লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৪]

তৃতীয় প্রবাহ সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, চার প্রকার পুণ্যপ্রবাহ, কুশলপ্রবাহ ও সুখের আহার রয়েছে। সেই চার কী কী?এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, একজন আর্যশ্রাবক বুদ্ধের প্রতি এরূপে অবিচলিত প্রসাদসম্পন্ন হয়; যথা : ‘ইনি সেই ভগবান, অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ, বিদ্যা-আচরণসম্পন্ন, সুগত, লোকজ্ঞ, অনুত্তর পুরুষ দমনকারী সারথি, দেব-মনুষ্যের শাস্তা ও বুদ্ধ ভগবান।’ ইহা হচ্ছে প্রথম পুণ্যপ্রবাহ, কুশলপ্রবাহ ও সুখের আহার।

পুনশ্চ,ভিক্ষুগণ, সে ধর্মের প্রতিও অবিচলিত শ্রদ্ধাসম্পন্ন হয়; যথা : ‘ভগবানের ধর্ম সুব্যাখ্যাত, সন্দৃষ্টিক, কালাকাল বিরহিত, এসে দেখার যোগ্য, নির্বাণে উপনয়নকারী এবং বিজ্ঞজন কর্তৃক জ্ঞাতব্য।’ ইহা হচ্ছে দ্বিতীয় পুণ্যপ্রবাহ, কুশলপ্রবাহ ও সুখের আহার।

পুনশ্চ,ভিক্ষুগণ, সংঘের প্রতিও সে এরূপে অবিচলিত প্রসাদসম্পন্ন হয়; যথা : ‘ভগবানের শিষ্যমণ্ডলী সুপথে প্রতিপন্ন, ঋজুপথে প্রতিপন্ন, ন্যায় বা নির্বাণপথে প্রতিপন্ন, সমীচীন পথে প্রতিপন্ন, ভগবানের শ্রাবকসংঘ যুগ্ম হিসাবে চারি যুগ্ম এবং পুদ্গল হিসাবে অষ্ট আর্যপুদ্গলই চারি প্রত্যয় দান-আহুতি লাভের যোগ্য, আতিথেয়তা লাভের যোগ্য, দক্ষিণেয়্য, অঞ্জলি করণীয় এবং জগতের অনুত্তর পুণ্যক্ষেত্র’। ইহা হচ্ছে তৃতীয় পুণ্যপ্রবাহ, কুশলপ্রবাহ ও সুখের আহার।

পুনশ্চ, ভিক্ষুগণ, আর্যশ্রাবক প্রজ্ঞাবান হয়, আর্যনির্বেধিক সম্যকরূপে দুঃখক্ষয়কর উদয়-বিলয়গামী প্রজ্ঞায় সমন্নাগত হয়। এরূপে ভিক্ষুগণ, আর্যশ্রাবক প্রজ্ঞাসম্পন্ন হয়। ভিক্ষুগণ, এই চার প্রকার হচ্ছে পুণ্যপ্রবাহ, কুশলপ্রবাহ ও সুখের আহার।

ভিক্ষুগণ, এই চার প্রকার পুণ্যপ্রবাহে, কুশলপ্রবাহে সমন্নাগত আর্যশ্রাবকের পুণ্যের পরিমাণ এরূপে নির্ণয় করা সহজসাধ্য নয়; যথা : ‘এত পরিমাণ হচ্ছে পুণ্যপ্রবাহ, কুশলপ্রবাহ ও সুখের আহার।’ এই মহাপুণ্যরাশিকে অসংখ্য অপ্রমেয়রূপে অভিহিত করা চলে।”

ভগবান এরূপ বললেন। এরূপ বলার পর শাস্তা আবার বললেন :

“পুণ্যকামী যিনি সদা কুশলে প্রতিষ্ঠিত,
অমৃত প্রাপ্তির তরে করে মার্গ ভাবিত;
ধর্মসার প্রাপ্ত সেজন, ক্লেশ ক্ষয়ে রত,
নিজ মৃত্যু হবে ভেবে হয় না উৎকণ্ঠিত।” তৃতীয় সূত্র।

ব্যাখ্যা [০]