লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২২]

বিজয়া সূত্র

শ্রাবস্তী নিদান। তখন বিজয়া ভিক্ষুণী পূর্বাহ্ণ সময়ে চীবর পরিধানপূর্বক… অন্য একটি বৃক্ষমূলে দিবা-অবস্থানের জন্য উপবেশন করলেন। অনন্তর পাপীরাজ মার বিজয়া ভিক্ষুণীর ভয়, ত্রাস, লোমহর্ষণ উৎপাদনের জন্য এবং সমাধি হতে চ্যুত করার লক্ষে কৃশাগৌতমী ভিক্ষুণীর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে গাথায় বলল :

‘আপনি রূপবতী যুবতি, আমিও তরুণ যুবক। আর্যে, আসুন আমরা পঞ্চাঙ্গিক বাদ্যযন্ত্রে অভিরমিত হই।’

তখন বিজয়া ভিক্ষুণী চিন্তা করলেন, ‘এই গাথাটি মনুষ্য কিংবা অমনুষ্য কে ভাষণ করল?’ অনন্তর তাঁর এরূপ মনে হলো : ‘ইনি নিশ্চয়ই পাপীরাজ মার, আমাকে ভয়, ত্রাস, লোমহর্ষণ উৎপাদনের জন্য এবং সমাধি হতে চ্যুত করার জন্য গাথা ভাষণ করছে।’ তখন বিজয়া ভিক্ষুণী ‘ইনি পাপীরাজ মার’ এরূপ জ্ঞাত হয়ে তাকে গাথায় প্রত্যুত্তর দিলেন :

‘হে মার, মনোরম রূপ, শব্দ, গন্ধ, রস ও স্প্রষ্টব্য সবই তোমাকে দিচ্ছি। সেসবে আমি অভিলাষী নই।

এই ভঙ্গুর ও ভেদনশীল পূতিকায় নিয়ে আমি উৎপীড়িত, লজ্জিত। কারণ আমার কামতৃষ্ণা ধ্বংস হয়েছে।

রূপা-ব্রহ্মলোকবাসী ও অরূপা-ব্রহ্মলোকবাসী সত্ত্বগণের যে প্রশান্ত সমাপত্তি আছে, সেসব রূপারূপভবের (অষ্ট) সমাপত্তিগুলোতেও আমার অবিদ্যান্ধকার বিদূরিত হয়েছে।’

তখন পাপীরাজ মার ‘বিজয়া ভিক্ষুণী আমাকে জেনেছেন’ বলে দুঃখী ও দুর্মনা হয়ে সেখানেই অন্তর্ধান করল।

ব্যাখ্যা [২]