লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৮]

নালন্দা সূত্র

একসময় ভগবান নালন্দায় পাবারিকের আম্রবনে অবস্থান করছিলেন। অতঃপর আয়ুষ্মান সারিপুত্র ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদনপূর্বক একান্তে উপবেশন করলেন। একান্তে উপবিষ্ট আয়ুষ্মান সারিপুত্র ভগবানকে এরূপ বললেন :

“ভন্তে, আমি ভগবানের প্রতি এরূপ প্রসন্ন! আমার মধ্যে এমন কোনো চেতনা ছিল না, ভবিষ্যতে হবে না এবং এখনও বিদ্যমান নেই যে, অন্য কোনো শ্রমণ বা ব্রাহ্মণ ভগবান হতে সম্বোধি বিষয়ে শ্রেষ্ঠতর।”

“হে সারিপুত্র, তা বড় চমৎকার ও দুঃসাহসিক বাক্য ভাষণ করেছ, যা একপক্ষ সমর্থনপূর্বক সিংহ-নিনাদের ন্যায় তোমার দ্বারা ভাষিত যে, ‘ভন্তে, আমি ভগবানের প্রতি এরূপ প্রসন্ন! আমার মধ্যে এমন কোনো চেতনা ছিল না, ভবিষ্যতে হবে না এবং এখনও বিদ্যমান নেই যে, অন্য কোনো শ্রমণ বা ব্রাহ্মণ ভগবান হতে সম্বোধি বিষয়ে শ্রেষ্ঠতর।’

সারিপুত্র, তুমি কি সুদূর অতীতে যে-সকল অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ ছিলেন, সে-সকল ভগবানের চিত্ত বা চিত্তবৃত্তি সম্বন্ধে জ্ঞাত আছ যে, ‘সেই ভগবানগণ এরূপ শীলসম্পন্ন ছিলেন; ‘তাঁদের ধর্ম এরূপ ছিল’ বা ‘তাঁরা এরূপ প্রজ্ঞাবান ছিলেন; ‘এরূপেই বা তাঁরা অবস্থান করতেন’ এবং ‘ভগবানগণ এতাদৃশ বিমুক্ত ছিলেন?’”

“না, ভন্তে।”

“হে সারিপুত্র, তুমি কি সুদূর ভবিষ্যতে যে-সকল অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ হবেন, সে-সকল ভগবানের চিত্ত বা চিত্তবৃত্তি সম্বন্ধে জ্ঞাত আছ যে, ‘সেই ভগবানগণ এরূপ শীলসম্পন্ন হবেন’; ‘তাঁদের ধর্ম এরূপ হবে’ বা ‘তাঁরা এরূপ প্রজ্ঞাবান হবেন’; ‘এরূপেই বা তাঁরা অবস্থান করবেন’ এবং ‘ভগবানগণ এতাদৃশ বিমুক্ত হবেন?’”

“না, ভন্তে।”

“সারিপুত্র, তাহলে কি বর্তমানে এই অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধের চিত্ত বা চিত্তবৃত্তি সম্বন্ধে জ্ঞাত আছ যে, ‘ভগবান এরূপ শীলসম্পন্ন’; ‘ভগবানের ধর্ম এরূপ’ বা ‘ভগবান এরূপ প্রজ্ঞাবান’; ‘এরূপ অবস্থানকারী’ এবং ‘ভগবান এতাদৃশ বিমুক্ত?’”

“না, ভন্তে।”

“সারিপুত্র, এক্ষেত্রে অতীত, অনাগত ও বর্তমান অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধগণের চিত্ত সম্পর্কে পরিজ্ঞান তোমাতে নেই। অতঃপর সারিপুত্র, কী কারণে তুমি চমৎকার ও দুঃসাহসিক বাক্য এবং একপক্ষ সমর্থনপূর্বক সিংহ-নিনাদের ন্যায় ভাষণ করেছ যে, ‘আমি ভগবানের প্রতি এরূপ প্রসন্ন! আমার মধ্যে এমন কোনো চেতনা ছিল না, ভবিষ্যতে হবে না এবং এখনও বিদ্যমান নেই যে, অন্য কোনো শ্রমণ বা ব্রাহ্মণ ভগবান হতে সম্বোধি বিষয়ে শ্রেষ্ঠতর?’”

“ভন্তে, অতীত, অনাগত ও বর্তমান অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধগণের চিত্ত সম্পর্কে পরিজ্ঞান আমার নেই বটে, কিন্তু আমি ধর্মতা অনুসারে বিদিত আছি। ভন্তে, যেমন রাজা আপন নগর সীমানায় দৃঢ়ভিত্তি দিয়ে দেয়াল ও দৃঢ় প্রাকারসহ এক দ্বারবিশিষ্ট তোরণ নির্মাণ করেন। তথায় পণ্ডিত, অভিজ্ঞ ও মেধাবী দৌবারিক (দ্বার রক্ষক) অপরিচিতদের নিবারণ এবং পরিচিতদের প্রবেশ করায়। তিনি তাঁর নগরের চতুর্দিকে অনুক্রমে (পর্যবেক্ষণের নিমিত্ত) ঘুরে যাবার সময় কোনো প্রাকারে ছিদ্র দেখতে পেতেন না, এমনকি বিড়াল বের হয়ে যাবার মতোন ছোট্ট ছিদ্র পর্যন্তও দেখতে পেতেন না। তখন তাঁর এরূপ ভাবোদয় হতো-যে-সকল স্থলকায় প্রাণী এই নগরে প্রবেশ ও নিষ্কমণ করছে তারা সকলে অবশ্যই এই দ্বার দিয়েই প্রবেশ ও নিষ্ক্রমণ করছে।’ ভন্তে, এরূপেই আমি ধর্মতা অনুসারে বিদিত যে, ‘সুদূর অতীতে যে-সকল অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ ছিলেন, সে-সকল ভগবান পঞ্চ নীবরণ প্রহান করে ও চিত্তের উপক্লেশসমূহ প্রজ্ঞা দ্বারা দুর্বল করে, চারি স্মৃতিপ্রস্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত চিত্ত হয়ে এবং সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ যথাযথভাবে অনুশীলন করে অনুত্তর সম্যক সম্বোধিজ্ঞান লাভ করেছিলেন। ভন্তে, ‘সুদূর ভবিষ্যতে যে-সকল অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ হবেন, সে-সকল ভগবান পঞ্চ নীবরণ প্রহান করে ও চিত্তের উপক্লেশসমূহ প্রজ্ঞা দ্বারা দুর্বল করে, চারি স্মৃতিপ্রস্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত চিত্ত হয়ে এবং সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ যথাযথভাবে অনুশীলন করে অনুত্তর সম্যক সম্বোধিজ্ঞান লাভ করবেন। এবং বর্তমানে ভগবান অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধও পঞ্চ নীবরণ প্রহান করে ও চিত্তের উপক্লেশসমূহ প্রজ্ঞা দ্বারা দুর্বল করে, চারি স্মৃতিপ্রস্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত চিত্ত হয়ে এবং সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ যথাযথভাবে অনুশীলন করে অনুত্তর সম্যক সম্বোধিজ্ঞান লাভ করেছেন।”

“সাধু সাধু, সারিপুত্র, তদ্ধেতু তুমি এই ধর্মপর্যায় (ধর্ম বিষয়ে যুক্তিমূলক প্রবন্ধ বা উপদেশ) ভিক্ষু-ভিক্ষুণী ও উপাসক-উপাসিকাদের পুনঃপুন ভাষণ কর। যে-সকল মোঘপুরুষ তথাগতের প্রতি আশঙ্কিত ও সন্দেহপরায়ণ, সে-সকল মোঘপুরুষ এই ধর্মপর্যায় শ্রবণ করে তথাগতের প্রতি তাদের যে আশঙ্কা ও সন্দেহ আছে তা তাদের দূরীভূত হবে।” দ্বিতীয় সূত্র।

ব্যাখ্যা [১]