“হে ভিক্ষুগণ, ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত ও সঞ্চিত কর্মসমূহের প্রত্যক্ষ জ্ঞান ব্যতীত তার পূর্ণ বিনাশ হতে পারে তা বলছি না। তা ইহ জীবনে উৎপন্ন হোক বা পর জীবনে হোক না কেন। ভিক্ষুগণ, সেরূপ ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত ও সঞ্চিত কর্মসমূহের প্রত্যক্ষ জ্ঞান ব্যতীত দুঃখের অন্তঃসাধন সম্ভব নয় বলে আমি প্রচার করি।
ভিক্ষুগণ, তথায় ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত দুঃখের হেতুপ্রদায়ী ও দুঃখবিপাকী ত্রিবিধ অপবিত্র ও অহিতকর কায়িক অকুশল রয়েছে। অনুরূপ চতুর্বিধ বাচনিক অকুশলকর্ম ও ত্রিবিধ মানসিক অকুশলকর্ম বিদ্যমান।
ভিক্ষুগণ, ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত দুঃখের হেতুপ্রদায়ী ও দুঃখবিপাকী ত্রিবিধ অপবিত্র ও অহিতকর কায়িক অকুশলকর্ম কী কী? যথা : এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো ব্যক্তি আছে যে প্রাণিহত্যাকারী, লোভী, রক্তহস্ত, হত্যাযজ্ঞে রত এবং সকল প্রাণীদের প্রতি নির্দয়ী।
এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো জন আছে যে অদত্তদ্রব্য হরণ করে, গ্রাম বা অরণ্যে স্থিত অপরের সম্পত্তি তাকে দেয়া না হলেও চৌর্য মনে গ্রহণ করে।
এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো জন আছে যে মিথ্যা কামাচারী বা ব্যভিচারী হয়। মাতারক্ষিতা, বা পিতারক্ষিতা কন্যা অথবা মাতাপিতারক্ষিতা, ভ্রাতারক্ষিতা, ভগ্নি কর্তৃক রক্ষিতা, জ্ঞাতি কিংবা গোত্র কর্তৃক রক্ষিতা, অথবা ধর্মরক্ষিতা, বিবাহিতা, সপরিদণ্ডা এবং অন্তত পুষ্পমালা পরিহিতা (বাগদত্তা) যেকোনো স্ত্রী জাতির সাথে সে অবৈধ কায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলে।
ভিক্ষুগণ, এই ত্রিবিধই হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত দুঃখের হেতুপ্রদায়ী ও দুঃখবিপাকী অপবিত্র ও অহিতকর কায়িক অকুশলকর্ম।
ভিক্ষুগণ, ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত দুঃখের হেতুপ্রদায়ী ও দুঃখবিপাকী চতুর্বিধ অপবিত্র ও অহিতকর বাচনিক অকুশলকর্ম কী কী? যথা : এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো ব্যক্তি রয়েছে যে মিথ্যা ভাষণ করে। সভা কিংবা পরিষদ, অথবা জ্ঞাতিদের সম্মুখে, নয়তো সমবায় সংঘ এমনকি রাজকুলে সাক্ষ্য প্রদানের নিমিত্তে যদি তাকে এরূপ বলে হাজির করানো হয় যে ‘আসুন, মহাশয়, যা জানেন তা বলুন।’ তবে সে অজানা বিষয়কে ‘জানি’ এবং জ্ঞাত বিষয়কে ‘জানি না’ বলে এমনকি অদেখা বিষয় ‘দেখেছি’ এবং দৃষ্ট ঘটনা ‘আমি দেখিনি’ বলে মিথ্যে সাক্ষ্য দেয়। এরূপে নিজ কিংবা অপরের কারণে অথবা ঘুষ গ্রহণ করে জেনে শুনে মিথ্যা ভাষণ করে।
এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো জন আছে যে ভেদবাক্য ভাষণ করে। এর সাথে বিভেদ সৃষ্টির লক্ষ্যে তার নিকট শুনে অন্যকে বলে দেয় এবং অন্যের সাথে বিভেদ ঘটানোর উদ্দেশ্যে সেই অন্যের নিকট হতেই শ্রুত বিষয় একে বলে দেয়। এভাবে সে একতা বিনষ্ট করে, সেই বিবাদাপন্নদের আরও উসকিয়ে দেয়। সে দলবিভাগে স্বস্তি পায়, মতভেদপ্রিয় হয়, মতভেদ সৃষ্টিতে আনন্দ লাভ করে এবং ভেদমূলক বাক্য ভাষণ করে।
এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো জন আছে যে কর্কশ বাক্য ভাষণ করে থাকে। যেরূপ বাক্য রূঢ়, কর্কশ, অপরের নিকট শ্রুতিকটু, অপরের নিন্দামূলক, ক্রোধোদ্দীপক এবং মনের বিক্ষিপ্তভাব আনয়ন করে সেরূপ বাক্যভাষী হয় সে।
এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো জন আছে যে বৃথালাপ করে। কারণ বহির্ভূত বাক্য বলে, মিথ্যা ও অনর্থমূলক বাক্য ভাষণ করে। সে অধর্মত ও বিনয় বহির্ভূত বাক্য এবং মূল্যহীন বাক্য বলে। সে অসময়ে বিনা কারণে বহু অমঙ্গলপ্রদ বাক্য ভাষণ করে থাকে।
ভিক্ষুগণ, এই চারটিই হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত দুঃখের হেতুপ্রদায়ী ও দুঃখবিপাকী বাচনিক অকুশলকর্ম।
ভিক্ষুগণ, ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত দুঃখের হেতুপ্রদায়ী ও দুঃখবিপাকী ত্রিবিধ অপবিত্র ও অহিতকর মানসিক অকুশলকর্ম কী কী? যথা : এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো জন আছে যে অভিধ্যালু (পরদ্রব্যে লোলুপতা) হয়। অপরের ধন-সম্পত্তিতে সে এরূপে অভিধ্যা পোষণ করে, ‘অহো, এই অন্যের সম্পত্তি যদি আমার হতো।’
এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো জন আছে যে ব্যাপন্ন চিত্ত পোষণ করে এবং প্রদুষ্ট মনে ইচ্ছা পোষণ করে যে ‘এই ব্যক্তিরা মরুক, বধ হোক, ধ্বংস হোক, বিনাশপ্রাপ্ত হোক, এদের অস্তিত্ব লোপ পাক!’
এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো জন আছে যে মিথ্যাদৃষ্টি বা ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করে ও এরূপ বিপরীত দর্শনকারী হয়, ‘দান নাই, কোনো যজ্ঞও নাই, আবার কোনোরূপ আহুতিও নাই, ভালো-মন্দ কর্মের ফলও নাই, এই জগৎও নাই আবার পরলোকও নাই, মাতা নাই, পিতা নাই, নাই কোনো উপপাতিক সত্ত্ব। পূর্ণাঙ্গ ও সম্যক প্রতিপন্ন কোনো শ্রমণ-ব্রাহ্মণ জগতে বিদ্যমান নাই যারা ইহ-পরলোক স্বয়ং অভিজ্ঞানের দ্বারা জ্ঞাত হয়ে প্রচার করে থাকেন।’
ভিক্ষুগণ, এই তিনটিই হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত দুঃখের হেতুপ্রদায়ী ও দুঃখবিপাকী মানসিক অকুশলকর্ম।
ভিক্ষুগণ, ইচ্ছাকৃতভাবে অপবিত্র ও অহিতকর ত্রিবিধ কায়কর্ম, চতুর্বিধ বাচনিক ও ত্রিবিধ মনঃকর্মরূপ অকুশল করার কারণে সত্ত্বগণ কায়ভেদে মৃত্যুর পর অপায়, দুর্গতি, বিনিপাত নরকে উৎপন্ন হয় হয়।
তাই ভিক্ষুগণ, ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত ও সঞ্চিত কর্মসমূহের প্রত্যক্ষ জ্ঞান ব্যতীত তার পূর্ণ বিনাশ হতে পারে তা বলছি না। তা ইহ জীবনে উৎপন্ন হোক বা পর জীবনে হোক না কেন। ভিক্ষুগণ, সেরূপ ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত ও সঞ্চিত কর্মসমূহের প্রত্যক্ষ জ্ঞান ব্যতীত দুঃখের অন্তঃসাধন সম্ভব নয় বলে আমি প্রচার করি।
ভিক্ষুগণ, তথায় ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত সুখের হেতুপ্রদায়ী ও সুখবিপাকী ত্রিবিধ কায়িক কুশলকর্ম সম্পত্তি রয়েছে, অনুরূপ চতুর্বিধ বাচনিক কুশলকর্ম সম্পত্তি ও ত্রিবিধ মানসিক কুশলকর্ম সম্পত্তি বিদ্যমান।
ভিক্ষুগণ, ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত সুখের হেতুপ্রদায়ী ও সুখবিপাকী ত্রিবিধ কায়িক কুশলকর্ম সম্পত্তি কী কী? যথা : এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো জন রয়েছে যে প্রাণিহত্যা পরিত্যাগ করে প্রাণিহত্যা হতে বিরত থাকে, দণ্ড, শস্ত্র ত্যাগী, লজ্জী, দয়ালু ও সকল প্রাণীদের প্রতি হিতানুকম্পী হয়ে অবস্থান করে।
এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো জন অদত্তবস্তু ত্যাগ করে অদত্তগ্রহণ হতে বিরত হয়। গ্রাম বা অরণ্যে স্থিত অপরের সম্পত্তি তাকে দেয়া না হলে চৌর্য মনে তা গ্রহণ করে না।
এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো জন আছে যে মিথ্যা কামাচার ত্যাগ করে কামাচার হতে বিরত হয়। মাতারক্ষিতা, বা পিতারক্ষিতা কন্যা অথবা মাতাপিতারক্ষিতা, ভ্রাতারক্ষিতা, ভগ্নি কর্তৃক রক্ষিতা, জ্ঞাতি কিংবা গোত্র কর্তৃক রক্ষিতা, অথবা ধর্মরক্ষিতা, বিবাহিতা, সপরিদণ্ডা এবং অন্তত পুষ্পমালা পরিহিতা (বাগদত্তা) যেকোনো স্ত্রী জাতির সাথে সে অবৈধ কায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলে না। ভিক্ষুগণ, এই তিনটিই হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত সুখের হেতুপ্রদায়ী ও সুখবিপাকী কায়িক কুশলকর্ম সম্পত্তি।
ভিক্ষুগণ, ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত সুখের হেতুপ্রদায়ী ও সুখবিপাকী চার প্রকার বাচনিক কুশলকর্ম সম্পত্তি কী কী? যথা : এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো জন আছে যে মিথ্যাবাক্য ত্যাগ করে মিথ্যা ভাষণ করা হতে বিরত হয়। সভা কিংবা পরিষদ, অথবা জ্ঞাতিদের সম্মুখে, নয়তো সমবায় সংঘ এমনকি রাজকুলে সাক্ষ্য প্রদানের নিমিত্তে যদি তাকে এরূপ বলে হাজির করানো হয় যে ‘আসুন, মহাশয়া, যা জানেন তা বলুন।’ তবে সে অজানা বিষয়কে ‘জানি না’ এবং জ্ঞাত বিষয়কে ‘জানি’ বলে এবং অদেখা বিষয় ‘দেখিনি’ এবং দৃষ্ট ঘটনা ‘আমি দেখেছি’ বলে সঠিক সাক্ষ্য দেয়। এরূপে নিজ কিংবা অপরের কারণে অথবা ঘুষের কারণে জেনে শুনে মিথ্যা ভাষণ করে না।
এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো জন আছে যে ভেদবাক্য ত্যাগ করে ভেদবাক্য বলা হতে বিরত হয়। এর সাথে বিভেদ সৃষ্টির লক্ষ্যে তার নিকট শুনে অন্যকে বলে দেয় না এবং অন্যের সাথে বিভেদ ঘটানোর উদ্দেশ্যে সেই অন্যের নিকট হতেই শ্রুত বিষয় একে বলে দেয় না। এভাবে সে একতা সৃষ্টি করে, সেই বিবাদাপন্নদের বিবাদ মিটায়। সে একতাকরণে স্বস্তি পায়, একতাপ্রিয় হয়, একীভাবকরণে আনন্দ লাভ করে এবং একতামূলক বাক্য ভাষণ করে।
এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো জন আছে যে কর্কশ বাক্য ত্যাগ করে কর্কশ বাক্য ভাষণ করা হতে বিরত থাকে। যেরূপ বাক্য ত্রুটিহীন, শ্রুতিমধুর, প্রেমোদ্দীপক, হৃদয়স্পর্শী, ভদ্র, জননন্দিত এবং অপরের মনঃপুত সেরূপ বাক্যভাষী হয় সে।
এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো জন আছে যে বৃথালাপ ত্যাগ করে বৃথালাপ হতে বিরত হয়। সে কালবাদী, সত্যবাদী, মঙ্গলপ্রদ বাক্যভাষী, ধর্মবাদী ও বিনয়বাদী হয়। সে যথাসময়ে ধর্মত ও বিনয়সম্মত বাক্য এবং অর্থপূর্ণ বাক্য বলে।
ভিক্ষুগণ, এই চারটিই হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত সুখের হেতুপ্রদায়ী ও সুখবিপাকী বাচনিক কুশলকর্ম সম্পত্তি।
ভিক্ষুগণ, ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত সুখের হেতুপ্রদায়ী ও সুখবিপাকী ত্রিবিধ মানসিক কুশলকর্ম সম্পত্তি কী কী? যথা : এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো জন আছে যে অনভিধ্যালু (পরদ্রব্যে নির্লোভী) হয়। অপরের ধন-সম্পত্তিতে সে এরূপে অনভিধ্যা পোষণ করে না যে ‘অহো, এই অন্যের সম্পত্তি যদি আমার হতো।’
এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো জন আছে যে অব্যাপন্নচিত্ত পোষণ করে এবং অপ্রদুষ্ট মনে এরূপ ইচ্ছা পোষণ করে যে ‘এই ব্যক্তিরা শত্রু হীন হোক, বিপদহীন ও অন্তরায়হীন হয়ে আত্মসুখ লাভ করুক!’
এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো জন আছে যে সম্যক দৃষ্টি পোষণ করে ও এরূপ অবিপরীত দর্শনকারী হয়, ‘দান বিদ্যমান, যজ্ঞও বিদ্যমান, আবার কোনোরূপ আহুতিও বিদ্যমান, ভালো-মন্দ কর্মের ফল আছে, এই জগৎও আবার পরলোকও রয়েছে, মাতা আছেন, পিতা আছেন, আরও আছে উপপাতিক সত্ত্ব। পূর্ণাঙ্গ ও সম্যক প্রতিপন্ন শ্রমণ-ব্রাহ্মণ জগতে বিদ্যমান যারা ইহ-পরলোক স্বয়ং অভিজ্ঞানের দ্বারা জ্ঞাত হয়ে প্রচার করে থাকেন।’
ভিক্ষুগণ, এই তিনটিই হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত সুখের হেতুপ্রদায়ী ও সুখবিপাকী মানসিক কুশলকর্ম সম্পত্তি।
ভিক্ষুগণ, ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত সুখের হেতুপ্রদায়ী ও সুখবিপাকী ত্রিবিধ কায়কর্ম, চতুর্বিধ বাচনিক ও ত্রিবিধ মনঃকর্মরূপ কুশল করার কারণে সত্ত্বগণ কায়ভেদে মৃত্যুর পর সুগতি স্বর্গলোকে উৎপন্ন হয়।
তাই ভিক্ষুগণ, ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত ও সঞ্চিত কর্মসমূহের প্রত্যক্ষ জ্ঞান ব্যতীত তার পূর্ণ বিনাশ হতে পারে তা বলছি না। তা ইহ জীবনে উৎপন্ন হোক বা পর জীবনে হোক না কেন। ভিক্ষুগণ, সেরূপ ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত ও সঞ্চিত কর্মসমূহের প্রত্যক্ষ জ্ঞান ব্যতীত দুঃখের অন্তঃসাধন সম্ভব নয় বলে আমি প্রচার করি।” অষ্টম সূত্র।
ব্যাখ্যা [০]