লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৪]

মহাফল সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, এই চারি ঋদ্ধিপাদ ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে মহাফল ও মহা-আনিশংস লাভ হয়। ভিক্ষুগণ, কীরূপে চারি ঋদ্ধিপাদ ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে মহাফল ও মহা-আনিশংস লাভ হয়?

ভিক্ষুগণ, এক্ষেত্রে ভিক্ষু সমাধি-প্রধান সংস্কারসমৃদ্ধ ছন্দ-ঋদ্ধিপাদ ভাবিত করে : ‘আমার এই ছন্দ অতিলীন (অতিমৃদু) আবার অত্যন্ত প্রবলও হবে না এবং অধ্যাত্মে (ভেতরে) সংক্ষিপ্ত ও বাইরে বিক্ষিপ্ত হবে না’। পূর্বে ও পরে সে সজ্ঞানে অবস্থান করে, যেমন পূর্ব তেমন পশ্চাৎ, পশ্চাৎ যেমন তেমনই পূর্ব; যেমন অধো (নিচ) তেমন ঊর্ধ্ব, ঊর্ধ্ব যেমন তেমনই অধো; যেমন দিন, তেমন রাত্রি এবং রাত্রি যেমন তেমনই দিন; এরূপে সে পূর্বাপর-সংজ্ঞী হয়। এবং সে উন্মুক্ত, অনাবৃত চিত্তের মাধ্যমে প্রভাস্বর চিত্ত প্রভাবিত করে।

ভিক্ষুগণ, এরূপে ভিক্ষু সমাধি-প্রধান সংস্কারসমৃদ্ধ বীর্য-ঋদ্ধিপাদ ভাবিত করে : ‘আমার এই বীর্য অতিলীন হবে না, আবার অত্যন্ত প্রবলও হবে না, অধ্যাত্মে সংক্ষিপ্ত হবে না এবং বাইরেও বিক্ষিপ্ত হবে না’। পূর্বে ও পরে সে সজ্ঞানে অবস্থান করে, যেমন পূর্ব তেমন পশ্চাৎ, পশ্চাৎ যেমন তেমনই পূর্ব; যেমন অধো তেমন ঊর্ধ্ব, ঊর্ধ্ব যেমন, তেমনই অধো; যেমন দিন, তেমন রাত্রি এবং রাত্রি যেমন তেমনই দিন; এরূপে সে পূর্বাপর-সংজ্ঞী হয়। এবং সে উন্মুক্ত, অনাবৃত চিত্তের মাধ্যমে প্রভাস্বর চিত্ত প্রভাবিত করে।

ভিক্ষুগণ, এরূপে ভিক্ষু সমাধি-প্রধান সংস্কারসমৃদ্ধ চিত্ত-ঋদ্ধিপাদ ভাবিত করে : ‘আমার এই চিত্ত অতিলীন হবে না, আবার অত্যন্ত প্রবলও হবে না, অধ্যাত্মে সংক্ষিপ্ত হবে না এবং বাইরেও বিক্ষিপ্ত হবে না’। পূর্বে ও পরে সে সজ্ঞানে অবস্থান করে, যেমন পূর্ব তেমন পশ্চাৎ, পশ্চাৎ যেমন তেমনই পূর্ব; যেমন অধো তেমন ঊর্ধ্ব, ঊর্ধ্ব যেমন, তেমনই অধো; যেমন দিন, তেমন রাত্রি এবং রাত্রি যেমন তেমনই দিন; এরূপে সে পূর্বাপর-সংজ্ঞী হয়। এবং সে উন্মুক্ত, অনাবৃত চিত্তের মাধ্যমে প্রভাস্বর চিত্ত প্রভাবিত করে।

ভিক্ষুগণ, এরূপে ভিক্ষু সমাধি-প্রধান সংস্কারসমৃদ্ধ মীমাংসা ঋদ্ধিপাদ ভাবিত করে : ‘আমার এই মীমাংসা অতিলীন হবে না, আবার অত্যন্ত প্রবলও হবে না, অধ্যাত্মে সংক্ষিপ্ত হবে না এবং বাইরেও বিক্ষিপ্ত হবে না’। পূর্বে ও পরে সে সজ্ঞানে অবস্থান করে, যেমন পূর্ব তেমন পশ্চাৎ, পশ্চাৎ যেমন তেমনই পূর্ব; যেমন অধো তেমন ঊর্ধ্ব, ঊর্ধ্ব যেমন, তেমনই অধো; যেমন দিন, তেমন রাত্রি এবং রাত্রি যেমন তেমনই দিন; এরূপে সে পূর্বাপর-সংজ্ঞী হয়। এবং সে উন্মুক্ত, অনাবৃত চিত্তের মাধ্যমে প্রভাস্বর চিত্ত প্রভাবিত করে। ভিক্ষুগণ, এরূপেই চারি ঋদ্ধিপাদ ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে মহাফল ও মহা-আনিশংস লাভ হয়।

ভিক্ষুগণ, এরূপে ভিক্ষু চারি ঋদ্ধিপাদ ভাবিত ও বহুলীকৃত করে। সেই ভিক্ষু বহু প্রকারে ঋদ্ধিশক্তি লাভ করে, যেমন : এক হয়ে বহুসংখ্যক হয়, বহু হয়ে পুনঃ একজন হয়, আবির্ভাব, তিরোভাব (অন্তর্ধান) করে, দেয়াল (প্রাচীর) এবং পর্বতে আকাশের ন্যায় অসংলগ্নভাবে গমন করে; মাটিতে জলের ন্যায় ভাসে ও ডুবে, মাটির ন্যায় জলে অনার্দ্রভাবে গমন করে; পক্ষীরন্যায় আকাশে পর্যঙ্কাবদ্ধ (বীরাসন) হয়ে ভ্রমণ করে, এরূপ মহাঋদ্ধিসম্পন্ন ও মহানুভবসম্পন্ন চন্দ্র-সূর্যকে হস্ত দ্বারা স্পর্শ ও পরিমর্দন করে এবং যতদূর ব্রহ্মলোক রয়েছে ততদূর আপন কায় বশীভূত করে।

এরূপে ভিক্ষু চারি ঋদ্ধিপাদ ভাবিত ও বহুলীকৃত করে। সেই ভিক্ষু বিশুদ্ধ, অমানুষিক, দিব্যকর্ণ দ্বারা দূরবর্তী ও সমীপস্থ' দেব ও মনুষ্য উভয় শব্দ শ্রবণ করে।

এরূপে ভিক্ষু চারি ঋদ্ধিপাদ ভাবিত ও বহুলীকৃত করে। সেই ভিক্ষু নিজের চিত্ত দ্বারা অপর সত্ত্ব ও ব্যক্তিদের চিত্ত স্বচিত্তে পরীক্ষা করে জানে। সে সরাগ-চিত্তকে (কামলালসাপূর্ণ) ‘সরাগ-চিত্তরূপে’ জানে; বীতরাগ (কামলালসাহীন) চিত্তকে ‘বীতরাগ-চিত্তরূপে’ জানে; সদ্বেষ-চিত্তকে ‘সদ্বেষ-চিত্তরূপে’ জানে; বীতদ্বেষ (দ্বেষহীন)-চিত্তকে ‘বীতদ্বেষ-চিত্তরূপে’ জানে; সমোহ (মোহাচ্ছন্ন)-চিত্তকে ‘সমোহ-চিত্তরূপে’ জানে; বীতমোহ (মোহহীন) চিত্তকে ‘বীতমোহ-চিত্তরূপে’ জানে; বিক্ষিপ্ত চিত্তকে ‘বিক্ষিপ্ত চিত্তরূপে’ জানে; সংক্ষিপ্ত (একাগ্র) চিত্তকে ‘সংক্ষিপ্ত-চিত্তরূপে’ জানে; মহদ্গত (অত্যুচ্চ) চিত্তকে ‘মহদ্গত চিত্তরূপে’ জানে; অমহদ্গত চিত্তকে ‘অমহদ্গত-চিত্তরূপে’ জানে; সউত্তর (উচ্চতর)-চিত্তকে ‘সউত্তর-চিত্তরূপে’ জানে; অনুত্তর (অতুল্য)-চিত্তকে ‘অনুত্তর-চিত্তরূপে’ জানে; সমাহিত-চিত্তকে ‘সমাহিত-চিত্তরূপে’ জানে; অসমাহিত-চিত্তকে ‘অসমাহিত-চিত্তরূপে’ জানে; বিমুক্তচিত্তকে ‘বিমুক্তচিত্তরূপে’ জানে এবং অবিমুক্তচিত্তকে ‘অবিমুক্তচিত্তরূপে’ জানে।

ভিক্ষুগণ, এরূপে ভিক্ষু চারি ঋদ্ধিপাদ ভাবিত ও বহুলীকৃত করে। সেই ভিক্ষু বহু প্রকারে পূর্বনিবাসস্মৃতি সম্পর্কে জানতে পারে। যেমন : এক জন্ম, দুই জন্ম, তিন জন্ম, চার জন্ম, পাঁচ জন্ম, দশ জন্ম, বিশ জন্ম, ত্রিশ জন্ম, চল্লিশজন্ম, পঞ্চাশ জন্ম, শত জন্ম, সহস্র জন্ম, শত সহস্র (লক্ষ) জন্ম, এমনকি বহু সংবর্ত কল্প, বহু বিবর্ত কল্প ও বহু সংবর্তিত কল্পে-‘অমুক জন্মে আমার এই নাম, এই গোত্র, এই বর্ণ, এরূপ আহার, এরূপ সুখ-দুঃখ ভোগ এবং এই পরিমাণ আয়ু ছিল। সেখান হতে চ্যুত হয়ে এস্থানেজন্মগ্রহণ করেছি। এরূপে সে অপরজন সম্বন্ধেও জানতে পারে যে, ‘অমুক জন্মে তার এই নাম, এই গোত্র, এই বর্ণ, এরূপ আহার, এরূপ সুখ-দুঃখ ভোগ এবং এই পরিমাণ আয়ু ছিল। সেখান হতে চ্যুত হয়ে সে এস্থানেজন্মগ্রহণ করেছে। এরূপ আকার ও গতিসহ বহু প্রকার পূর্বজন্ম অনুস্মরণ করে।

এরূপে ভিক্ষু চারি ঋদ্ধিপাদ ভাবিত ও বহুলীকৃত করে। সেই ভিক্ষু বিশুদ্ধ, লোকাতীত দিব্য-চক্ষু দ্বারা হীন-প্রণীত, সুবর্ণ-দুর্বর্ণ, সুগত-দুর্গত সত্ত্বদের চ্যুতি ও উৎপত্তির সময় দেখতে পায়। ‘এসকল সত্ত্বগণ কায়-বাক্য ও মনদুশ্চরিত্র-সমন্বিত, আর্যগণের নিন্দুক, মিথ্যাদৃষ্টিসম্পন্ন এবং মিথ্যাদৃষ্টি-সম্ভূত কর্ম করার দরুন কায়ভেদে মৃত্যুর পর বিনিপাত নরকে উৎপন্ন হয়েছে। পক্ষান্তরে, এসকল সত্ত্বগণ কায়-বাক্য ও মনসুচরিতসমন্বিত, আর্যগণের প্রশংসাকারী, সম্যক দৃষ্টিপরায়ণ ও সম্যক দৃষ্টিজাত কর্ম সম্পাদন করার ফলে কায়ভেদে মৃত্যুর পর সুগতি স্বর্গলোকে উৎপন্ন হয়েছে। স্ব স্ব কর্মানুসারে গতিপ্রাপ্ত, হীনোৎকৃষ্ট, সৃবর্ণ-দুর্বর্ণ, সুগত-দুর্গত সত্ত্বদের চ্যুতি ও উৎপত্তির সময় বিশুদ্ধ, লোকাতীত বিদ্যচক্ষু দ্বারা সে প্রকৃষ্টরূপে জানে।

ভিক্ষুগণ, এরূপে ভিক্ষু চারি ঋদ্ধিপাদ ভাবিত ও বহুলীকৃত করে আসবসমূহের ক্ষয়ে অনাসব হয়ে এবং ইহজীবনে স্বয়ং অভিজ্ঞা দ্বারা চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি উপলব্ধি ও লাভ করে অবস্থান করে।” দ্বিতীয় সূত্র।

ব্যাখ্যা [০]