লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৭]

সঙ্গারব সূত্র

শ্রাবস্তী নিদান। সে-সময় সঙ্গারব নামক ব্রাহ্মণ শ্রাবস্তীতে অবস্থান করতেন। তিনি ছিলেন জল-শুদ্ধিক, জল-স্নানে পরিশুদ্ধ হয় বলে বিশ্বাস করতেন। তদ্ধেতু সকাল-সন্ধ্যায় অতি আগ্রহের সাথে জলে নেমে স্নান করে করে অবস্থান করতেন। অনন্তর একদিন আয়ুষ্মান আনন্দ পূর্বাহ্ণ সময়ে পরিধেয় বস্ত্র পরিধানপূর্বক পাত্র-চীবর নিয়ে শ্রাবস্তীতে পিণ্ডচারণের জন্য প্রবেশ করলেন। তথায় পিণ্ডচারণের পর আহারকৃত্য শেষে ভগবানের নিকট উপস্থিত হলেন। উপস্থিত হয়ে ভগবানকে শ্রদ্ধাভিবাদন জানিয়ে একপাশে বসলেন। একপাশে উপবিষ্ট আয়ুষ্মান আনন্দ ভগবানকে এরূপ বললেন, ‘ভন্তে, এই শ্রাবস্তীতে সঙ্গারব নামক এক ব্রাহ্মণ অবস্থান করেন, তিনি জল-শুদ্ধিক, জল-স্নানে পরিশুদ্ধ হয় বলে বিশ্বাস করেন। তদ্ধেতু সকাল-সন্ধ্যায় অতি আগ্রহের সাথে জলে নেমে স্নান করে করে অবস্থান করেন। ভন্তে, তা উত্তম হয়, যদি ভগবান অনুগ্রহপূর্বক সেই সঙ্গারব ব্রহ্মণের গৃহে উপস্থিত হন।’ ভগবান নীরবে সম্মতি জ্ঞাপন করলেন।

অতঃপর ভগবান পূর্বাহ্ণ সময়ে পরিধেয় বস্ত্র পরিধানপূর্বক পাত্র-চীবর নিয়ে সেই সঙ্গারব ব্রাহ্মণের গৃহে গিয়ে প্রজ্ঞাপ্ত (পেতে রাখা) আসনে উপবেশন করলেন। অনন্তর সঙ্গারব ব্রাহ্মণ ভগবানের নিকট এসে কুশল বিনিময় করলেন। কুশল বিনিময় ও প্রীত্যালাপের পর একপাশে উপবেশন করলেন। একপাশে উপবিষ্ট সঙ্গারব ব্রাহ্মণকে ভগবান এরূপ বললেন, ‘হে ব্রাহ্মণ, এই কথা কী সত্যি যে, তুমি নাকি জল-শুদ্ধিক, জল-স্নানে পরিশুদ্ধ হয় বলে বিশ্বাস কর, তদ্ধেতু সকাল-সন্ধ্যায় অতি আগ্রহের সাথে জলে নেমে স্নান করে করে অবস্থান কর?’ ব্রাহ্মণ বললেন, ‘হ্যাঁ, প্রভু গৌতম।’ ভগবান ব্রাহ্মণকে বললেন, ‘হে ব্রাহ্মণ, কী অর্থবশে (বা লাভের উদ্দেশ্য) তুমি জল-শুদ্ধিক, জল-স্নানে পরিশুদ্ধ হয় বলে বিশ্বাস কর, তদ্ধেতু সকাল-সন্ধ্যায় অতি আগ্রহের সাথে জলে নেমে স্নান করে করে অবস্থান কর?’ ব্রাহ্মণ ভগবানকে বললেন, ‘প্রভু গৌতম, এখানে দিনে আমার যে পাপকর্ম সম্পাদিত হয়, তা সন্ধ্যায় স্নান করার মাধ্যমে অপসারণ করি; আর রাত্রে যে পাপকর্ম সম্পাদিত হয়, তা সকালে স্নান করার মাধ্যমে অপসারণ করি। প্রভু গৌতম, আমি এই অর্থবশে (বা এই উদ্দেশ্যে) জল-শুদ্ধিক, জল-স্নানে পরিশুদ্ধ হয় বলে বিশ্বাস করি, তদ্ধেতু সকাল-সন্ধ্যায় অতি আগ্রহের সাথে জলে নেমে স্নান করে করে অবস্থান করি।’

(ভগবান ব্রাহ্মণকে গাথায় বললেন) ‘ধর্ম হচ্ছে সৎপুরুষের প্রশংসিত অনাবিল হ্রদ, শীল তার তীর্থঘাট; যেখানে বেদজ্ঞ ঋষিগণ স্নাত হয়ে অসিক্ত দেহে নির্বাণের পাড়ে গমন করে।’

এরূপ উক্ত হলে সঙ্গারব ব্রাহ্মণ ভগবানকে এরূপ বললেন, ‘হে প্রভু গৌতম, অতি সুন্দর… প্রভু গৌতম, আজ হতে আমাকে ভগবান গৌতম, তাঁর ধর্ম ও ভিক্ষুসংঘের শরণাগত উপাসকরূপে ধারণ করুন।’

ব্যাখ্যা [১]