লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৫]

সহম্পতি ব্রহ্মা সূত্র

অভিসম্বুদ্ধ লাভের পর একসময় ভগবান উরুবেলায় নৈরঞ্জনা নদীর তীরে অজপাল নিগ্রোধ বৃক্ষমূলে অবস্থান করছিলেন। অতঃপর নির্জনে, একাকী অবস্থান করার সময় ভগবানের চিত্তে এরূপ পরিবিতর্ক উৎপন্ন হলো-“পঞ্চেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতে পর্যাবসান হয়। সেই পঞ্চেন্দ্রিয় কী কী? শ্রদ্ধেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতে পর্যাবসান হয়। অনুরূপভাবে বীর্যেন্দ্রিয়, স্মৃতিন্দ্রিয়, সমাধিন্দ্রিয় এবং প্রজ্ঞেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতেই পর্যাবসান হয়। এই পঞ্চেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতে পর্যাবসান হয়।”

অনন্তর ব্রহ্মা সহম্পতি ভগবানের চিত্ত-পরিবিতর্ক জ্ঞাত হয়ে, বলবান পুরুষ যেমন সঙ্কুচিত বাহু প্রসারণ করে, প্রসারিত বাহু সঙ্কোচন করে; ঠিক সেরূপেই ব্রহ্মলোকে অন্তর্হিত হয়ে ভগবানের সম্মুখে প্রাদুর্ভূত হলেন। অতঃপর ব্রহ্মা সহম্পতি উত্তরীয় বস্ত্র একাংশ করে ভগবানের দিকে প্রণাম করে ভগবানকে এরূপ বললেন, “ভগবান, তা এরূপ, সুগত, তা এরূপই যে-“পঞ্চেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতে পর্যাবসান হয়। সেই পঞ্চেন্দ্রিয় কী কী? শ্রদ্ধেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতে পর্যাবসান হয়। অনুরূপভাবে বীর্যেন্দ্রিয়, স্মৃতিন্দ্রিয়, সমাধিন্দ্রিয় এবং প্রজ্ঞেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতেই পর্যাবসান হয়। এই পঞ্চেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতে পর্যাবসান হয়।”

“ভন্তে, পূর্বে আমি কাশ্যপ সম্যকসম্বুদ্ধের নিকট ব্রহ্মচর্য আচরণ করেছিলাম। তথায় আমাকে ‘সহক ভিক্ষু, সহক ভিক্ষু’ নামে জানতেন। ভন্তে, তখন আমি এই পঞ্চেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত করে, কামসমূহের (কামনা) মধ্যে কামচ্ছন্দ পরিত্যক্ত করে কায়ভেদে মৃত্যুর পর সুগতি ব্রহ্মলোকে উৎপন্ন হয়েছি। তথায় আমাকে ‘ব্রহ্মা সহম্পতি, ব্রহ্মা সহম্পতি’ নামে সকলে জানেন। ভগবান, এরূপই, সুগত, এরূপই, আমি ইহা জানি ও দর্শন করি, যেমন : এই পঞ্চেন্দ্রিয় ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা অমৃতোগধ, অমৃতপরায়ণ ও অমৃতে পর্যাবসান হয়।” সপ্তম সূত্র।

ব্যাখ্যা [১]