একপাশে উপবিষ্ট আয়ুষ্মান আনন্দ ভগবানকে এরূপ বললেন :
“ভন্তে, ঞাতিতে কক্কটো নামক উপাসক মৃত্যুবরণ করেছেন; তার কোন গতি হয়েছে এবং তিনি কোথায় উৎপন্ন হয়েছেন? ঞাতিতে কলিভো নামক উপাসক মৃত্যুবরণ করেছেন; তার কোন গতি হয়েছে এবং তিনি কোথায় পুনর্জন্ম হয়েছেন? ঞাতিতে নিকতো নামক উপাসকও কালগত হয়েছেন; তার কোন গতি হয়েছে এবং তিনি কোথায় পুনর্জন্ম হয়েছেন? ঞাতিতে কটিস্সহো নামক উপাসক মৃত্যুবরণ করেছেন; তার কোন গতি হয়েছে এবং তিনি কোথায় পুনর্জন্ম হয়েছেন? ঞাতিতে তুট্ঠো নামক উপাসক মৃত্যুবরণ করেছেন; তার কোন গতি হয়েছে এবং তিনি কোথায় উৎপন্ন হয়েছেন? ঞাতিতে সন্তুট্ঠো(সন্তুষ্ট) নামক উপাসকও মৃত্যুবরণ করেছেন; তার কোন গতি হয়েছে এবং তিনি কোথায় পুনর্জন্ম হয়েছেন? ঞাতিতে ভদ্র নামক উপাসক কালগত হয়েছেন; তার কোন গতি হয়েছে এবং তিনি কোথায় পুনর্জন্ম হয়েছেন? আর ভন্তে, ঞাতিতে সুভদ্র নামক উপাসকও মৃত্যুবরণ করেছেন; তার কোন গতি হয়েছে এবং তিনি কোথায় পুনর্জন্ম হয়েছেন?”
“হে আনন্দ, কালগত কক্কটো নামক উপাসক পাঁচ প্রকার অধোভাগীয় সংযোজন পরিক্ষয়ে উপপাতিকরূপে উৎপন্ন হয়েছে এবং অনাবর্তিতধর্মী সেই লোকে (শুদ্ধাবাস ব্রহ্মলোকে) পরিনির্বাণ লাভ করবে। আর কালগত কলিভো, নিকতো, কটিস্সহো, তুট্ঠো (তুষ্ট), সন্তুট্ঠো (সন্তুষ্ট), ভদ্র ও সুভদ্র নামক উপাসকও পাঁচ প্রকার অধোভাগীয় সংযোজন পরিক্ষয়ে উপপাতিকরূপে উৎপন্ন হয়েছে এবং অনাবর্তিতধর্মী সেই লোকে (শুদ্ধাবাস ব্রহ্মলোকে) পরিনির্বাণ লাভ করবে।
আনন্দ, ঞাতিতে পঞ্চাশ জনের অধিক কালগত উপাসকগণ পাঁচ প্রকার অধোভাগীয় সংযোজন পরিক্ষয়ে উপপাতিকরূপে উৎপন্ন হয়েছে এবং অনাবর্তিতধর্মী সেই লোকে (শুদ্ধাবাস ব্রহ্মলোকে) পরিনির্বাণ লাভ করবে। ঞাতিতে নব্বই জনের অধিক কালগত উপাসকগণ ত্রিবিধ সংযোজন পরিক্ষয় করে এবং রাগ, দ্বেষ ও মোহের ক্ষীণত্বহেতু (হ্রাসহেতু) সকৃদাগামী হয়েছে। তারা ইহলোকে একবারমাত্র আগমন বা জন্মধারণ করে দুঃখের অন্তসাধন করবে। আর আনন্দ, ঞাতিতে পঞ্চশত ছয়জনের অধিক কালগত উপাসকগণ ত্রিবিধ সংযোজন পরিক্ষয় করে স্রোতাপন্ন, অবিনিপাতধর্মী ও নিয়ত সম্বোধিপরায়ণ হয়েছে।
আনন্দ, ইহা অদ্ভুত কিছুই নয়; যথা : মানুষ কালগত হলে আমার নিকট অন্যরা উপস্থিত হয়ে সেই সেই কালগতদের ব্যাপারে এরূপ জিজ্ঞাসা করবে। ইহা তথাগতের জন্য বিরক্তিকর। আনন্দ, সেজন্য আমি তোমাদের ধর্মদর্পন নামক ধর্মপর্যায় দেশনা করব। যাতে সমৃদ্ধ আর্যশ্রাবক আকাঙ্ক্ষা করলে নিজেকে নিজেই এরূপে ব্যাখ্যা করতে পারে যে, ‘আমার নিরয়, তির্যক, প্রেত ও অপায় দুর্গতি বিনিপাত ক্ষীণ হয়েছে। আমি স্রোতাপন্ন, অবিনিপাতধর্মী এবং নিয়ত সম্বোধিপরায়ণ।’
আনন্দ, সেই ধর্মদর্পন নামক ধর্মপর্যায় কীরূপ; যাতে সমৃদ্ধ আর্যশ্রাবক আকাঙ্ক্ষা করলে নিজেকে নিজেই এরূপে ব্যাখ্যা করতে পারে যে, ‘আমার নিরয়, তির্যক, প্রেত ও অপায় দুর্গতি বিনিপাত ক্ষীণ হয়েছে। আমি স্রোতাপন্ন, অবিনিপাতধর্মী এবং নিয়ত সম্বোধিপরায়ণ?’
আনন্দ, এক্ষেত্রে আর্যশ্রাবক বুদ্ধের প্রতি এরূপে অবিচলিত শ্রদ্ধায় গুণান্বিত হয়-‘ইনি সেই ভগবান অর্হৎ, সম্যকসস্বুদ্ধ, বিদ্যা ও সুআচরণসম্পন্ন, সুগত, লোকবিদ (লোকজ্ঞ), অনুত্তর পুরুষ দমনকারী সারথি এবং দেব-মানবের শাস্তা, বুদ্ধ, ভগবান।’ সে ধর্মের প্রতিও অবিচলিত শ্রদ্ধাসম্পন্ন হয়-‘ভগবানের ধর্ম সুন্দররূপে ব্যাখ্যাত, স্বয়ং দর্শনযোগ্য, কালাকাল বিরহিত, এসে দেখার যোগ্য, নির্বাণপ্রাপক এবং বিজ্ঞজন কর্তৃক জ্ঞাতব্য।’ এবং সে সংঘের প্রতিও অগাধ শ্রদ্ধাগুণে সমৃদ্ধ হয়-‘ভগবানের শ্রাবকসংঘ সুপথে প্রতিপন্ন, ঋজুপথে প্রতিপন্ন, ন্যায়-পথে প্রতিপন্ন, সমীচীন-পথে প্রতিপন্ন, ভগবানের শ্রাবকসংঘ যুগ্ম হিসেবে চারি যুগ্ম এবং পুদ্গল হিসেবে অষ্ট আর্যপুদ্গলই চারি প্রত্যয় দান-আহুতি লাভের যোগ্য, আতিথেয়তা লাভের যোগ্য, দক্ষিণেয়্য (দক্ষিণার যোগ্য), অঞ্জলি (বন্দনা) করণীয় এবং জগতের অনুত্তর পুণ্যক্ষেত্র।’ সে অখণ্ড, নিশ্চিদ্র, নিখুঁত, নিষ্কলঙ্ক, বিমুক্তিতে উপনীতকারী, বিজ্ঞজন কর্তৃক প্রশংসিত (অদূষিত) এবং সমাধি লাভের সহায়ক শীলে সমন্নাগত হয়। আনন্দ, ইহাই হচ্ছে ধর্মদর্পণ নামক ধর্মপর্যায়; যাতে সমৃদ্ধ আর্যশ্রাবক আকাঙ্ক্ষা করলে নিজেকে নিজেই এরূপে ব্যাখ্যা করতে পারে যে, ‘আমার নিরয়, তির্যক, প্রেত ও অপায় দুর্গতি বিনিপাত ক্ষীণ হয়েছে। আমি স্রোতাপন্ন, অবিনিপাতধর্মী এবং নিয়ত সম্বোধিপরায়ণ।’” দশম সূত্র।
তস্সুদ্দানং/সূত্রসূচি
রাজা, নিমগ্ন, দীর্ঘাবু ও সারিপুত্র সূত্রদ্বয়;
স্থপতি, বেলুদ্বার আর পাকা বাড়ি সূত্রত্রয়॥
ব্যাখ্যা [১]
English