লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৭]

নন্দক লিচ্ছবী সূত্র

একসময় ভগবান বৈশালীর মহাবনে কূটাগারশালায় অবস্থান করছিলেন। অতঃপর মহামাত্য নন্দক লিচ্ছবী ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদন করে একপাশে বসলেন। একপাশে উপবিষ্ট মহামাত্য নন্দক লিচ্ছবীকে ভগবান এরূপ বললেন :

“হে নন্দক, চার প্রকার গুণধর্মে সমন্নাগত একজন আর্যশ্রাবক স্রোতাপন্ন, অবিনিপাতধর্মী ও নিয়ত সম্বোধিপরায়ণ হয়। সেই চার প্রকার কী কী?এক্ষেত্রে নন্দক, একজন আর্যশ্রাবক বুদ্ধের প্রতি এরূপে অবিচলিত শ্রদ্ধাসম্পন্ন হয়; যথা : ‘ইনি সেই ভগবান, অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ, বিদ্যা-আচরণসম্পন্ন, সুগত, লোকজ্ঞ, অনুত্তর পুরুষ দমনকারী সারথি, দেব-মনুষ্যের শাস্তা ও বুদ্ধ ভগবান।’ সেই আর্যশ্রাবক ধর্মের প্রতিও এরূপে অবিচলিত শ্রদ্ধাসম্পন্ন হয়; যথা : ‘ভগবানের ধর্ম সুব্যাখ্যাত, সন্দৃষ্টিক, কালাকাল বিরহিত, এসে দেখার যোগ্য, নির্বাণে উপনয়নকারী এবং বিজ্ঞজন কর্তৃক জ্ঞাতব্য।’ সেই আর্যশ্রাবকসংঘের প্রতিও এরূপে অবিচলিত শ্রদ্ধাসম্পন্ন হয়; যথা : ‘ভগবানের শিষ্যমণ্ডলী সুপথে প্রতিপন্ন, ঋজুপথে প্রতিপন্ন, ন্যায় বা নির্বাণপথে প্রতিপন্ন, সমীচীন পথে প্রতিপন্ন, ভগবানের শ্রাবকসংঘ যুগ্ম হিসাবে চারি যুগ্ম এবং পুদ্গল হিসাবে অষ্ট আর্যপুদ্গলই চারি প্রত্যয় দান-আহুতি লাভের যোগ্য, আতিথেয়তা লাভের যোগ্য,দক্ষিণেয়্য, অঞ্জলি করণীয় এবং জগতের অনুত্তর পুণ্যক্ষেত্র’। এবং নন্দক, সেই আর্যশ্রাবক আর্যগণের প্রশংসিত অখণ্ড, নিশ্চিদ্র, নিখুঁত, নিষ্কলঙ্ক, বিমুক্তিতে উপনীতকারী, বিজ্ঞ কর্তৃক প্রশংসিত, অদূষিত এবং সমাধি লাভে সহায়ক শীলসমূহে বিভূষিত হয়। নন্দক, এই চার প্রকার গুণধর্মে সমন্নাগত একজন আর্যশ্রাবক স্রোতাপন্ন, অবিনিপাতধর্মী ও নিয়ত সম্বোধিপরায়ণ হয়।

নন্দক, এই চারটি গুণধর্মে সমৃদ্ধ আর্যশ্রাবক দিব্য ও মনুষ্য আয়ু, বর্ণ, সুখ, যশ এবং আধিপত্যের দ্বারা সৌভাগ্যমণ্ডিত বা সংযুক্ত হয়। হে নন্দক, সেই বিষয় আমি অন্য কোনো শ্রমণ-ব্রাহ্মণ হতে শুনে বলছি না। অধিকন্তু আমি স্বয়ং যা জ্ঞাত হয়েছি, দেখেছি এবং স্বয়ং বিদিত আছি, তাই প্রকাশ করছি।”

এরূপ বলার পর জনৈক ব্যক্তি এসে মহামাত্য নন্দক লিচ্ছবীকে এরূপ বলল :

“মহাশয়, স্নানের সময় হয়েছে।”

“ওহে সুহৃদ, এই বাহ্যিক দেহের স্নানক্রিয়া যথেষ্টই হয়েছে। ভগবানের প্রতি প্রসাদরূপ (বা শ্রদ্ধা) এই আভ্যন্তরীক স্নান বা শুচিতাই আমার জন্য যথেষ্ট হবে।” দশম সূত্র।

সরণানি বর্গ সমাপ্ত।

তস্সুদ্দানং/সূত্রসূচি

দুই মহানাম সূত্র আর গোধ ও দুই সরণানি;
দ্বে অনাথপিণ্ডিক, ভয়-বৈর ও নন্দক সূত্রে বর্গ সমাপ্ত॥

ব্যাখ্যা [১]