লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২০]

অগ্নি সূত্র

অতঃপর বহুসংখ্যক ভিক্ষু পূর্বাহ্ণ সময়ে চীবর পরিধান করে পাত্র-চীবর নিয়ে শ্রাবস্তীতে পিণ্ডার্থে প্রবেশ করলেন। অনন্তর সেই ভিক্ষুগণের মনে এরূপ চিন্তার উদয় হলো-“শ্রাবস্তীতে পিণ্ডার্থে বিচরণ করতে এখনো অতি সকাল। সুতরাং আমরা অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের আরামে (বিহারে) উপস্থিত হবো।”

অনন্তর সেই ভিক্ষুগণ অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের আরামে উপস্থিত হয়ে তাদের সাথে সম্বোধন করলেন। সম্বোধনীয় কথা ও কুশল-বিনিময় করে একান্তে উপবেশন করলেন। একান্তে উপবিষ্ট সেই ভিক্ষুগণকে অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকেরা এরূপ বললেন :

“হে আবুসোগণ, শ্রমণ গৌতম তাঁর শ্রাবকদের (শিষ্যদের) এরূপে ধর্মদেশনা করেন-‘ভিক্ষুগণ, এসো, তোমরা পঞ্চ নীবরণ প্রহান করে ও চিত্তের উপক্লেশ প্রজ্ঞা দ্বারা দুর্বল করে সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ যথাভূতরূপে ভাবিত কর’। আমরাও আমাদের শ্রাবকদের এরূপে ধর্মদেশনা করি-‘আবুসোগণ, এসো, তোমরা পঞ্চ নীবরণ প্রহান করে ও চিত্তের উপক্লেশ প্রজ্ঞা দ্বারা দুর্বল করে সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ যথাভূতরূপে ভাবিত কর’। এক্ষেত্রে শ্রমণ গৌতম এবং আমাদের ধর্মদেশনা ও অনুশাসনের পার্থক্য, অনৈক্য ও বিভিন্নতা (অসাদৃশ্যতা) কী?”

অতঃপর সেই ভিক্ষুগণ অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের কথায় আনন্দিতও হলেন না এবং প্রতিবাদও করলেন না। “ভগবানের নিকট এই ভাষিত বিষয়ের অর্থ জেনে নেব” এই চিন্তা করে আনন্দিত না হয়ে ও প্রতিবাদ না করে আসন হতে উঠে প্রস্থান করলেন। অনন্তর সেই ভিক্ষুগণ শ্রাবস্তীতে পিণ্ডার্থে বিচরণ করে পিণ্ডপাত গ্রহণের পর ভগবানের নিকট উপস্থিত হলেন। উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদন করে একান্তে উপবেশন করলেন। একান্তে উপবিষ্ট সেই ভিক্ষুগণ ভগবানকে এরূপ বললেন :

“ভন্তে, আজ আমরা পূর্বাহ্ণ সময়ে চীবর পরিধান করে পাত্র-চীবর নিয়ে শ্রাবস্তীতে পিণ্ডার্থে প্রবেশ করি। তখন আমাদের মনে এরূপ চিন্তা উদয় হয়েছিল, ‘শ্রাবস্তীতে পিণ্ডার্থে বিচরণ করতে এখনো অতি সকাল। সুতরাং আমরা অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের আরামে (বিহারে) উপস্থিত হবো’। অনন্তর আমরা অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের আরামে উপস্থিত হয়ে তাদের সাথে সম্বোধন করি। সম্বোধনীয় কথা ও কুশল-বিনিময় করে একান্তে উপবেশন করি। একান্তে উপবিষ্ট হলে অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকেরা আমাদের এরূপ বললেন :

আবুসোগণ, শ্রমণ গৌতম তাঁর শ্রাবকদের (শিষ্যদের) এরূপে ধর্মদেশনা করেন-‘ভিক্ষুগণ, এসো, তোমরা পঞ্চ নীবরণ প্রহান করে ও চিত্তের উপক্লেশ প্রজ্ঞা দ্বারা দুর্বল করে সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ যথাভূতরূপে ভাবিত কর’। আমরাও আমাদের শ্রাবকদের এরূপে ধর্মদেশনা করি-‘আবুসোগণ, এসো, তোমরা পঞ্চ নীবরণ প্রহান করে ও চিত্তের উপক্লেশ প্রজ্ঞা দ্বারা দুর্বল করে সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ যথাভূতরূপে ভাবিত কর’। এক্ষেত্রে শ্রমণ গৌতম এবং আমাদের ধর্মদেশনা ও অনুশাসনের পার্থক্য, অনৈক্য ও বিভিন্নতা (অসাদৃশ্যতা) কী?”

অতঃপর আমরা সেই অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের কথায় আনন্দিতও হলাম না এবং প্রতিবাদও করলাম না। ‘ভগবানের নিকট এই ভাষিত বিষয়ের অর্থ জেনে নেব’ এই চিন্তা করে আনন্দিত না হয়ে ও প্রতিবাদ না করে আসন হতে উঠে প্রস্থান করি।”

“হে ভিক্ষুগণ, এরূপ মতবাদী অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকগণকে এরূপ বলা উচিত-‘আবুসোগণ, এমন পর্যায় আছে, যদ্দরুন পঞ্চ নীবরণ দশ প্রকার হয় ও সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ চর্তুদশ প্রকার হয়। এরূপ প্রশ্ন করা হলে অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকগণ তা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হবে না, অধিকন্তু মনোব্যথা পাবে। তার কারণ কী? কারণ তা তাদের অজ্ঞাত বিষয়। ভিক্ষুগণ, “তথাগত, তথাগত শ্রাবক ও এখান হতে (এই ধর্ম-বিনয় হতে) ধর্মশ্রবণ করা ব্যতীত আমি সদেবলোকে, সমারলোকে, সব্রহ্মলোকে, সশ্রমণ-ব্রাহ্মণকুলে এবং কি সদেব-মনুষ্যলোকের মধ্যে কোথাও কাউকে দেখতে পাচ্ছি না, যে এই প্রশ্নের সমাধান করে চিত্তকে সন্তুষ্ট করতে পারে।”

ভিক্ষুগণ, এমন কোনো পর্যায় বিদ্যমান আছে, যদ্দরুন পঞ্চ নীবরণ দশ প্রকার হয়? যা অধ্যাত্ম কামচ্ছন্দ তা নীবরণ এবং যা বাহ্যিক কামচ্ছন্দ তাও নীবরণ। এরূপে ‘কামচ্ছন্দ-নীবরণ’ উদ্দেশ বা গণনা করা হয়। এই পর্যায়েই তা দ্বিবিধ হয়। যা অধ্যাত্ম ব্যাপাদ তা নীবরণ এবং যা বাহ্যিক ব্যাপাদ তাও নীবরণ। এরূপে ‘ব্যাপাদ-নীবরণ’ উদ্দেশ বা গণনা করা হয়। এই পর্যায়েই তা দ্বিবিধ হয়। যা স্ত্যান (অলসতা) তাই নীবরণ এবং যা মিদ্ধ (নিদ্রালুতা) তাও নীবরণ। এরূপে ‘স্ত্যানমিদ্ধ-নীবরণ’ উদ্দেশ বা গণনা করা হয়। এই পর্যায়েই তা দ্বিবিধ হয়। যা ঔদ্ধত্য তা নীবরণ ও যা কৌকৃত্য তাও নীবরণ। এরূপে ‘ঔদ্ধত্য-কৌকৃত্য-নীবরণ’ উদ্দেশ বা গণনা করা হয়। এই পর্যায়েই তা দ্বিবিধ হয়। এবং যা অধ্যাত্ম বিষয়ে বিচিকিৎসা তা নীবরণ ও যা বাহ্যিক বিষয়ে বিচিকিৎসা তাও নীবরণ। ‘বিচিকিৎসা-নীবরণ’ এরূপেই উদ্দেশ বা গণনা করা হয়। এই পর্যায়েই তা দ্বিবিধ হয়। ভিক্ষুগণ, এই পর্যায় বিদ্যমান আছে, যদ্দরুন পঞ্চ নীবরণ দশ প্রকার হয়।”

“ভিক্ষুগণ, এমন কোনো পর্যায় বিদ্যমান আছে, যদ্দরুন সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ চর্তুদশ প্রকার হয়? অধ্যাত্ম ধর্মে যা স্মৃতি তা স্মৃতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ এবং বাহ্যিক ধর্মে যা স্মৃতি তাও স্মৃতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ। ‘স্মৃতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ’ এরূপেই উদ্দেশ বা পরিগণিত হয়। এই পর্যায়েই তা দ্বিবিধ হয়।

ভিক্ষুগণ, যা অধ্যাত্ম ধর্মে প্রজ্ঞা দ্বারা গবেষণা, পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে অনুসন্ধান, বিচার ও সাক্ষাৎ করা তা হচ্ছে ধর্মবিচয়-সম্বোজ্ঝাঙ্গও যা বাহ্যিক ধর্মে প্রজ্ঞা দ্বারা গবেষণা, পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে অনুসন্ধান, বিচার ও সাক্ষাৎ করা তাও ধর্মবিচয়-সম্বোজ্ঝাঙ্গ। ‘ধর্মবিচয়-সম্বোজ্ঝাঙ্গ’ এরূপেই উদ্দেশ বা পরিগণিত হয়। এই পর্যায়েই তা দ্বিবিধ হয়।

ভিক্ষুগণ, যা কায়িক বীর্য তা বীর্য-সম্বোজ্ঝাঙ্গ এবং যা চৈতসিক বীর্য তাও বীর্য-সম্বোজ্ঝাঙ্গ। ‘বীর্য-সম্বোজ্ঝাঙ্গ’ এরূপেই উদ্দেশ বা পরিগণিত হয়। এই পর্যায়েই তা দ্বিবিধ হয়।

ভিক্ষুগণ, যা সবিতর্ক-সবিচার প্রীতি তা প্রীতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ও যা অবিতর্ক-অবিচার প্রীতি তাও প্রীতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ। ‘প্রীতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ’ এরূপেই উদ্দেশ বা পরিগণিত হয়। এই পর্যায়েই তা দ্বিবিধ হয়।

ভিক্ষুগণ, যা কায় প্রশ্রদ্ধি (প্রশান্তি) তা প্রশ্রদ্ধি সম্বোজ্ঝাঙ্গ এবং যা চিত্ত প্রশ্রদ্ধি তাও প্রশ্রদ্ধি সম্বোজ্ঝাঙ্গ। ‘প্রশ্রদ্ধি সম্বোজ্ঝাঙ্গ’ এরূপেই উদ্দেশ বা পরিগণিত হয়। এই পর্যায়েই তা দ্বিবিধ হয়।

ভিক্ষুগণ, যা সবিতর্ক-সবিচার সমাধি তা সমাধি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ও যা অবিতর্ক-অবিচার সমাধি তাও সমাধি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ। ‘সমাধি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ’ এরূপেই উদ্দেশ বা পরিগণিত হয়। এই পর্যায়েই তা দ্বিবিধ হয়।

ভিক্ষুগণ, অধ্যাত্ম ধর্মে যা উপেক্ষা তা উপেক্ষা-সম্বোজ্ঝাঙ্গ এবং বাহ্যিক ধর্মে যা উপেক্ষা তাও উপেক্ষা-সম্বোজ্ঝাঙ্গ। ‘উপেক্ষা-সম্বোজ্ঝাঙ্গ’ এরূপেই উদ্দেশ বা পরিগণিত হয়। এই পর্যায়েই তা দ্বিবিধ হয়।”

“হে ভিক্ষুগণ, এরূপ মতবাদী অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকগণকে এরূপ বলা উচিত-‘আবুসোগণ, যেই সময়ে চিত্ত লীন (লয়প্রাপ্ত) হয় সেই সময়ে কোন কোন বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনার জন্য অনুপযুক্ত এবং কোন কোন বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনার জন্য উপযুক্ত? যেই সময়ে চিত্ত উদ্ধত (উদ্বিগ্ন) হয় সেই সময়ে কোন কোন বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনার জন্য অনুপযুক্ত এবং কোন কোন বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনার জন্য উপযুক্ত? এরূপ প্রশ্ন করা হলে অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকগণ তা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হবে না, অধিকন্তু মনোব্যথা পাবে। তার কারণ কী? কারণ তা তাদের অজ্ঞাত বিষয়।

ভিক্ষুগণ, তথাগত, তথাগত শ্রাবক ও এখান হতে (এই ধর্ম-বিনয় হতে) ধর্মশ্রবণ করা ব্যতীত আমি সদেবলোকে, সমারলোকে, সব্রহ্মলোকে, সশ্রমণ-ব্রাহ্মণকুলে এবং কি সদেব-মনুষ্যলোকের মধ্যে কোথাও কাউকে দেখতে পাচ্ছি না, যে এই প্রশ্নের সমাধান করে চিত্তকে সন্তুষ্ট করতে পারে।

ভিক্ষুগণ, যেই সময়ে চিত্ত লীন (লয়প্রাপ্ত) হয় সেই সময়ে প্রশ্রদ্ধি (প্রশান্তি)-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, সমাধি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ও উপেক্ষা-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনার জন্য অনুপযুক্ত। তার কারণ কী? সেই লীন চিত্ত এই ধর্মসমূহের দ্বারা অনায়াসে উৎপন্ন হয় না।

ভিক্ষুগণ, যেমন মনে কর, এক ব্যক্তি ক্ষুদ্রাকারে অগ্নি প্রজ্জ্বলন করতে চাচ্ছে। তখন সে যদি তথায় আর্দ্র তৃণ, ভিজা গোময় ও তাজা কাষ্ঠাদি নিক্ষেপ করে। তদুপরি জল ও বাতাস দেয় এবং ধূলি ছিটিয়ে দেয়; তাহলে কি সেই ব্যক্তি সেই অগ্নি প্রজ্জ্বলন করতে সক্ষম হবে? “না, ভন্তে।”

ভিক্ষুগণ, ঠিক এরূপেই যেই সময়ে চিত্ত লীন (লয়প্রাপ্ত) হয় সেই সময়ে প্রশ্রদ্ধি (প্রশান্তি)-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, সমাধি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ও উপেক্ষা-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনার জন্য অনুপযুক্ত। তার কারণ কী? সেই লীন চিত্ত এই ধর্মসমূহের দ্বারা অনায়াসে উৎপন্ন হয় না।

ভিক্ষুগণ, যেই সময়ে চিত্ত লীন (লয়প্রাপ্ত) হয় সেই সময়ে ধর্মবিচয়-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, বীর্য-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ও প্রীতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনার জন্য উপযুক্ত। তার কারণ কী? সেই লীন চিত্ত এই ধর্মসমূহের দ্বারা সহজে উৎপন্ন হয়।

ভিক্ষুগণ, যেমন মনে কর, এক ব্যক্তি ক্ষুদ্রাকারে অগ্নি প্রজ্জ্বলন করতে চাচ্ছে। তখন সে যদি তথায় শুষ্ক তৃণ, শুষ্ক গোময় ও শুষ্ক কাষ্ঠাদি নিক্ষেপ করে। তদুপরি মুখ দিয়ে বাতাস দেয় এবং ধূলি ছিটিয়ে না দেয়; তাহলে কি সেই ব্যক্তি সেই অগ্নি প্রজ্জ্বলন করতে সক্ষম হবে? “হ্যাঁ, ভন্তে।”

ভিক্ষুগণ, ঠিক এরূপেই যেই সময়ে চিত্ত লীন (লয়প্রাপ্ত) হয় সেই সময়ে ধর্মবিচয়-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, বীর্য-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ও প্রীতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনার জন্য উপযুক্ত। তার কারণ কী? সেই লীন চিত্ত এই ধর্মসমূহের দ্বারা সহজে উৎপন্ন হয়।

ভিক্ষুগণ, যেই সময়ে চিত্ত উদ্ধত (উদ্ধিগ্ন) হয় সেই সময়ে ধর্মবিচয়-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, বীর্য-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ও প্রীতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনার জন্য অনুপযুক্ত। তার কারণ কী? সেই উদ্ধত চিত্ত এই ধর্মসমূহের দ্বারা উপশম হওয়া দুরূহ হয়।

ভিক্ষুগণ, যেমন মনে কর, এক ব্যক্তি বিরাটাকার অগ্নিস্কন্ধ নির্বাপণ করতে চাচ্ছে। তখন সে যদি তথায় শুষ্ক তৃণ, শুষ্ক গোময় ও শুষ্ক কাষ্ঠাদি নিক্ষেপ করে। তদুপরি মুখ দিয়ে বাতাস দেয় এবং ধূলি ছিটিয়ে না দেয়; তাহলে কি সেই ব্যক্তি সেই অগ্নিস্কন্ধ নির্বাপণ করতে সক্ষম হবে? “না, ভন্তে।”

ভিক্ষুগণ, ঠিক এরূপেই যেই সময়ে চিত্ত উদ্ধত হয় সেই সময়ে ধর্মবিচয়-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, বীর্য-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ও প্রীতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনার জন্য অনুপযুক্ত। তার কারণ কী? সেই উদ্ধত চিত্ত এই ধর্মসমূহের দ্বারা উপশম হওয়া দুরূহ হয়।

ভিক্ষুগণ, যেই সময়ে চিত্ত উদ্ধত (উদ্বিগ্ন) হয় সেই সময়ে প্রশ্রদ্ধি (প্রশান্তি)-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, সমাধি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ও উপেক্ষা-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনার জন্য উপযুক্ত। তার কারণ কী? সেই উদ্ধত চিত্ত এই ধর্মসমূহের দ্বারা উত্তমরূপে উপশম হয়।

ভিক্ষুগণ, যেমন মনে কর, এক ব্যক্তি বিরাটাকার অগ্নিস্কন্ধ নির্বাপণ করতে চাচ্ছে। তখন সে যদি তথায় আর্দ্র তৃণ, ভিজা গোময় ও তাজা কাষ্ঠাদি নিক্ষেপ করে। তদুপরি জল ও বাতাস দেয় এবং ধূলি ছিটিয়ে দেয়; তাহলে কি সেই ব্যক্তি সেই অগ্নিস্কন্ধ নির্বাপণ করতে সক্ষম হবে? “হ্যাঁ, ভন্তে।”

ভিক্ষুগণ, ঠিক এরূপেই যেই সময়ে চিত্ত উদ্ধত হয় সেই সময়ে প্রশ্রদ্ধি (প্রশান্তি)-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, সমাধি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ও উপেক্ষা-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনার জন্য উপযুক্ত। তার কারণ কী? সেই উদ্ধত চিত্ত এই ধর্মসমূহের দ্বারা উত্তমরূপে উপশম হয়। ভিক্ষুগণ, স্মৃতিকেই আমি সবকিছু বলি।” তৃতীয় সূত্র।

ব্যাখ্যা [১]