লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৯]

প্রথম ধর্মবিহারী সূত্র

অনন্তর অন্যতর ভিক্ষু যেখানে ভগবান তথায় উপস্থিত হলেন। উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদন করে একপার্শ্বে উপবেশন করলেন। একপাশে উপবিষ্ট সেই ভিক্ষু ভগবানকে এরূপ বললেন, “ভন্তে, এই যে, ‘ধর্মবিহারী’ (ধর্মত অবস্থানকারী) বলা হয়; কিরূপে ভিক্ষু ধর্মবিহারী হয়?”

“হে ভিক্ষু, এক্ষেত্রে ভিক্ষু পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে সূত্র, গেয়্য, ব্যাকরণ, গাথা, উদান, ইতিবুত্তক, জাতক, অদ্ভুতধর্ম ও বেদল্ল শিক্ষা করে। সে সেই পরিয়ত্তিধর্মের মাধ্যমে দিবস ব্যয় করে; নির্জনতা উপেক্ষা করে এবং আধ্যাত্মচিত্তের শমথভাব অনুসন্ধান করে না। ভিক্ষু, ইহাকে বলা হয় : ‘ভিক্ষু পরিয়ত্তিবহুল কিন্তু ধর্মবিহারী নহে।’

পুনশ্চ, ভিক্ষু, ভিক্ষু যথানুরূপ শ্রুত এবং পরিয়ত্তিধর্ম (কণ্ঠস্থ বিষয়) বিস্তারিতভাবে অপরের নিকট প্রকাশ করে। সে সেই প্রজ্ঞপ্তিধর্মের মাধ্যমে দিবস ব্যয় করে; নির্জনতা উপেক্ষা করে এবং আধ্যাত্মচিত্তের শমথভাব অনুসন্ধান করে না। ভিক্ষু, ইহাকে বলা হয় : ‘ভিক্ষু প্রজ্ঞপ্তিবহুল কিন্তু ধর্মবিহারী নহে।’

পুনশ্চ, ভিক্ষু, ভিক্ষু যথানুরূপ শ্রুত এবং পরিয়ত্তিধর্ম বিস্তারিতভাবে অধ্যয়ন করে। সে সেই অধ্যয়নের মাধ্যমে দিবস ব্যয় করে; নির্জনতা উপেক্ষা করে এবং আধ্যাত্মচিত্তের শমথভাব অনুসন্ধান করে না। ভিক্ষু, ইহাকে বলা হয়, ‘ভিক্ষু অধ্যয়নবহুল কিন্তু ধর্মবিহারী নহে।’

পুনশ্চ, ভিক্ষু, ভিক্ষু যথানুরূপ শ্রুত এবং পরিয়ত্তিধর্ম মনোযোগের সাথে চিন্তা করে, বিচার করে এবং মনোযোগের সাথে সাবধানে বিবেচনা করে। সে সেই ধর্ম চিন্তার দ্বারা দিবস ব্যয় করে; নির্জনতা উপেক্ষা করে এবং আধ্যাত্মচিত্তের শমথভাব অনুসন্ধান করে না। ভিক্ষু, ইহাকে বলা হয়, ‘ভিক্ষু বির্তকবহুল কিন্তু ধর্মবিহারী নহে।’

ভিক্ষু, এক্ষেত্রে ভিক্ষু পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে সূত্র, গেয়্য, ব্যাকরণ, গাথা, উদান, ইতিবুত্তক, জাতক, অদ্ভুত ধর্ম ও বেদল্ল শিক্ষা করে। সে সেই পরিয়ত্তিধর্মের মাধ্যমে দিবস ব্যয় করে না; নির্জনতা উপেক্ষা করে না এবং আধ্যাত্মচিত্তের শমথভাব অনুসন্ধান করে। ভিক্ষু, এরূপেই ভিক্ষু ধর্মবিহারী হয়।

ভিক্ষু, এই প্রকারে আমার দ্বারা পরিয়ত্তিবহুল, প্রজ্ঞপ্তিবহুল, অধ্যয়নবহুল এবং ধর্মবিহারী দেশিত হলো। ভিক্ষু, শাস্তা কর্তৃক শ্রাবকদের হিতের জন্য ও অনুকম্পার জন্য যা করণীয় তা আমার দ্বারা তোমাদের জন্য সম্পাদিত হয়েছে। ভিক্ষু, (দেখ,) এইখানে বৃক্ষ ও শূন্যগৃহ আছে। ভিক্ষু, ভাবনা কর। প্রমাদগ্রস্ত হয়ো না; পরে অনুশোচনার দরুন নিজেকে নিজেই ভর্ৎসনা করো না, ইহাই হচ্ছে আমাদের (সম্যকসম্বুদ্ধগণের) অনুশাসন।”

প্রথম ধর্মবিহারী সূত্র সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [০]