১৬৪. আমি এইরূপ শ্রবণ করিয়াছি। এক সময় ভগবান শাক্যদিগের দেশে অবস্থান করিতেছিলেন (বেধঞ্ঞা নামক এক শাক্য পরিবারের আম্রবনস্থ প্রাসাদে )। ওই সময়ে অল্পকাল পূর্বেই পাবায় নিগণ্ঠ নাথপুত্তের মৃত্যু হইয়াছিল। তাঁহার মৃত্যুতে নিগণ্ঠগণ দ্বিধাবিভক্ত ও দ্বন্ধ, কলহ, বিবাদে প্রবৃত্ত হইয়া পরস্পরকে মুখাস্ত্র দ্বারা আহত করিতেছিল, “তুমি এই ধর্ম ও বিনয় অবগত নও, আমি অবগত আছি, তুমি কী প্রকারে এই ধর্ম ও বিনয় জানিবে?, তুমি মিথ্যাদৃষ্টির অনুবর্তী হইয়াছ, আমি সম্যক দৃষ্টিসম্পন্ন, আমি প্রাসঙ্গিক কথা বলিতেছি, তুমি অপ্রাসঙ্গিক বলিতেছ, পূর্বে কথনীয় তুমি পশ্চাতে বলিয়াছ, পশ্চাতে কথনীয় পূর্বে বলিয়াছ, তোমার বিচার ব্যর্থ হইয়াছে, তোমার আহ্বান গৃহীত হইয়াছে, তুমি নিগৃহীত হইয়াছ, স্বকীয় দৃষ্টি পরিশুদ্ধ করো, যদি সক্ষম হও আপনাকে পাশমুক্ত করো।” নাথপুত্তের অনুচর নিগণ্ঠগণ যেন পরস্পরের বিনাশে প্রবৃত্ত হইয়াছিল। নিগণ্ঠ নাথপুত্তের শ্বেতাম্বরধারী গৃহী-শ্রাবকগণও নিগণ্ঠগণের প্রতি উদাসীন হইয়াছিল, বিরক্ত হইয়াছিল, তাহাদের বিরোধী হইয়াছিল, তাহাদের ধর্মবিনয়ের ব্যাখ্যান এতই অপটু হইয়াছিল, উহার প্রচার এতই অফলপ্রদ হইয়াছিল, লক্ষ্যে চালিত করিতে এবং শান্তি প্রদানে উহা এতই অক্ষম হইয়াছিল, যেহেতু উহা সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত হয় নাই এবং ভিন্নস্তূপ ও অপ্রতিশরণে পরিণত হইয়াছিল।
১৬৪. অনন্তর শ্রামণের চুন্দ পাবায় বর্ষাবাস করিয়া সামাগামে আয়ুষ্মান আনন্দের নিকট গমন করিয়া তাঁহাকে অভিবাদনান্তে এক প্রান্তে উপবেশন করিলেন। তৎপরে তিনি আয়ুষ্মান আনন্দকে বলিলেন, “ভন্তে, নিগণ্ঠ নাথপুত্ত সম্প্রতি পাবায় দেহত্যাগ করিয়াছেন। তাঁহার মৃত্যুতে নিগণ্ঠগণ দ্বিধাবিভক্ত ও দ্বন্দ্ব, কলহ, বিবাদে প্রবৃত্ত হইয়া পরস্পরকে মুখাস্ত্র দ্বারা আহত করিতেছে, “তুমি এই ধর্ম ও বিনয় অবগত নও, আমি অবগত আছি, তুমি কী প্রকারে এই ধর্ম ও বিনয় জানিবে? তুমি মিথ্যাদৃষ্টির অনুবর্তী হইয়াছ, আমি সম্যক দৃষ্টিসম্পন্ন, আমি প্রাসঙ্গিক কথা বলিতেছি, তুমি অপ্রাসঙ্গিক বলিতেছ, পূর্বে কথনীয় তুমি পশ্চাতে বলিয়াছ, পশ্চাতে কথনীয় পূর্বে বলিয়াছ, তোমার বিচার ব্যর্থ হইয়াছে, তোমার আহ্বান গৃহীত হইয়াছে, তুমি নিগৃহীত হইয়াছ, স্বকীয় দৃষ্টি পরিশুদ্ধ করো, যদি সক্ষম হও আপনাকে পাশমুক্ত করো।” নাথপুত্তের অনুচর নিগণ্ঠগণ যেন পরস্পরের বিনাশে প্রবৃত্ত হইয়াছে। নাথপুত্তের গৃহী-শ্রাবকগণও নিগণ্ঠগণের প্রতি উদাসীন হইয়াছে, বিরক্ত হইয়াছে, তাহাদের বিরোধী হইয়াছে, তাহাদের ধর্মবিনয়ের ব্যাখ্যান এতই অপটু হইয়াছে, উহার প্রচার এতই অফল-প্রদ হইয়াছে, লক্ষ্যে চালিত করিবার এবং শান্তি প্রদানে উহা এতই অক্ষম হইয়াছে, যেহেতু উহা সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত হয় নাই এবং ভিন্নস্তূপ ও অপ্রতিশরণে পরিণত হইয়াছে।”
এইরূপ উক্ত হইলে আয়ুষ্মান আনন্দ চুন্দকে বলিলেন, “চুন্দ, এই বৃত্তান্ত ভগবানের নিকট জ্ঞাপন করিবার যোগ্য, এসো, আমরা ভগবানের নিকট গমন করিয়া ইহা তাঁহার গোচরে আনয়ন করি।”
“ভন্তে, তথাস্তু” বলিয়া চুন্দ সম্মতি প্রকাশ করিলেন।
তৎপরে আয়ুষ্মান আনন্দ ও চুন্দ ভগবানের নিকট গমনপূর্বক তাঁহাকে অভিবাদনান্তে এক প্রান্তে উপবেশন করিলেন। এইরূপে উপবিষ্ট হইয়া আনন্দ ভগবানকে বলিলেন, “ভন্তে, শ্রামণের চুন্দ বলিতেছেন, নিগণ্ঠ নাথপুত্ত সম্প্রতি পাবায় দেহত্যাগ করিয়াছেন। তাঁহার মৃত্যুতে নিগণ্ঠগণ দ্বিধাবিভক্ত ও দ্বন্দ্ব, কলহ, বিবাদে প্রবৃত্ত হইয়া পরস্পরকে মুখাস্ত্র দ্বারা আহত করিতেছে, “তুমি এই ধর্ম ও বিনয় অবগত নও, আমি অবগত আছি, তুমি কী প্রকারে এই ধর্ম ও বিনয় জানিবে? তুমি মিথ্যাদৃষ্টির অনুবর্তী হইয়াছ, আমি সম্যক দৃষ্টিসম্পন্ন, আমি প্রাসঙ্গিক কথা বলিতেছি, তুমি অপ্রাসঙ্গিক বলিতেছ, পূর্বে কথনীয় তুমি পশ্চাতে বলিয়াছ, পশ্চাতে কথনীয় পূর্বে বলিয়াছ, তোমার বিচার ব্যর্থ হইয়াছে, তোমার আহ্বান গৃহীত হইয়াছে, তুমি নিগৃহীত হইয়াছ, স্বকীয় দৃষ্টি পরিশুদ্ধ করো, যদি সক্ষম হও আপনাকে পাশমুক্ত করো। নাথপুত্রের অনুচর নিগণ্ঠগণ যেন পরস্পরের বিনাশে প্রবৃত্ত হইয়াছে। নিগণ্ঠ নাথপুত্তের শ্বেতাম্বরধারী গৃহী-শ্রাবকগণও নিগণ্ঠগণের প্রতি উদাসীন হইয়াছে, বিরক্ত হইয়াছে, তাহাদের বিরোধী হইয়াছে, তাহাদের ধর্মবিনয়ের ব্যাখ্যান এতই অপটু হইয়াছে, উহার প্রচার এতই অফল-প্রদ হইয়াছিল, লক্ষ্যে চালিত করিতে এবং শান্তি প্রদানে উহা এতই অক্ষম হইয়াছিল, যেহেতু উহা সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত হয় নাই এবং ভিন্নস্তূপ ও অপ্রতিশরণে পরিণত হইয়াছে।
১৬৬. “চুন্দ, যখন ধর্মবিনয়ের ব্যাখ্যান অপটু হয়, উহার প্রচার অফল-প্রদ হয়, লক্ষ্যে চালিত করিতে এবং শান্তি প্রদানে উহা অক্ষম হয়, এবং সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত হয় না, তখন এইরূপই হইয়া থাকে।
“চুন্দ, শাস্তা সম্যকসম্বুদ্ধ না হইলে, ধর্মের ব্যাখ্যান অপটু হইলে, উহার প্রচার অফলপ্রদ হইলে, উহা লক্ষ্যে চালিত করিতে এবং শান্তি প্রদানে অক্ষম হইলে এবং সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত না হইলে শ্রাবকও যখন ওই ধর্মানুযায়ী মার্গে আরূঢ় হয় না, উহাতে বিহিত আচারসম্পন্ন হয় না, ধর্মের অনুসরণ করে না, উহা হইতে ভ্রষ্ট হইয়া অবস্থান করে; তাহাকে এইরূপ বলিতে পারা যায়, “মিত্র, তোমার লাভ দুর্লব্ধ, তোমার শাস্তাও সম্যকসম্বুদ্ধ নহেন, ধর্মও সুব্যাখ্যাত ও সুপ্রচারিত নহে, উহা লক্ষ্যে উপনীত করিতে ও শান্তি প্রদানে অক্ষম, উহা সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত নহে; তুমি ওই ধর্মানুযায়ী মার্গে আরূঢ় নহ, উহাতে বিহিত আচারসম্পন্ন নহ, ধর্মের অনুসরণকারী নহ, তুমি উহা হইতে ভ্রষ্ট হইয়া অবস্থান করো।” এইরূপে, চুন্দ, শাস্তা ও ধর্ম উভয়ই নিন্দনীয় হয়, শ্রাবক প্রশংসনীয় হয়। চুন্দ, এইরূপ শ্রাবককে যে কহে, “আয়ুষ্মান, আপনার শাস্তা কর্তৃক ধর্ম যেরূপে উপদিষ্ট এবং ঘোষিত হইয়াছে সেইরূপেই উহার অনুসরণ করুন,” তাহা হইলে উদ্দীপক, উদ্দীপিত এবং উদ্দীপিত হইয়া যে তদনুরূপ আচারে প্রবৃত্ত হয়, তাহারা সকলেই বহু অপুণ্য প্রসব করে। কী কারণে? চুন্দ, যখন ধর্মবিনয়ের ব্যাখ্যান অপটু হয়, উহার প্রচার অফল-প্রদ হয়, লক্ষ্যে চালিত করিতে এবং শান্তি প্রদানে উহা অক্ষম হয়, এবং উহা সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত হয় না, তখন এইরূপই হইয়া থাকে।
১৬৭. “চুন্দ, শাস্তা সম্যকসম্বুদ্ধ না হইলে, ধর্মের ব্যাখ্যান অপটু হইলে, উহার প্রচার অফল-প্রদ হইলে, উহা লক্ষ্যে চালিত করিতে এবং শান্তি প্রদানে অক্ষম হইলে এবং সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত না হইলে শ্রাবক যখন ওই ধর্মানুযায়ী মার্গে আরূঢ় হয়, উহাতে বিহিত আচারসম্পন্ন হয়, ধর্মের অনুসরণ করে, উহাতে লগ্ন হইয়া অবস্থান করে; তাহাকে এইরূপ বলিতে পারা যায়, “মিত্র, তোমার লাভ নাই, তোমার ক্ষতি, তোমার শাস্তা ও সম্যকসম্বুদ্ধ নহেন, ধর্মও সুব্যাখ্যাত ও সুপ্রচারিত নহে, উহা লক্ষ্যে উপনীত করিতে ও শান্তি প্রদানে অক্ষম, উহা সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত নহে; তুমি ওই ধর্মানুযায়ী মার্গে আরূঢ়, উহাতে বিহিত আচারসম্পন্ন, উহার অনুসরণকারী, তুমি উহাতে লগ্ন হইয়া অবস্থান করো।” এইরূপে চুন্দ, শাস্তাও নিন্দনীয় হন, ধর্মও নিন্দনীয় হয়, শ্রাবকও নিন্দনীয় হয়। চুন্দ, এইরূপ শ্রাবককে যে কহে, “আয়ুষ্মান অবশ্যই সত্যমার্গে প্রতিষ্ঠিত, আপনি উহাতে পরিপূর্ণতা লাভ করিবেন,” তাহা হইলে যে প্রশংসা করে, এবং যে প্রশংসিত হইয়া অধিকতর উৎসাহ সম্পন্ন হয়, তাহারা সকলেই বহু অপুণ্য প্রসব করে। কী কারণে? চুন্দ, যখন ধর্মবিনয়ের ব্যাখ্যান অপটু হয়, উহার প্রচার অফল-প্রদ হয়, লক্ষ্যে চালিত করিতে এবং শান্তি প্রদানে উহা অক্ষম হয়, এবং সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত হয় না, তখন এইরূপই হইয়া থাকে।
১৬৮. চুন্দ, শাস্তা সম্যকসম্বুদ্ধ হইলে, ধর্মের ব্যাখ্যান যথাযথ হইলে, উহার প্রচার ফলপ্রদ হইলে, উহা লক্ষ্যে চালিত করিতে এবং শান্তি প্রদানে সক্ষম হইলে এবং সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত হইলে শ্রাবক যখন ওই ধর্মানুযায়ী মার্গে আরূঢ় হয় না, উহাতে বিহিত আচারসম্পন্ন হয় না, ধর্মের অনুসরণ করেন না, উহা হইতে ভ্রষ্ট হইয়া অবস্থান করে, তাহাকে এইরূপ বলিতে পারা যায়, “মিত্র তোমার লাভ নাই, তোমার ক্ষতি, তোমার শাস্তা সম্যকসম্বুদ্ধ, ধর্ম সুব্যাখ্যাত ও সুপ্রচারিত, উহা লক্ষ্যে উপনীত করিতে ও শান্তি প্রদানে সক্ষম, উহা সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত; তুমি ওই ধর্মানুযায়ী মার্গে আরূঢ় নহ, উহাতে বিহিত আচারসম্পন্ন নহ, উহার অনুসরণে বিরত, তুমি উহা হইতে ভ্রষ্ট হইয়া অবস্থান করো।” এইরূপে, চুন্দ, শাস্তা প্রশংসনীয় হন, ধর্ম প্রশংসনীয় হয়, শ্রাবক নিন্দনীয় হয়। চুন্দ, এইরূপ শ্রাবককে যে কহে, “আয়ুষ্মান, আপনার শাস্তা কর্তৃক ধর্ম যেরূপে উপদিষ্ট এবং ঘোষিত হইয়াছে সেইরূপেই উহার অনুসরণ করুন,” তাহা হইলে উদ্দীপক, উদ্দীপিত এবং উদ্দীপিত হইয়া যে তদনুরূপ আচরণ করে, তাহারা সকলেই বহু পুণ্য প্রসব করে। কী কারণে? চুন্দ, যখন ধর্মবিনয় সুব্যাখ্যাত ও সুপ্রচারিত হয়, লক্ষ্যে উপনীত করিতে ও শান্তি প্রদানে সক্ষম হয়, সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত হয়, তখন এইরূপই হইয়া থাকে।
১৬৯. চুন্দ, মনে কর শাস্তা সম্যকসম্বুদ্ধ, ধর্ম সুব্যাখ্যাত ও সুপ্রচারিত, উহা লক্ষ্যে উপনীত করিতে ও শান্তি প্রদানে সক্ষম এবং সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত, শ্রাবকও ওই ধর্মানুযায়ী মার্গে আরূঢ়, উহাতে বিহিত আচারসম্পন্ন, উহার অনুসরণকারী, উহাতেই লগ্ন; এইরূপ ক্ষেত্রে তাহাকে বলিতে পারা যায়, “মিত্র, তোমার লাভ সুলব্ধ, তোমার শাস্তা অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ, ধর্ম সুব্যাখ্যাত ও সুপ্রচারিত, উহা লক্ষ্যে উপনীত করিতে ও শান্তি প্রদানে সক্ষম এবং সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত; তুমি ওই ধর্মানুযায়ী মার্গে আরূঢ়, উহাতে বিহিত আচারসম্পন্ন, ধর্মের অনুসরণকারী, উহাতে লগ্ন হইয়া তুমি অবস্থান করো।” এইরূপে, চুন্দ, শাস্তাও প্রশংসনীয় হন, ধর্মও প্রশংসনীয় হয়, শ্রাবকও প্রশংসনীয় হয়। যে এইরূপ শ্রাবককে এইরূপ কহে, “আয়ুষ্মান অবশ্যই সত্যমার্গে প্রতিষ্ঠিত, আপনি উহাতে পরিপূর্ণতা লাভ করিবেন,” যে প্রশংসা করে, যাহাকে প্রশংসা করে, প্রশংসিত হইয়া যে অধিকমাত্রায় উৎসাহসম্পন্ন হয়, তাহারা সকলেই বহু পুণ্য প্রসব করে। কী কারণে? চুন্দ, যখন ধর্মবিনয় সুব্যাখ্যাত ও সুপ্রচারিত হয়, লক্ষ্যে উপনীত করিতে ও শান্তি প্রদানে সক্ষম হয়, সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত হয়, তখন এইরূপই হইয়া থাকে।
১৭০. চুন্দ, মনে কর অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ শাস্তা জগতে আবির্ভূত হইয়াছেন, ধর্মও সুব্যাখ্যাত ও সুপ্রচারিত, উহা লক্ষ্যে উপনীত করিতে ও শান্তি প্রদানে সক্ষম এবং সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত, কিন্তু শ্রাবকগণ সদ্ধর্মে পারদর্শী হন নাই, সর্বাঙ্গ পরিপূর্ণ ব্রহ্মচর্য্য তাঁহাদের নিকট প্রকট হয় নাই, বিবৃত হয় নাই, ব্যাপক ও বিস্ময়কররূপে প্রকাশিত হয় নাই, সর্বজনমধ্যে ঘোষিত হয় নাই, এইরূপ সময়ে শাস্তার অন্তর্ধান হইল। চুন্দ, এইরূপ শাস্তার মৃত্যু শ্রাবকগণের পক্ষে শোচনীয়। কী কারণে? অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ শাস্তা জগতে আবির্ভূত হইয়াছিলেন। ধর্মও সুব্যাখ্যাত, সুপ্রচারিত, লক্ষ্যে উপনীত করিতে ও শান্তি প্রদানে সক্ষম এবং সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত হইয়াছিল, কিন্তু আমরা সদ্ধর্মে পারদর্শী হই নাই, সর্বাঙ্গ পরিপূর্ণ ব্রহ্মচর্য্য আমাদের নিকট প্রকট হয় নাই, বিবৃত হয় নাই, ব্যাপক ও বিস্ময়কররূপে প্রকাশিত হয় নাই, সর্বজনমধ্যে ঘোষিত হয় নাই, এইরূপ সময়ে আমাদের শাস্তার অন্তর্ধান হইল।” চুন্দ, এইরূপ শাস্তার মৃত্যু শ্রাবকগণের পক্ষে শোচনীয়।
১৭১. চুন্দ, মনে করো, অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ শাস্তা জগতে আবির্ভূত হইয়াছেন, ধর্মও সুব্যাখ্যাত ও সুপ্রচারিত, উহা লক্ষ্যে উপনীত করিতে ও শান্তি প্রদানে সক্ষম এবং সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত, শ্রাবকগণও সদ্ধর্মে পারদর্শী, সর্বাঙ্গ পরিপূর্ণ ব্রহ্মচর্য্য তাঁহাদের নিকট প্রকট, বিবৃত, ব্যাপক ও বিস্ময়কররূপে প্রকাশিত হইয়াছে, সর্বজনমধ্যে ঘোষিত হইয়াছে, এইরূপ সময়ে শাস্তার অন্তর্ধান হইল। চুন্দ, এইরূপ শাস্তার মৃত্যু শ্রাবকগণের পক্ষে শোচনীয় নয়। কী কারণে? “অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ শাস্তা জগতে আবির্ভূত হইয়াছিলেন। ধর্মও সুব্যাখ্যাত, সুপ্রচারিত, উহা লক্ষ্যে উপনীত করিতে ও শান্তি প্রদানে সক্ষম এবং সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত হইয়াছিল, আমরাও সদ্ধর্মে পারদর্শী, সর্বাঙ্গ পরিপূর্ণ ব্রহ্মচর্য্য আমাদের নিকট প্রকট, বিবৃত, ব্যাপক ও বিস্ময়কররূপে প্রকাশিত, সর্বজনমধ্যে ঘোষিত, এইরূপ সময়ে আমাদের শাস্তার অন্তর্ধান হইয়াছে। চুন্দ, এইরূপ শাস্তার মৃত্যু শ্রাবকগণের পক্ষে শোচনীয় নয়।
১৭২. চুন্দ, ব্রহ্মচর্য্য উক্ত প্রকার অঙ্গসমূহ সম্পন্ন হইলেও, শাস্তা যদি থের না হন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, বহুবর্ষ প্রব্রজিত, পূর্ণায়ু এবং বার্ধক্যে উপনীত না হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে অপূর্ণ হয়। চুন্দ, যখন ব্রহ্মচর্য্য উক্ত প্রকার অঙ্গসমূহ সম্পন্ন হয়, শাস্তাও থের, দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, বহুবর্ষ প্রব্রজিত, পূর্ণায়ু এবং বার্ধক্যে উপনীত হন, তখন ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে পরিপূর্ণ হয়।
১৭৩. চুন্দ, ব্রহ্মচর্য্য উক্ত প্রকার অঙ্গসমূহ সম্পন্ন হইলেও, শাস্তা থের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, বহুবর্ষ প্রব্রজিত, পূর্ণায়ু এবং বার্ধক্যে উপনীত হইলেও যদি তাঁহার থের ভিক্ষু শ্রাবকগণ, পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম না হন, বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম না হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে অপরিপূর্ণ হয়।
১৭৪. চুন্দ, ব্রহ্মচর্য্য উক্ত প্রকার অঙ্গসমূহ সম্পন্ন হইলে এবং শাস্তা স্থবির, দীর্ঘ অভিজ্ঞাসম্পন্ন, বহুবর্ষ প্রব্রজিত, পূর্ণায়ু এবং বার্ধক্যে উপনীত হইলেও যদি তাঁহার বয়োবৃদ্ধ ভিক্ষু শ্রাবকগণ পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন না এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম না হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে অপরিপূর্ণ হয়।
চুন্দ, যখন ব্রহ্মচর্য্য উক্ত প্রকার অঙ্গসমূহ সম্পন্ন হইলে এবং শাস্তা-স্থবির দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, বহুবর্ষ প্রব্রজিত, পূর্ণায়ু এবং বার্ধক্যে উপনীত হইলে যদি তাঁহার বয়োবৃদ্ধ ভিক্ষু শ্রাবকগণ পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সর্ম্পূণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে পরিপূর্ণ হয়।
চুন্দ, ব্রহ্মচর্য্য উক্ত প্রকার অঙ্গসমূহ সম্পন্ন হইলে এবং শাস্তা- স্থবির দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, বহুবর্ষ প্রবজিত, পূর্ণায়ু এবং বার্ধক্যে উপনীত হইলে এবং তাঁহার বয়োবৃদ্ধ ভিক্ষু শ্রাবকগণ পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম হন, কিন্তু যদি তাঁহার মধ্যবয়স্ক ভিক্ষু শ্রাবকগণ পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম না হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম না হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে অপরিপূর্ণ হয়।
মধ্যবয়স্ক ভিক্ষু শ্রাবকগণ পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম হইলেও যদি তাঁহার নব ভিক্ষু শ্রাবকগণ পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম না হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম না হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে অপরিপূর্ণ হয়।
নব ভিক্ষু শ্রাবকগণ পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম হইলেও যদি তাঁহার বয়োবৃদ্ধা ভিক্ষুণী শ্রাবিকাগণ পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেমপ্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম না হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম না হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে অপরিপূর্ণ হয়।
বয়োবৃদ্ধা ভিক্ষুণী শ্রাবিকাগণ পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম হইলেও যদি তাঁহার মধ্য বয়স্কা ভিক্ষুণী শ্রাবিকাগণ পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেমপ্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম না হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম না হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে অপরিপূর্ণ হয়।
মধ্যবয়স্কা ভিক্ষুণী শ্রাবিকাগণ পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম হইলেও যদি তাঁহার নবা ভিক্ষুণী শ্রাবিকাগণ পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম না হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম না হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে অপরিপূর্ণ হয়।
নবা ভিক্ষুণী শ্রাবিকাগণ পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম হইলেও যদি তাঁহার গৃহী শুভ্রবসনধারী ব্রহ্মচারী উপাসক শ্রাবকগণ পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেমপ্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম না হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম না হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে অপরিপূর্ণ হয়।
গৃহী শুভ্রবসনধারী ব্রহ্মচারী উপাসক শ্রাবকগণ পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম হইলেও যদি তাঁহার গৃহী শুভ্রবসন ধারী কামভোগী উপাসক শ্রাবকগণ পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম না হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম না হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে অপরিপূর্ণ হয়।
গৃহী শুভ্রবসনধারী কামভোগী উপাসক শ্রাবকগণ পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম হইলেও যদি তাঁহার গৃহিণী শুভ্রবসনা ব্রহ্মচারিনী উপাসিকা শ্রাবিকাগণ-পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেমপ্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম না হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম না হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে অপরিপূর্ণ হয়।
গৃহিণী শুভ্রবসনা ব্রহ্মচারিনী উপাসিকা শ্রাবিকাগণ পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম হইলেও যদি তাঁহার গৃহিণী শুভ্র বসনা কামভোগিনী উপাসিকা শ্রাবিকাগণ পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেমপ্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম না হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম না হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে অপরিপূর্ণ হয়।
গৃহিণী শুভ্র বসনা কামভোগিনী উপাসিকা শ্রাবিকাগণ পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হইলেও যদি ব্রহ্মচর্য্য সমৃদ্ধ, স্ফীত, বিস্তৃত, বহুজনাদৃত, বিশেষত্ব প্রাপ্ত, সর্বসাধারণে সুপ্রকাশিত না হয়, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে অপরিপূর্ণ হয়।
ব্রহ্মচর্য্য সমৃদ্ধ, স্ফীত, বিস্তৃত, বহুজনাদৃত, বিশেষত্ব প্রাপ্ত, সর্বসাধারণে সুপ্রকাশিত হইলেও যদি শ্রেষ্ঠ লাভ ও শ্রেষ্ঠ যশ প্রাপ্ত না হয়, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে অপরিপূর্ণ হয়।
চুন্দ, যখন ব্রহ্মচর্য্য উক্ত প্রকার অঙ্গসমূহ সম্পন্ন হইলে এবং শাস্তা- স্থবির, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন, বহুবর্ষপ্রব্রজিত, পূর্ণায়ু এবং বার্ধক্যে উপনীত হইলে, যদি তাঁহার বয়োবৃদ্ধ ভিক্ষু শ্রাবকগণ পণ্ডিত, বিনীত বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সর্ম্পূণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে পরিপূর্ণ হয়।
মধ্যবয়স্ক ভিক্ষু শ্রাবকগণ পণ্ডিত, বিনীত বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সর্ম্পূণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসন পূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে পরিপূর্ণ হয়।
নব ভিক্ষু শ্রাবকগণ পণ্ডিত, বিনীত বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সর্ম্পূণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে পরিপূর্ণ হয়।
বয়োবৃদ্ধা ভিক্ষুণী শ্রাবিকাগণ পণ্ডিত, বিনীত বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সর্ম্পূণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসন পূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে পরিপূর্ণ হয়।
মধ্যবয়স্কা ভিক্ষুণী শ্রাবিকাগণ পণ্ডিত, বিনীত বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সর্ম্পূণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে পরিপূর্ণ হয়।
নবা ভিক্ষুণী শ্রাবিকাগণ পণ্ডিত, বিনীত বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সর্ম্পূণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে পরিপূর্ণ হয়।
গৃহী শুভ্রবসনধারী ব্রহ্মচারী উপাসক শ্রাবকগণ পণ্ডিত, বিনীত বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সর্ম্পূণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে পরিপূর্ণ হয়।
গৃহী শুভ্রবসনধারী কামভোগী উপাসক শ্রাবকগণ পণ্ডিত, বিনীত বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সর্ম্পূণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে পরিপূরণ হয়।
গৃহিণী শুভ্রবসনা ব্রহ্মচারিণী উপাসিকা শ্রাবিকাগণ পণ্ডিত, বিনীত বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সর্ম্পূণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে পরিপূর্ণ হয়।
গৃহিণী শুভ্রবসনা কামভোগিনী উপাসিকা শ্রাবিকাগণ পণ্ডিত, বিনীত বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম হন এবং বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সর্ম্পূণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম হন, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে পরিপূর্ণ হয়।
ব্রহ্মচর্য্য সমৃদ্ধ, স্ফীত, বিস্তৃত, বহুজনাদৃত, বিশেষত্বপ্রাপ্ত, সর্বসাধারণে সুপ্রকাশিত হয় এবং শ্রেষ্ঠ লাভ ও শ্রেষ্ঠ যশ প্রাপ্ত হয়, তাহা হইলে ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে পরিপূর্ণ হয়।
চুন্দ, যখন ব্রহ্মচর্য্য উক্ত প্রকার অঙ্গসম্পন্ন হয় এবং তৎসহ শ্রেষ্ঠ লাভ ও শ্রেষ্ঠ যশ প্রাপ্ত হয়, তখন ওই ব্রহ্মচর্য্য ওই কারণে পরিপূর্ণ হয়।
১৭৫. চুন্দ, আমি এক্ষণে অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ শাস্তারূপে জগতে আবির্ভূত হইয়াছি, ধর্মও সুব্যাখ্যাত, সুপ্রচারিত, লক্ষ্যে উপনীত করিতে ও শান্তি প্রদানে সক্ষম এবং সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক ঘোষিত, শ্রাবকগণও সদ্ধর্মে পারদর্শী, সর্বাঙ্গ পরিপূর্ণ ব্রহ্মচর্য্য তাঁহাদের নিকট প্রকট, বিবৃত, ব্যাপক ও বিস্ময়কররূপে প্রকাশিত হইয়াছে, সর্বজনমধ্যে ঘোষিত হইয়াছে। চুন্দ, আমি এক্ষণে শাস্তা থের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, বহুবর্ষ প্রব্রজিত, পূর্ণায়ু ও বার্ধক্যে উপনীত।
চুন্দ, আমার ভিক্ষু শ্রাবকগণ আছেন তাঁহারা থের, পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম, বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম। আমার মধ্যবয়স্ক পণ্ডিত ভিক্ষু শ্রাবকগণ আছেন তাঁহারা থের, পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম, বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম। আমার নব ভিক্ষু শ্রাবকগণ আছেন তাঁহারা থের, পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম, বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম। আমার থেরী ভিক্ষুণী শ্রাবিকাগণ আছেন তাঁহারা থেরী, পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম, বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম। আমার মধ্যবয়স্কা ভিক্ষুণী শ্রাবিকাগণ আছেন তাঁহারা থেরী, পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম, বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম। আমার নবা ভিক্ষুণী শ্রাবিকাগণ আছেন তাঁহারা থেরী, পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম, বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসনপূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম। আমার উপাসক শ্রাবকগণ আছেন তাঁহারা গৃহী, শ্বেতাম্বর-পরিহিত ব্রহ্মচারী। আমার ওইরূপ গৃহী শ্রাবকগণ আছেন যাঁহারা বিত্তসম্পন্ন। আমার উপাসিকা শ্রাবিকাগণ আছেন তাঁহারা গৃহিণী; শ্বেতাম্বর পরিহিতা, ব্রহ্মচারিণী। আমার ওইরূপ উপাসিকা শ্রাবিকাগণ আছেন যাঁহারা বিত্তসম্পন্ন পণ্ডিত, বিনীত, বিশারদ, যোগক্ষেম-প্রাপ্ত, সদ্ধর্মের সম্যক ব্যাখ্যাকরণে সক্ষম, বিরুদ্ধমতের সম্মুখীন হইলে যুক্তি দ্বারা উহাকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করিয়া সর্ব সন্দেহ নিরসন পূর্বক ধর্মের উপদেশ দিতে সক্ষম। আমার ব্রহ্মচর্য্য সমৃদ্ধ, স্ফীত, বিস্তৃত, বহুজনাদৃত, বিশেষত্বপ্রাপ্ত, সর্বসাধারণের সুপ্রকাশিত।
১৭৬. চুন্দ, বর্তমানে যে-সকল শাস্তা পৃথিবীতে আবির্ভূত হইয়াছেন, তুলনায় তাঁহাদের মধ্যে আমি অপর একজন শাস্তাও দেখি না যিনি আমার ন্যায় লাভাগ্র ও যশাগ্রপ্রাপ্ত। চুন্দ, বর্তমানে পৃথিবীতে যে-সকল সংঘ অথবা গণের আবির্ভাব হইয়াছে, তুলনায় তাহাদের মধ্যে আমি একটি সংঘও দেখি না যাহা ভিক্ষুসংঘের ন্যায় লাভাগ্র ও যশাগ্রপ্রাপ্ত। চুন্দ, সম্যক ভাষী যাহাকে বলিবেন “সর্বাকারসম্পন্ন, সর্বাকার-পরিপূর্ণ, অন্যূন, অনধিক, সুব্যাখ্যাত, পরিপূর্ণাঙ্গ, সুপ্রকাশিত ব্রহ্মচর্য্য,” তাহা এই ব্রহ্মচর্য্য। চুন্দ, উদ্দক রামপুত্ত এইরূপ বলিতেন, “দেখিয়াও দেখে না।” কী দেখিয়াও দেখে না? উত্তমরূপে শাণিত ক্ষুরের তলদেশ দেখে, উহার ধার দেখে না। ইহাকেই বলে “দেখিয়াও দেখে না।” চুন্দ, উদ্দক রামপুত্ত কথিত ক্ষুর সম্বন্ধীয় বাক্য হীন, গ্রাম্য, সাধারণোচিত, অনার্য অনর্থ-সংহিত। চুন্দ, সম্যকভাষী যখন বলিবেন “দেখিয়াও দেখে না,” তখন তিনি এইরূপ বলিবেন, দেখিয়াও দেখে না। কী দেখিয়াও দেখে না? এই প্র্রকার সর্বাকারসম্পন্ন, সর্বাকার-পরিপূর্ণ, অন্যূন, অনধিক, সুব্যাখ্যাত, পরিপূর্ণাঙ্গ, সুপ্রকাশিত ব্রহ্মচর্য্য। ইহাই দেখে। উহাকে বিশুদ্ধতর করিবার অভিপ্রায়ে যদি উহা হইতে কোনো অংশ বিচ্ছিন্ন করে তাহা হইলে দেখে না। উহাকে পূর্ণতর করিবার অভিপ্রায়ে যদি উহাতে কিছু প্রক্ষেপ করে, তাহা হইলে দেখে না। ইহাকেই বলে দেখিয়াও দেখে না। চুন্দ, সম্যকভাষী যদি সর্বাকারসম্পন্ন, সর্বাকার-পরিপূর্ণ, অন্যূন, অনধিক, সুব্যাখ্যাত, পরিপূর্ণাঙ্গ, সুপ্রকাশিত ব্রহ্মচর্যের উল্লেখ করেন, তাহা হইলে তাঁহাকে এই ব্রহ্মচর্যেরই উল্লেখ করিতে হইবে।
১৭৭. অতএব, চুন্দ, আমার অনুভূত যে-সকল সত্য আমি তোমাদিগকে উপদেশ দিয়াছি উহা সকলে একত্রিত ও মিলিত হইয়া, বহুজনের, দেবমনুষ্যের হিত ও সুখার্থ, জগতের প্রতি অনুকম্পা পরবশ হইয়া, সর্ব অর্থ ও ব্যঞ্জনের সহিত আবৃত্তি করিবে, বিবাদ করিবে না, যাহাতে এই ব্রহ্মচর্য্য দূরবিস্তৃত ও চিরস্থায়ী হয়, বহুজনের হিত ও সুখবিধায়ক হয়। চুন্দ, ওই সকল সত্য কী কী? উহা চারিস্মৃতি প্রস্থান, চারি সম্যক প্রধান, চারি ঋদ্ধিপাদ, পঞ্চ ইন্দ্রিয়, পঞ্চবল, সপ্তবোজ্ঝাঙ্গ, আর্য অষ্টাঙ্গমার্গ। চুন্দ, এইগুলিই ওই সকল সত্য।
১৭৮. চুন্দ, তোমরা একত্রিত ও মিলিত হইয়া বিবাদে প্রবৃত্ত না হইয়া ওই সকল সত্যে শিক্ষিত হইবে। মনে কর কোনো সব্রহ্মচারী সংঘে ধর্ম-ভাষণ করিতেছেন। ওইস্থানে তোমাদের মনে হইতে পারে, “এই আয়ুষ্মান মিথ্যা অর্থ গ্রহণ করিতেছেন, মিথ্যা ব্যঞ্জনের প্রয়োগ করিতেছেন,” তাঁহার বাক্যের অভিনন্দনও করিবে না, নিন্দাও করিবে না। অভিনন্দন ও নিন্দা না করিয়া তাঁহাকে এইরূপ বলিতে হইবে, “আয়ুষ্মান, এই অর্থের এইরূপ এইরূপ ব্যঞ্জন, কোনটি অধিকতর প্রযোজ্য? এই সকল ব্যঞ্জনের এই এই অর্থ, কোনটি অধিকতর প্রযোজ্য?” তিনি যদি বলেন, “এই অর্থের এই সকল ব্যঞ্জন অধিকতর প্রযোজ্য, এই সকল ব্যঞ্জনের এই এই অর্থ অধিকতর প্রযোজ্য,” তাঁহার বাক্য গ্রহণও করিবে না, বর্জনও করিবে না। গ্রহণ ও বর্জন না করিয়া অর্থ ও ব্যঞ্জন তাঁহাকে উত্তমরূপে সর্ব মনোযোগের সহিত বুঝাইতে হইবে।
১৭৯. চুন্দ, মনে কর অপর একজন সব্রহ্মচারী সংঘে ধর্মভাষণ করিতেছেন। ওইস্থানে তোমাদের মনে হইতে পারে, “এই আয়ুষ্মান মিথ্যা অর্থ গ্রহণ করিতেছেন, কিন্তু ব্যঞ্জনের সম্যক প্রয়োগ করিতেছেন,” তাঁহার বাক্যের অভিনন্দনও করিবে না, নিন্দাও করিবে না। অভিনন্দন ও নিন্দা না করিয়া তাঁহাকে এইরূপ বলিতে হইবে, “আয়ুষ্মান, এই সকল ব্যঞ্জনের এই এই অর্থ, কোনটি অধিকতর প্রযোজ্য?” যদি তিনি বলেন, “আয়ুষ্মান এই সকল ব্যঞ্জনের এই এই অর্থ অধিকতর প্রযোজ্য,” তাঁহার বাক্য গ্রহণও করিবে না, বর্জনও করিবে না। গ্রহণ ও বর্জন না করিয়া অর্থ তাঁহাকে উত্তমরূপে সর্বমনোযোগের সহিত বুঝাইতে হইবে।
১৮০. চুন্দ, মনে করো অপর একজন সব্রহ্মচারী সংঘে ধর্ম-ভাষণ করিতেছেন। ওই স্থানে তোমাদের মনে হইতে পারে, “এই আয়ুষ্মান অর্থ সম্যকরূপে গ্রহণ করিতেছেন, কিন্তু ব্যঞ্জনের সম্যক প্রয়োগ করিতেছেন না,” তাঁহার বাক্যের অভিনন্দনও করিবে না, নিন্দাও করিবে না। অভিনন্দন ও নিন্দা না করিয়া তাঁহাকে এইরূপ বলিতে হইবে, “আয়ুষ্মান, এই অর্থের এই এই ব্যঞ্জন, কোনটি অধিকতর প্রযোজ্য? তিনি যদি বলেন, “এই অর্থের এই এই ব্যঞ্জন অধিকতর প্রযোজ্য,” তাঁহার বাক্য গ্রহণও করিবে না, বর্জনও করিবে না। গ্রহণ ও বর্জন না করিয়া ব্যঞ্জন তাঁহাকে উত্তমরূপে সর্বমনোযোগের সহিত বুঝাইতে হইবে।
১৮১. চুন্দ, মনে কর অপর একজন সব্রহ্মচারী সংঘে ধর্ম-ভাষণ করিতেছেন, ওইস্থানে তোমাদের মনে হইতে পারে, “এই আয়ুষ্মান অর্থ সম্যকরূপে গ্রহণ করিতেছেন, ব্যঞ্জনের সম্যক প্রয়োগ করিতেছেন,” তখন সাধুকার দিয়া তাঁহার বাক্যের অভিনন্দন ও অনুমোদন করিবে। ওইরূপ করিয়া তাঁহাকে বলিতে হইবে, “আয়ুষ্মান, আমরা সৌভাগ্যবান, আমাদের পরম সৌভাগ্য যে আমরা আপনার ন্যায় অর্থ ও ব্যঞ্জনকুশল সব্রহ্মচারী পাইয়াছি।”
১৮২. চুন্দ, এই জীবনেই যে-সকল আসবের উৎপত্তি হয়, ওই সকলের সংযমের নিমিত্ত আমি নবধর্মের উপদেশ দিতেছি। আমি যে কেবল পরজীবনের আসবসমূহের বিনাশের জন্যই ধর্মোপদেশ দিতেছি তাহা নহে; চুন্দ, আমি প্রত্যক্ষ জীবনের আসবসমূহের সংযমের জন্য এবং পরজীবনের আসবসমূহের বিনাশের জন্য ধর্মোপদেশ দিতেছি। অতএব, চুন্দ, তোমাদের জন্য আমি যে চীবরের অনুমোদন করিয়াছি উহা শীতোষ্ণের নিবারণের জন্য, দংশ-মশক-বাতাতপ-সরীসৃপের স্পর্শ নিবারণের জন্য পর্যাপ্ত, সেইরূপেই লজ্জানিবারণের জন্য পর্যাপ্ত। আমি যে পিণ্ডপাতের অনুমোদন করিয়াছি উহা এই দেহের স্থিতি এবং পুষ্টির পক্ষে পর্যাপ্ত হইবে; বিহিংসা নিবারণার্থে, ব্রহ্মচর্য্য উদ্যাপনার্থে পর্যাপ্ত হইবে, “এইরূপে পুরাতন বেদনার বিনাশ-সাধন করিব এবং নতুন বেদনার উৎপাদন করিব না, যাহার ফলে আমার জীবনযাত্রা নির্বাহিত হইবে এবং আমি অনিন্দ্য ও সুখবিহারী হইব।” আমি তোমাদের জন্য যে শয়নাসনের অনুমোদন করিয়াছি, উহা শীতোষ্ণের নিবারণের জন্য, দংশ-মশক-বাতাতপ-সরীসৃপের স্পর্শ নিবারণের জন্য, ঋতু প্রকোপ পরিহারের জন্য, নিভৃতবাসের আনন্দের জন্য পর্যাপ্ত হইবে। আমি তোমাদের জন্য রোগীর ওষুধ ও পথ্যাদি সম্বন্ধে যে ব্যবস্থার অনুমোদন করিয়াছি উহা উৎপন্ন ব্যাধির বেদনা নিবারণের জন্য এবং সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যলাভের জন্য পর্যাপ্ত হইবে।
১৮৩. চুন্দ, ইহা সম্ভব যে অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকগণ বলিবেন, “শাক্যপুত্রীয় শ্রমণগণ সুখভোগে লিপ্ত হইয়া বিহার করেন।” চুন্দ, যে-সকল অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজক ওইরূপ বলিবেন তাঁহাদিগকে এইরূপ বলিতে হইবে, “আয়ুষ্মান, সুখ-ভোগানুযোগ কী? উহা অনেক প্রকারের।” চুন্দ, চারি প্রকার আছে যাহা হীন, ইতরসেবিত, সাধারণজনীয়, অনার্য, নিষ্ফল, যাহা নির্বেদ , বিরাগ, নিরোধ, উপশম, অভিজ্ঞা, সম্বোধি এবং নির্বাণের অনুকূল নহে। কোন চারি প্রকার? চুন্দ, কোনো নির্বোধ প্রাণিহত্যা করিয়া আপনাকে সুখী অনুভব করে, প্রীত হয়, ইহাই প্রথম প্রকার সুখভোগানুযোগ। পুনশ্চ, চুন্দ, কেহ অদত্তের গ্রহণ করিয়া আপনাকে সুখী অনুভব করে, প্রীত হয়, ইহা দ্বিতীয় সুখভোগানুযোগ। পুনশ্চ, চুন্দ, কেহ মৃষাবাদ বলিয়া আপনাকে সুখী অনুভব করে, প্রীত হয়, ইহা তৃতীয় সুখভোগানুযোগ। পুনশ্চ, চুন্দ, কেহ পঞ্চেন্দ্রিয়ের তৃপ্তিরূপ ভোগে বেষ্টিত হইয়া বাস করে। ইহা চতুর্থ প্রকার সুখভোগানুযোগ। চুন্দ, এই সকলই চারি প্রকার সুখভোগ যাহা হীন ইতরসেবিত, সাধারণজনীয়, অনার্য, নিষ্ফল, যাহা নির্বেদ, বিরাগ, নিরোধ, উপশম, অভিজ্ঞা, সম্বোধি এবং নির্বাণের অনুকূল নহে।
চুন্দ, ইহা সম্ভব যে অন্যতীর্থিয়গণ জিজ্ঞাসা করিবে, “শাক্যপুত্রীয় শ্রমণগণ কি ওই সকল চারি প্রকার সুখভোগে অনুযুক্ত হইয়া বিহার করেন? “তাহা নহে” এইরূপ উত্তর উহাদিগকে দিতে হইবে, তাহারা সম্যকভাষী হইবে না, মিথ্যা কুৎসা রটনা করিবে।
১৮৪. চুন্দ, চারি প্রকার সুখভোগানুযোগ আছে যাহা সম্পূর্ণরূপে নির্বেদ, বিরাগ, নিরোধ, উপশম, অভিজ্ঞা, সম্বোধি এবং নির্বাণের অনুকূল। কোন চারি প্রকার? চুন্দ, ভিক্ষু কাম হইতে বিবিক্ত হইয়া, অকুশলধর্ম হইতে বিবিক্ত হইয়া সবিতর্ক সবিচার বিবেকজ প্রীতিসুখ-মণ্ডিত প্রথম ধ্যান লাভ করিয়া বিহার করেন। ইহাই প্রথম প্রকার। পুনশ্চ, চুন্দ, ভিক্ষু বিতর্ক-বিচারের উপশমে আধ্যাত্মিক শান্তিপ্রদায়ী, চিত্তের একাগ্রতা সম্পাদনকারী অবিতর্ক অবিচার সমাধিজ প্রীতিসুখ-মণ্ডিত দ্বিতীয় ধ্যান লাভ করিয়া বিহার করেন। ইহাই দ্বিতীয় প্রকার। পুনশ্চ, চুন্দ, ভিক্ষু প্রীতিতেও বৈরাগ্য উৎপাদন করিয়া… তৃতীয় ধ্যান লাভ করিয়া বিহার করেন। ইহাই তৃতীয় প্রকার। পুনশ্চ, চুন্দ, ভিক্ষু সুখ ও দুঃখ উভয়ই বর্জন করিয়া… চতুর্থ ধ্যান লাভ করিয়া বিহার করেন। ইহাই চতুর্থ প্রকার। এই সকল চারি সুখভোগানুযোগ যাহা সম্পূর্ণরূপে নির্বেদ, বিরাগ, নিরোধ, উপশম, অভিজ্ঞা, সম্বোধি ও নির্বাণের অনুকূল। চুন্দ, ইহা সম্ভব যে অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকগণ বলিবেন, “শাক্যপুত্রীয় শ্রমণগণ এই সকল চারি সুখভোগে অনুযুক্ত হইয়া বিহার করেন।” এইরূপ ক্ষেত্রে তাঁহাদিগকে বলিতে হইবে, “আপনারা যথার্থ বলিয়াছেন,” তাঁহারা সম্যকভাষী হইবেন, মিথ্যা কুৎসারটনাকারী হইবেন না।
১৮৫. চুন্দ, ইহা সম্ভব যে অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকগণ বলিবেন, “যাঁহারা এই চারি সুখভোগে অনুযুক্ত হইয়া বিহার করেন, তাঁহাদের কি ফল লাভ হইবে, কি ইষ্ট সাধিত হইবে?” তাঁহাদিগকে এইরূপ বলিতে হইবে, “যাঁহারা ওই চারি প্রকার সুখভোগে অনুযুক্ত হইয়া বিহার করেন তাঁহাদের চারি প্রকার ফললাভ হইতে পারে, চারি প্রকার ইষ্ট সাধিত হইতে পারে। কী কী প্রকার? এইস্থলে ভিক্ষু ত্রিবিধ সংযোজনের ক্ষয়হেতু স্রোতাপন্ন ও দুর্গতিমুক্ত হন, তাঁহার সম্বোধি প্রাপ্তি অবশ্যম্ভাবী। ইহা প্রথম ফল, প্রথম ইষ্ট। পুনশ্চ, ভিক্ষু ত্রিবিধ সংযোজনের ক্ষয়হেতু রাগ, দ্বেষ ও মোহের নাশে সকৃদাগামী হইয়া মাত্র একবার এই জগতে আগমন করিয়া দুঃখের অন্তসাধন করেন। ইহা দ্বিতীয় ফল, দ্বিতীয় ইষ্ট। পুনশ্চ, ভিক্ষু পঞ্চ অবরভাগীয় সংযোজনের ক্ষয়হেতু স্বর্গলোকে উৎপন্ন হইয়া তথায় পরিনির্বাণ লাভ করেন, ওই স্থান হইতে তাঁহার পুনরাগমন হয় না। ইহা তৃতীয় ফল, তৃতীয় ইষ্ট। পুনশ্চ, ভিক্ষু আসবসমূহের ক্ষয়হেতু অনাসব চিত্তবিমুক্তি এবং প্রজ্ঞাবিমুক্তি এই জগতেই স্বয়ং জানিয়া ও উপলব্ধি করিয়া বিহার করেন। ইহা চতুর্থ ফল, চতুর্থ ইষ্ট। যাঁহারা উক্ত চারি প্রকার সুখভোগে অনুযুক্ত হইয়া বিহার করেন, তাঁহাদের এই চারি প্রকার ফল লাভ হইতে পারে, চারি প্রকার ইষ্ট সাধিত হইতে পারে।”
১৮৬. চুন্দ, ইহা সম্ভব যে অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকগণ বলিবেন, “শাক্যপুত্রীয় শ্রমণগণ ধর্মে অপ্রতিষ্ঠ হইয়া বিহার করেন।” চুন্দ, তাঁহাদিগকে এইরূপ বলিতে হইবে, “আয়ুষ্মান, জ্ঞান ও দর্শনসম্পন্ন ভগবান অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক শ্রাবকগণের নিকট ধর্ম উপদিষ্ট ও ঘোষিত হইয়াছে, ওই ধর্ম যাবজ্জীবন অনুল্লঙ্ঘনীয়। যেইরূপ গভীররূপে প্রোথিত প্রস্তর অথবা লৌহস্তম্ভ অচল অটল হইয়া অবস্থান করে, সেইরূপই জ্ঞান ও দর্শনসম্পন্ন ভগবান অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক শ্রাবকগণের নিকট উপদিষ্ট ও ঘোষিত ধর্ম যাবজ্জীবন অনুল্লঙ্ঘনীয়। যে ভিক্ষু অর্হৎ, ক্ষীণাসব, উদ্যাপিত-ব্রহ্মচর্য্য, কৃত-কৃত্য, ভারমুক্ত, পরমার্থপ্রাপ্ত, ভববন্ধন-মুক্ত, সম্যক জ্ঞান-বিমুক্ত, নয় প্রকার কর্ম তদ্ দ্বারা কৃত হওয়া অসম্ভব। ক্ষীণাসব ভিক্ষু স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হইয়া প্রাণিহত্যা করণে অসমর্থ, চৌর্যকথিত অদত্তের গ্রহণে অসমর্থ, মৈথুন ধর্মের সেবা করিতে অসমর্থ, সংকল্পিত মিথ্যাভাষণে অসমর্থ, পূর্বে গৃহস্থজীবনে পার্থিব সুখভোগের নিমিত্ত যেইরূপ সঞ্চয় করিতেন সেইরূপ সঞ্চয় করণে অসমর্থ, রাগ, দ্বেষ ও মোহের বশবর্তী হইতে অসমর্থ, ভয়াভিভূত হইতে অসমর্থ। যে ভিক্ষু অর্হৎ, ক্ষীণাসব, উদ্যাপিত-ব্রহ্মচর্য্য, কৃত-কৃত্য, ভারমুক্ত, পরমার্থপ্রাপ্ত, ভববন্ধন-মুক্ত, সম্যক জ্ঞান-বিমুক্ত এই নয় প্রকার কর্ম তদ্ দ্বারা কৃত হওয়া অসম্ভব।
১৮৭. চুন্দ, ইহা সম্ভব যে অন্যতীর্থীয় পরিব্রাজকগণ বলিবেন, “শ্রমণ গৌতম অতীত সম্বন্ধে অসীম জ্ঞান-দর্শন প্রকাশ করেন, কিন্তু অনাগত সম্বন্ধে ওইরূপ জ্ঞান-দর্শন প্রকাশ করেন না; ইহা কী প্রকার? কেন এইরূপ হয়?” নির্বোধ অজ্ঞান অন্যতীর্থীয় পরিব্রাজকগণ এক প্রকার জ্ঞান-দর্শন দ্বারা অন্য প্রকার জ্ঞান-দর্শন জ্ঞাপিতব্য মনে করে। চুন্দ, অতীত সম্বন্ধে তথাগতের বিজ্ঞান স্মৃতি-অনুসারী। তিনি যতদূর ইচ্ছা ততদূর অনুস্মরণ করেন। ভবিষ্যদ্বিষয়ে তথাগতের বোধিজ জ্ঞান উৎপন্ন হয়, “ইহা অন্তিম জন্ম, আর পুনর্জন্ম নাই।”
চুন্দ, যদি অতীত মিথ্যা হয়, তথ্যানুরূপ না হয়, যদি উহা নিষ্ফল হয়, তাহা হইলে তথাগত ওই বিষয়ে কিছু বলেন না। যদি অতীত সত্য ও তথ্যানুরূপ হয়, কিন্তু অনর্থক হয়, তাহা হইলেও তথাগত ওই বিষয়ে কিছু বলেন না। যদি অতীত সত্য, তথ্যানুরূপ এবং ইষ্টসাধক হয়, তাহা হইলে তথাগত ওই প্রশ্নের উত্তর দান সম্বন্ধে কালজ্ঞ হন।
চুন্দ, যদি ভবিষ্যত মিথ্যা হয়, তথ্যানুরূপ না হয়, যদি উহা নিষ্ফল হয়, তাহা হইলে তথাগত ওই বিষয়ে কিছু বলেন না। যদি ভবিষ্যত সত্য ও তথ্যানুরূপ হয়, কিন্তু অনর্থক হয়, তাহা হইলেও তথাগত ওই বিষয়ে কিছু বলেন না। যদি ভবিষ্যত সত্য, তথ্যানুরূপ এবং ইষ্টসাধক হয়, তাহা হইলে তথাগত ওই প্রশ্নের উত্তর দান সম্বন্ধে কালজ্ঞ হন।
চুন্দ, যদি বর্তমান মিথ্যা হয়, তথ্যানুরূপ না হয়, যদি উহা নিষ্ফল হয়, তাহা হইলে তথাগত ওই বিষয়ে কিছু বলেন না। যদি বর্তমান সত্য ও তথ্যানুরূপ হয়, কিন্তু অনর্থক হয়, তাহা হইলেও তথাগত ওই বিষয়ে কিছু বলেন না। যদি বর্তমান সত্য, তথ্যানুরূপ এবং ইষ্টসাধক হয়, তাহা হইলে তথাগত ওই প্রশ্নের উত্তর দান সম্বন্ধে কালজ্ঞ হন।
১৮৮. এইরূপে চুন্দ, অতীত, ভবিষ্যত ও বর্তমান ধর্মসমূহে তথাগত কালবাদী, ভূতবাদী, অর্থবাদী, ধর্মবাদী ও বিনয়বাদী। তন্নিমিত্ত তিনি তথাগত উক্ত হন।
চুন্দ, দেবলোক, মারলোক, ব্রহ্মলোক, শ্রমণ-ব্রাহ্মণসহ এই জগৎ ও সর্বদেবমনুষ্য কর্তৃক যাহা দৃষ্ট, শ্রুত, অনুভূত, বিজ্ঞাত, প্রাপ্ত, পর্যেষিত, মনে বিচারিত, ওই সমস্তই তথাগতের জ্ঞাত। তন্নিমিত্ত তিনি তথাগত উক্ত হন। চুন্দ, যে রাত্রিতে তথাগত অনুত্তর সম্যক সম্বোধি প্রাপ্ত হইয়াছিলেন এবং যে রাত্রে তিনি উপাধিশূন্য নির্বাণ-ধাতুতে পরিনির্বৃত হইয়াছিলেন, এই দুই সময়ের অন্তরে তিনি আলোচনা, কথোপকথন ও নির্দেশ দানের কালে যাহা বলিয়াছেন, তৎসমস্তই সত্য, উহার অন্যথা নাই। তন্নিমিত্ত তিনি তথাগত উক্ত হন। চুন্দ, তথাগত বাক্যানুরূপ কর্মকারী, কর্মানুরূপ ভাষণকারী। এইরূপে, চুন্দ, তিনি যথাবাদী তথাকারী, যথাকারী তথাবাদী, এই নিমিত্ত তিনি তথাগত উক্ত হন। দেবলোক, মারলোক, ব্রহ্মলোক শ্রমণ-ব্রাহ্মণসহ এই জগৎ ও সর্বদেবমনুষ্যের মধ্যে তথাগত সর্ববিজয়ী, অপরাজিত, সর্বদর্শী, সর্বশক্তিমান। এই নিমিত্ত তিনি তথাগত উক্ত হন।
১৮৯. চুন্দ, ইহা সম্ভব যে অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকগণ বলিবেন, “আয়ুষ্মান, মরণের পর তথাগতের অস্তিত্ব থাকে? ইহাই কী সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা?” যাঁহারা এইরূপ বলেন তাঁহাদিগকে বলিতে হইবে, “আয়ুষ্মান, ভগবান বলেন নাই, “মরণের পর তথাগতের অস্তিত্ব থাকে, ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।” ইহা সম্ভব যে অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকগণ বলিবেন, “মরণের পর তথাগতের অস্তিত্ব থাকে না, ইহাই কী সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা?” যাঁহারা এইরূপ বলেন তাঁহাদিগকে বলিতে হইবে, “ভগবান ইহাও বলেন নাই।” সম্ভবত অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকগণ বলিবেন, “মরণের পর তথাগতের অস্তিত্ব থাকে এবং থাকেও না ইহাই সত্য অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা? যাঁহারা এইরূপ বলেন তাহাদিগকে বলিতে হইবে “আয়ুষ্মান, ভগবান বলেন নাই; মরণের পর তথাগতের অস্তিত্ব থাকে এবং থাকে না তাহাও নয়, ইহাই কী সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা?” এইরূপ ক্ষেত্রে ওই সকল পরিব্রাজকদিগকে ওই একই প্রকার উত্তর দিতে হইবে।
চুন্দ, ইহা সম্ভব যে অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকগণ বলিবেন, “আয়ুষ্মান, শ্রমণ গৌতম কর্র্তৃক ইহা কেন প্রকাশিত হয় নাই?” এইরূপ ক্ষেত্রে তাহাদিগকে বলিতে হইবে, “এই প্রশ্ন অর্থ-সংহিত নহে, ধর্ম-সংহিত নহে, সর্বোচ্চ ব্রহ্মচর্যের অনুকূল নহে; নির্বেদ, বিরাগ, নিরোধ, উপশম, অভিজ্ঞা, সম্বোধি, নির্বাণের অনুকূল নহে। এই কারণে ভগবান কর্তৃক ইহা প্রকাশিত হয় নাই।
১৯০. চুন্দ, ইহা সম্ভব যে অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকগণ বলিবেন, “আয়ুষ্মান, শ্রমণ গৌতম কোন প্রশ্নের সমাধান করিয়াছেন?” এইরূপ ক্ষেত্রে তাঁহাদিগকে বলিতে হইবে, “ভগবান দুঃখ কী তাহা প্রকাশ করিয়াছেন, দুঃখের উৎপত্তি, দুঃখের নিরোধ এবং দুঃখ-নিরোধগামী মার্গ প্রকাশ করিয়াছেন।
চুন্দ, ওই সকল পরিব্রাজকগণ জিজ্ঞাসা করিতে পারেন, “কী হেতু শ্রমণ গৌতম ওই সকল প্রকাশ করিয়াছেন?” এইরূপ ক্ষেত্রে তাঁহাদিগকে বলিতে হইবে, “যেহেতু ইহা অর্থ-সংহিত, ধর্ম-সংহিত, সর্বোচ্চ ব্রহ্মচর্যের অনুকূল; নির্বেদ, বিরাগ, নিরোধ, উপশম, অভিজ্ঞা, সম্বোধি, নির্বাণের অনুকূল। এই হেতু ভগবান উহা ব্যক্ত করিয়াছেন।”
১৯১. চুন্দ, পূর্বান্তের সম্পর্কে যে-সকল দৃষ্টি আছে ওই সকল যেরূপে ব্যক্ত হওয়া উচিত আমি সেইরূপেই তোমাদের নিকট ব্যক্ত করিয়াছি; ওই সকল যেরূপে প্রকাশিত হইবার যোগ্য নয়, আমি কি সেইরূপে তোমাদের নিকট প্রকাশ করিব? অপরান্ত সম্পর্কে যে-সকল দৃষ্টি আছে ওই সকলও যেরূপে ব্যক্ত হওয়া উচিত আমি সেইরূপেই তোমাদের নিকট ব্যক্ত করিয়াছি; ওই সকল যেরূপে প্রকাশিত হইবার যোগ্য নয়, আমি কি সেইরূপে তোমাদের নিকট প্রকাশ করিব?
চুন্দ, পূর্বান্ত সম্বন্ধে যে-সকল দৃষ্টি আছে যাহা আমি যথানুরূপ তোমাদের নিকট ব্যক্ত করিয়াছি ওই সকল, এবং যে-সকল প্রকাশের যোগ্য নয়, ওই সকল কী? কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, “আত্মা ও জগৎ শাশ্বত, ইহাই সত্য, অন্য মত মিথ্যা।”
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, “আত্মা ও জগৎ অশাশ্বত, ইহাই সত্য, অন্য মত মিথ্যা।”
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, “আত্মা ও জগৎ শাশ্বত এবং অশাশ্বত, ইহাই সত্য, অন্য মত মিথ্যা।”
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, “আত্মা ও জগৎ শাশ্বতও নহে, অশাশ্বতও নহে, ইহাই সত্য, অন্য মত মিথ্যা।”
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, “আত্মা ও জগৎ স্বয়ংকৃত, ইহাই সত্য, অন্য মত মিথ্যা।”
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, “আত্মা ও জগৎ পর-কৃত, ইহাই সত্য, অন্য মত মিথ্যা।”
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, “আত্মা ও জগৎ একাধারে স্বয়ংকৃত ও পরকৃত, ইহাই সত্য, অন্য মত মিথ্যা।”
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, “আত্মা ও জগৎ স্বয়ংকৃতও নহে, পরকৃতও নহে, উহারা অধীত্য-সমুৎপন্ন; ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, সুখ-দুঃখ শাশ্বত ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, সুখ-দুঃখ অশাশ্বত ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, সুখ-দুঃখ একাধারে শাশ্বত ও অশাশ্বত ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, সুখ-দুঃখ শাশ্বতও নহে, অশাশ্বতও নহে ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, সুখ-দুঃখ স্বয়ংকৃত ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, সুখ-দুঃখ পরকৃত ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, সুখ-দুঃখ একাধারে স্বয়ংকৃত ও পরকৃত ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, সুখ-দুঃখ স্বয়ংকৃত ও নহে, পরকৃতও নহে, উহারা অধীত্য-সমুৎপন্ন। ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
১৯২. চুন্দ, যে-সকল শ্রমণ ও ব্রাহ্মণগণ বলেন, “আত্মা ও জগৎ শাশ্বত, ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা,” তাঁহাদের নিকট গমন করিয়া আমি কহি, “আপনারা কী বলেন আত্মা ও জগৎ শাশ্বত?” যখন তাঁহারা বলেন “ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা” তখন আমি উহা অনুমোদন করি না। কী হেতু? এই বিষয়ে ভিন্নমতাবলম্বী সত্ত্বগণও আছেন। এই প্রজ্ঞপ্তিতে আমি আমার সদৃশ কাহাকেও দেখি না, আমাপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর কোথা হইতে হইবে? প্রজ্ঞপ্তি বিষয়ে আমিই শ্রেষ্ঠতর।
১৯৩. চুন্দ, যে-সকল শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ এইরূপ মত ও দৃষ্টিসম্পন্ন, “আত্মা ও জগৎ অশাশ্বত ইহাই সত্য, অন্য মত মিথ্যা।”
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, “আত্মা ও জগৎ শাশ্বত এবং অশাশ্বত, ইহাই সত্য, অন্য মত মিথ্যা।”
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, “আত্মা ও জগৎ শাশ্বতও নহে, অশাশ্বতও নহে, ইহাই সত্য, অন্য মত মিথ্যা।”
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, “আত্মা ও জগৎ স্বয়ংকৃত, ইহাই সত্য, অন্য মত মিথ্যা।”
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, “আত্মা ও জগৎ পর-কৃত, ইহাই সত্য, অন্য মত মিথ্যা।”
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, “আত্মা ও জগৎ একাধারে স্বয়ংকৃত ও পরকৃত, ইহাই সত্য, অন্য মত মিথ্যা।”
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, “আত্মা ও জগৎ স্বয়ংকৃতও নহে, পরকৃতও নহে, উহারা অধীত্য-সমুৎপন্ন; ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, সুখ-দুঃখ শাশ্বত ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, সুখ-দুঃখ অশাশ্বত ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, সুখ-দুঃখ একাধারে শাশ্বত ও অশাশ্বত ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, সুখ-দুঃখ শাশ্বতও নহে, অশাশ্বতও নহে ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, সুখ-দুঃখ স্বয়ংকৃত ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন-সুখ-দুঃখ পরকৃত ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, সুখ-দুঃখ একাধারে স্বয়ংকৃত ও পরকৃত ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ বাদ ও দৃষ্টিসম্পন্ন, সুখ-দুঃখ স্বয়ংকৃতও নহে, পরকৃতও নহে, উহারা অধীত্য-সমুৎপন্ন। ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা,” আমি তাঁহাদের নিকট গমন করিয়া পূর্বোক্তরূপ প্রশ্ন করি, তাঁহারাও পূর্বের ন্যায় বলেন “ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।” আমি তাঁহাদের বাক্য অনুমোদন করি না। কী হেতু? এই বিষয়ে ভিন্নমতাবলম্বী সত্ত্বগণও আছেন। এই প্রজ্ঞপ্তিতে আমি আমার সদৃশ কাহাকেও দেখি না, আমাপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর কোথা হইতে হইবে? প্রজ্ঞপ্তি বিষয়ে আমিই শ্রেষ্ঠতর। এই সকলই পূর্বান্ত সম্বন্ধীয় দৃষ্টি যাহা যেরূপে প্রকাশিত হওয়া উচিত সেইরূপেই আমি তোমাদের নিকট প্রকাশ করিয়াছি; ওই সকল যেরূপে প্রকাশিত হইবার যোগ্য নয়, আমি কি সেইরূপে তোমাদের নিকট প্রকাশ করিব?
১৯৪. চুন্দ, অপরান্ত সম্বন্ধে যে-সকল দৃষ্টি আছে যাহা আমি যথানুরূপ তোমাদের নিকট ব্যক্ত করিয়াছি ওই সকল, এবং যে-সকল প্রকাশের যোগ্য নয়, ওই সকল কী?
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ এইরূপ মত ও দৃষ্টিসম্পন্ন, “মরণান্তে আত্মা রূপী ও অরোগ অবস্থায় বিদ্যমান থাকে, ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।”
কোনো কোনো শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ এইরূপ মত এইরূপ দৃষ্টিসম্পন্ন, “আত্মা অরূপ অবস্থায় থাকে, ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।”
আত্মা একাধারে রূপী ও অরূপী হইয়া থাকে, ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।”
আত্মা রূপীও নহে, অরূপীও নহে, এই অবস্থায় থাকে, ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।”
আত্মা সচৈতন্য অবস্থায় থাকে, ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।”
আত্মা অচৈতন্য অবস্থায় থাকে, ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।”
আত্মা না সচৈতন্য না অচৈতন্য অবস্থায় থাকে, ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।”
আত্মার উচ্ছেদ ও বিনাশ হয়, মরণের পর উহার অস্তিত্ব থাকে না, ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।”
চুন্দ, যে-সকল শ্রমণ ও ব্রাহ্মণগণ বলেন, “মরণান্তে আত্মা রূপী ও অরোগ অবস্থায় বিদ্যমান থাকে, ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা,” তাঁহাদের নিকট গমন করিয়া আমি কহি, “আপনারা কী বলেন, মরণান্তে আত্মা রূপী ও অরোগ অবস্থায় বিদ্যমান থাকে?” যখন তাঁহারা বলেন “ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা,” তখন আমি উহা অনুমোদন করি না। কী হেতু? এই বিষয়ে ভিন্নমতাবলম্বী সত্ত্বগণও আছেন। এই প্রজ্ঞপ্তিতে আমি আমার সদৃশ কাহাকেও দেখি না, আমাপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর কোথা হইতে হইবে? প্রজ্ঞপ্তি বিষয়ে আমিই শ্রেষ্ঠতর।
১৯৫. চুন্দ, যে-সকল শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ এইরূপ মত ও দৃষ্টিসম্পন্ন, আত্মা অরূপ অবস্থায় থাকে, ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
আত্মা একাধারে রূপী ও অরূপী হইয়া থাকে, ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
আত্মা রূপীও নহে, অরূপীও নহে, এইরূপ অবস্থায় থাকে, ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
আত্মা সচৈতন্য অবস্থায় থাকে, ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
আত্মা অচৈতন্য অবস্থায় থাকে, ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
আত্মা না সচৈতন্য না অচৈতন্য অবস্থায় থাকে, ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।
আত্মার উচ্ছেদ ও বিনাশ হয়, মরণের পর উহার অস্তিত্ব থাকে না, ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা।”
আমি তাঁহাদের নিকট গমন করিয়া কহি, আপনারা কী বলেন “আত্মার উচ্ছেদ ও বিনাশ হয়, মরণের পর উহার অস্তিত্ব থাকে না?” যখন তাঁহারা বলেন “ইহাই সত্য, অন্যপ্রকার দৃষ্টি মিথ্যা,” তখন আমি উহা অনুমোদন করি না। কী হেতু? এই বিষয়ে ভিন্নমতাবলম্বী সত্ত্বগণও আছেন। এই প্রজ্ঞপ্তিতে আমি আমার সদৃশ কাহাকেও দেখি না, আমাপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর কোথা হইতে হইবে? প্রজ্ঞপ্তি বিষয়ে আমিই শ্রেষ্ঠতর। এই সকলই অপরান্ত সম্বন্ধীয় দৃষ্টি যাহা যেরূপে প্রকাশিত হওয়া উচিত সেইরূপেই আমি তোমাদের নিকট প্রকাশ করিয়াছি, ওই সকল যেরূপে প্রকাশিত হইবার যোগ্য নয়, আমি কি সেইরূপে তোমাদের নিকট প্রকাশ করিব?
১৯৬. চুন্দ, পূর্বান্ত ও অপরান্ত সম্বন্ধীয় এই সকল দৃষ্টির বর্জনের নিমিত্ত, উহাদের অতীত হইবার নিমিত্ত আমি চারি “স্মৃতি-প্রস্থান উপদেশ দিয়াছি। ওই সকল কী কী? চুন্দ, ভিক্ষু উৎসাহপূর্ণ, সম্প্রজ্ঞাত, স্মৃতিমান হইয়া, জগতে অভিধ্যা-দৌর্মনস্য দমন করিয়া, কায়ে কায়ানুদর্শী হইয়া বিহার করেন, বেদনায় বেদনানুদর্শী হইয়া বিহার করেন, চিত্তে চিত্তানুদর্শী হইয়া বিহার করেন, ধর্মে ধর্মানুদর্শী হইয়া বিহার করেন। চুন্দ, পূর্বান্ত ও অপরান্ত সম্বন্ধীয় এই সকল দৃষ্টির বর্জনের নিমিত্ত উহাদের অতীত হইবার নিমিত্ত আমি চারি স্মৃতি-প্রস্থান উপদেশ দিয়াছি।
১৯৭. ওই সময় আয়ুষ্মান উপবান ভগবানকে ব্যজননিরত হইয়া তাঁহার পশ্চাদ্দেশে দণ্ডায়মান ছিলেন। অনন্তর আয়ুষ্মান উপবান ভগবানকে বলিলেন, “ভন্তে, এই ধর্মণ্ডপর্যায় আশ্চর্য, অদ্ভূত, মনোহর, ভন্তে, এই ধর্মণ্ডপর্যায় অতি মনোহর। এই ধর্মণ্ডপর্যায়ের নাম কী?”
“তাহা হইলে, উপবান, এই ধর্মণ্ডপর্যায়কে “পাসাদিক” নামে গ্রহণ করিতে পার।”
ভগবান এইরূপ বলিলেন। আনন্দিত হইয়া আয়ুষ্মান উপবান ভগবদ্বাক্যের অভিনন্দন করিলেন।
পাসাদিক সূত্রান্ত সমাপ্ত।
ব্যাখ্যা [২]
English
Việt Ngữ