তখন যোদ্ধা দলপতি যেখানে ভগবান ছিলেন সেখানে উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদন করে একপাশে উপবেশন করলেন। একপাশে উপবিষ্ট যোদ্ধা দলপতি ভগবানকে বললেন, “ভন্তে, আমি প্রাচীন যোদ্ধাচার্য-প্রাচার্যগণের মুখে বলতে শুনেছি-যে যোদ্ধা সংগ্রামে উৎসাহিত হয়, প্রচেষ্টা করে; সেই উৎসাহ ও প্রচেষ্টায় অপরকে উৎপীড়িত করে, হত্যা করে; সে দেহত্যাগে মৃত্যুর পর ‘পরজিত’ নামক দেবতাদের সাহচর্যে উৎপন্ন হয়। এ বিষয়ে ভগবানের অভিমত কী?”
“নিরর্থক দলপতি, রেখে দাও, তা আমাকে জিজ্ঞেস করো না।”
দ্বিতীয়বারও যোদ্ধা দলপতি ভগবানকে বললেন, “ভন্তে, আমি প্রাচীন যোদ্ধাচার্য-প্রাচার্যগণের মুখে বলতে শুনেছি, ‘যে যোদ্ধা সংগ্রামে উৎসাহিত হয়, প্রচেষ্টা করে; সেই উৎসাহ ও প্রচেষ্টায় অপরকে উৎপীড়িত করে, হত্যা করে; সে দেহত্যাগে মৃত্যুর পর ‘পরজিত’ নামক দেবতাদের সাহচর্যে উৎপন্ন হয়।’ এ বিষয়ে ভগবানের অভিমত কী?”
“নিরর্থক দলপতি, রেখে দাও, তা আমাকে জিজ্ঞেস করো না।”
তৃতীয়বারও যোদ্ধা দলপতি ভগবানকে বললেন, “ভন্তে, আমি প্রাচীন যোদ্ধাচার্য-প্রাচার্যগণের মুখে বলতে শুনেছি-যে যোদ্ধা সংগ্রামে উৎসাহিত হয়, প্রচেষ্টা করে; সেই উৎসাহ ও প্রচেষ্টায় অপরকে উৎপীড়িত করে, হত্যা করে; সে দেহত্যাগে মৃত্যুর পর ‘পরজিত’ নামক দেবতাদের সাহচর্যে উৎপন্ন হয়।’ এ বিষয়ে ভগবানের অভিমত কী?”
“দলপতি, সত্যিই আমি তোমাকে বুঝাতে পারলাম না যে, তা নিরর্থক। তা রেখে দাও, আমাকে জিজ্ঞেস করো না। বেশ, তথাপি তোমাকে বর্ণনা করব।”
“হে দলপতি, যে সংগ্রামে উৎসাহিত হয়, প্রচেষ্টা করে, তার চিত্তে পূর্ব হতে এই দুষ্কর (গর্হিত) দুরাকাঙ্ক্ষা গৃহীত হয়, এই সত্ত্বগণ নিহত হোক, বন্দী হোক, নির্মূল (উচ্ছেদ) হোক, বিনাশ হোক, জীবিত না থাকুক। সেই উৎসাহ ও প্রচেষ্টায় অপরকে উৎপীড়িত করে, নিহত করে; সে দেহত্যাগে মৃত্যুর পর ‘পরজিত’ নামক নরকে উৎপন্ন হয়। যদি তার এই ধারণা হয় যে ‘যে যোদ্ধা সংগ্রামে উৎসাহিত হয়, প্রচেষ্টা করে; সেই উৎসাহ ও প্রচেষ্টায় অপরকে উৎপীড়িত করে, হত্যা করে; সে দেহত্যাগে মৃত্যুর পর ‘পরজিত’ নামক দেবতাদের সাহচর্যে উৎপন্ন হয়।’ তবে তা তার মিথ্যাদৃষ্টি। দলপতি, মিথ্যাদৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষ-পুদ্গলের পক্ষে নরক ও তির্যক (পশু) যোনি এই দ্বিবিধ গতির অন্যতর গতিই (লভ্য) বলছি।”
এরূপ উক্ত হলে যোদ্ধা দলপতি রোদন আরম্ভ করল, অশ্রু মোচন করতে লাগল। “হে দলপতি, সত্যিই আমি তোমাকে নিরস্ত করতে পারলাম না যে, তা নিরর্থক, স্থগিত রাখ, তা আমাকে জিজ্ঞেস করো না।”
“ভগবান আমাকে ইহা বলেছেন, সেজন্য আমি রোদন করছি না। অথচ ভন্তে, দীর্ঘদিন যাবৎ প্রাচীন যোদ্ধাচার্য-প্রাচার্যগণ আমাকে এরূপ বলে প্রতারিত, বঞ্চিত ও প্রলুব্ধ করেছে, ‘যে যোদ্ধা সংগ্রামে উৎসাহিত হয়, প্রচেষ্টা করে; সেই উৎসাহ ও প্রচেষ্টায় অপরকে উৎপীড়িত করে, হত্যা করে; সে দেহত্যাগে মৃত্যুর পর ‘পরজিত’ নামক দেবতাদের সাহচর্যে উৎপন্ন হয়।”
“অতি সুন্দর ভন্তে! অতি মনোহর ভন্তে! যেমন কেহ অধোমুখীকে ঊর্ধ্বমুখী করে, আবৃতকে অনাবৃত করে, ভ্রান্ত পথিককে পথ প্রদর্শন করে অথবা অন্ধকারে তৈলপ্রদীপ ধারণ করে যাতে চক্ষুষ্মান ব্যক্তি রূপ (দৃশ্য বস্তু)-সমূহ দেখতে পায়; এরূপে ভন্তে! ভগবান কর্তৃক বিবিধ পর্যায়ে বিবিধ যুক্তিতে ধর্ম প্রকাশিত হয়েছে। ভন্তে! আমি ভগবানের ও ভগবৎ প্রতিষ্ঠিত ধর্ম এবং ভিক্ষুসংঘের শরণাগত হচ্ছি; আজ হতে আমরণ ভগবান আমাকে শরণাগত উপাসকরূপে গ্রহণ করুন।”
তৃতীয় সূত্র সমাপ্ত।
ব্যাখ্যা [১]
English