুভয়ের প্রত্যয়ে উৎপন্ন যে ছন্দরাগ, তা সেখানে সংযোজন। জিহ্বাও রসসমূহের সংযোজন নয়, রসসমূহও জিহ্বার সংযোজন নয়। তথায় তদুভয়ের প্রত্যয়ে উৎপন্ন যে ছন্দরাগ, তা সেখানে সংযোজন। কায়ও স্প্রষ্টব্যসমূহের সংযোজন নয়, স্প্রষ্টব্যসমূহও কায়ের সংযোজন নয়। তথায় তদুভয়ের প্রত্যয়ে উৎপন্ন যে ছন্দরাগ তা সেখানে সংযোজন। মনও ধর্মসমূহের সংযোজন নয়, ধর্মসমূহও মনের সংযোজন নয়। তথায় তদুভয়ের প্রত্যয়ে উৎপন্ন যে ছন্দরাগ, তা সেখানে সংযোজন।”
“হে গৃহপতি, আপনার পক্ষে ইহা লাভ, সুলাভ যে, গম্ভীর বুদ্ধবচনে আপনার প্রজ্ঞাচক্ষু উৎপন্ন হয়েছে।”
প্রথম সূত্র সমাপ্ত।
ব্যাখ্যা [১]
English