লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৭]

প্রথম মহানাম সূত্র

আমি এরূপ শুনেছি। একসময় ভগবান শাক্য রাজ্যে কপিলাবাস্তুর নিগ্রোধারামে অবস্থান করছিলেন। অতঃপর মহানাম শাক্য ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদন করে একপাশে বসলেন। একপাশে উপবিষ্ট মহানাম শাক্য ভগবানকে এরূপ বললেন :

“ভন্তে, এই কপিলবাস্তু অত্যন্ত সমৃদ্ধ, বহুজন সমৃদ্ধ, জনাকীর্ণ ও বিপুল জনতার সমাবেশে সজ্জিত। আমি ভগবানকে এবং ভাবিতমনা (অর্হৎ) ভিক্ষুদের পূজা করে সন্ধ্যা-সময়ে কপিলবাস্তুতে প্রবেশ করি। ভন্তে, তখন ভ্রমন করতে করতে হস্তী, ঘোড়া রথ, শকট ও পুরুষের সঙ্গে আমার দেখা হয়। সেই সময়ে বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘকে উপলক্ষ করে আমার যে স্মৃতি তা বিস্মৃত হয়। তখন আমার এরূপ চিন্তা হয়-‘যদি এই সময়ে আমি মৃত্যুবরণ করি, তাহলে আমার কোন গতি হবে এবং কোথায় বা জন্মধারণ করব?’”

“হে মহানাম, ভয় করো না, মহানাম, ভীত হয়ো না, নিষ্পাপ হবে সেরূপ মৃত্যুবরণ, সেরূপে কালগত হলেও তা নিষ্পাপ হবে। মহানাম, যে ব্যক্তির চিত্ত দীর্ঘদিন ধরে শ্রদ্ধা, শীল, শ্রুতি, ত্যাগ ও প্রজ্ঞা পরিভাবিত, তার এই কায় দৃশ্যমান, চারি মহাভৌতিক, মাতৃ-পিতৃজাত, পক্ব অন্নে গঠিত, অনিত্য (ক্ষয়শীল) দেহের মার্জনা স্বভাবী এবং ভঙ্গুর ও বিনাশশীল। সেজন্য ইহা কাক, শকুন, বাজপাখি, কুকুর, শৃগাল এবং বিভিন্ন জাতের কীটপতঙ্গ প্রাণীরাও খায়। যার চিত্ত দীর্ঘদিন ধরে শ্রদ্ধা, শীল,শ্রুতি, ত্যাগ ও প্রজ্ঞায় পরিভাবিত, তার চিত্ত শ্রেষ্ঠতা লাভে অগ্রগামী ও ঊর্ধ্বগামী হয়।

যেমন মহানাম, কোনো পুরুষ গভীর হ্রদে নেমে ঘি ও তৈলের কলসী ভেঙে ফেললে সেই ভগ্ন কলসীর টুকরা ও চাড়া পানিতে তলিয়ে যায় এবং কলসীতে থাকা ঘি ও তৈল ঊর্ধ্বগামী হয় আর তা উপরে ভেসে উঠে; ঠিক তদ্রুপ মহানাম, যে ব্যক্তির চিত্ত দীর্ঘদিন ধরে শ্রদ্ধা, শীল, শ্রুতি, ত্যাগ ও প্রজ্ঞা পরিভাবিত, তার এই কায় দৃশ্যমান, চারি মহাভৌতিক, মাতৃ-পিতৃজাত, পক্ব অন্নে গঠিত, অনিত্য (ক্ষয়শীল) দেহের মার্জনা-স্বভাবী এবং ভঙ্গুর ও বিনাশশীল। সে জন্য ইহা কাক, শকুন, বাজপাখি, কুকুর, শৃগাল এবং বিভিন্ন জাতের কীটপতঙ্গ প্রাণীরাও খায়। যার চিত্ত দীর্ঘদিন ধরে শ্রদ্ধা, শীল, শ্রুতি, ত্যাগ ও প্রজ্ঞায় পরিভাবিত, তার চিত্ত শ্রেষ্ঠতা লাভে অগ্রগামী ও ঊর্ধ্বগামী হয়। মহানাম, তোমার চিত্তও দীর্ঘদিন ধরে শ্রদ্ধা, শীল,শ্রুতি, ত্যাগ ও প্রজ্ঞায় পরিভাবিত। মহানাম, ভয় করো না, মহানাম, ভীত হয়ো না, নিষ্পাপ হবে সেরূপ মৃত্যুবরণ, সেরূপে কালগত হলেও তা নিষ্পাপ হবে।” প্রথম সূত্র।

ব্যাখ্যা [১]