লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৭]

ইচ্ছানঙ্গল সূত্র

একসময় ভগবান ইচ্ছানঙ্গলের বনসণ্ডে অবস্থান করছিলেন। তথায় ভগবান ভিক্ষুদের আহ্বান করে বললেন, “হে ভিক্ষুগণ, তিনমাস নির্জনে অবস্থান করতে আমার ইচ্ছা হচ্ছে, আমার জন্য পিণ্ডপাত আনায়নকারী শুধুমাত্র একজন ব্যতীত অন্য কারও তখন আমার নিকট উপস্থিত হওয়া উচিত হবে না।” “তাই হোক ভন্তে,” বলে সেই ভিক্ষুগণ ভগবানের কথায় সম্মত হলেন এবং পিণ্ডপাত সরবরাহকারী একজন ব্যতীত অন্য কেউ ভগবানের নিকট উপস্থিত হলেন না।

অতঃপর ভগবান সেই তিন মাস সমাপনে নির্জনতাজনিত ধ্যান হতে উঠে ভিক্ষুদের আহ্বান করলেন, “হে ভিক্ষুগণ, যদি অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকগণ তোমাদের এরূপ জিজ্ঞাসা করে : ‘বন্ধুগণ, কীরূপে অবস্থানের দ্বারা শ্রমণ গৌতম বর্ষাবাস অতিক্রম করেন?’ এরূপ জিজ্ঞাসিত হলে তোমরা সেই অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের এরূপ ব্যাখ্যা করবে-‘বন্ধুগণ, আনাপানস্মৃতি-সমাধির মাধ্যমে ভগবান বর্ষাবাস অতিক্রম করেন।’

ভিক্ষুগণ, এক্ষেত্রে আমি স্মৃতিযোগে শ্বাস গ্রহণ করি এবং স্মৃতি যোগে শ্বাস ত্যাগ করি। দীর্ঘশ্বাস গ্রহণকালে ‘দীর্ঘশ্বাস গ্রহণ করছি’ বলে প্রকৃষ্টরূপে জানি; দীর্ঘশ্বাস ত্যাগকালে ‘দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করছি’ বলে প্রকৃষ্টরূপে জানি; হ্রস্ব শ্বাস গ্রহণকালে ‘হ্রস্ব শ্বাস গ্রহণ করছি’ বলে প্রকৃষ্টরূপে জানি, হ্রস্ব শ্বাস ত্যাগকালে ‘হ্রস্ব শ্বাস ত্যাগ করছি’ বলেও আমি প্রকৃষ্টরূপে জানি; এবং ‘সর্বকায়ে অনুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’ এরূপে শিক্ষা করি; ‘সর্বকায়ে অনুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপেও শিক্ষা করি; ‘কায়সংস্কার প্রশান্ত করে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘কায়সংস্কার প্রশান্ত করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপে শিক্ষা করি; ‘প্রীতি অনুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’, ‘প্রীতি অনুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপেও শিক্ষা করি; ‘সুখানুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’ এরূপে শিক্ষা করি; ‘সুখানুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’ এরূপেও শিক্ষা করি; এবং ‘চিত্তের সংস্কার অনুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘চিত্তের সংস্কার অনুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপে শিক্ষা করি; ‘চিত্তের সংস্কার প্রশান্ত করে শ্বাস গ্রহণ করব’ আর ‘চিত্তের সংস্কার প্রশান্ত করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপেও শিক্ষা করি; ‘চিত্তানুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’ এরূপে শিক্ষা করি; ‘চিত্তানুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপেও শিক্ষা করি; এবং ‘উৎফুল্ল চিত্তে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘উৎফুল্ল চিত্তে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপে শিক্ষা করি; ‘একাগ্র চিত্তে শ্বাস গ্রহণ করব’ এরূপে শিক্ষা করি; ‘একাগ্র চিত্তে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপেও শিক্ষা করি; ‘বিমুক্ত চিত্তে শ্বাস গ্রহণ করব’ এরূপে শিক্ষা করি; ‘বিমুক্ত চিত্তে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপেও শিক্ষা করি; ‘অনিত্যানুদর্শী হয়ে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘অনিত্যানুদর্শী হয়ে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপে শিক্ষা করি; ‘বিরাগানুদর্শী হয়ে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘বিরাগানুদর্শী হয়ে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপেও শিক্ষা করি; এবং ‘নিরোধানুদর্শী হয়ে শ্বাস গ্রহণ করব’ এরূপে শিক্ষা করি; ‘নিরোধানুদর্শী হয়ে শ্বাস ত্যাগ করব’, ত্যাগানুদর্শী হয়ে শ্বাস গ্রহণ করব’ এবং ‘ত্যাগানুদর্শী হয়ে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপেও শিক্ষা করি।

ভিক্ষুগণ, তাই কেউ মন্তব্য করার সময় এ বিষয়ে যথার্থই বলে যে, ইহা ‘আর্যবিহার’, ইহা ‘ব্রহ্মবিহার’ ও ইহাই ‘তথাগত বিহার’। তাহলে আনাপানস্মৃতি-সমাধি সম্পর্কেও সে যথার্থরূপে বলে যে, ইহা ‘আর্যবিহার’, ইহা ‘ব্রহ্মবিহার’ ও ইহাই ‘তথাগত বিহার’। ভিক্ষুগণ, যে ভিক্ষুগণ শৈক্ষ্য, এখনো লক্ষ্য অর্জন করেনি এবং অনুত্তর যোগক্ষেম প্রার্থনা করতে করতে অবস্থান করে, তাদের আনাপানস্মৃতি-সমাধি ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে আসবসমূহ ক্ষয়ের জন্য তা সংবর্তিত হয়। আর ভিক্ষুগণ, যে ভিক্ষু অর্হৎ, ক্ষীণাসব, উদ্‌যাপিত জীবন, করণীয়কৃত, ভার অবনমিত, নিজ কল্যাণপ্রাপ্ত ও ভবসংযোজন পরিক্ষীণ করে সম্যকরূপে বিমুক্ত হয়েছে, তাদের আনাপানস্মৃতি-সমাধি ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা ইহজীবনে সুখে অবস্থানের জন্য এবং স্মৃতি-সম্প্রজ্ঞানতার জন্যই সংবর্তিত হয়।

ভিক্ষুগণ, তাই কেউ মন্তব্য করার সময় যথার্থই বলে যে, ইহা ‘আর্যবিহার’, ইহা ‘ব্রহ্মবিহার’ ও ইহাই ‘তথাগত বিহার’। তাহলে আনাপানস্মৃতি-সমাধি সম্পর্কেও সে যথার্থরূপে বলে যে, ইহা ‘আর্যবিহার’, ইহা ‘ব্রহ্মবিহার’ ও ইহাই ‘তথাগত বিহার।’” প্রথম সূত্র।

ব্যাখ্যা [১]