শ্রাবস্তী নিদান। “হে ভিক্ষুগণ, ব্রাহ্মণেরা উত্থান বা উদয়গামী নামক শিক্ষা প্রজ্ঞাপন করে। তারা নিজ শ্রাবকদের এরূপে উদ্দীপিত (প্রবৃত্ত) করে, “হে পুরুষ, এসো সকালে উঠে তুমি পূর্বদিকে গমন কর। তুমি গর্ত, প্রপাত, খুঁটি (কাটাগাছের গোড়া, গোঁজ), কণ্টকময় স্থান, মলকু- (ময়লা জলের আধার) ও নোংরা খুদ্র জলাশয় ত্যাগ করো না। যখন তুমি যেখানে পতিত হবে, তখন সেখানেই তোমার মৃত্যুবরণ করা সমুচিত হবে। এরূপেই তুমি কায়ভেদে মৃত্যুর পর সুগতি স্বর্গলোকে উৎপন্ন হতে পারবে।
ভিক্ষুগণ, মূর্খ ও মূঢ় ব্রাহ্মণদের এরূপ আচরণ কখনই নির্বেদ, বিরাগ, নিরোধ, উপশম, অভিজ্ঞা, সম্বোধি ও নির্বাণ লাভের জন্য পরিচালিত করে না। ভিক্ষুগণ, আমিও আর্যবিনয়ে উদয়গামিনী প্রতিপদা প্রজ্ঞাপন করি; যা একান্তই নির্বেদ, বিরাগ, নিরোধ, উপশম, অভিজ্ঞা, সম্বোধি ও নির্বাণ লাভের জন্য সংবর্তিত হয়।
ভিক্ষুগণ, সেই উদয়গামিনী প্রতিপদা কীরূপ যা একান্তই নির্বেদ, বিরাগ, নিরোধ, উপশম, অভিজ্ঞা, সম্বোধি ও নির্বাণ লাভের জন্য সংবর্তিত হয়? এক্ষেত্রে আর্যশ্রাবক বুদ্ধের প্রতি এরূপে অবিচলিত শ্রদ্ধায় গুণান্বিত হয়-‘ইনি সেই ভগবান অর্হৎ, সম্যকসস্বুদ্ধ, বিদ্যা ও সুআচরণসম্পন্ন, সুগত, লোকবিদ (লোকজ্ঞ), অনুত্তর পুরুষ দমনকারী সারথি এবং দেব-মানবের শাস্তা, বুদ্ধ, ভগবান।’ ধর্মের প্রতিও সে অবিচলিত শ্রদ্ধাসম্পন্ন হয়-‘ভগবানের ধর্ম সুন্দররূপে ব্যাখ্যাত, স্বয়ং দর্শনযোগ্য, কালাকাল বিরহিত, এসে দেখার যোগ্য, নির্বাণপ্রাপক এবং বিজ্ঞজন কর্তৃক জ্ঞাতব্য।’ এবং সে সংঘের প্রতিও অগাধ শ্রদ্ধাগুণে সমৃদ্ধ হয়-‘ভগবানের শ্রাবকসংঘ সুপথে প্রতিপন্ন, ঋজুপথে প্রতিপন্ন, ন্যায়-পথে প্রতিপন্ন, সমীচীন-পথে প্রতিপন্ন, ভগবানের শ্রাবকসংঘ যুগ্ম হিসেবে চারি যুগ্ম এবং পুদ্গল হিসেবে অষ্ট আর্যপুদ্গলই চারি প্রত্যয় দান-আহুতি লাভের যোগ্য, আতিথেয়তা লাভের যোগ্য, দক্ষিণেয়্য (দক্ষিণার যোগ্য), অঞ্জলি (বন্দনা) করণীয় এবং জগতের অনুত্তর পুণ্যক্ষেত্র।’ সে অখণ্ড, নিশ্চিদ্র, নিখুঁত, নিষ্কলঙ্ক, বিমুক্তিতে উপনীতকারী, বিজ্ঞজন কর্তৃক প্রশংসিত (অদূষিত) এবং সমাধি লাভের সহায়ক শীলে সমন্নাগত হয়। ভিক্ষুগণ, ইহাই সেই উদয়গামিনী প্রতিপদা যা একান্তই নির্বেদ, বিরাগ, নিরোধ, উপশম, অভিজ্ঞা, সম্বোধি ও নির্বাণ লাভের জন্য সংবর্তিত হয়।” দ্বিতীয় সূত্র।
ব্যাখ্যা [১]
English