“হে ভিক্ষুগণ, যেমন, মূর্খ, অনভিজ্ঞ ও অনিপুণ পাচক রাজা ও মহামাত্যদের জন্য টক, তিক্ত (তিতা), ঝাল, মিষ্ট, লবণাক্ত, পানসে, ক্ষার ও ক্ষারহীন প্রভৃতি স্বাদের তরিতরকারি প্রস্তুত করে থাকে।
ভিক্ষুগণ, সেই মূর্খ, অনভিজ্ঞ ও অনিপুণ পাচক নিজের প্রভুর জন্য এরূপ (রান্না পদ্ধতি) শিক্ষা করে না-‘প্রভু আজ আমার দ্বারা রন্ধিত এই তরকারি পছন্দ করবেন, কাছে টেনে দেখবেন, বেশি বেশি নিবেন এবং এই তরকারির প্রশংসা করবেন।’ অনুরূপভাবে ‘প্রভু আজ আমার দ্বারা টক, তিক্ত, ঝাল, মিষ্ট, লবণাক্ত, পানসে, ক্ষার ও ক্ষারহীন প্রভৃতি স্বাদের রন্ধিত তরকারি পছন্দ করবেন, কাছে টেনে দেখবেন, বেশি বেশি নেবেন এবং এই তরকারির প্রশংসা করবেন।’
ভিক্ষুগণ, সেই মূর্খ, অনভিজ্ঞ ও অনিপুণ পাচক পোশাক-পরিচ্ছদ, বেতন এমনকি উপহারও পায় না। কী কারণে পায় না? মূর্খ, অনভিজ্ঞ ও অনিপুণ পাচক নিজের প্রভুর জন্য (রান্না পদ্ধতি) শিক্ষা না করার কারণে। ভিক্ষুগণ, এক্ষেত্রে পাচকের ন্যায় মূর্খ, অনভিজ্ঞ ও অনিপুণ ভিক্ষু আছে, যে বীর্যবান, সম্প্রজ্ঞানী ও স্মৃতিমান হয়ে এবং জগতে অভিধ্যা ও দৌর্মনস্য অপনোদন করে কায়ে কায়ানুদর্শী হয়ে অবস্থান করে। কায়ে কায়ানুদর্শী হয়ে অবস্থান করার সময় তার চিত্ত সমাধিস্থহয় না এবং উপক্লেশসমূহও প্রহীন হয় না। সে তজ্জন্য শিক্ষাও গ্রহণ করে না। অনুরূপভাবে সে বীর্যবান, সম্প্রজ্ঞানী ও স্মৃতিমান হয়ে এবং জগতে অভিধ্যা ও দৌর্মনস্য অপনোদন করে বেদনায় বেদনানুদর্শী, চিত্তে চিত্তানুদর্শী ও ধর্মে (মনোগোচর বিষয়ে) ধর্মানুদর্শী হয়ে অবস্থান করার সময় তার চিত্ত সমাধিস্থহয় না এবং উপক্লেশসমূহও প্রহীন হয় না। সে তজ্জন্য শিক্ষাও গ্রহণ করে না।
ভিক্ষুগণ, তদ্ধেতু সেই মূর্খ, অনভিজ্ঞ ও অনিপুণ ভিক্ষু ইহজীবনে সুখে অবস্থান করতে পারে না এবং স্মৃতি-সম্প্রজ্ঞানের অধিকারী হতে পারে না। তার কারণ কী? কারণ, সেই মূর্খ, অনভিজ্ঞ ও অনিপুণ ভিক্ষু আপন চিত্তের নিমিত্ত সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহণ করে না।’
ভিক্ষুগণ, পণ্ডিত, অভিজ্ঞ ও নিপুণ পাচক যেমন রাজা ও মহামাত্যদের জন্য টক, তিক্ত (তিতা), ঝাল, মিষ্ট, লবণাক্ত, পানসে, ক্ষার ও ক্ষারহীন প্রভৃতি স্বাদের তরিতরকারি প্রস্তুত করে থাকে।”
“ভিক্ষুগণ, সেই পণ্ডিত, অভিজ্ঞ ও নিপুণ পাচক নিজের প্রভুর জন্য এরূপ (রান্না পদ্ধতি) শিক্ষা করে : ‘প্রভু আজ আমার দ্বারা রন্ধিত এই তরকারি পছন্দ করবেন, কাছে টেনে দেখবেন, বেশি বেশি নিবেন এবং এই তরকারির প্রশংসা করবেন।’ অনুরূপভাবে ‘প্রভু আজ আমার দ্বারা টক, তিক্ত, ঝাল, মিষ্ট, লবণাক্ত, পানসে, ক্ষার ও ক্ষারহীন প্রভৃতি স্বাদের রন্ধিত তরকারি পছন্দ করবেন, কাছে টেনে দেখবেন, বেশি বেশি নেবেন এবং এই তরকারির প্রশংসা করবেন।’
ভিক্ষুগণ, তখন সেই পণ্ডিত, অভিজ্ঞ ও নিপুণ পাচক পোশাক-পরিচ্ছদ, বেতন এমনকি উপহারও লাভ করে। কী কারণে লাভ করে? পণ্ডিত, অভিজ্ঞ ও নিপুণ পাচক নিজের প্রভুর জন্য (রান্না পদ্ধতি) শিক্ষা করার কারণে। তদ্রুপ, ভিক্ষুগণ, এক্ষেত্রে পাচকের ন্যায় পণ্ডিত, অভিজ্ঞ ও নিপুণ ভিক্ষু আছে, যে বীর্যবান, সম্প্রজ্ঞানী ও স্মৃতিমান হয়ে এবং জগতে অভিধ্যা ও দৌর্মনস্য অপনোদন করে কায়ে কায়ানুদর্শী হয়ে অবস্থান করে। কায়ে কায়ানুদর্শী হয়ে অবস্থান করার সময় তার চিত্ত সমাধিস্থহয় এবং উপক্লেশসমূহও প্রহীন হয়। সে তজ্জন্য শিক্ষাও গ্রহণ করে। অনুরূপভাবে সে বীর্যবান, সম্প্রজ্ঞানী ও স্মৃতিমান হয়ে এবং জগতে অভিধ্যা ও দৌর্মনস্য অপনোদন করে বেদনায় বেদনানুদর্শী, চিত্তে চিত্তানুদর্শী ও ধর্মে (মনোগোচর বিষয়ে) ধর্মানুদর্শী হয়ে অবস্থান করার সময় তার চিত্ত সমাধিস্থহয় এবং উপক্লেশসমূহও প্রহীন হয়। সে তজ্জন্য শিক্ষাও গ্রহণ করে।
হে ভিক্ষুগণ, তদ্ধেতু সেই পণ্ডিত, অভিজ্ঞ ও নিপুণ ভিক্ষু ইহজীবনে সুখে অবস্থান করতে পারে এবং স্মৃতি-সম্প্রজ্ঞানের অধিকারী হয়। তার কারণ কী? কারণ, সেই পণ্ডিত, অভিজ্ঞ ও নিপুণ ভিক্ষু আপন চিত্তের নিমিত্ত সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহণ করে।” অষ্টম সূত্র।
ব্যাখ্যা [১]
English