“হে ভিক্ষুগণ, পাঁচ প্রকার ইন্দ্রিয় আছে। সেই পাঁচ প্রকার কী কী? সুখ-ইন্দ্রিয়, দুঃখ-ইন্দ্রিয়, সৌমনস্য-ইন্দ্রিয়, দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয় ও উপেক্ষা-ইন্দ্রিয়। ভিক্ষুগণ, এক্ষেত্রে অপ্রমত্ত, বীর্যবান ও প্রেষিতাত্ম হয়ে অবস্থান করার সময় ভিক্ষুর নিকট দুঃখ-ইন্দ্রিয় উৎপন্ন হয়। সে এরূপ জ্ঞাত হয়-‘আমার এই উৎপন্ন দুঃখ-ইন্দ্রিয় সনিমিত্ত, সনিদান, সসংস্কার ও সপ্রত্যয়। সেই অনিমিত্ত, অনিদান, অসংস্কার ও অপ্রত্যয় দুঃখ-ইন্দ্রিয় উৎপন্ন হবে-তা অসম্ভব। সে দুঃখ-ইন্দ্রিয় জানে, দুঃখ-ইন্দ্রিয়ের সমুদয় জানে, দুঃখ-ইন্দ্রিয়ের নিরোধ জানে, আর যেরূপে উৎপন্ন্ দুঃখ-ইন্দ্রিয় সম্পূর্ণরূপে নিরুদ্ধ হয় তাও প্রকৃষ্টরূপে জানে। উৎপন্ন্ দুঃখ-ইন্দ্রিয় কীরূপে সম্পূর্ণরূপে নিরুদ্ধ হয়? এক্ষেত্রে ভিক্ষু কাম (কামনা) ও অকুশলধর্মসমূহ হতে পৃথক হয়ে বিতর্ক, বিচার ও নির্জনতাজনিত প্রীতি-সুখমণ্ডিত প্রথম ধ্যানস্তর লাভ করে অবস্থান করে। এরূপেই উৎপন্ন্ দুঃখ-ইন্দ্রিয় সম্পূর্ণরূপে নিরুদ্ধ হয়। ভিক্ষুগণ, ইহাকে বলে ‘ভিক্ষু দুঃখ-ইন্দ্রিয়ের নিরোধ জ্ঞাত হলো, তজ্জন্য চিত্তকে কেন্দ্রীভূত করেছে’।
ভিক্ষুগণ, এক্ষেত্রে অপ্রমত্ত, বীর্যবান ও প্রেষিতাত্ম হয়ে অবস্থান করার সময় ভিক্ষুর নিকট দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয় উৎপন্ন হয়। সে এরূপ জ্ঞাত হয়-‘আমার এই উৎপন্ন দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয় সনিমিত্ত, সনিদান, সসংস্কার ও সপ্রত্যয়। সেই অনিমিত্ত, অনিদান, অসংস্কার ও অপ্রত্যয় দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয় উৎপন্ন হবে-তা অসম্ভব। সে দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয় জানে, দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয়ের সমুদয় জানে, দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয়ের নিরোধ জানে, আর যেরূপে উৎপন্ন্ দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয় সম্পূর্ণরূপে নিরুদ্ধ হয় তাও প্রকৃষ্টরূপে জানে। উৎপন্ন্ দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয় কীরূপে সম্পূর্ণরূপে নিরুদ্ধ হয়? এক্ষেত্রে ভিক্ষু বিতর্ক ও বিচার প্রশমিত হয়ে আধ্যাত্মিক সম্প্রসাদ ও চিত্তের একাগ্রতায় বিতর্ক ও বিচারহীন হয়ে এবং সমাধিজনিত প্রীতি-সুখমণ্ডিত দ্বিতীয় ধ্যানস্তর লাভ করে অবস্থান করে। এরূপেই উৎপন্ন্ দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয় সম্পূর্ণরূপে নিরুদ্ধ হয়। ভিক্ষুগণ, ইহাকে বলে ‘ভিক্ষু দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয়ের নিরোধ জ্ঞাত হলো, তজ্জন্য চিত্তকে কেন্দ্রীভূত করেছে’।
ভিক্ষুগণ, এক্ষেত্রে অপ্রমত্ত, বীর্যবান ও প্রেষিতাত্ম হয়ে অবস্থান করার সময় ভিক্ষুর নিকট সুখ-ইন্দ্রিয় উৎপন্ন হয়। সে এরূপ জ্ঞাত হয়-‘আমার এই উৎপন্ন সুখ-ইন্দ্রিয় সনিমিত্ত, সনিদান, সসংস্কার ও সপ্রত্যয়। সেই অনিমিত্ত, অনিদান, অসংস্কার ও অপ্রত্যয় সুখ-ইন্দ্রিয় উৎপন্ন হবে-তা অসম্ভব। সে সুখ-ইন্দ্রিয় জানে, সুখ-ইন্দ্রিয়ের সমুদয় জানে, সুখ-ইন্দ্রিয়ের নিরোধ জানে, আর যেরূপে উৎপন্ন্ সুখ-ইন্দ্রিয় সম্পূর্ণরূপে নিরুদ্ধ হয় তাও প্রকৃষ্টরূপে জানে। উৎপন্ন্ সুখ-ইন্দ্রিয় কীরূপে সম্পূর্ণরূপে নিরুদ্ধ হয়? এক্ষেত্রে ভিক্ষু প্রীতিতে বিরাগ উৎপন্ন করে উপেক্ষাশীল হয়ে অবস্থান করে। স্মৃতিমান ও সম্প্রজ্ঞানী হয়ে কায়িক সুখ অনুভব করে। যে অবস্থায় থাকলে আর্যগণ ‘উপেক্ষাশীল স্মৃতিমান সুখ-বিহারী’ বলে অভিহিত করেন, সেই তৃতীয় ধ্যানস্তর লাভ করে অবস্থান করে। এরূপেই উৎপন্ন্ সুখ-ইন্দ্রিয় সম্পূর্ণরূপে নিরুদ্ধ হয়। ভিক্ষুগণ, ইহাকে বলে ‘ভিক্ষু সুখ-ইন্দ্রিয়ের নিরোধ জ্ঞাত হলো, তজ্জন্য চিত্তকে কেন্দ্রীভূত করেছে’।
ভিক্ষুগণ, এক্ষেত্রে অপ্রমত্ত, বীর্যবান ও প্রেষিতাত্ম হয়ে অবস্থান করার সময় ভিক্ষুর নিকট সৌমনস্য-ইন্দ্রিয় উৎপন্ন হয়। সে এরূপ জ্ঞাত হয়-‘আমার এই উৎপন্ন সৌমনস্য-ইন্দ্রিয় সনিমিত্ত, সনিদান, সসংস্কার ও সপ্রত্যয়। সেই অনিমিত্ত, অনিদান, অসংস্কার ও অপ্রত্যয় সৌমনস্য-ইন্দ্রিয় উৎপন্ন হবে-তা অসম্ভব। সে সৌমনস্য-ইন্দ্রিয় জানে, সৌমনস্য-ইন্দ্রিয়ের সমুদয় জানে, সৌমনস্য-ইন্দ্রিয়ের নিরোধ জানে, আর যেরূপে উৎপন্ন্ সৌমনস্য-ইন্দ্রিয় সম্পূর্ণরূপে নিরুদ্ধ হয় তাও প্রকৃষ্টরূপে জানে। উৎপন্ন্ সৌমনস্য-ইন্দ্রিয় কীরূপে সম্পূর্ণরূপে নিরুদ্ধ হয়? এক্ষেত্রে ভিক্ষু শারীরিক সুখ-দুঃখ প্রহান করে এবং পূর্বেই মানসিক সৌমনস্য ও মানসিক দৌর্মনস্যের বিনাশসাধন করে সুখ-দুঃখহীন ‘উপেক্ষা-স্মৃতি-পরিশুদ্ধি’ নামক চতুর্থ ধ্যানস্তর লাভ করে অবস্থান করে। এরূপেই উৎপন্ন্ সৌমনস্য-ইন্দ্রিয় সম্পূর্ণরূপে নিরুদ্ধ হয়। ভিক্ষুগণ, ইহাকে বলে ‘ভিক্ষু সৌমনস্য-ইন্দ্রিয়ের নিরোধ জ্ঞাত হলো, তজ্জন্য চিত্তকে কেন্দ্রীভূত করেছে’।
ভিক্ষুগণ, এক্ষেত্রে অপ্রমত্ত, বীর্যবান ও প্রেষিতাত্ম হয়ে অবস্থান করার সময় ভিক্ষুর নিকট উপেক্ষা-ইন্দ্রিয় উৎপন্ন হয়। সে এরূপ জ্ঞাত হয়-‘আমার এই উৎপন্ন উপেক্ষা-ইন্দ্রিয় সনিমিত্ত, সনিদান, সসংস্কার ও সপ্রত্যয়। সেই অনিমিত্ত, অনিদান, অসংস্কার ও অপ্রত্যয় উপেক্ষা-ইন্দ্রিয় উৎপন্ন হবে-তা অসম্ভব। সে উপেক্ষা-ইন্দ্রিয় জানে, উপেক্ষা-ইন্দ্রিয়ের সমুদয় জানে, উপেক্ষা-ইন্দ্রিয়ের নিরোধ জানে, আর যেরূপে উৎপন্ন্ উপেক্ষা-ইন্দ্রিয় সম্পূর্ণরূপে নিরুদ্ধ হয় তাও প্রকৃষ্টরূপে জানে। উৎপন্ন্ উপেক্ষা-ইন্দ্রিয় কীরূপে সম্পূর্ণরূপে নিরুদ্ধ হয়? এক্ষেত্রে ভিক্ষু সম্পূর্ণরূপে নৈবসংজ্ঞা-নাসংজ্ঞায়তন অতিক্রম করে সংজ্ঞা-বেদয়িত-নিরোধ লাভ করে অবস্থান করে। এরূপেই উৎপন্ন্ উপেক্ষা-ইন্দ্রিয় সম্পূর্ণরূপে নিরুদ্ধ হয়। ভিক্ষুগণ, ইহাকে বলে ‘ভিক্ষু উপেক্ষা-ইন্দ্রিয়ের নিরোধ জ্ঞাত হলো, তজ্জন্য চিত্তকে কেন্দ্রীভূত করেছে।’” দশম সূত্র।
সুখিন্দ্রিয় বর্গ সমাপ্ত।
তস্সুদ্দানং/সূত্রসূচি
শুদ্ধি, স্রোতা, অর্হৎ, শ্রমণ-ব্রাহ্মণ দ্বয়;
বিভঙ্গ ত্রয় উক্ত, কাষ্ঠ, উপ্পটিপাটিক সূত্র হয়॥
ব্যাখ্যা [১]
English