লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২৪]

বিভঙ্গ সূত্র

শ্রাবস্তী নিদান। “হে ভিক্ষুগণ, আমি তোমাদের আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ দেশনা এবং বিশ্লেষণ করব। তা তোমরা উত্তমরূপে মনোযোগের সাথে শ্রবণ কর, আমি ভাষণ করছি। “হ্যাঁ ভন্তে,” বলে সেই ভিক্ষুগণ ভগবানকে প্রত্যুত্তর দিলেন। অতঃপর ভগবান এরূপ বলতে লাগলেন :

“হে ভিক্ষুগণ, সেই আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ কী কী? যথা : সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক জীবিকা, সম্যক প্রচেষ্টা, সম্যক স্মৃতি ও সম্যক সমাধি।

ভিক্ষুগণ, সম্যক দৃষ্টি কাকে বলে? দুঃখে জ্ঞান, দুঃখ-সমুদয়ে জ্ঞান, দুঃখ-নিরোধে জ্ঞান ও দুঃখ-নিরোধের উপায় বা প্রতিপদায় জ্ঞানকে সম্যক দৃষ্টি বলা হয়।

ভিক্ষুগণ, সম্যক সংকল্প কাকে বলে? নৈষ্ক্রম্য সংকল্প, অব্যাপাদ সংকল্প ও অবিহিংসা সংকল্পকে সম্যক সংকল্প বলা হয়।

ভিক্ষুগণ, সম্যক বাক্য কাকে বলে? মিথ্যা বাক্য, পিশুন বাক্য, পরুষ বাক্য ও সম্প্রলাপ বাক্য হতে বিরত হওয়াকে সম্যক বাক্য বলা হয়।

ভিক্ষুগণ, সম্যক কর্ম কাকে বলে? প্রাণিহত্যা, চুরি ও মিথ্যাকামাচার হতে বিরত থাকাকেই সম্যক কর্ম বলা হয়।

ভিক্ষুগণ, সম্যক জীবিকা কাকে বলে? এক্ষেত্রে আর্যশ্রাবক মিথ্যা জীবিকা পরিত্যাগপূর্বক সম্যক জীবিকা দ্বারা জীবিকানির্বাহ করেন; ইহাকেই সম্যক জীবিকা বলা হয়।

ভিক্ষুগণ, সম্যক প্রচেষ্টা কাকে বলে? এক্ষেত্রে ভিক্ষু অনুৎপন্ন পাপ ও অকুশল বিষয় অনুৎপাদনের জন্য প্রচেষ্টা করে; উৎপন্ন পাপ ও অকুশল বিষয় পরিত্যাগের জন্য চেষ্টা চালায়; অনুৎপন্ন কুশল উৎপাদনের জন্য ও উৎপন্ন কুশলের স্থিতি, সুরক্ষা, বৃদ্ধি, বৈপুল্য, বর্ধন ও পূর্ণতার জন্য ইচ্ছা পোষণ করে, প্রচেষ্টা করে, বীর্য প্রয়োগ করে এবং চিত্তকে তাতে নিয়োজিত করে ও সাগ্রহে চেষ্টা করে। ভিক্ষুগণ, ইহাকেই সম্যক ব্যায়াম বলা হয়।

ভিক্ষুগণ, সম্যক স্মৃতি কাকে বলে ? এক্ষেত্রে ভিক্ষু উদ্যমশীল, সম্প্রজ্ঞানী ও স্মৃতিমান হয়ে এবং জগতে অভিধ্যা ও দৌর্মনস্য অপনোদন করে কায়ে কায়ানুদর্শী হয়ে অবস্থান করে। একইভাবে সে উদ্যমশীল, সম্প্রজ্ঞানী ও স্মৃতিমান হয়ে এবং জগতে অভিধ্যা ও দৌর্মনস্য অপনোদন করে বেদনায় বেদনানুদর্শী, চিত্তে চিত্তানুদর্শী এবং ধর্মেও ধর্মানুদর্শী হয়ে অবস্থান করে। ইহাকে সম্যক স্মৃতি বলা হয়।

ভিক্ষুগণ, সম্যক সমাধি কাকে বলে? এক্ষেত্রে ভিক্ষু কামনা ও অকুশল বিষয়সমূহ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিতর্ক, বিচার ও নির্জনতাজনিত প্রীতি-সুখসমন্বিত প্রথম ধ্যান লাভ করে অবস্থান করে। সে বিতর্ক ও বিচার প্রশমিত হওয়ার দরুন অভ্যন্তরীণ সম্প্রসাদ ও চিত্তের একাগ্রতাযুক্ত, বিতর্ক বিচারহীন এবং সমাধিজনিত প্রীতি-সুখসমন্বিত দ্বিতীয় ধ্যানস্তর লাভ করে অবস্থান করে । প্রীতিতে বিরাগ উৎপন্ন হওয়ায় সে উপেক্ষাশীল বা সুখ-দুঃখে-সমভাবাপন্ন হয়ে অবস্থান করে। সে স্মৃতিমান ও সম্প্রজ্ঞানী হয়ে দৈহিক সুখ অনুভব করে। যে অবস্থায় থাকলে আর্যগণ ‘উপেক্ষাশীল স্মৃতিমান সুখবিহারী’ বলে অভিহিত করে, সেই তৃতীয় ধ্যানস্তর লাভ করে অবস্থান করে। সে সুখ-দুঃখের প্রহানে এবং পূর্বেই মানসিক সৌমনস্য-দৌর্মনস্যের অস্তগমন করে সুখ-দুঃখহীন ‘উপেক্ষা-স্মৃতি-পরিশুদ্ধি’ নামক চতুর্থ ধ্যানস্তর লাভ করে অবস্থান করে। ভিক্ষুগণ, ইহাকেই বলা হয় সম্যক সমাধি।” অষ্টম সূত্র।

ব্যাখ্যা [১]