লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৮]

নিষ্ক্রান্ত সূত্র

আমি এরূপ শুনেছি। একসময় আয়ুষ্মান বঙ্গীস আলবিতে অগ্‌গালব চৈত্যে তাঁর উপাধ্যায় নিগ্রোধকপ্পের সাথে অবস্থান করছেন। তখন আয়ুষ্মান বঙ্গীস ছিলেন অচির প্রব্রজিত, নবীন, বিহার রক্ষাকারী হিসেবে অবস্থানকারী। অতঃপর একদিন সেখানে মনোজ্ঞ বস্ত্রাভরণে বিভূষিতা বহুসংখ্যক স্ত্রীলোক উপস্থিত হলেন বিহার পরিদর্শনের জন্য। তাদেরকে দেখে আয়ুষ্মান বঙ্গীসের অনভিরতি (নিরানন্দ) উৎপন্ন হলো, কামনা তাঁর চিত্তকে অভিভূত করল। তখন তাঁর এরূপ চিন্তা উৎপন্ন হলো : ‘আমার যে অনভিরতি উৎপন্ন হয়েছে, যে কামনা আমার চিত্তকে অভিভূত করেছে, তা আমার জন্য অবশ্যই অহিতকর, হিতকর নয়, দুর্লাভ, সুলাভ নয়। আমার এই অনভিরতি দূর করে অভিরতি উৎপন্ন করাবে এমন কাউকে লাভ করব, তার সুযোগ কোথায়? সুতরাং আমি নিজেই নিজের অনভিরতি দূর করে অভিরতি উৎপন্ন করার চেষ্টা করব।’ অতঃপর তিনি নিজেই নিজের অনভিরতি দূর করে অভিরতি উৎপন্ন করার জন্য এই গাথাগুলো বললেন :

‘গৃহ থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে প্রব্রজ্যায় উপনীত হওয়া সত্ত্বেও এই ধৃষ্ট কালো কুচিন্তাগুলো আমাকে অনুধাবন করছে।’

‘উচ্চবংশজাত, মহাধনুধর, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, সুদৃঢ়, নির্ভিক যোদ্ধাকে চারদিক থেকে সহস্র জনে ঘিরে ফেললেও (বীর ব্যক্তির) হৃদয় কম্পিত হয় না। তেমনি এর চেয়ে বেশি সংখ্যক রমণী আসলেও আমাকে ব্যথিত করতে পারবে না। কারণ আমি ধর্মে সুপ্রতিষ্ঠিত।’

‘আদিত্যবন্ধু বুদ্ধের সাক্ষাতে আমি নির্বাণগামী মার্গ সম্পর্কে উপদেশ শুনেছি; তাতে আমার মন অভিরমিত। এরূপে অবস্থান করা সত্ত্বেও হে পাপমতী মার, যদি আমার কাছে আস, তাহলে আমার পথও যেন তুমি দেখতে না পাও, আমি তা-ই করব।’

ব্যাখ্যা [১]