লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৬]

খোমদুস্স সূত্র

আমি এরূপ শুনেছি। একসময় ভগবান শাক্যরাজ্যে খোমদুস্স নামক শাক্যদের নিগমে (ছোটো শহর) অবস্থান করছিলেন। তখন ভগবান পূর্বাহ্ণ সময়ে পরিধেয় বস্ত্র পরিধানপূর্বক পাত্র চীবর নিয়ে পিণ্ডচারনের জন্য খোমদুস্স নিগমে প্রবেশ করলেন। সে-সময়ে খোমদুস্সবাসী ব্রাহ্মণ ও গৃহপতিগণ কোনো এক করণীয় উপলক্ষে সভায় একত্রিত হয়েছিলেন। তখন ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়ছিল। এমতাবস্থায় ভগবান সেই সভায় উপস্থিত হলেন। তখন খোমদুস্সবাসী ব্রাহ্মণ ও গৃহপতিগণ ভগবানকে দূর হতে আসতে দেখে বললেন, ‘এই মুণ্ডক শ্রমণরা কারা, কারা এই সভাধর্ম সম্বন্ধে জানবেন?’ অতঃপর ভগবান খোমদুস্সবাসী ব্রাহ্মণ ও গৃহপতিগণকে গাথায় ভাষণ করলেন :

‘যেখানে পণ্ডিত (সৎপুরুষ) নেই, তা সভা নয়; যারা ধর্মকথা আলাপ করে না, তারা পণ্ডিত নয়। রাগ, দ্বেষ ও মোহ পরিত্যাগ করে ধর্মভাষীগণ পণ্ডিত হয়।’

এরূপ উক্ত হলে খোমদুস্সবাসী ব্রাহ্মণ ও গৃহপতিগণ ভগবানকে এরূপ বললেন, ‘প্রভু গৌতম, অতি সুন্দর! অতি মনোহর! গৌতম, যেমন (কোনো ব্যক্তি) অধোমুখী পাত্রকে ঊর্ধ্বমুখী করে অথবা আবৃতকে অনাবৃত করে, পথভ্রষ্টকে পথ জ্ঞাত করায় অথবা চক্ষুষ্মানেরা আলো দেখবে বলে অন্ধকারে তৈলপ্রদীপ ধারণ করে; ঠিক তেমনি ভগবান কর্তৃক নানা পর্যায়ে সদ্ধর্ম প্রকাশিত হয়েছে। ভন্তে, আমরা ভগবান গৌতম এবং তাঁর ধর্ম ও ভিক্ষুসংঘের শরনাপন্ন হলাম। আজ হতে আমাদেরকে ত্রিশরণাগত উপাসকরূপে ধারণ করুন।’

উপাসক বর্গ দ্বিতীয় সমাপ্ত।

স্মারক-গাথা :

কৃষি, উদয়, দেবহিত, জনৈক মহাশাল,
মানোদ্যত, পচ্চনীক, নবকর্মীক, কাঠ আহরণকারী;
মাতৃপোষক, ভিক্ষাজীবী, সঙ্গারব, খোমদুস্স মিলে দ্বাদশ।

ব্রাহ্মণ-সংযুক্ত সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [১]