আমি এরূপ শুনেছি। একসময় ভগবান শ্রাবস্তীর পূর্বকোষ্ঠকে অবস্থান করছিলেন। তথায় ভগবান আয়ুষ্মান সারিপুত্রকে আহ্বান করলেন, “হে সারিপুত্র, তুমি কী এরূপে শ্রদ্ধা উৎপন্ন কর; যথা : শ্রদ্ধেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ (অমৃতে বিজরিত), অমৃতপরায়ণ ও অমৃতে পর্যাবসান হয়? অনুরূপভাবে বীর্যেন্দ্রিয়, স্মৃতিন্দ্রিয়, সমাধিন্দ্রিয় এবং প্রজ্ঞেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতেই পর্যাবসান হয়?”
“ভন্তে, এই বিষয়ে আমি ভগবানের প্রতি শুধু এরূপে শ্রদ্ধান্বিত হই না; যথা : শ্রদ্ধেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতে পর্যাবসান হয়। অনুরূপভাবে বীর্যেন্দ্রিয়, স্মৃতিন্দ্রিয়, সমাধিন্দ্রিয় এবং প্রজ্ঞেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতেই পর্যাবসান হয়। ভন্তে, যাদের এ বিষয় প্রজ্ঞাযোগে অজ্ঞাত, অদৃষ্ট, অবিদিত, অসাক্ষাৎকৃত ও অস্পৃষ্ট, তারা এরূপে অপরের বাক্যে মাত্র শ্রদ্ধান্বিত হয়। যথা : শ্রদ্ধেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতে পর্যাবসান হয়। অনুরূপভাবে বীর্যেন্দ্রিয়, স্মৃতিন্দ্রিয়, সমাধিন্দ্রিয় এবং প্রজ্ঞেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতেই পর্যাবসান হয়। আর ভন্তে, যাদের ইহা প্রজ্ঞাযোগে জ্ঞাত, দৃষ্ট, বিদিত, সাক্ষাৎকৃত ও স্পৃষ্ট, তারা সে বিষয়ে এরূপে সন্দেহ ও বিচিকিৎসাহীন; যথা : শ্রদ্ধেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতে পর্যাবসান হয়। অনুরূপভাবে বীর্যেন্দ্রিয়, স্মৃতিন্দ্রিয়, সমাধিন্দ্রিয় এবং প্রজ্ঞেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতেই পর্যাবসান হয়। ভন্তে, আমারও এ বিষয় প্রজ্ঞা দ্বারা জ্ঞাত, দৃষ্ট, বিদিত, সাক্ষাৎকৃত ও স্পৃষ্ট।” আমি সন্দেহ ও বিচিকিৎসাহীন হয়ে এরূপ ভাব পোষণ করি; যথা : শ্রদ্ধেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতে পর্যাবসান হয়। অনুরূপভাবে বীর্যেন্দ্রিয়, স্মৃতিন্দ্রিয়, সমাধিন্দ্রিয় এবং প্রজ্ঞেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতেই পর্যাবসান হয়।”
“সাধু, সাধু, সারিপুত্র, যাদের এ বিষয় প্রজ্ঞাযোগে অজ্ঞাত, অদৃষ্ট, অবিদিত, অসাক্ষাৎকৃত ও অস্পৃষ্ট, তারা এরূপে অপরের বাক্যে মাত্র শ্রদ্ধান্বিত হয়। যথা : শ্রদ্ধেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতে পর্যাবসান হয়। অনুরূপভাবে বীর্যেন্দ্রিয়, স্মৃতিন্দ্রিয়, সমাধিন্দ্রিয় এবং প্রজ্ঞেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতেই পর্যাবসান হয়। আর সারিপুত্র, যাদের ইহা প্রজ্ঞাযোগে জ্ঞাত, দৃষ্ট, বিদিত, সাক্ষাৎকৃত ও স্পৃষ্ট, তারা সে বিষয়ে এরূপে সন্দেহ ও বিচিকিৎসাহীন; যথা : শ্রদ্ধেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতে পর্যাবসান হয়। অনুরূপভাবে বীর্যেন্দ্রিয়, স্মৃতিন্দ্রিয়, সমাধিন্দ্রিয় এবং প্রজ্ঞেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতেই পর্যাবসান হয়।” চতুর্থ সূত্র।
ব্যাখ্যা [১]
English