লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৪]

দ্বিতীয় সম্পদা সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, এই অষ্টবিধ সম্পদ। অষ্টবিধ কী কী?

উত্থানসম্পদ, সতর্কতা সম্পদ, কল্যাণমিত্রতা, সমজীবিকা, শ্রদ্ধাসম্পদ, শীলসম্পদ, ত্যাগসম্পদ এবং প্রজ্ঞাসম্পদ। এবং হে ভিক্ষুগণ, উত্থানসম্পদ কিরূপ?

হে ভিক্ষুগণ, কুলপুত্র যে কর্ম দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করে, সেটা কৃষি হোক বা অন্যতর কোনো শিল্প বা গোপালন হোক বা তীরন্দাজ কর্ম হোক বা রাজার পুরুষ হিসাবে হোক বা অন্যতর কোনো শিল্প দ্বারা হোক, সে হয় দক্ষ, নিরলস; সে হয় প্রতিভাদীপ্ত, যেকোনো ব্যাপারে অনুসন্ধিৎসু, সে তার কর্ম ব্যবস্থা করতে এবং চালিয়ে নিতে সক্ষম। হে ভিক্ষুগণ, একে বলা হয় উত্থানসম্পদ। এবং হে ভিক্ষুগণ, সংরক্ষণ সম্পদ কিরূপ?

হে ভিক্ষুগণ, কুলপুত্র কর্ম ও উৎসাহ দ্বারা যে সম্পদ লাভ করে তা বাহুবল দ্বারা সংগ্রহ করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জন করে এবং ন্যায়ত লাভ করে, এগুলোই সে চিন্তা করে পাহারা দেয়, “এখন আমি কীভাবে এসব পরিচালনা করব যাতে রাজা এ সম্পদ আমার থেকে নিয়ে নিতে না পারে কিংবা চোরেরা অপহরণ করতে না পারে, কিংবা অগ্নিতে দাহ করতে না পারে, কিংবা পানি বহন করে নিতে না পারে কিংবা অপ্রিয় দায়াদ বা উত্তরাধিকারী হরণ করতে না পারে?” একে বলা হয় সংরক্ষণ বা সতর্কতাসম্পদ। এবং হে ভিক্ষুগণ, কল্যাণমিত্রতা কিরূপ?

হে ভিক্ষুগণ, কুলপুত্র যে গ্রামে বা নিগমে বাস করে তথায় যে গৃহপতি বা গৃহপতিপুত্র বা যুবক বা বৃদ্ধ, বৃদ্ধশীল, শ্রদ্ধাসম্পন্ন, শীলসম্পন্ন, ত্যাগশীল, প্রজ্ঞাসম্পন্ন তাদের সাথে অবস্থান করে, কথা বলে, আলাপ-আলোচনা করে, শ্রদ্ধাসম্পন্নদের যে শ্রদ্ধা তা অনুকরণ করে, শীলসম্পন্নদের শীলসম্পদ শিক্ষা করে, ত্যাগশীলদের ত্যাগ সম্পদ শিক্ষা করে, প্রজ্ঞাসম্পন্নদের প্রজ্ঞাসম্পদ অনুকরণ করে। হে ভিক্ষুগণ, একেই বলা হয় কল্যাণমিত্রতা। এবং হে ভিক্ষুগণ, সমজীবিকা কিরূপ?

হে ভিক্ষুগণ, যখন কুলপুত্র সম্পদের লাভ এবং ক্ষতি উভয়ই প্রত্যক্ষ করে সে সমজীবিকা নির্বাহ করে, অতি উচ্চও নহে, অতি নিম্নও নহে। সে চিন্তা করে, “এরূপ আমার আয় খরচ বাদ দিয়ে আমার থাকবে এত এবং আমার খরচ আয় ছাড়িয়ে যাবে না।” যেমন হে ভিক্ষুগণ, তুলাদণ্ড ধারক বা তার সহকারী তুলাদণ্ড ধরে জানে যে, এটা নত হয়েছে বা কাত হয়েছে; তদ্রূপ, হে ভিক্ষুগণ, কুলপুত্র সম্পদের লাভ ও ক্ষতি উভয়ই প্রত্যক্ষ করে সমজীবিকা নির্বাহ করে, অতি উচ্চও নহে অতি নিম্নও নহে, কিন্তু উপলব্ধি করে যে, তার ক্ষতি বাদ দিয়ে আয় দাঁড়াবে এতটুকুতে এবং জাঁকজমকভাবে বাস করে তাহলে তার সম্পর্কে রটবে, এই কুলপুত্র ডুমুর বৃক্ষ সদৃশ পেটুকের মতো তার সম্পর্কে রটবে, এই কুলপুত্র অনাথের ন্যায় মরবে। এ কারণে হে ভিক্ষুগণ, এই কুলপুত্র সম্পদের লাভ ও ক্ষতি উভয়ই প্রত্যক্ষ করে সমজীবিকা নির্বাহ করে, অতি উচ্চও নহে, অতি নিম্নও নহে, “এরূপ আমার আয়, খরচ বাদ দিয়ে আমার থাকবে এত এবং আমার খরচ আয় ছাড়িয়ে যাবে না।” হে ভিক্ষুগণ, একে বলা হয় সমজীবিকা। এবং হে ভিক্ষুগণ, শ্রদ্ধাসম্পদ কিরূপ?

হে ভিক্ষুগণ, কুলপুত্র শ্রদ্ধাবান হয়, তথাগতের বোধিকে শ্রদ্ধা করে এরূপে, “সেই ভগবান অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ, বিদ্যাচরণসম্পন্ন, সুগত, লোকবিদ, অনুত্তর পুরুষদম্য সারথি, দেবমনুষ্যগণের শাস্তা, বুদ্ধ, ভগবান”। হে ভিক্ষুগণ, একেই বলা হয় শ্রদ্ধাসম্পদ, হে ভিক্ষুগণ, শীলসম্পদ কিরূপ?

হে ভিক্ষুগণ, কুলপুত্র প্রাণিহত্যা প্রতিবিরত হয়, অদত্তবস্তু প্রতিবিরত হয়, মিথ্যা কামাচার প্রতিবিরত হয়, মিথ্যা ভাষণ প্রতিবিরত হয়, সুরা মদ ইত্যাদি সেবন প্রতিবিরত হয়। হে ভিক্ষুগণ, একেই বলা হয় শীলসম্পদ। এবং হে ভিক্ষুগণ, ত্যাগসম্পদ কিরূপ?

হে ভিক্ষুগণ, কুলপুত্র মাৎসর্য-মলবিহীন চেতনাসম্পন্ন হয়ে গৃহে বসবাস করে, দানশীল মুক্ত-হস্ত, দানে প্রীতিযুক্ত, যাচকের প্রার্থনায় দান দিতে প্রস্তুত, দান দিতে প্রীতি লাভ করে। হে ভিক্ষুগণ, একেই বলা হয় ত্যাগসম্পদ। এবং হে ভিক্ষুগণ, প্রজ্ঞাসম্পদ কিরূপ?

হে ভিক্ষুগণ, কুলপুত্র প্রজ্ঞাবান হয় উদয় ও বিলয়গামিনী প্রজ্ঞায়, সম্যকভাবে দুঃখক্ষয়গামিনী আর্য নির্বেদিক জ্ঞান দ্বারা ভূষিত হয়। হে ভিক্ষুগণ, একেই বলা হয় প্রজ্ঞাসম্পদ।

হে ভিক্ষুগণ, এই অষ্টবিধ সম্পদ।
যিনি হন কর্মস্থান উত্থান বীর্যবান, অপ্রমত্ত,
বিধানসম্পন্ন, আয় বুঝে পরিমিতভাবে
করেন জীবনযাপন, সঞ্চিত ধন করেন সংরক্ষণ;
শ্রদ্ধাসম্পন্ন, বদান্য অকৃপণ,
তিনিই করেন পারলৌকিক মঙ্গল কামনা,
নিত্য করে থাকেন পরিশুদ্ধ নির্বাণ গমনপথ
এরূপে আটটি ধর্ম গৃহবাসী শ্রদ্ধাবান
কুলপুত্রের হয় সুখাবহ উভয় লোকের,
এ কথা সত্যভাষী বুদ্ধকর্তৃক বলে হয়েছে কথিত।”

ব্যাখ্যা [০]