লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৭]

সহস্রাধিক সূত্র

একমসয় ভগবান শ্রাবস্তীতে অনাথপিণ্ডিক নির্মিত জেতবন বিহারে মহাভিক্ষুসংঘসহ অবস্থান করছেন। ভিক্ষুর সংখ্যা ছিল সাড়ে বারো শ। সে-সময়ে ভগবান নির্বাণ সম্পর্কিত ধর্মকথায় ভিক্ষুগণকে উপদেশ দিচ্ছিলেন, প্রণোদিত করছিলেন, উৎসাহিত করছিলেন, আনন্দিত করছিলেন। সেই ভিক্ষুগণও মনোযোগসহকারে, তন্ময় হয়ে, একাগ্রচিত্তে, উৎকর্ণ হয়ে ধর্মশ্রবণ করছিলেন। অনন্তর আয়ুষ্মান বঙ্গীসের মনে এই ভাবনার উদয় হলো : ‘ভগবান ভিক্ষুদেরকে মধুর বচনে, স্পষ্ট স্বরে অর্থব্যঞ্জক ধর্মকথায় উপদেশ দিচ্ছেন, প্রণোদিত করছেন, উৎসাহিত করছেন, আনন্দিত করছেন। ভিক্ষুগণও মনোযোগসহকারে, তন্ময় হয়ে তা শ্রবণ করছেন। আমি অবশ্যই ভগবানকে উপযুক্ত গাথার মাধ্যমে সামনাসামনিই প্রশংসা করব।’

তখন আয়ুষ্মান বঙ্গীস আসন হতে উঠলেন এবং উত্তরীয় বস্ত্র একাংশ করে ভগবানকে করজোড়ে প্রণাম করে এরূপ বললেন, ‘ভগবান, আমার প্রতিভাত হচ্ছে।’ ভগবান বললেন, ‘বঙ্গীস, তোমার প্রতিভাত হোক।’ তখন আয়ুষ্মান বঙ্গীস ভগবানকে সামনাসামনিই উপযুক্ত গাথার মাধ্যমে প্রশংসা করতে লাগলেন :

‘সহস্রাধিক ভিক্ষু বিরজ, অকুতোভয় নির্বাণ সম্পর্কে ধর্মদেশনারত ভগবানের চারদিকে বসে আছেন এবং সম্যকসম্বুদ্ধ দেশিত বিমল ধর্ম শ্রবণ করছেন। ভিক্ষুসংঘের সম্মুখে সম্বুদ্ধ একান্তই শোভা পাচ্ছেন।’

‘ঋষিগণের মধ্যে সপ্তম ঋষি নাগনামধারী ভগবান মহামেঘরূপে শ্রাবকগণের ওপর অমৃত বর্ষণ করছেন। হে মহাবীর, আপনার শ্রাবক বঙ্গীস শাস্তার দর্শনাভিপ্রায়ে দিবাবিহার থেকে বের হয়ে আপনার পদবন্দনা করছে।’

‘হে বঙ্গীস, এই গাথাগুলো কি তোমার পূরুচিন্তিত, নাকি হঠাৎ তোমার মনে উদয় হয়েছে?’ ‘না ভন্তে, এই গাথাগুলো আমার পূরুচিন্তিত নয়, হঠাৎ মনে এসেছে।’ ‘তাহলে বঙ্গীস, তোমার মনে পূর্বে অচিন্তিত আরও গাথার উদয় হোক।’ ‘হ্যাঁ ভন্তে’ বলে আয়ুষ্মান বঙ্গীস ভগবানকে প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভগবানকে পূর্বে অচিন্তিত গাথার দ্বারা প্রশংসা করতে লাগলেন :

‘মারের শত কুপথ ধ্বংস করে খিলগুলো (রাগাদি) উচ্ছেদ করে বিচরণকারী, বন্ধন মোচনকারী, অনাসক্ত, নানাভাবে ধর্ম ব্যাখ্যাকারী ভগবানকে তোমরা দর্শন কর।’

‘স্রোত অতিক্রম করার জন্য তিনি নানাভাবে (আর্য অষ্টাঙ্গিক) মার্গ ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর ব্যাখ্যাত অমৃতমার্গে ধর্মদর্শী শ্রাবকগণ অচঞ্চলভাবে স্থিত।’

‘জ্ঞানের আলোদাতা বুদ্ধ ধর্ম উপলব্ধি করে সব স্থিতির অতীত নির্বাণ দর্শন করেছেন। তিনি নির্বাণ জ্ঞাত হয়ে সাক্ষাৎ করে পঞ্চবর্গীয় ভিক্ষুগণকে শ্রেষ্ঠ ধর্মচক্র দেশনা করেছেন। এরূপ সুদেশিত ধর্মে বিজ্ঞদের প্রমাদ কোথায়? তাই সবার ভগবানের শাসনে অপ্রমত্ত থেকে নমিত হয়ে শিক্ষা করা উচিত।’

ব্যাখ্যা [১]