অতঃপর বহুসংখ্যক ভিক্ষু ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদন করে একপাশে বসলেন। একপাশে উপবিষ্ট সেই ভিক্ষুগণ ভগবানকে এরূপ বললেন, “ভন্তে,একধর্ম আছে কি যা ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে চারি ধর্ম পরিপূর্ণ হয়, সেই চারি ধর্ম ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে সপ্তধর্ম পরিপূর্ণ হয় এবং সপ্তধর্ম ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে দ্বিবিধ ধর্ম পরিপূর্ণ হয়?
“হে ভিক্ষুগণ,একধর্ম আছে যা ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে চারি ধর্ম পরিপূর্ণ হয়, সেই চারি ধর্ম ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে সপ্তধর্ম পরিপূর্ণ হয় এবং সপ্তধর্ম ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে দ্বিবিধ ধর্ম পরিপূর্ণ হয়।”
“ভন্তে, কীরূপ একধর্ম আছে যা ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে চারি ধর্ম পরিপূর্ণ হয়, সেই চারি ধর্ম ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে সপ্তধর্ম পরিপূর্ণ হয় এবং সপ্তধর্ম ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে দুই ধর্ম পরিপূর্ণ হয়?”
“হে ভিক্ষুগণ, আনাপানস্মৃতি-সমাধি হচ্ছে একধর্ম যা ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে চারি স্মৃতিপ্রস্থান পরিপূর্ণ হয়। চারি স্মৃতিপ্রস্থান ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ পরিপূর্ণ হয় এবং সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে বিদ্যা ও বিমুক্তি পরিপূর্ণ হয়।
ভিক্ষুগণ, কীরূপে আনাপানস্মৃতি-সমাধি ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে চারি স্মৃতিপ্রস্থান পরিপূর্ণ হয়? ভিক্ষুগণ, এক্ষেত্রে ভিক্ষু অরণ্যে, বৃক্ষমূলে অথবা কোনো নির্জনগৃহে গিয়ে দেহকে ঋজুভাবে রেখে সম্মুখে স্মৃতি উপস্থাপিত করে পদ্মাসনে উপবেশন করে। তদাবস্থায় সে স্মৃতিমান হয়ে শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করে। দীর্ঘশ্বাস গ্রহণ করলে ‘দীর্ঘ শ্বাস গ্রহণ করছি’ বলে প্রকৃষ্টরূপে জানে, দীর্ঘ শ্বাস ত্যাগ করলে ‘দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করছি’ বলে প্রকৃষ্টরূপে জানে, হ্রস্বশ্বাস গ্রহণ করলে ‘হ্রস্বশ্বাস গ্রহণ করছি’ বলে প্রকৃষ্টরূপে জানে; আর হ্রস্বশ্বাস ত্যাগ করলে ‘হ্রস্বশ্বাস ত্যাগ করছি’ বলেও সে প্রকৃষ্টরূপে জানে; এবং ‘সর্বকায়ে অনুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; আর ‘সর্বকায়ে অনুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপও শিক্ষা করে; ‘কায়সংস্কার প্রশান্ত করে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘কায়সংস্কার প্রশান্ত করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; ‘প্রীতি অনুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’ আর ‘প্রীতি অনুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপও শিক্ষা করে; ‘সুখানুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘সুখানুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; ‘চিত্তের সংস্কার অনুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’, ‘চিত্তের সংস্কার অনুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; এবং ‘চিত্তের সংস্কার প্রশান্ত করে শ্বাস গ্রহণ করব’, ‘চিত্তের সংস্কার প্রশান্ত করে শ্বাস ত্যাগ করব’, ‘চিত্তানুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘চিত্তানুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপও শিক্ষা করে;‘উৎফুল্ল চিত্তে শ্বাস গ্রহণ করব’ এবং ‘উৎফুল্ল চিত্তে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; ‘একাগ্র চিত্তে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘একাগ্র চিত্তে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপও শিক্ষা করে; ‘বিমুক্ত চিত্তে শ্বাস গ্রহণ করব’, ‘বিমুক্ত চিত্তে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; ‘অনিত্যানুদর্শী হয়ে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘অনিত্যানুদর্শী হয়ে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; এবং ‘বিরাগানুদর্শী হয়ে শ্বাস গ্রহণ করব’, ‘বিরাগানুদর্শী হয়ে শ্বাস ত্যাগ করব’ ও ‘নিরোধানুদর্শী হয়ে শ্বাস গ্রহণ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; ‘নিরোধানুদর্শী হয়ে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; এবং ‘ত্যাগানুদর্শী হয়ে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘ত্যাগানুদর্শী হয়ে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপও শিক্ষা করে।
ভিক্ষুগণ, যে-সময় ভিক্ষুটি দীর্ঘশ্বাস গ্রহণ করে তখন ‘দীর্ঘশ্বাস গ্রহণ করছি’ বলে প্রকৃষ্টরূপে জানে; দীর্ঘশ্বাস ত্যাগকালে ‘দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করছি’ বলে প্রকৃষ্টরূপে জানে; হ্রস্ব শ্বাস গ্রহণকালে ‘হ্রস্ব শ্বাস গ্রহণ করছি’ বলে প্রকৃষ্টরূপে জানে; হ্রস্ব শ্বাস ত্যাগকালে ‘হ্রস্ব শ্বাস ত্যাগ করছি’ বলেও সে প্রকৃষ্টরূপে জানে; এবং ‘সর্বকায়ে অনুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’ এরূপে শিক্ষা করে; ‘সর্বকায়ে অনুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপেও শিক্ষা করে; ‘কায়সংস্কার প্রশান্ত করে শ্বাস গ্রহণ করব’ এরূপে শিক্ষা করে; ‘কায়সংস্কার প্রশান্ত করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপেও শিক্ষা করে। ভিক্ষুগণ, সেই সময়ে ভিক্ষু উদ্যমশীল, সম্প্রজ্ঞানী ও স্মৃতিমান হয়ে এবং জগতে অভিধ্যা ও দৌর্মনস্য অপনোদনপূর্বক কায়ে কায়ানুদর্শী হয়ে অবস্থান করে। তা কী কারণে? কারণ ভিক্ষুগণ, এই নিশ্বাস-প্রশ্বাসকে আমি কায়িক অপরিহার্য বিষয় বলি। তদ্ধেতু ভিক্ষুগণ, ভিক্ষুটি সেই সময়ে উদ্যমশীল, সম্প্রজ্ঞানী ও স্মৃতিমান হয়ে এবং জগতে অভিধ্যা ও দৌর্মনস্য অপনোদনপূর্বক কায়ে কায়ানুদর্শী হয়ে অবস্থান করে।
ভিক্ষুগণ, যে-সময়ে ভিক্ষুটি ‘প্রীতি অনুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘প্রীতি অনুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; ‘সুখানুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’, ‘সুখানুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; এবং ‘চিত্তের সংস্কার অনুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘চিত্তের সংস্কার অনুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; ‘চিত্তের সংস্কার প্রশান্ত করে শ্বাস গ্রহণ করব’, ‘চিত্তের সংস্কার প্রশান্ত করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপও শিক্ষা করে। ভিক্ষুগণ, সেই সময়ে ভিক্ষু উদ্যমশীল, সম্প্রজ্ঞানী ও স্মৃতিমান হয়ে এবং জগতে অভিধ্যা ও দৌর্মনস্য অপনোদনপূর্বক বেদনায় বেদনানুদর্শী হয়ে অবস্থান করে। তা কী কারণে? কারণ ভিক্ষুগণ, এই নিশ্বাস-প্রশ্বাসের উত্তম মনোনিবেশকে আমি বেদনার অপরিহার্য বিষয় বলি। তদ্ধেতু ভিক্ষুগণ,ভিক্ষুটি সেই সময়ে উদ্যমশীল, সম্প্রজ্ঞানী ও স্মৃতিমান হয়ে এবং জগতে অভিধ্যা ও দৌর্মনস্য অপনোদনপূর্বক বেদনায় বেদনানুদর্শী হয়ে অবস্থান করে।
ভিক্ষুগণ, যেই সময়ে ভিক্ষুটি ‘চিত্তানুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘চিত্তানুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; ‘উৎফুল্ল চিত্তে অনুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’ আর ‘উৎফুল্ল চিত্তে অনুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; এবং ‘একাগ্র চিত্তে অনুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘একাগ্র চিত্তে অনুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে, ‘বিমুক্ত চিত্তে অনুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘বিমুক্ত চিত্তে অনুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপও শিক্ষা করে। ভিক্ষুগণ, সেই সময়ে ভিক্ষু উদ্যমশীল, সম্প্রজ্ঞানী ও স্মৃতিমান হয়ে এবং জগতে অভিধ্যা ও দৌর্মনস্য অপনোদনপূর্বক চিত্তে চিত্তানুদর্শী হয়ে অবস্থান করে। তা কী কারণে? কারণ ভিক্ষুগণ, আমি বলি এই আনাপানস্মৃতি-সমাধি বিস্মরণশীল ও অসম্প্রজ্ঞানী নয়। তদ্ধেতু ভিক্ষুগণ,ভিক্ষুটি সেই সময়ে উদ্যমশীল, সম্প্রজ্ঞানী ও স্মৃতিমান হয়ে এবং জগতে অভিধ্যা ও দৌর্মনস্য অপনোদনপূর্বক চিত্তে চিত্তানুদর্শী হয়ে অবস্থান করে।
ভিক্ষুগণ, যেই সময়ে ভিক্ষুটি ‘আমি অনিত্যানুদর্শী হয়ে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘অনিত্যানুদর্শী হয়ে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; ‘বিরাগানুদর্শী হয়ে শ্বাস গ্রহণ করব’, ‘বিরাগানুদর্শী হয়ে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; এবং ‘নিরোধানুদর্শী হয়ে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘নিরোধানুদর্শী হয়ে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; এবং ‘ত্যাগানুদর্শী হয়ে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ত্যাগানুদর্শী হয়ে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপও শিক্ষা করে। ভিক্ষুগণ, সেই সময়ে ভিক্ষু উদ্যমশীল, সম্প্রজ্ঞানী ও স্মৃতিমান হয়ে এবং জগতে অভিধ্যা ও দৌর্মনস্য অপনোদনপূর্বক ধর্মে ধর্মানুদর্শী হয়ে অবস্থান করে। সে অভিধ্যা-দৌর্মনস্যাদির প্রহান করে ও প্রজ্ঞা দ্বারা দর্শন করে তার প্রতি সম্পূর্ণরূপে আগ্রহহীন হয়। তদ্ধেতু ভিক্ষুগণ, ভিক্ষুটি সেই সময়ে উদ্যমশীল, সম্প্রজ্ঞানী ও স্মৃতিমান হয়ে এবং জগতে অভিধ্যা ও দৌর্মনস্য অপনোদনপূর্বক ধর্মে ধর্মানুদর্শী হয়ে অবস্থান করে।
ভিক্ষুগণ, এরূপেই আনাপানস্মৃতি-সমাধি ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে চারি স্মৃতিপ্রস্থান পরিপূর্ণ হয়।
হে ভিক্ষুগণ, কীরূপে চারি স্মৃতিপ্রস্থান ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ পরিপূর্ণ হয়? যেই সময়ে ভিক্ষু কায়ে কায়ানুদর্শী হয়ে অবস্থান করে সেই সময়ে একাগ্রমনা ভিক্ষুর স্মৃতি শিথিল হয় না। আর যেই সময়ে ভিক্ষুর স্মৃতি উপস্থাপিত হয় এবং শিথিল হয় না, সেই সময়ে ভিক্ষুর স্মৃতি-সম্বোধ্যাঙ্গ আরব্ধ হয়, সেই সময়ে ভিক্ষু স্মৃতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত (অনুশীলন) করে এবং সেই সময়ে ভিক্ষুর স্মৃতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা পূর্ণতা লাভ করে।
সে সেইরূপে স্মৃতিমান হয়ে অবস্থানকালে সেই ধর্মকে (বিষয়কে) প্রজ্ঞা দ্বারা নিরীক্ষণ করে, পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে অনুসন্ধান করে এবং পরীক্ষা (গবেষণা) করে। আনন্দ, যেই সময়ে ভিক্ষু সেইরূপে স্মৃতিমান হয়ে অবস্থানকালে সেই ধর্মকে প্রজ্ঞা দ্বারা নিরীক্ষণ করে, পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে অনুসন্ধান করে এবং পরীক্ষা করে, সেই সময়ে ভিক্ষুর ধর্মবিচয়-সম্বোজ্ঝাঙ্গ লাভ হয়। সেই সময়ে ভিক্ষু ধর্মবিচয়-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত করে এবং সেই সময়ে ভিক্ষুর ধর্মবিচয়-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা পূর্ণতা লাভ করে।
তার সেই ধর্ম প্রজ্ঞা দ্বারা নিরীক্ষণ, পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে অনুসন্ধান এবং সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে পরীক্ষার দরুন তার বীর্য আরব্ধ ও সক্রিয় হয়। আনন্দ, যেই সময়ে ভিক্ষু সেই ধর্ম প্রজ্ঞা দ্বারা নিরীক্ষণ, পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে অনুসন্ধান এবং সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে পরীক্ষার দরুন তার বীর্য আরব্ধ ও সক্রিয় হয়; সেই সময়ে ভিক্ষুর বীর্য-সম্বোজ্ঝাঙ্গ আরব্ধ হয়, সেই সময়ে ভিক্ষু বীর্য-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত করে এবং সেই সময়ে ভিক্ষুর বীর্য-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা পূর্ণতা লাভ করে।
আরব্ধবীর্যের নিরামিষ প্রীতি উৎপন্ন হয়। আনন্দ, যেই সময়ে আরব্ধবীর্য ভিক্ষুর নিরামিষ প্রীতি উৎপন্ন হয়, সেই সময়ে তার প্রীতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ আরব্ধ হয়; সেই সে প্রীতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত করে এবং সেই সময়ে ভিক্ষুর প্রীতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা পূর্ণতা লাভ করে।
প্রীতিমনার কায় ও চিত্ত উভয়ই প্রশান্ত হয়। আনন্দ, যেই সময়ে প্রীতিমনা ভিক্ষুর কায় ও মন (চিত্ত) উভয়ই প্রশান্ত হয়, সেই সময়ে ভিক্ষুর প্রশান্তি সম্বোজ্ঝাঙ্গ আরব্ধ হয়; সেই সময়ে সে প্রশান্তি সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত করে এবং সেই সময়ে ভিক্ষুর প্রশান্তি সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা পরিপূর্ণ হয়।
প্রশান্তকায় সুখী ভিক্ষুর চিত্ত সমাধিস্থহয়। আনন্দ, যেই সময়ে প্রশান্তকায় সুখী ভিক্ষুর চিত্ত সমাধিস্থহয়, সেই সময়ে তার সমাধি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ আরব্ধ হয়; সেই সময়ে সে সমাধি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত করে এবং সেই সময়ে ভিক্ষুর সমাধি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা পরিপূর্ণ হয়।
সে সেরূপ সমাহিত চিত্তের প্রতি সর্বতোভাবে আগ্রহহীন (অনুৎসাহী) হয়। আনন্দ, যেই সময়ে ভিক্ষু সেরূপ সমাহিত চিত্তের প্রতি সর্বতোভাবে আগ্রহহীন (অনুৎসাহী) হয়, সেই সময়ে তার উপেক্ষা-সম্বোজ্ঝাঙ্গ আরব্ধ হয়; সেই সময়ে সে উপেক্ষা-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত করে এবং সেই সময়ে ভিক্ষুর উপেক্ষা-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা পরিপূর্ণ হয়।
ভিক্ষুগণ, যেই সময়ে ভিক্ষু বেদনায় বেদনানুদর্শী, চিত্তে চিত্তানুদর্শী এবং ধর্মে ধর্মানুদর্শী হয়ে অবস্থান করে, সেই সময়ে একাগ্রমনা ভিক্ষুর স্মৃতি শিথিল হয় না। যেই সময়ে ভিক্ষুর স্মৃতি উপস্থাপিত হয় এবং শিথিল হয় না, সেই সময়ে ভিক্ষুর স্মৃতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ আরব্ধ হয়; সেই সময়ে ভিক্ষু স্মৃতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত (অনুশীলন) করে এবং সেই সময়ে ভিক্ষুর স্মৃতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা পূর্ণতা লাভ করে।
(প্রথম স্মৃতিপ্রস্থানের ন্যায় বিস্তারিতব্য)
সে সমাহিত চিত্তের প্রতি সর্বতোভাবে আগ্রহহীন (অনুৎসাহী) হয়। আনন্দ, যেই সময়ে ভিক্ষু সমাহিত চিত্তের প্রতি সর্বতোভাবে আগ্রহহীন হয়, সেই সময়ে তার উপেক্ষা-সম্বোজ্ঝাঙ্গ আরব্ধ হয়; সেই সময়ে সে উপেক্ষা-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত করে এবং সেই সময়ে ভিক্ষুর উপেক্ষা-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা পরিপূর্ণ হয়। ভিক্ষুগণ, এরূপেই চারি স্মৃতিপ্রস্থান ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ পরিপূর্ণ হয়।
ভিক্ষুগণ, কীরূপে সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে বিদ্যা ও বিমুক্তি পরিপূর্ণ হয়? ভিক্ষুগণ, এক্ষেত্রে ভিক্ষু বিবেক-নিশ্রিত, বিরাগ-নিশ্রিত, নিরোধ-নিশ্রিত ও বিসর্জন-পরিণামী স্মৃতিসম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত করে। একইভাবে ভিক্ষু বিবেক-নিশ্রিত, বিরাগ-নিশ্রিত, নিরোধ-নিশ্রিত ও বিসর্জন-পরিণামী ধর্মবিচয়-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, বীর্য-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, স্মৃতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, সমাধি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ও উপেক্ষা-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত করে। ভিক্ষুগণ, এরূপেই সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে বিদ্যা ও বিমুক্তি পরিপূর্ণ হয়।” পঞ্চম সূত্র।
ব্যাখ্যা [০]