লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৯]

অন্ধকার সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, জগতে এমন অন্ধকারময় অপ্রমাণিত, তিমিরাচ্ছন্ন স্থান রয়েছে যেখানে এরূপ মহাশক্তিসম্পন্ন ও তেজসম্পন্ন চন্দ্র-সূর্যের আভা বিকিরিত হয় না।”

এরূপ ব্যক্ত হলে জনৈক ভিক্ষু ভগবানকে বললেন :

“ভন্তে, সত্যিই তা অত্যন্ত অন্ধকারময়, সত্যিই তা অতি তিমিরাচ্ছন্ন। ভন্তে, এরূপ অন্ধকার হতে আরও বিশালতর, ভয়ানক অন্ধকার আছে কি?”

“হ্যাঁ ভিক্ষু, এরূপ অন্ধকার হতে আরও বিশালতর, ভয়ানক অন্ধকার আছে।”

“ভন্তে, এরূপ অন্ধকার হতে আরও বিশালতর, ভয়ানক অন্ধকার কীরূপ?”

“হে ভিক্ষুগণ, যে শ্রমণ-ব্রাহ্মণেরা ‘ইহা দুঃখ’, ‘ইহা দুঃখ-সমুদয়’, ‘ইহা দুঃখের নিরোধ’, ‘ইহা দুঃখ-নিরোধের প্রতিপদা বা উপায়’ এরূপে; যথাযথভাবে জানে না, তারা জন্ম, জরা, মরণ, শোক-বিলাপ-দুঃখ-দৌর্মনস্য ও উপায়াস প্রদায়ী সংস্কারসমূহে (কর্মসমূহে) অভিরমিত হয়। তারা সেরূপ সংস্কার বা কর্মসমূহে অভিরমিত হয়ে জন্ম, জরা, মরণ, শোক-বিলাপ-দুঃখ-দৌর্মনস্য ও উপায়াসপ্রদায়ী কর্মসমূহ সম্পাদন করে। এবং সেরূপ কর্ম সম্পাদনপূর্বক তারা জন্ম রূপ অন্ধকারে পতিত হয়, জরা, মরণ, শোক-বিলাপ-দুঃখ-দৌর্মনস্য ও উপায়াস সদৃশ অন্ধকারে পতিত হয়। তারা জন্ম, জরা, মরণ, শোক-বিলাপ-দুঃখ-দৌর্মনস্য ও উপায়াস হতে মুক্ত হতে পারে না। আমি বলি ‘তারা দুঃখ হতে মুক্ত হতে পারে না’।

ভিক্ষুগণ, যে শ্রমণ-ব্রাহ্মণগণ ‘ইহা দুঃখ’, ‘ইহা দুঃখ-সমুদয়’, ‘ইহা দুঃখের নিরোধ’ এবং ‘ইহা দুঃখ-নিরোধের প্রতিপদা বা উপায়’ এরূপে; যথাযথভাবে জানে, তারা জন্ম, জরা, মরণ, শোক-বিলাপ-দুঃখ-দৌর্মনস্য ও উপায়াস প্রদায়ী সংস্কারসমূহে (কর্মসমূহে) অভিরমিত হয় না। তারা সেরূপ সংস্কার বা কর্মসমূহে অভিরমিত না হয়ে জন্ম, জরা, মরণ, শোক-বিলাপ-দুঃখ-দৌর্মনস্য ও উপায়াস প্রদায়ী কর্মসমূহ সম্পাদন করে না। এবং সেরূপ কর্ম সম্পাদন না করে তারা জন্ম অন্ধকারে পতিত হয় না, জরা, মরণ, শোক-বিলাপ-দুঃখ-দৌর্মনস্য ও উপায়াস সদৃশ অন্ধকারে পতিত হয় না। তারা জন্ম, জরা, মরণ, শোক-বিলাপ-দুঃখ-দৌর্মনস্য ও উপায়াস হতে মুক্ত হতে পারে। আমি বলি ‘তারা দুঃখ হতেই মুক্ত হতে পারে’।

তদ্ধেতু,ভিক্ষুগণ, ‘ইহা দুঃখ’ এরূপে অবগত হওয়ার জন্য তোমাদের প্রচেষ্টা করা উচিত, ‘ইহা দুঃখ-সমুদয়’, ‘ইহা দুঃখের নিরোধ’, ‘ইহা দুঃখ-নিরোধের প্রতিপদা বা উপায়’ এরূপে অবগত হওয়ার জন্য তোমাদের প্রচেষ্টা করা উচিত।” ষষ্ঠ সূত্র।

ব্যাখ্যা [১]