“হে ভিক্ষুগণ, যে ভিক্ষুরা শীলসম্পন্ন, সমাধিসম্পন্ন, জ্ঞানসম্পন্ন, বিমুক্তিসম্পন্ন ও বিমুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন; আমি বলি, সেইসব ভিক্ষুগণের দর্শনেও খুব উপকার হয়। সেইসব ভিক্ষুগণের দেশনা শ্রবণ করলে, সমীপে আগমন করলে, অনুস্মরণ করলে ও তাঁদের নিকট প্রব্রজিত হলে মহা-উপকার হয়। তার কারণ কী? ভিক্ষুগণ, সেরূপ ভিক্ষুগণের ধর্মশ্রবণ করে নিভৃত ও নির্জনে দ্বিবিধ প্রকারে অবস্থান করা যায়। যথা : কায় নির্জনতা ও চিত্তের নির্জনতা। সে সেরূপে নির্জনে অবস্থানকালে সেই ধর্ম অনুস্মরণ ও চিন্তা করে থাকে।
ভিক্ষুগণ, যেই সময়ে ভিক্ষু সেরূপে নির্জনে অবস্থানকালে সেই ধর্ম অনুস্মরণ ও চিন্তা করে, সেই সময়ে তার স্মৃতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ আরব্ধ (গৃহীত) হয়; সেই সময়ে সে স্মৃতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত করে (ভাবে) এবং সেই সময়ে তার স্মৃতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা (অনুশীলন) পরিপূর্ণ হয়। সে সেরূপে স্মৃতিমান হয়ে অবস্থানকালে সেই ধর্ম প্রজ্ঞা দ্বারা গবেষণা করে, পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে অনুসন্ধান করে, বিচার ও পরীক্ষা করে।
ভিক্ষুগণ, যেই সময়ে ভিক্ষু সেইরূপে স্মৃতিমান হয়ে অবস্থানকালে সেই ধর্ম প্রজ্ঞা দ্বারা গবেষণা, পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে অনুসন্ধান, বিচার ও পরীক্ষা করে, সেই সময়ে তার ধর্মবিচয়-সম্বোজ্ঝাঙ্গ আরব্ধ (গৃহীত) হয়; সেই সময়ে সে ধর্মবিচয়-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত করে এবং সেই সময়ে তার ধর্মবিচয়-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা (অনুশীলন) পরিপূর্ণ হয়। সেই ধর্ম তার প্রজ্ঞা দ্বারা গবেষিত, পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে অনুসন্ধানকৃত, বিচারিত ও পরীক্ষিত হওয়ার দরুন তার বীর্য সক্রিয় ও আরব্ধ হয়।
ভিক্ষুগণ, যেই সময়ে ভিক্ষুর সেই ধর্ম তার প্রজ্ঞা দ্বারা গবেষিত, পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে অনুসন্ধানকৃত, বিচারিত ও পরীক্ষিত হওয়ার দরুন তার বীর্য সক্রিয় ও আরব্ধ হয়, সেই সময়ে তার বীর্য-সম্বোজ্ঝাঙ্গ আরব্ধ (গৃহীত) হয়; সেই সময়ে সে বীর্য-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত করে এবং সেই সময়ে তার বীর্য-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা (অনুশীলন) পরিপূর্ণ হয়। আরব্ধবীর্যের নিরামিষ (কামনা-বাসনারহিত)-প্রীতি উৎপন্ন হয়।
ভিক্ষুগণ, যেই সময়ে আরব্ধবীর্য ভিক্ষুর নিরামিষ-প্রীতি উৎপন্ন হয়, সেই সময়ে তার প্রীতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ আরব্ধ (গৃহীত) হয়; সেই সময়ে সে প্রীতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত করে এবং সেই সময়ে তার প্রীতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা (অনুশীলন) পরিপূর্ণ হয়। প্রীতিমনার কায় ও চিত্ত শান্ত হয়।
ভিক্ষুগণ, যেই সময়ে প্রীতিমনা ভিক্ষুর কায় ও চিত্ত শান্ত হয়, সেই সময়ে তার প্রশ্রদ্ধি (প্রশান্তি)-সম্বোজ্ঝাঙ্গ আরব্ধ (গৃহীত) হয়; সেই সময়ে সে প্রশ্রদ্ধি সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত করে এবং সেই সময়ে তার প্রশ্রদ্ধি সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা (অনুশীলন) পরিপূর্ণ হয়। প্রশ্রদ্ধিকায়া সুখী ভিক্ষুর চিত্ত সমাধিস্থহয়।
ভিক্ষুগণ, যেই সময়ে প্রশ্রদ্ধিকায়া সুখী ভিক্ষুর চিত্ত সমাধিস্থ হয়, সেই সময়ে তার সমাধি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ আরব্ধ (গৃহীত) হয়; সেই সময়ে সে সমাধি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত করে এবং সেই সময়ে তার সমাধি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা (অনুশীলন) পরিপূর্ণ হয়। সে সেই সমাহিত-চিত্তকে উত্তমরূপে ও মনোযোগের সাথে দর্শন করে।
ভিক্ষুগণ, যেই সময়ে ভিক্ষু সেই সমাহিত-চিত্তকে উত্তমরূপে ও মনোযোগের সাথে দর্শন করে, সেই সময়ে তার উপেক্ষা-সম্বোজ্ঝাঙ্গ আরব্ধ (গৃহীত) হয়; সেই সময়ে সে উপেক্ষা-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত করে এবং সেই সময়ে তার উপেক্ষা-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা (অনুশীলন) পরিপূর্ণ হয়।”
“ভিক্ষুগণ, এরূপে সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গে ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে সপ্ত ফল ও সপ্ত আনিশংস (সুফল) প্রত্যাশিত হয়। সেই সপ্তফল ও সপ্ত আনিশংস কী কী? ইহজীবনেই কেউ কেউ অর্হত্ত্বফল লাভ করে। আর কেউ কেউ অর্হত্ত্বফল লাভ করতে না পারলে মৃত্যুকালে হলেও অর্হত্ত্বফল লাভ করে। যদি ইহজীবনে এবং মৃত্যুকালেও অর্হত্ত্বফল লাভ করতে না পারে তবে পঞ্চ অধোভাগীয় সংযোজন পরিক্ষয় করে অন্তরা-পরিনির্বাণলাভী হয়। আর যদি ইহজীবনে এবং মৃত্যুকালে অর্হত্ত্বফল লাভ না করে এবং পঞ্চ অধোভাগীয় সংযোজন পরিক্ষয় করে অন্তরাপরিনির্বাণ লাভ না করে তবে উপহচ্চ-পরিনির্বাণলাভী হয়। যদিও ইহজীবনে ও মৃত্যুকালে অর্হত্ত্বফল লাভ না করে এবং পঞ্চ অধোভাগীয় সংযোজন পরিক্ষয় করে অন্তরাপরিনির্বাণ ও উপহচ্চপরিনির্বাণ লাভ না করে তাহলে অসংস্কার-পরিনির্বাণলাভী হয়। আর যদিও ইহজীবনে ও মৃত্যুকালে অর্হত্ত্বফল লাভ না করে এবং পঞ্চ অধোভাগীয় সংযোজন পরিক্ষয় করে অন্তরাপরিনির্বাণ, উপহচ্চপরিনির্বাণ ও অসংস্কারপরিনির্বাণ লাভ না করে তবে সসংস্কারলাভী হয়। এবং যদি ইহজীবনে ও মৃত্যুকালে অর্হত্ত্বফল লাভ না করে এবং পঞ্চ অধোভাগীয় সংযোজন পরিক্ষয় করে অন্তরাপরিনির্বাণ, উপহচ্চপরিনির্বাণ, অসংস্কারপরিনির্বাণ ও সসংস্কার পরিনির্বাণ লাভ না করে তাহলে অবশ্যই ঊর্ধ্বস্রোতা-অকনিষ্ঠগামী হয়। ভিক্ষুগণ, এরূপেই সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গে ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে এই সপ্ত ফল ও সপ্ত আনিশংস প্রত্যাশিত হয়।” তৃতীয় সূত্র।
ব্যাখ্যা [১]
English