লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৭]

মহাকপ্পিন সূত্র

শ্রাবস্তী নিদান। সেই সময়ে আয়ুষ্মান মহাকপ্পিন ভগবানের অনতিদূরে দেহকে ঋজুভাবে রেখে সম্মুখে স্মৃতি উপস্থাপিত করে পদ্মাসনে উপবিষ্ট ছিলেন। ভগবান আয়ুষ্মান মহাকপ্পিনকে অনতিদূরে দেহকে ঋজুভাবে রেখে সম্মুখে স্মৃতি উপস্থাপিত করে পদ্মাসনে উপবিষ্টাবস্থায় দেখতে পেলেন। এরূপ দেখে ভগবান ভিক্ষুদের ডাকলেন :

“হে ভিক্ষুগণ, তোমরা ওই ভিক্ষুর দেহের অস্থির, স্পন্দনভাব দেখতে পাচ্ছ না?” “ভন্তে, যখন হতে সেই আয়ুষ্মানকে আমরা সংঘমধ্যে একপাশে নির্জনে বসে থাকতে দেখতে পাচ্ছি, তখন হতে আমরা সেই আয়ুষ্মানের কোনো প্রকার কায়িক ইতস্তত, স্পন্দনভাব দেখতে পাচ্ছি না।”

“ভিক্ষুগণ, যে সমাধি ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে কায় ও চিত্তের অস্থির স্পন্দনভাব সৃষ্টি হয় না, এই ভিক্ষু সেরূপ সমাধির নিকামলাভী (অনায়াসে লাভী), অকৃত্যলাভী (বিনাকষ্টে লাভী) এবং অকসিরলাভী (সহজেই লাভী)। ভিক্ষুগণ, কীরূপ সমাধির ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে দেহ ও চিত্তের অস্থির, স্পন্দনভাব সৃষ্টি হয় না?

ভিক্ষুগণ, আনাপানস্মৃতি-সমাধির ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে দেহ ও চিত্তের অস্থির, স্পন্দনভাব সৃষ্টি হয় না। কীরূপে আনাপানস্মৃতি-সমাধি ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে দেহ ও চিত্তের অস্থির, স্পন্দনভাব সৃষ্টি হয় না?

ভিক্ষুগণ, এক্ষেত্রে ভিক্ষু অরণ্যে, বৃক্ষমূলে অথবা কোনো নির্জনগৃহে গিয়ে দেহকে ঋজুভাবে রেখে সম্মুখে স্মৃতি উপস্থাপিত করে পদ্মাসনে উপবেশন করে। তদাবস্থায় সে স্মৃতিমান হয়ে শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করে। দীর্ঘশ্বাস গ্রহণ করলে ‘দীর্ঘশ্বাস গ্রহণ করছি’ বলে প্রকৃষ্টরূপে জানে, দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করলে ‘দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করছি’ বলে প্রকৃষ্টরূপে জানে, হ্রস্বশ্বাস গ্রহণ করলে ‘হ্রস্বশ্বাস গ্রহণ করছি’ বলে প্রকৃষ্টরূপে জানে; হ্রস্বশ্বাস ত্যাগ করলে ‘হ্রস্বশ্বাস ত্যাগ করছি’ বলেও সে প্রকৃষ্টরূপে জানে; এবং ‘সর্বকায়ে অনুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; ‘সর্বকায়ে অনুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপও শিক্ষা করে; ‘কায়সংস্কার প্রশান্ত করে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘কায়সংস্কার প্রশান্ত করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; ‘প্রীতি অনুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’, ‘প্রীতি অনুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপও শিক্ষা করে; ‘সুখানুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘সুখানুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; ‘চিত্তের সংস্কার অনুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’, ‘চিত্তের সংস্কার অনুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; এবং ‘চিত্তের সংস্কার প্রশান্ত করে শ্বাস গ্রহণ করব’, ‘চিত্তের সংস্কার প্রশান্ত করে শ্বাস ত্যাগ করব’ আর ‘চিত্তানুভব করে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘চিত্তানুভব করে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপও শিক্ষা করে; ‘উৎফুল্ল চিত্তে শ্বাস গ্রহণ করব’ এবং ‘উৎফুল্ল চিত্তে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; ‘একাগ্র চিত্তে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘একাগ্র চিত্তে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপও শিক্ষা করে; ‘বিমুক্ত চিত্তে শ্বাস গ্রহণ করব’ আর ‘বিমুক্ত চিত্তে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; ‘অনিত্যানুদর্শী হয়ে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘অনিত্যানুদর্শী হয়ে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; এবং ‘বিরাগানুদর্শী হয়ে শ্বাস গ্রহণ করব’, ‘বিরাগানুদর্শী হয়ে শ্বাস ত্যাগ করব’ ও ‘নিরোধানুদর্শী হয়ে শ্বাস গ্রহণ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; ‘নিরোধানুদর্শী হয়ে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপ শিক্ষা করে; এবং ‘ত্যাগানুদর্শী হয়ে শ্বাস গ্রহণ করব’ ও ‘ত্যাগানুদর্শী হয়ে শ্বাস ত্যাগ করব’ এরূপও শিক্ষা করে। ভিক্ষুগণ, এরূপেই আনাপানস্মৃতি-সমাধি ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে দেহ ও চিত্তের অস্থির, স্পন্দনভাব সৃষ্টি হয় না।” সপ্তম সূত্র।

ব্যাখ্যা [১]