লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৫]

অয়োগুল (লৌহগোলক) সূত্র

শ্রাবস্তী নিদান। অতঃপর আয়ুষ্মান আনন্দ ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদন করে একপাশে বসলেন। একপাশে উপবিষ্ট আয়ুষ্মান আনন্দ ভগবানকে এরূপ বলতে লাগলেন-“ভন্তে, ঋদ্ধি দ্বারা মনোময় কায় সৃষ্টি করে ব্রহ্মলোকে কীভাবে অভিগমন করা যায় তা কী ভগবান জ্ঞাত আছেন?

“আনন্দ, ঋদ্ধি দ্বারা মনোময় কায় সৃষ্টি করে ব্রহ্মলোকে কীভাবে অভিগমন করা যায় তা আমি জ্ঞাত আছি।” “ভন্তে, এই চারি মহাভূত কায়ে ব্রহ্মলোকে কীভাবে অভিগমন করা যায় তা কী ভগবান জ্ঞাত থাকেন?” “আনন্দ, ঋদ্ধি দ্বারা এই চারি মহাভূত কায়ে ব্রহ্মলোকে কীভাবে অভিগমন করা যায় তা আমি জ্ঞাত আছি।”

“ভন্তে, এই যে ভগবান ঋদ্ধি দ্বারা মনোময় কায় সৃষ্টি করে ব্রহ্মলোকে অভিগমন করতে সক্ষম এবং ঋদ্ধি দ্বারা চারিমহাভূত কায়েও ব্রহ্মলোকে অভিগমন করার উপায় জ্ঞাত আছেন, তা সত্যিই ভগবানের আশ্চর্য ও অদ্ভুত গুণ।” “আনন্দ, তথাগতগণ আশ্চর্যকর ও আশ্চর্যগুণ-বিমণ্ডিত এবং তথাগতগণ অদ্ভুত আর অদ্ভুত গুণেও বিমণ্ডিত।”

“আনন্দ, যে-সময় তথাগত কায়কে চিত্তের দিকে এবং চিত্তকে কায় মধ্যে কেন্দ্রীভূত করেন এবং কায়িক সুখানুভূতি ও কায়িক লঘুত্ব অতিক্রম করে অবস্থান করেন; সেই সময়ে ভগবানের কায় লঘুতর হয়, মৃদু, কর্মনীয় এবং অত্যন্ত প্রভাস্বর হয়।

যেমন, আনন্দ, দিনে লোহার গোলক উত্তপ্ত হলে লঘু, মৃদু, কর্মনীয় এবং প্রভাস্বর হয়; সেরূপ আনন্দ, যে-সময় তথাগত কায়কে চিত্তের দিকে এবং চিত্তকে কায় মধ্যে কেন্দ্রীভূত করেন এবং কায়িক সুখানুভূতি ও কায়িক লঘুত্ব অতিক্রম করে অবস্থান করেন; সে-সময় ভগবানের কায় লঘু, মৃদু, কর্মনীয় এবং অত্যন্ত প্রভাস্বর হয়।

আনন্দ, যে-সময় তথাগত কায়কে চিত্তের দিকে এবং চিত্তকে কায় মধ্যে কেন্দ্রীভূত করেন এবং কায়িক সুখানুভূতি ও কায়িক লঘুত্ব অতিক্রম করে অবস্থান করেন; সে-সময় তথাগতের কায় অনায়াসেই পৃথিবী হতে আকাশে উত্থিত হতে পারে এবং তখন বহু প্রকারে ঋদ্ধিশক্তি লাভ করেন, যেমন : এক হয়ে বহুসংখ্যক হন, বহুসংখ্যক হয়ে পুনঃ একজন হন, আবির্ভাব ও তিরোভাব (অন্তর্ধান) হন, দেয়াল (প্রাচীর) এবং পর্বতে আকাশের ন্যায় অসংলগ্নভাবে গমন করেন; মাটিতে জলের ন্যায় ভাসেন ও ডুবেন, মাটির ন্যায় জলে অনার্দ্রভাবে গমন করেন; পক্ষীরন্যায় আকাশে পর্যঙ্কাবদ্ধ (বীরাসন) হয়ে ভ্রমণ করেন, এরূপ মহাঋদ্ধিসম্পন্ন ও মহানুভবসম্পন্ন চন্দ্র-সূর্যকে হস্ত দ্বারা স্পর্শ ও পরিমর্দন করেন এবং যতদূর ব্রহ্মলোক রয়েছে ততদূর আপন কায় বশীভূত করেন।

আনন্দ, তুলা ও কার্পাস যেমন হালকা বাতাসে সহজেই পৃথিবী (ভূমি) হতে আকাশে বিকীর্ণ হয়; এরূপেই যেই সময়ে তথাগত কায়কে চিত্তের দিকে এবং চিত্তকে কায় মধ্যে কেন্দ্রীভূত করেন এবং কায়িক সুখানুভূতি ও কায়িক লঘুত্ব অতিক্রম করে অবস্থান করেন; সেই সময়ে আনন্দ, তথাগতের কায় অনায়াসেই পৃথিবী হতে আকাশে উত্থিত হতে পারে এবং তখন বহু প্রকারে ঋদ্ধিশক্তি লাভ করেন, যেমন : এক হয়ে বহুসংখ্যক হন, বহুসংখ্যক হয়ে পুনঃ একজন হন, আবির্ভাব ও তিরোভাব (অন্তর্ধান) হন, দেয়াল (প্রাচীর) এবং পর্বতে আকাশের ন্যায় অসংলগ্নভাবে গমন করেন; মাটিতে জলের ন্যায় ভাসেন ও ডুবেন, মাটির ন্যায় জলে অনার্দ্রভাবে গমন করেন; পক্ষীরন্যায় আকাশে পর্যঙ্কাবদ্ধ (বীরাসন) হয়ে ভ্রমণ করেন, এরূপ মহাঋদ্ধিসম্পন্ন ও মহানুভবসম্পন্ন চন্দ্র-সূর্যকে হস্ত দ্বারা স্পর্শ ও পরিমর্দন করেন এবং যতদূর ব্রহ্মলোক রয়েছে ততদূর আপন কায় বশীভূত করেন।” দ্বিতীয় সূত্র।

ব্যাখ্যা [১]