লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৭]

প্রবারণা সূত্র

একসময় ভগবান শ্রাবস্তীর পূর্বারামে মিগারমাতা নির্মিত প্রাসাদে পাঁচশ অর্হৎ ভিক্ষুর সাথে অবস্থান করছেন। সেসময় ভগবান পঞ্চদর্শীর উপোসথ দিনে প্রবারণায় ভিক্ষুসংঘ পরিবৃত হয়ে উন্মুক্ত আকাশতলে বসে রইলেন। কিছুক্ষণ পর ভগবান মৌনরত ভিক্ষুসংঘের দিকে তাকিয়ে ভিক্ষুদের আহ্বান করে বললেন, ‘হে ভিক্ষুগণ, আমি তোমাদেরকে প্রবারণা (অপরাধ প্রদর্শন) করছি। তোমরা আমার কায়িকভাবে বা বাচনিকভাবে কোনো প্রকার অহিত বিষয়ে তোমরা নিন্দা কর না কেন?’

ভগবান এরূপ বললে আয়ুষ্মান সারিপুত্র আসন হতে উঠলেন এবং উত্তরীয় বস্ত্র একাংশ করে করজোড়ে ভগবানকে প্রণাম করে বললেন, ‘ভন্তে, আমরা ভগবানের কায়িক-বাচনিক কিছুই নিন্দনীয় দেখছি না। ভন্তে, আপনি অনুৎপন্ন মার্গের উৎপন্নদাতা, অজাত মার্গের জন্মদাতা, অপ্রকাশিত মার্গের প্রকাশক, মার্গজ্ঞ, মার্গবিদ, মার্গজ্ঞানী, আপনার শ্রাবকসংঘ মার্গানুগামী হয়ে আপনাকেই অনুসরণ করছেন। ভন্তে, আমিই ভগবানকে প্রবারণা (অপরাধ প্রদর্শন) করছি। আপনি আমার কায়িক-বাচনিক কোনো প্রকার গর্হিত বিষয়ে আপনি নিন্দা করেন না তো?’

‘হে সারিপুত্র, তোমার কায়িক বা বাচনিক কিছুই নিন্দনীয় নয়। তুমি পণ্ডিত, মহাপ্রাজ্ঞ, বহলপ্রাজ্ঞ, পরিষ্কার জ্ঞানসম্পন্ন, ক্ষিপ্রপ্রাজ্ঞ, তীক্ষ্ণপ্রাজ্ঞও বিচক্ষণ। সারিপুত্র, রাজচক্রবর্তীর জ্যেষ্ঠপুত্র যেমন পিতার প্রবর্তিত চক্র সম্যকভাবে অনুবর্তন করে, ঠিক তেমনি তুমিও আমার দ্বারা প্রবর্তিত অনুত্তর ধর্মচক্র সঠিকভাবেই অনুপ্রবর্তন কর।’

‘ভন্তে, ভগবান আমার কায়িক বা বাচনিক কিছুই নিন্দা করেন না। এই পাঁচশ ভিক্ষুরও কি কায়িক বা বাচনিক কিছুই নিন্দা করেন না?’

‘সারিপুত্র, আমি এই পাঁচশ ভিক্ষুরও কায়িক বা বাচনিক কিছুই নিন্দা করি না। এদের মধ্যে ষাটজন ভিক্ষু ত্রিবিদ্যাপ্রাপ্ত, ষাটজন ষড়ভিজ্ঞ, ষাটজন উভয় ভাগবিমুক্ত, অন্যরা সবাই প্রজ্ঞাবিমুক্ত।’

তখন আয়ুষ্মান বঙ্গীস আসন হতে উঠলেন এবং উত্তরীয় বস্ত্র একাংশ করে করজোড়ে ভগবানকে প্রণাম করে এরূপ বললেন, ‘হে ভগবান, আমার প্রতিভাত হচ্ছে; হে সুগত, আমার প্রতিভাত হচ্ছে।’ ভগবান বললেন, ‘হে বঙ্গীস, তোমার প্রতিভাত হোক।’ অনন্তর আয়ুষ্মান বঙ্গীস ভগবানের সম্মুখেই উপযুক্ত গাথার মাধ্যমে ভগবানকে এরূপে প্রশংসা করলেন :

‘আজ পঞ্চদশীর উপোসথ দিবসে বিশুদ্ধির জন্য সংযোজন বন্ধন ছিন্নকারী, পুনর্জন্ম ক্ষয়কারী, দুঃখহীন পাঁচশ ভিক্ষু এখানে উপস্থিত হয়েছেন।’

‘রাজচক্রর্তী যেমন অমাত্য-পরিবৃত হয়ে সাগরান্ত পৃথিবীর চারিদিক পরিভ্রমণ করেন। ঠিক তেমনি সংগ্রামজয়ী, অনুত্তর সার্থবাহ ভগবানকে মৃত্যুঞ্জয়ী, ত্রিবিদ্যাসম্পন্ন শ্রাবকগণ পরিবেষ্টিত করে আছেন।’

‘তারা সবাই ভগবানের পুত্র। এটা মোটেই অতিশয়োক্তি নয়। তৃষ্ণাশৈল্য ধ্বংসকারী, আদিত্যবন্ধু বুদ্ধকে আমি বন্দনা করছি।’

ব্যাখ্যা [১]