লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৮]

গন্ধচোর সূত্র

একসময় জনৈক ভিক্ষু কোশলরাজ্যের অন্যতর একবনে অবস্থান করছিলেন। সে-সময়ে সেই ভিক্ষুটি আহারের পর পুকুরে নেমে পদ্মের আঘ্রাণ নিচ্ছিলেন। অনন্তর সেই বনের অধিবাসী দেবতা তাঁর প্রতি অনুকম্পাবশত, মঙ্গলের জন্য এবং সংবেগ উৎপাদনের জন্য তাঁর কাছে উপস্থিত হলেন। উপস্থিত হয়ে গাথার মাধ্যমে তাকে এরূপ বললেন :

‘হে প্রভু, আপনি যে এই অদত্ত বারিজ পুষ্পের আঘ্রাণ নিচ্ছেন, তা চুরির এক অঙ্গবিশেষ; তাতে আপনি গন্ধচোর হয়েছেন।’

ভিক্ষু, ‘আমি হরণ করছি না, ভাঙছি না, দূর থেকে বারিজ পদ্মের আঘ্রাণ নিচ্ছি। তবে কিভাবে আমাকে গন্ধচোর বলা হচ্ছে?’

‘এই যে একজন মৃণাল খনন করছে, পুণ্ডরীক ছিড়ছে, এরূপ নিষ্ঠুর কার্যে লিপ্ত, তাকে কেন চোর বলা হচ্ছে না?’

দেবতা :

‘এক নিষ্ঠুর ব্যক্তি ধাত্রীর (অশুচি) বস্ত্রের ন্যায় রাগ-দ্বেষাদিতে প্রলিপ্ত। তার প্রতি আমার বচন নেই অর্থাৎ বাক্যব্যয় বৃথা। আপনাকে বলার উপযুক্ত মনে করি।’

‘নিত্য শুচিসন্ধানী নিষ্কলঙ্ক পুরুষের কাছে কেশাগ্রমাত্র পাপও অভ্রপ্রমাণ মনে হয়।’

ভিক্ষু :

‘হে যক্ষ, তুমি নিশ্চয়ই আমাকে জান, তাই আমাকে অনুকম্পা করছ। হে যক্ষ, পুনর্বার আমাকে বলো, যদি কোনো দোষ দেখতে পাও।’

দেবতা :

‘হে ভিক্ষু, আমি আপনাকে আশ্রয় করে জীবন-যাপন করছি না, এমনকি আমি আপনার বেতনভুক্তও নই।’

‘হে ভিক্ষু, আপনি নিজেই জেনে নিন যাতে করে সুগতিতে গমন করতে পারেন।’

তারপর সেই ভিক্ষু সেই দেবতা কর্তৃক উপদিষ্ট হয়ে সংবেগপ্রাপ্ত হলেন।

বন-সংযুক্ত সমাপ্ত।

স্মারক-গাথা :

বিবেক, উপস্থান, কাশ্যপগোত্র, বহুসংখ্যক,
আনন্দ, অনুরুদ্ধ, নাগদত্ত ও কুলঘরণী।
বৈশালীর বজ্জিপুত্র, অধ্যয়ন, অকুশল-বিতর্ক,
মধ্যাহ্নকাল, অসংযতেন্দ্রিয়, পদ্মপুষ্পে চৌদ্দ।

ব্যাখ্যা [১]