লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২২]

দসুত্তর সূত্রান্ত

৩৫০. আমি এইরূপ শ্রবণ করিয়াছি। এক সময় ভগবান চম্পায় গর্গরা পুষ্করিণীর তীরে পঞ্চশত ভিক্ষুসমন্বিত বৃহৎ ভিক্ষু সংঘের সহিত অবস্থান করিতেছিলেন। তথায় আয়ুষ্মান সারিপুত্র ভিক্ষুগণকে সম্বোধন করিলেন, “বন্ধু ভিক্ষুগণ,” প্রত্যুত্তরে ভিক্ষুগণ বলিলেন, “আয়ুষ্মান!” তখন সারিপুত্র বলিলেন :

“নির্বাণ প্রাপ্তির নিমিত্ত, দুঃখের অন্তকরণের

নিমিত্ত, সর্ব সংযোজন হইতে মুক্তির নিমিত্ত

আমি দশোত্তর ধর্ম বলিব।”

৩৫১. বন্ধুগণ, এক ধর্ম বহু উপকারী, এক ধর্ম ভাবিতব্য, এক ধর্ম জ্ঞাতব্য, এক ধর্ম পরিত্যাজ্য, এক ধর্ম হান-ভাগীয় এক ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়, এক ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য, এক ধর্ম উৎপাদনীয়, এক ধর্ম অভিজ্ঞেয়, এক ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়।

(১) কোন এক ধর্ম বহু উপকারী? কুশল ধর্মে অপ্রমাদ। ইহা এক ধর্ম যাহা বহু উপকারী।

(২) কোন এক ধর্ম ভাবিতব্য? কায়গতাস্মৃতি যাহা সুখ বেদনার অনুকূল। ইহা এক ধর্ম যাহা ভাবিতব্য।

(৩) কোন এক ধর্ম যাহা জ্ঞাতব্য? আসবযুক্ত উপাদানীয় স্পর্শ। ইহা এক ধর্ম যাহা জ্ঞাতব্য।

(৪) কোন এক ধর্ম যাহা পরিত্যাজ্য? অহংকার। ইহা এক ধর্ম যাহা পরিত্যাজ্য।

(৫) কোন এক ধর্ম যাহা হান-ভাগীয়? বিশৃঙ্খল চিন্তা। ইহা এক ধর্ম যাহা হান-ভাগীয়।

(৬) কোন এক ধর্ম যাহা বিশেষ-ভাগীয়? সুশৃঙ্খল চিন্তা। ইহা এক ধর্ম যাহা বিশেষ-ভাগীয়।

(৭) কোন এক ধর্ম যাহা দুষ্প্রতিবেধ্য? আনন্তরিক চিত্ত-সমাধি। ইহা এক ধর্ম যাহা দুষ্প্রতিবেধ্য।

(৮) কোন এক ধর্ম উৎপাদনীয়? অকোপ্য জ্ঞান। ইহা এক ধর্ম যাহা উৎপাদনীয়।

(৯) কোন এক ধর্ম অভিজ্ঞেয়? সর্বপ্রাণী আহারোপরি স্থিত। ইহা এক ধর্ম যাহা অভিজ্ঞেয়।

(১০) কোন এক ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়? অকোপ্য চিত্তবিমুক্তি। ইহা এক ধর্ম যাহা সাক্ষাৎ করণীয়।

তথাগত কর্তৃক অভিসম্বুদ্ধ এই দশ ধর্ম, যাহা ভূত, তথ্য, এইরূপ, অবিতথ, নিশ্চিত।

৩৫২. দুই ধর্ম বহু উপকারী, দুই ধর্ম ভাবিতব্য, দুই ধর্ম জ্ঞাতব্য, দুই ধর্ম পরিত্যাজ্য, দুই ধর্ম হান-ভাগীয়, দুই ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়, দুই ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য, দুই ধর্ম উৎপাদনীয়, দুই ধর্ম অভিজ্ঞেয়, দুই ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়।

(১) কোন দুই ধর্ম বহু উপকারী? স্মৃতি ও সম্প্রজ্ঞান। এই দুই ধর্ম বহু উপকারী।

(২) কোন দুই ধর্ম ভাবিতব্য? শমথ ও বিপশ্যনা। এই দুই ধর্ম ভাবিতব্য।

(৩) কোন দুই ধর্ম জ্ঞাতব্য? নাম ও রূপ। এই দুই ধর্ম জ্ঞাতব্য।

(৪) কোন দুই ধর্ম পরিত্যাজ্য? অবিদ্যা ও ভব-তৃষ্ণা। এই দুই ধর্ম পরিত্যাজ্য।

(৫) কোন দুই ধর্ম হান-ভাগীয়? অবাধ্যতা এবং পাপ-মিত্রতা। এই দুই ধর্ম হীন-ভাগীয়।

(৬) কোন দুই ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়? কোমলতা ও কল্যাণ-মিত্রতা। এই দুই ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়।

(৭) কোন দুই ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য? যাহা সত্ত্বগণের সংক্লেশের হেতু ও প্রত্যয় এবং যাহা সত্ত্বগণের বিশুদ্ধির হেতু ও প্রত্যয়। এই দুই ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য।

(৮) কোন দুই ধর্ম উৎপাদনীয়? ক্ষয়ে জ্ঞান ও অনুৎপাদে জ্ঞান। এই দুই ধর্ম উৎপাদনীয়।

(৯) কোন দুই ধর্ম অভিজ্ঞেয়? দুই ধাতু : সংস্কৃত এবং অসংস্কৃত। এই দুই ধর্ম অভিজ্ঞেয়।

(১০) কোন দুই ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়? বিদ্যা ও বিমুক্তি। এই দুই ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়।

তথাগত কর্তৃক অভিসম্বুদ্ধ এই বিংশ ধর্ম যাহা ভূত, তথ্য, এইরূপ, অবিতথ, নিশ্চিত।

৩৫৩. তিন ধর্ম বহু উপকারী, তিন ধর্ম ভাবিতব্য, তিন ধর্ম জ্ঞাতব্য, তিন ধর্ম পরিত্যাজ্য, তিন ধর্ম হান-ভাগীয়, তিন ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়, তিন ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য, তিন ধর্ম উৎপাদনীয়, তিন ধর্ম অভিজ্ঞেয়, তিন ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়।

(১) কোন তিন ধর্ম বহু উপকারী? সৎপুরুষের সাহচর্য, সদ্ধর্ম শ্রবণ, ধর্মানুযায়ী আচরণ। এই তিন ধর্ম বহু উপকারী।

(২) কোন তিন ধর্ম ভাবিতব্য? সবিতর্ক সবিচার সমাধি, অবিতর্ক বিচার মাত্র সমাধি, অবিতর্ক অবিচার সমাধি। এই তিন ধর্ম ভাবিতব্য।

(৩) কোন তিন ধর্ম পরিজ্ঞেয়? তিন বেদনা : সুখবেদনা, দুঃখবেদনা, অদুঃখ-অসুখবেদনা। এই তিন ধর্ম পরিজ্ঞেয়।

(৪) কোন তিন ধর্ম পরিত্যাজ্য? ত্রিবিধ তৃষ্ণা : কাম-তৃষ্ণা, ভব-তৃষ্ণা, বিভব-তৃষ্ণা। এই তিন ধর্ম পরিত্যাজ্য।

(৫) কোন তিন ধর্ম হান-ভাগীয়? তিন অকুশল মূল : লোভ, দ্বেষ ও মোহ। এই তিন ধর্ম হান-ভাগীয়।

(৬) কোন তিন ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়? তিন কুশল মূল : লোভহীনতা, দ্বেষহীনতা ও মোহহীনতা। এই তিন ধর্ম বিশেষ ভাগীয়।

(৭) কোন তিন ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য? তিন নিঃসরণীয়ধাতু : নৈষ্কাম্য অর্থাৎ কামভোগ হইতে মুক্তি; আরূপ্য অর্থাৎ রূপ হইতে নিষ্কৃতি; যাহা কিছু ভূত, সংস্কৃত, প্রতীত্যসমুৎপাদ তাহার নিরোধজনিত মুক্তি। এই তিন ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য।

(৮) কোন তিন ধর্ম উৎপাদনীয়? অতীত, ভবিষ্যৎ এবং প্রত্যুৎপন্নের জ্ঞান। এই তিন ধর্ম উৎপাদনীয়।

(৯) কোন তিন ধর্ম অভিজ্ঞেয়? তিন ধাতু : কাম-ধাতু, রূপ-ধাতু, অরূপ-ধাতু। এই তিন ধর্ম অভিজ্ঞেয়।

(১০) কোন তিন ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়? ত্রিবিধ বিদ্যা : পূর্বনিবাস অনুস্মৃতি, সত্ত্বগণের চ্যুতি ও উৎপত্তি আসবসমূহের ক্ষয়। এই তিন ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়।

তথাগত কর্তৃক অভিসম্বুদ্ধ এই ত্রিংশ ধর্ম, যাহা ভূত, তথ্য, এইরূপ, অবিতথ, নিশ্চিত।

৩৫৪. চারি ধর্ম বহু উপকারী, চারি ধর্ম ভাবিতব্য, চারি ধর্ম জ্ঞাতব্য, চারি ধর্ম পরিত্যাজ্য, চারি ধর্ম হান-ভাগীয়, চারি ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়, চারি ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য, চারি ধর্ম উৎপাদনীয়, চারি ধর্ম অভিজ্ঞেয়, চারি ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়।

(১) কোন চারি ধর্ম বহু উপকারী? চারি চক্র : প্রতিরূপ দেশে বাস, সৎপুরুষের সংসর্গ, সম্যক আত্ম-প্রণিধান, অতীতের সুকৃতি।

(২) কোন চারি ধর্ম ভাবিতব্য? চারি স্মৃতি-প্রস্থান : ভিক্ষু এই শাসনে কায়ে কায়ানুদর্শী হইয়া উদ্দীপনা সম্প্রজ্ঞান ও স্মৃতিসম্পন্ন হইয়া লোকসুলভ অভিধ্যা দৌর্র্মনস্য বিদূরিত করিয়া বিহার করেন। বেদনায় বেদনানুদর্শী হইয়া উদ্দীপনা সম্প্রজ্ঞান ও স্মৃতিসম্পন্ন হইয়া লোকসুলভ অভিধ্যা দৌর্র্মনস্য বিদূরিত করিয়া বিহার করেন। চিত্তে চিত্তানুদর্শী হইয়া উদ্দীপনা, সম্প্রজ্ঞান ও স্মৃতিসম্পন্ন হইয়া লোকসুলভ অভিধ্যা দৌর্র্মনস্য বিদূরিত করিয়া বিহার করেন। ধর্মে ধর্মানুদর্শী হইয়া উদ্দীপনা সম্প্রজ্ঞান ও স্মৃতিসম্পন্ন হইয়া লোকসুলভ অভিধ্যা দৌর্র্মনস্য বিদূরিত করিয়া বিহার করেন। এই চারি ধর্ম ভাবিতব্য।

(৩) কোন চারি ধর্ম জ্ঞাতব্য? চারি আহার : কবলিঙ্কার আহার, স্থূল অথবা সূক্ষ্ম; প্রথম, স্পর্শ আহার যাহা দ্বিতীয়, মনোসঞ্চেতনা যাহা তৃতীয়, বিজ্ঞান যাহা চতুর্থ। এই চারি ধর্ম জ্ঞাতব্য।

(৪) কোন চারি ধর্ম পরিত্যাজ্য? চারি প্লাবন : কাম, ভব, দৃষ্টি ও অবিদ্যা। এই চারি ধর্ম পরিত্যাজ্য।

(৫) কোন চারি ধর্ম হান-ভাগীয়? চারি যোগ : কাম, ভব, দৃষ্টি ও অবিদ্যা। এই চারি ধর্ম হান-ভাগীয়।

(৬) কোন চারি ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়? চারি বিসংযোগ। কাম বিসংযোগ, ভব-বিসংযোগ, দৃষ্টি-বিসংযোগ, অবিদ্যা-বিসংযোগ, এই চারি ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়।

(৭) কোন চারি ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য? চারি সমাধি : হান-ভাগীয়-সমাধি, স্থিতি-ভাগীয় সমাধি, বিশেষ-ভাগীয় সমাধি, নির্বেধ-ভাগীয় সমাধি। এই চারি ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য।

(৮) কোন চারি ধর্ম উৎপাদনীয়? চারি জ্ঞান : ধর্মে জ্ঞান অন্বয়ে জ্ঞান, পরিচ্ছেদে জ্ঞান, সম্মতি জ্ঞান,। এই চারি ধর্ম উৎপাদনীয়।

(৯) কোন চারি ধর্ম অভিজ্ঞেয়? চারি আর্যসত্য : দুঃখ, দুঃখ-সমুদয়, দুঃখ-নিরোধ এবং দুঃখ নিরোধগামী মার্গ। এই চারি ধর্ম অভিজ্ঞেয়।

(১০) কোন চারি ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়? চারি শ্রামণ্য ফল : স্রোতাপত্তি-ফল, সকৃদাগামী-ফল, অনাগামী-ফল, অর্হত্ত্বফল। এই চারি ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়।

তথাগত কর্তৃক অভিসম্বুদ্ধ এই চত্বারিংশ ধর্ম ভূত, তথ্য, এইরূপ অবিতথ, নিশ্চিত।

৩৫৫. পঞ্চ ধর্ম বহু উপকারী, পঞ্চ ধর্ম ভাবিতব্য, পঞ্চ ধর্ম জ্ঞাতব্য, পঞ্চ ধর্ম পরিত্যাজ্য, পঞ্চ ধর্ম হান-ভাগীয়, পঞ্চ ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়, পঞ্চ ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য, পঞ্চ ধর্ম উৎপাদনীয়, পঞ্চ ধর্ম অভিজ্ঞেয়, পঞ্চ ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়।

(১) কোনো কোনো পঞ্চ ধর্ম বহু উপকারী? পঞ্চ প্রধানীয় অঙ্গ : ভিক্ষু শ্রদ্ধাবান হন তথাগতের বুদ্ধত্বে শ্রদ্ধা রক্ষা করেন, “ইনিই সেই ভগবান অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ, বিদ্যাচরণসম্পন্ন, সুগত, লোকজ্ঞ, অতুলনীয় দম্য-পুরুষ-সারথি দেব ও মনুষ্যের শাস্তা, বুদ্ধ, ভগবান।” তিনি স্বাস্থ্যসম্পন্ন, ব্যাধিমুক্ত, নাতিশীতোষ্ণ মধ্যবর্তী পরিপাকশক্তিসম্পন্ন যাহা প্রধানের উপযোগী। তিনি অশঠ অমায়াবী তিনি শাস্তার নিকট, অথবা পণ্ডিতগণের নিকট অথবা স-ব্রহ্মচারীগণের নিকট আপনাকে যথারূপে প্রকাশ করেন। তিনি অকুশলধর্মসমূহের দূরীকরণের জন্য, কুশলধর্মসমূহের উদ্বোধনের জন্য আরব্ধ-বীর্য হইয়া বিহার করেন, তিনি উদ্যমসম্পন্ন, দৃঢ়-পরাক্রম এবং কুশলধর্মসমূহে স্বীয় কর্তব্যে ঔদাসীন্যহীন। তিনি বস্তুসমূহের উৎপত্তি ও ক্ষয়ের জ্ঞান এবং সর্বদুঃখনাশী আর্য তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টিজনক প্রজ্ঞাসমন্বিত হন। এই পঞ্চ ধর্ম বহু উপকারী।

(২) কোন কোন পঞ্চ ধর্ম ভাবিতব্য? পঞ্চাঙ্গিক সম্যক সমাধি : প্রীতির স্ফুরণ, সুখ-স্ফুরণ, চিত্ত-স্ফুরণ, আলোক-স্ফুরণ, প্রত্যবেক্ষণ নিমিত্ত। এই পঞ্চ ধর্ম ভাবিতব্য।

(৩) কোন পঞ্চ ধর্ম জ্ঞাতব্য? পঞ্চ উপাদান স্কন্ধ; যথা : রূপ উপাদান স্কন্ধ, বেদনা উপাদান স্কন্ধ, সংজ্ঞা উপাদান স্কন্ধ, সংস্কার উপাদান স্কন্ধ, বিজ্ঞান উপাদান স্কন্ধ। এই পঞ্চ ধর্ম জ্ঞাতব্য।

(৪) কোন পঞ্চ ধর্ম পরিত্যাজ্য? পঞ্চ নীবরণ : কামচ্ছন্দ, ব্যাপাদ, স্ত্যান-মিদ্ধ, ঔদ্ধত্য-কৌকৃত্য, বিচিকিৎসা এই পঞ্চ ধর্ম পরিত্যাজ্য।

(৫) কোন পঞ্চ ধর্ম হান-ভাগীয়? চিত্তের পঞ্চ অন্তরায় : ভিক্ষু শাস্তার প্রতি সংশয় ও দ্বিধাসম্পন্ন হন, শাস্তার প্রতি অনুরাগ ও শ্রদ্ধাহীন হন। যে ভিক্ষু শাস্তার প্রতি ওইরূপ ভাব পোষণ করেন তাঁহার চিত্ত আতপ্য, অনুযোগ, সাতত্য এবং প্রধানের দিকে নমিত হয় না। ইহাই চিত্তের প্রথম অন্তরায়। পুনশ্চ, ভিক্ষু ধর্মে সংশয় ও দ্বিধাযুক্ত হন ধর্মের প্রতি অনুরাগ ও শ্রদ্ধাহীন হন। যে ভিক্ষু ধর্মের প্রতি ওইরূপ ভাব পোষণ করেন তাঁহার চিত্ত আতপ্য, অনুযোগ, সাতত্য এবং প্রধানের দিকে নমিত হয় না। ইহাই চিত্তের দ্বিতীয় অন্তরায়। যে ভিক্ষু সংঘের প্রতি সংশয় ও দ্বিধাযুক্ত হন সংঘের প্রতি অনুরাগ ও শ্রদ্ধাহীন হন। যে ভিক্ষু সংঘের প্রতি ওইরূপ ভাব পোষণ করেন তাঁহার চিত্ত আতপ্য, অনুযোগ, সাতত্য এবং প্রধানের দিকে নমিত হয় না। ইহাই চিত্তের তৃতীয় অন্তরায়। যে ভিক্ষু শিক্ষায় সংশয় ও দ্বিধাযুক্ত হন, শিক্ষার প্রতি অনুরাগ ও শ্রদ্ধাহীন হন। যে ভিক্ষু শিক্ষার প্রতি ওইরূপ ভাব পোষণ করেন তাঁহার চিত্ত আতপ্য, অনুযোগ, সাতত্য এবং প্রধানের দিকে নমিত হয় না। ইহাই চিত্তের চতুর্থ অন্তরায়। যে ভিক্ষু সব্রহ্মচারীগণের প্রতি কুপিত হন, বিরক্ত হন, ক্ষুব্ধ হন, নির্মম হন। যে ভিক্ষু এইরূপ ভাবাপন্ন তাঁহার চিত্ত আতপ্য, অনুযোগ, সাতত্য এবং প্রধানের দিকে নমিত হয় না। ইহাই চিত্তের পঞ্চম অন্তরায়। এই পঞ্চ ধর্ম হান-ভাগীয়।

(৬) কোন পঞ্চ ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়? পঞ্চ ইন্দ্রিয় : শ্রদ্ধা-ইন্দ্রিয়, বীর্যইন্দ্রিয়, স্মৃতি-ইন্দ্রিয়, সমাধি-ইন্দ্রিয়, প্রজ্ঞা-ইন্দ্রিয়। এই পঞ্চ ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়।

(৭) কোন পঞ্চ ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য? পঞ্চ নিঃসরণীয়ধাতু : ভিক্ষু যখন অভিনিবেশ সহকারে পার্থিব ভোগসমূহকে নিরীক্ষণ করেন, তখন তাঁহার চিত্ত ওই সকলের দিকে ধাবিত হয় না, উহাতে প্রসন্নতা লাভ করে না, উহাতে স্থিত হয় না, উহাতে লগ্ন হয় না; কিন্তু যখন তিনি নৈষ্কাম্যে অভিনিবিষ্ট হন তখন তাঁহার চিত্ত নৈষ্কাম্যের দিকে ধাবিত হয়, উহাতে প্রসন্নতা লাভ করে, উহাতে স্থিত হয়, উহাতে লগ্ন হয়; তাঁহার অনলীন, সুভাবিত, উদ্দীপিত, কাম হইতে বিসংযুক্ত চিত্ত কামহেতু উৎপন্ন আসব, বিঘাত, প্রদাহ হইতে মুক্ত হয়, তিনি ওইরূপ বেদনা অনুভব করেন না। ইহাই কাম হইতে নিঃসরণ কথিত হয়। পুনশ্চ, ভিক্ষু যখন অভিনিবেশ সহকারে ব্যাপাদকে নিরীক্ষণ করেন, তখন তাঁহার চিত্ত উহার দিকে ধাবিত হয় না, উহাতে প্রসন্নতা লাভ করে না, উহাতে স্থিত হয় না, উহাতে লগ্ন হয় না; কিন্তু যখন তিনি অব্যাপাদে অভিনিবিষ্ট হন তখন তাঁহার চিত্ত অব্যাপাদের দিকে ধাবিত হয়, উহাতে প্রসন্নতা লাভ করে, উহাতে স্থিত হয়, উহাতে লগ্ন হয়; তাঁহার অনলীন, সুভাবিত, উদ্দীপিত, ব্যাপাদ হইতে বিসংযুক্ত চিত্ত ব্যাপাদ হেতু উৎপন্ন আসব, বিঘাত, প্রদাহ হইতে মুক্ত হয়, তিনি ওইরূপ বেদনা অনুভব করেন না। ইহা ব্যাপাদ হইতে নিঃসরণ কথিত হয়। পুনশ্চ, ভিক্ষু যখন অভিনিবেশ সহকারে বিহিংসাকে নিরীক্ষণ করেন, তখন তাঁহার চিত্ত উহার দিকে ধাবিত হয় না, উহাতে প্রসন্নতা লাভ করে না, উহাতে স্থিত হয় না, উহাতে লগ্ন হয় না; কিন্তু যখন তিনি অবিহিংসাতে অভিনিবিষ্ট হন, তখন তাঁহার চিত্ত অবিহিংসার দিকে ধাবিত হয়, উহাতে প্রসন্নতা লাভ করে, উহাতে স্থিত হয়, উহাতে লগ্ন হয়; তাঁহার অনলীন, সুভাবিত, উদ্দীপিত, বিহিংসা হইতে বিসংযুক্ত চিত্ত বিহিংসা হেতু উৎপন্ন আসব, বিঘাত, প্রদাহ হইতে মুক্ত হয়, তিনি ওইরূপ বেদনা অনুভব করেন না। ইহা বিহিংসা হইতে নিঃসরণ কথিত হয়। পুনশ্চ, ভিক্ষু যখন অভিনিবেশ সহকারে রূপকে নিরীক্ষণ করেন, তখন তাঁহার চিত্ত উহার দিকে ধাবিত হয় না, উহাতে প্রসন্নতা লাভ করে না, উহাতে স্থিত হয় না, উহাতে লগ্ন হয় না; কিন্তু যখন তিনি অরূপে অভিনিবিষ্ট হন, তখন তাঁহার চিত্ত অরূপের দিকে ধাবিত হয়, উহাতে প্রসন্নতা লাভ করে, উহাতে স্থিত হয়, উহাতে লগ্ন হয়; তাঁহার অনলীন, সুভাবিত, উদ্দীপিত, রূপ হইতে বিসংযুক্ত চিত্ত রূপ হেতু উৎপন্ন আসব, বিঘাত, প্রদাহ হইতে মুক্ত হয়, তিনি ওইরূপ বেদনা অনুভব করেন না। ইহা রূপ হইতে নিঃসরণ কথিত হয়। পুনশ্চ, ভিক্ষু যখন অভিনিবেশ সহকারে আত্ম-বাদকে (সৎকায়) নিরীক্ষণ করেন, তখন তাঁহার চিত্ত উহার দিকে ধাবিত হয় না, উহাতে প্রসন্নতা লাভ করে না, উহাতে স্থিত হয় না, উহাতে লগ্ন হয় না; কিন্তু যখন তিনি আত্ম-বাদের নিরোধে অভিনিবিষ্ট হন, তখন তাঁহার চিত্ত আত্মবাদ-নিরোধের দিকে ধাবিত হয়, উহাতে প্রসন্নতা লাভ করে, উহাতে স্থিত হয়, উহাতে লগ্ন হয়; তাঁহার অনলীন, সুভাবিত, উদ্দীপিত, আত্মবাদ হইতে বিসংযুক্ত চিত্ত আত্মবাদ হইতে উৎপন্ন আসব, বিঘাত, প্রদাহ হইতে মুক্ত হয়, তিনি ওইরূপ বেদনা অনুভব করেন না। উহা আত্মবাদ হইতে নিঃসরণ কথিত হয়।

(৮) কোন পঞ্চ ধর্ম উৎপাদনীয়? পঞ্চাঙ্গিক সম্যক সমাধি। প্রীতির স্ফুরণ, সুখ-স্ফুরণ, চিত্ত-স্ফুরণ, আলোক-স্ফুরণ, প্রত্যবেক্ষণ নিমিত্ত। “এই সমাধি বর্তমানে সুখময় এবং ভবিষ্যতে সুখ-বিপাকসম্পন্ন” এইরূপ সহজাত জ্ঞানের উৎপত্তি হয়। “এই সমাধি আর্য ও নিরামিষ” (নিষ্কাম) এইরূপ সহজাত জ্ঞানের উৎপত্তি হয়। “এই সমাধি অকাপুরুষ-সেবিত, এই সহজাত জ্ঞানের উৎপত্তি হয়। “এই সমাধি স্থির, প্রণীত, শান্তিলব্ধ, একাগ্রতা-প্রাপ্ত, সংস্কার দ্বারা অপ্রতিরুদ্ধ” এইরূপ সহজাত জ্ঞানের উৎপত্তি হয়। “আমি স্মৃতি-সমন্বিত হইয়া এই সমাধিতে উপনীত হইব, উহা হইতে উত্থান করিব” এইরূপ সহজাত জ্ঞানের উৎপত্তি হয়। এই পঞ্চ ধর্ম উৎপাদনীয়।

(৯) কোন পঞ্চ ধর্ম অভিজ্ঞেয়? পঞ্চ বিমুক্তি-আয়তন। ভিক্ষুকে শাস্তা অথবা কোনো গুরুস্থানীয় সব্রহ্মচারী ধর্মোপদেশ দান করেন। শাস্তা অথবা উক্তরূপ সব্রহ্মচারী যেইরূপভাবে ভিক্ষুকে উপদেশ দেন, ভিক্ষু সেইরূপভাবেই উহা হইতে অর্থ ও ধর্ম সংগ্রহ করেন। এইরূপে অর্থ ও ধর্ম সংগ্রহের ফলে তাঁহার প্রামোদ্যের উৎপত্তি হয়, প্রমুদিতের প্রীতি উৎপত্তি হয়, প্রীতিসংযুক্তের চিত্ত শান্ত হয়, শান্তচিত্ত সুখ-বেদনা অনুভব করে, সুখীর চিত্ত সমাধি লাভ করে। ইহাই প্রথম বিমুক্তি-আয়তন। পুনশ্চ, শাস্তা অথবা উক্তরূপ কোনো সব্রহ্মচারী ভিক্ষুকে ধর্মদেশনা না করিলেও ভিক্ষু ধর্ম যেইরূপ শ্রবণ করিয়াছেন এবং উহা হৃদয়ে ধারণ করিয়াছেন সেইরূপই বিস্তৃতভাবে অপরকে উপদেশ দেন। উহা হইতে পূর্বোক্তরূপে তিনি অর্থ ও ধর্ম সংগ্রহ করেন। ফলে তাঁহার প্রামোদ্যের উৎপত্তি হয়, প্রমুদিতের প্রীতি উৎপন্ন হয়, প্রীতি-সংযুক্তের চিত্ত শান্ত হয়, শান্তচিত্ত সুখানুভব করে, সুখীর চিত্ত সমাধিস্থ হয়। ইহা দ্বিতীয় বিমুক্তি-আয়তন। পুনশ্চ, শাস্তা অথবা উক্তরূপ কোনো সব্রহ্মচারী ভিক্ষুকে ধর্মদেশনা না করিলেও, এবং ভিক্ষু স্বয়ং পূর্বোক্তরূপে অপরকে ধর্ম দেশনা না করিলেও তৎকর্তৃক যথাশ্রুত এবং যথাধৃত ধর্ম তিনি আবৃত্তি করেন, উহা হইতে পূর্বোক্তরূপে তিনি অর্থ ও ধর্ম সংগ্রহ করেন। ফলে তাঁহার প্রামোদ্যের উৎপত্তি হয়, প্রমুদিতের প্রীতি উৎপন্ন হয়, প্রীতিসংযুক্তের চিত্ত শান্ত হয়, শান্তচিত্ত সুখানুভব করে, সুখীর চিত্ত সমাধিস্থ হয়। ইহা তৃতীয় বিমুক্তি-আয়তন। পুনশ্চ, ভিক্ষুকে শাস্তা অথবা কোনো সব্রহ্মচারী ধর্মদেশনা না করিলেও এবং ভিক্ষু পূর্বোক্তরূপে অপরকে ধর্মদেশনা না করিলেও, এবং তৎকর্তৃক যথাশ্রুত এবং যথাধৃত ধর্ম তিনি আবৃত্তি না করিলেও, তিনি উহাকে চিন্তার বিষয়ীভূত করেন, ধ্যানের বিষয়ীভূত করেন, উহাতে একাগ্রচিত্ত হন। এইরূপ করিয়া উহা হইতে অর্থ ও ধর্ম সংগ্রহ করেন। ফলে তাঁহার প্রামোদ্যের উৎপত্তি হয়, প্রমুদিতের প্রীতি উৎপন্ন হয়, প্রীতি-সংযুক্তের চিত্ত শান্ত হয়, শান্তচিত্ত সুখানুভব করে, সুখীর চিত্ত সমাধিস্থ হয়। ইহা চতুর্থ বিমুক্তি-আয়তন। পুনশ্চ, ভিক্ষুকে শাস্তা অথবা কোনো সব্রহ্মচারী ধর্মদেশনা না করিলেও, এবং ভিক্ষু পূর্বোক্তরূপে অপরকে ধর্মদেশনা না করিলেও, এবং তৎকর্তৃক যথাশ্রুত এবং যথাধৃত ধর্ম তিনি আবৃত্তি না করিলেও, তিনি উহাকে চিন্তা ও ধ্যানের বিষয়ীভূত না করিলেও এবং উহাতে একাগ্রচিত্ত না হইলেও, কোনো এক সমাধি নিমিত্ত তৎকর্তৃক সুগৃহীত, সুমনসীকৃত, সুপ্রচারিত হয় এবং প্রজ্ঞা দ্বারা সুপ্রতিবিদ্ধ হয়। এইরূপে তিনি উহা হইতে অর্থ ও ধর্ম সংগ্রহ করেন। ফলে তাঁহার প্রামোদ্যের উৎপত্তি হয়, প্রমুদিতের প্রীতি উৎপন্ন হয়, প্রীতি-সংযুক্তের চিত্ত শান্ত হয়, শান্তচিত্ত সুখানুভব করে, সুখীর চিত্ত সমাধিস্থ হয়। ইহা পঞ্চম বিমুক্তি আয়তন।

(১০) কোন পঞ্চ ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়? পঞ্চ ধর্ম-স্কন্ধ : শীল, সমাধি, প্রজ্ঞা, বিমুক্তি, বিমুক্তি-জ্ঞান-দর্শন। এই পঞ্চ ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়।

তথাগত কর্তৃক সম্যকরূপে অভিসম্বুদ্ধ এই পঞ্চাশৎ ধর্ম ভূত, তথ্য, এইরূপ, অবিতথ, নিশ্চিত।

৩৫৬. ছয় ধর্ম বহু উপকারী; ছয় ধর্ম ভাবিতব্য, ছয় ধর্ম জ্ঞাতব্য, ছয় ধর্ম পরিত্যাজ্য, ছয় ধর্ম হান-ভাগীয়, ছয় ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়, ছয় ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য, ছয় ধর্ম উৎপাদনীয়, ছয় ধর্ম অভিজ্ঞেয়, ছয় ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়।

(১) কোন ছয় ধর্ম বহু উপকারী? ছয় ভ্রাত্রীয় জীবন যাপন : সব্রহ্মচারীগণের প্রতি ভিক্ষুর প্রকাশ্যে অথবা গোপনে কৃত মৈত্রী-সহগত কায়িক কর্ম নিঃসংশয়িতরূপে প্রতিপন্ন হয়। ইহা ভ্রাত্রীয় জীবন যাপন যাহা প্রীতি, শ্রদ্ধা, মিলন, শান্তি, সমন্বয় ও ঐক্যের প্রবর্তক। পুনশ্চ, ভিক্ষুর উক্তপ্রকার মৈত্রী-সহগত বাচিক কর্ম নিঃসংশয়িতরূপে প্রতিপন্ন হয়। ইহা ভ্রাত্রীয় জীবন যাপন যাহা প্রীতি, শ্রদ্ধা, মিলন, শান্তি, সমন্বয় ও ঐক্যের প্রবর্তক। পুনশ্চ, ভিক্ষুর মৈত্রী-সহগত মানসিক কর্ম নিঃসংশয়িতরূপে প্রতিপন্ন হয়। ইহাও ভ্রাত্রীয় জীবন যাপন যাহা প্রীতি, শ্রদ্ধা, মিলন, শান্তি, সমন্বয় ও ঐক্যের প্রবর্তক। পুনশ্চ, ভিক্ষু ধর্মানুসারে ধর্মলব্ধ সর্ব প্রকারে লাভ, এমনকি ভিক্ষাপাত্রে পতিত অন্ন পর্যন্ত নিরপেক্ষভাবে শীলবান, সব্রহ্মচারীগণের সহিত সমভাবে ভোগ করেন। ইহাও ভ্রাত্রীয় জীবন যাপন যাহা প্রীতি, শ্রদ্ধা, মিলন, শান্তি, সমন্বয় ও ঐক্যের প্রবর্তক। পুনশ্চ, ভিক্ষু সব্রহ্মচারীগণের প্রতি প্রকাশ্যে অথবা গোপনে আর্য, কান্ত, অখণ্ড, অচ্ছিদ্র, অশবল, অকল্মাষ, মুক্তিদায়ী, বিজ্ঞ-প্রশংসিত, নিষ্কলঙ্ক, সমাধি-সংবর্তনিক শীলসমন্বিত হন। ইহাও ভ্রাত্রীয় জীবনযাপন যাহা প্রীতি, শ্রদ্ধা, মিলন, শান্তি, সমন্বয় ও ঐক্যের প্রবর্তক। পুনশ্চ, ভিক্ষু যে আর্যদৃষ্টি উহার অনুগামীকে সম্যক দুঃখ-ক্ষয়ের দিকে চালিত করে, সব্রহ্মচারীগণের প্রতি প্রকাশ্যে অথবা গোপনে সেইরূপ দৃষ্টি-সমন্বিত হইয়া বিহার করেন। ইহাও ভ্রাত্রীয় জীবন যাপন যাহা প্রীতি, শ্রদ্ধা, মিলন, শান্তি, সমন্বয় ও ঐক্যের প্রবর্তক। এই ছয় ধর্ম বহু উপকারী।

(২) কোন ছয় ধর্ম ভাবিতব্য? ছয় অনুস্মৃতি-স্থান : বুদ্ধানুস্মৃতি, ধর্মানুস্মৃতি, সংঘানুস্মৃতি, শীলানুস্মৃতি, ত্যাগানুস্মৃতি, দেবতানুস্মৃতি।

এই ছয় ধর্ম ভাবিতব্য।

(৩) কোন ছয় ধর্ম জ্ঞাতব্য? ছয় আধ্যাত্মিক আয়তন : চক্ষু-আয়তন, শ্রোত্র-আয়তন, ঘ্রাণ-আয়তন, জিহ্বা-আয়তন, কায়-আয়তন, মন-আয়তন। এই ছয় ধর্ম জ্ঞাতব্য।

(৪) কোন ছয় ধর্ম পরিত্যাজ্য? ছয় তৃষ্ণা-কায় : রূপ-তৃষ্ণা, শব্দ-তৃষ্ণা, গন্ধ-তৃষ্ণা, রস-তৃষ্ণা, স্প্রষ্টব্য-তৃষ্ণা, ধর্ম-তৃষ্ণা। এই ছয় ধর্ম পরিত্যাজ্য।

(৫) কোন ছয় ধর্ম হান-ভাগীয়? ছয় অগৌরব : ভিক্ষু শাস্তার প্রতি ভক্তিহীন হইয়া ঔদ্ধত্যসহকারে বিহার করেন। ধর্মের প্রতি ভক্তিহীন হইয়া ঔদ্ধত্যসহকারে বিহার করেন। সংঘের প্রতি ভক্তিহীন হইয়া ঔদ্ধত্যসহকারে বিহার করেন। শিক্ষার প্রতি ভক্তিহীন হইয়া ঔদ্ধত্যসহকারে বিহার করেন। অপ্রমাদ ও স্বাগত সম্ভাষণে ওইরূপ ভাবাপন্ন হইয়া বিহার করেন। এই ছয় ধর্ম হান-ভাগীয়।

(৬) কোন ছয় ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়? ছয় গৌরব : ভিক্ষু শাস্তার প্রতি ভক্তিপূর্ণ হইয়া ঔদ্ধত্যহীন হইয়া বিহার করেন। ভিক্ষু ধর্মের প্রতি ভক্তিপূর্ণ হইয়া ঔদ্ধত্যহীন হইয়া বিহার করেন। সংঘের প্রতি ভক্তিপূর্ণ হইয়া ঔদ্ধত্যহীন হইয়া বিহার করেন। শিক্ষার প্রতি ভক্তিপূর্ণ হইয়া ঔদ্ধত্যহীন হইয়া বিহার করেন। অপ্রমাদে স্বাগত সম্ভাষণে ওইরূপ ভাবাপন্ন হইয়া বিহার করেন। এই ছয় ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়।

(৭) কোন ছয় ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য? ছয় নিঃসরণীয় ধাতু। ভিক্ষু এইরূপ বলিতে পারেন, “মৈত্রী হইতে উৎপন্ন আমার চিত্তবিমুক্তি বিকশিত, অনুশীলিত, আয়ত্তীকৃত, প্রতিষ্ঠিত, অনুষ্ঠিত, বর্ধিত, সুপরিচালিত। অথচ ব্যাপাদ আমার চিত্তকে অভিভূত করিয়া রহিয়াছে।” তাঁহাকে বলিতে হইবে, “এইরূপ নহে, আয়ুষ্মান এইরূপ বলিবেন না, ভগবানের অপবাদ করিবেন না, ভগবানের অপবাদ করা উচিত নয়, ভগবান কখনোই এইরূপ বাক্যের সমর্থন করিবেন না, ইহা ভিত্তিহীন এবং অনর্থিত।” মৈত্রী-উদ্ভূত চিত্তবিমুক্তি, বিকশিত, অনুশীলিত, আয়ত্তীকৃত, প্রতিষ্ঠিত, অনুষ্ঠিত, বর্ধিত, সুপরিচালিত; অথচ ব্যাপাদ চিত্তকে অভিভূত করিয়া অবস্থান করিবে, ইহা অসম্ভব। মৈত্রী হইতে উদ্ভূত চিত্তবিমুক্তি-ইহাই ব্যাপাদের নির্গমন। ভিক্ষু এইরূপ বলিতে পারেন, “করুণা হইতে উৎপন্ন আমার চিত্তবিমুক্তি বিকশিত, অনুশীলিত, আয়ত্তীকৃত, প্রতিষ্ঠিত, অনুষ্ঠিত, বর্ধিত, সুপরিচালিত। অথচ বিহিংসা আমার চিত্তকে অভিভূত করিয়া রহিয়াছে।” তাঁহাকে বলিতে হইবে, “এইরূপ নহে, আয়ুষ্মান এইরূপ বলিবেন না, ভগবানের অপবাদ করিবেন না, ভগবানের অপবাদ করা উচিত নয়, ভগবান কখনোই এইরূপ বাক্যের সমর্থন করিবেন না, ইহা ভিত্তিহীন এবং অনর্থিত।” করুণা হইতে উদ্ভূত চিত্তবিমুক্তি বিকশিত, অনুশীলিত, আয়ত্তীকৃত, প্রতিষ্ঠিত, অনুষ্ঠিত, বর্ধিত, সুপরিচালিত; অথচ বিহিংসা চিত্তকে অভিভূত করিয়া অবস্থান করিবে, ইহা অসম্ভব। করুণা হইতে উদ্ভূত চিত্তবিমুক্তি, ইহাই বিহিংসার নির্গমন। ভিক্ষু এইরূপ বলিতে পারেন, “মুদিতা হইতে উৎপন্ন আমার চিত্তবিমুক্তি বিকশিত, অনুশীলিত, আয়ত্তীকৃত, প্রতিষ্ঠিত, অনুষ্ঠিত, বর্ধিত, সুপরিচালিত। অথচ অরতি আমার চিত্তকে অভিভূত করিয়া রহিয়াছে।” তাঁহাকে বলিতে হইবে, “এইরূপ নহে, আয়ুষ্মান এইরূপ বলিবেন না, ভগবানের অপবাদ করিবেন না, ভগবানের অপবাদ করা উচিত নয়, ভগবান কখনোই এইরূপ বাক্যের সমর্থন করিবেন না, ইহা ভিত্তিহীন এবং অনর্থিত।” মুদিতা হইতে উদ্ভূত চিত্তবিমুক্তি বিকশিত, অনুশীলিত, আয়ত্তীকৃত, প্রতিষ্ঠিত, অনুষ্ঠিত, বর্ধিত, সুপরিচালিত; অথচ অরতি চিত্তকে অভিভূত করিয়া অবস্থান করিবে, ইহা অসম্ভব। মুদিতা হইতে উদ্ভূত চিত্তবিমুক্তি, ইহাই অরতির নির্গমন। ভিক্ষু এইরূপ বলিতে পারেন, “উপেক্ষা হইতে উদ্ভূত আমার চিত্তবিমুক্তি বিকশিত, অনুশীলিত, আয়ত্তীকৃত, প্রতিষ্ঠিত, অনুষ্ঠিত, বর্ধিত, সুপরিচালিত। অথচ রাগ আমার চিত্তকে অভিভূত করিয়া রহিয়াছে।” তাঁহাকে বলিতে হইবে, “এইরূপ নহে, আয়ুষ্মান এইরূপ বলিবেন না, ভগবানের অপবাদ করিবেন না, ভগবানের অপবাদ করা উচিত নয়, ভগবান কখনোই এইরূপ বাক্যের সমর্থন করিবেন না, ইহা ভিত্তিহীন এবং অনর্থিত।” উপেক্ষা হইতে উদ্ভূত চিত্তবিমুক্তি বিকশিত, অনুশীলিত, আয়ত্তীকৃত, প্রতিষ্ঠিত, অনুষ্ঠিত, বর্ধিত, সুপরিচালিত। অথচ রাগ চিত্তকে অভিভূত করিয়া অবস্থান করিবে, ইহা অসম্ভব। উপেক্ষা হইতে উদ্ভূত চিত্তবিমুক্তি, ইহাই রাগের নির্গমন। ভিক্ষু এইরূপ বলিতে পারেন, “অনিমিত্ত হইতে উদ্ভূত আমার চিত্তবিমুক্তি বিকশিত, অনুশীলিত, আয়ত্তীকৃত, প্রতিষ্ঠিত, অনুষ্ঠিত, বর্ধিত, সুপরিচালিত। অথচ নিমিত্তানুসারী বিজ্ঞান আমার চিত্তকে অধিকার করিয়া রহিয়াছে।” তাঁহাকে এইরূপ বলিতে হইবে, “এইরূপ নহে, আয়ুষ্মান এইরূপ বলিবেন না, ভগবানের অপবাদ করিবেন না, ভগবানের অপবাদ করা উচিত নয়, ভগবান কখনোই এইরূপ বাক্যের সমর্থন করিবেন না, ইহা ভিত্তিহীন এবং অনর্থিত। অনিমিত্ত হইতে উদ্ভূত চিত্তবিমুক্তি বিকশিত, অনুশীলিত, আয়ত্তীকৃত, প্রতিষ্ঠিত, অনুষ্ঠিত, বর্ধিত, সুপরিচালিত, অথচ নিমিত্তানুসারী বিজ্ঞান চিত্তকে অধিকার করিয়া থাকিবে, ইহা অসম্ভব। অনিমিত্ত হইতে উদ্ভূত চিত্তবিমুক্তি, ইহাই সর্বনিমিত্তের নির্গমন। ভিক্ষু এইরূপ বলিতে পারেন, “আমি আছি” এই সংজ্ঞা আমার নিকট বিরক্তিকর। “আমি বিদ্যমান” এইরূপ সংজ্ঞাতে আমি গুরুত্বের আরোপ করি না। তথাপি বিচিকিৎসা, এবং সংশয় রূপ শল্য আমার চিত্তকে অভিভূত করিয়া রহিয়াছে।” তাঁহাকে বলিতে হইবে, “এইরূপ নহে, আয়ুষ্মান এইরূপ বলিবেন না, ভগবানের অপবাদ করিবেন না, ভগবানের অপবাদ করা উচিত নয়, ভগবান কখনোই এইরূপ বাক্যের সমর্থন করিবেন না, ইহা ভিত্তিহীন এবং অনর্থিত। “আমি আছি” এই সংজ্ঞা বিরক্তিকর, “আমি বিদ্যমান” এইরূপ সংজ্ঞাতে গুরুত্বের অনারোপ, অথচ বিচিকিৎসা এবং সংশয়রূপ শল্য যে চিত্তকে অভিভূত করিয়া থাকিবে ইহা অসম্ভব। “আছি” এই সংজ্ঞার উচ্ছেদ বিচিকিৎসা এবং সংশয়রূপ শল্যের নিঃসরণ। এই ছয় ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য।

(৮) কোন ছয় ধর্ম উৎপাদনীয়? ছয় সতত বিহার। ভিক্ষু চক্ষু দ্বারা রূপ দর্শন করিয়া সুমনা অথবা দুর্মনা হন না, তিনি উপেক্ষা, স্মৃতি ও সম্প্রজ্ঞানসমন্বিত হইয়া বিহার করেন। শ্রোত্র দ্বারা শব্দ শ্রবণ করিয়া সুমনা অথবা দুর্মনা হন না, তিনি উপেক্ষা, স্মৃতি ও সম্প্রজ্ঞানসমন্বিত হইয়া বিহার করেন। নাসিকা দ্বারা গন্ধ আঘ্রাণ করিয়া সুমনা অথবা দুর্মনা হন না, তিনি উপেক্ষা, স্মৃতি ও সম্প্রজ্ঞানসমন্বিত হইয়া বিহার করেন। জিহ্বা দ্বারা রসাস্বাদন করিয়া সুমনা অথবা দুর্মনা হন না, তিনি উপেক্ষা, স্মৃতি ও সম্প্রজ্ঞানসমন্বিত হইয়া বিহার করেন। কায় দ্বারা স্প্রষ্টব্য স্পর্শ করিয়া সুমনা অথবা দুর্মনা হন না, তিনি উপেক্ষা, স্মৃতি ও সম্প্রজ্ঞানসমন্বিত হইয়া বিহার করেন। মন দ্বারা ধর্ম বিজ্ঞাত হইয়া সুমনা অথবা দুর্মনা হন না; উপেক্ষা, স্মৃতি ও সম্প্রজ্ঞানসমন্বিত হইয়া বিহার করেন। এই ছয় ধর্ম উৎপাদনীয়।

(৯) কোন ছয় ধর্ম অভিজ্ঞেয়? ছয় অনুত্তরীয় : দর্শন-অনুত্তরীয়, শ্রবণ-অনুত্তরীয়, লাভ-অনুত্তরীয়, শিক্ষা-অনুত্তরীয়, পরিচর্যা-অনুত্তরীয়, অনুস্মৃতি-অনুত্তরীয়, এই ছয় ধর্ম অভিজ্ঞেয়।

(১০) কোন ছয় ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়? ছয় অভিজ্ঞা। ভিক্ষু বহুবিধ ঋদ্ধি প্রাপ্ত হন, একক হইয়াও বহু হইতে সমর্থ হন, বহু হইয়াও একক হইতে সক্ষম হন, তিনি নিজকে আবির্ভূত ও অন্তর্হিত করেন, আকাশে গমনের ন্যায় তিনি ভিত্তি, প্রাকার ও পর্বত ভেদ করিয়া অপর পারে অবাধে গমন করেন। জলে উন্মজ্জন-নিমজ্জনের ন্যায় ভূমিতে উন্মজ্জন-নিমজ্জন করেন। তিনি ভূমিতে গমনের ন্যায় জলোপরি গমন করেন; তিনি পর্যাঙ্কাবদ্ধ হইয়া পক্ষীর ন্যায় আকাশে গমন করে। মহাঋদ্ধি ও মহানুভাব সম্পন্ন এই চন্দ্র-সূর্যকে তিনি হস্ত দ্বারা স্পর্শ করেন, পরিমর্দন করেন, সশরীরে ব্রহ্মলোক পর্যন্ত গমন করেন। তিনি দিব্য বিশুদ্ধ অলৌকিক শ্রোত্র দ্বারা দূরস্থ ও নিকটস্থ দৈব ও মনুষ্য উভয় শব্দই শ্রবণ করেন। তিনি স্বচিত্ত দ্বারা অপর সত্ত্বগণের অপর মনুষ্যগণের চিত্ত জানিতে পারেন, সরাগ চিত্তকে সরাগচিত্ত বলিয়া প্রকৃষ্টরূপে জানে, অথবা বীতরাগ চিত্তকে বীতরাগ চিত্ত বলিয়া প্রকৃষ্টরূপে জানেন। সদোষ চিত্তকে সদোষ চিত্ত বলিয়া, বীতদোষ চিত্তকে বীতদোষ চিত্ত বলিয়া, অথবা সমোহ চিত্তকে সমোহ চিত্ত বলিয়া, বীতমোহ চিত্তকে বীতমোহ চিত্ত বলিয়া, সংক্ষিপ্ত চিত্তকে সংক্ষিপ্ত চিত্ত বলিয়া, বিক্ষিপ্ত চিত্তকে বিক্ষিপ্ত চিত্ত বলিয়া, মহদ্গত চিত্তকে মহদ্গত চিত্ত বলিয়া, অমহদ্গত চিত্তকে অমহদ্গত চিত্ত বলিয়া, সউত্তর চিত্তকে সউত্তর চিত্ত বলিয়া, অনুত্তর চিত্তকে অনুত্তর চিত্ত বলিয়া, সমাহিত চিত্তকে সমাহিত চিত্ত বলিয়া, অসমাহিত চিত্তকে অসমাহিত চিত্ত বলিয়া, বিমুক্ত চিত্তকে বিমুক্ত চিত্ত বলিয়া, অথবা অবিমুক্ত চিত্তকে অবিমুক্ত রূপে জানিতে পারেন। তিনি অনেক বিধ পূর্বজন্ম স্মরণ করেন,-এক জন্ম, দুই জন্ম, তিন জন্ম, চারি জন্ম, পাঁচ জন্ম, দশ জন্ম, বিশ জন্ম, ত্রিশ জন্ম, চল্লিশ জন্ম, পঞ্চাশ জন্ম, শত জন্ম, সহস্র জন্ম, শত সহস্র জন্ম, বহু সংবর্ত কল্প, বহু বিবর্তকল্প, এমনকি বহু সংবর্ত-বিবর্তকল্পেও “ঐ স্থানে আমি ছিলাম, এই ছিল আমার নাম, এই আমার গোত্র, এই জাতি বর্ণ, এইরূপ আহার, এইরূপ সুখ-দুঃখ অনুভব, এই পরিমাণ পরমায়ু ছিল, তথা হইতে চ্যুত হইয়া অমুক স্থানে আমি উৎপন্ন হইয়াছিলাম, তথায় ছিল আমার এই নাম, এই গোত্র, এই জাতি বর্ণ, এই আহার, এই প্রকার সুখ-দুঃখানুভূতি, এই পরিমাণ পরমায়ু। সেই স্থান হইতে চ্যুত হইয়া আমি অত্র (এই যোনিতে) উৎপন্ন হইয়াছি।” এইরূপে বহু পূর্বজন্ম এবং ওই সকলের পূর্ণ বিবরণ স্মরণ করেন। তিনি বিশুদ্ধ লোকাতীত দিব্যচক্ষু দ্বারা দেখিতে পান-জীবগণ একযোনি হইতে চ্যুত হইয়া অপর যোনিতে উৎপন্ন হইতেছে, প্রকৃষ্টরূপে জানিতে পারেন, হীনোৎকৃষ্ট জাতীয় উত্তম ও অধম বর্ণের সত্ত্বগণ স্বস্ব কর্মানুসারে সুগতি-দুর্গতি প্রাপ্ত হইতেছে, এই সকল মহানুভাব জীব কায় দুশ্চরিত্রসমন্বিত, বাক্‌-দুশ্চরিত্রসমন্বিত, মন-দুশ্চরিত্রসমন্বিত, আর্যগণের নিন্দুক, মিথ্যাদৃষ্টিসম্পন্ন এবং মিথ্যাদৃষ্টি প্রণোদিত কর্ম পরিগ্রাহী হইবার ফলে দেহাবসানে মৃত্যুর পর অপায় দুর্গতিতে, বিনিপাত নিরয়ে (নরকে) উৎপন্ন হইয়াছে, অথবা এই সকল মহানুভাব জীব কায়-সুচত্রিসমন্বিত, বাক্‌-সুচরিত্রসমন্বিত, মন-সুচরিত্রসমন্বিত, আর্যগণের অনিন্দুক সম্যক দৃষ্টিসম্পন্ন এবং সম্যক দৃষ্টি প্রণোদিত কর্ম পরিগ্রাহী হইবার ফলে দেহাবসানে মৃত্যুর পর সুগতি স্বর্গলোকে উৎপন্ন হইয়াছেন, জীবগণ একযোনি হইতে চ্যুত হইয়া অপর যোনিতে উৎপন্ন হইতেছে; ইহা দিব্যচক্ষে, বিশুদ্ধ লোকাতীত অতীন্দ্রিয় দৃষ্টিতে দেখেন, প্রকৃষ্টরূপে জানেন, হীনোৎকৃষ্ট জাতীয় উত্তম-অধম বর্ণের জীবগণ আপনাপন কর্মানুসারে সুগতি ও দুর্গতি প্রাপ্ত হইতেছে। কর্মানুযায়ী গতিপ্রাপ্ত সত্ত্বগণকে জানিতে পারেন, আসবসমূহের ক্ষয় হেতু এই জগতেই অনাসব চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি স্বয়ং জ্ঞাত, উপলব্ধ ও প্রাপ্ত হইয়া বিহার করেন। এই ছয় ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়।

তথাগত কর্তৃক সম্যকরূপে অভিসম্বুদ্ধ এই ষষ্টি ধর্ম ভূত, তথ্য এইরূপ অবিতথ, নিশ্চিত।

৩৫৭. সাত ধর্ম বহু উপকারী, সাত ধর্ম ভাবিতব্য, সাত ধর্ম জ্ঞাতব্য, সাত ধর্ম পরিত্যাজ্য, সাত ধর্ম হান-ভাগীয়, সাত ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়, সাত ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য, সাত ধর্ম উৎপাদনীয়, সাত ধর্ম অভিজ্ঞেয়, সাত ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়।

(১) কোন সাত ধর্ম বহু উপকারী? সপ্তধন : শ্রদ্ধা-ধন, শীল-ধন, হ্রী-ধন, ঔত্তাপ্য-ধন, শ্রুত-ধন, ত্যাগ-ধন, প্রজ্ঞা-ধন। এই সাত ধর্ম বহু উপকারী।

(২) কোন সাত ধর্ম ভাবিতব্য? সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ : স্মৃতি, ধর্মবিচয়, বীর্য, প্রীতি, প্রশ্রব্ধি, সমাধি, উপেক্ষা। এই সাত ধর্ম ভাবিতব্য।

(৩) কোন সাত ধর্ম জ্ঞাতব্য? সপ্ত-বিজ্ঞান-স্থিতি। সত্ত্বগণ বিদ্যমান যাঁহারা নানারূপ দেহসম্পন্ন এবং নানারূপ সংজ্ঞাসম্পন্ন; যথা : কোনো কোনো মনুষ্য, দেবতা এবং বিনিপাতিক নিরয়বাসী। ইহাই প্রথম বিজ্ঞান-স্থিতি। সত্ত্বগণ বিদ্যমান যাঁহারা নানারূপ দেহসম্পন্ন কিন্তু একই রূপ সংজ্ঞাবিশিষ্ট; যথা : ব্রহ্মলোকবাসী দেবগণ যাঁহারা প্রথম ধ্যানের অনুশীলনে ওইস্থানে উৎপন্ন হইয়াছেন। ইহাই দ্বিতীয় বিজ্ঞান-স্থিতি। সত্ত্বগণ বিদ্যমান যাঁহারা একইরূপ দেহবিশিষ্ট কিন্তু নানারূপ সংজ্ঞাসম্পন্ন; যথা : আভাস্বর দেবগণ। ইহাই তৃতীয় বিজ্ঞান-স্থিতি। সত্ত্বগণ, বিদ্যমান যাঁহারা একইরূপ দেহ ও সংজ্ঞাবিশিষ্ট; যথা : শুভকৃৎস্ন দেবগণ। ইহাই চতুর্থ বিজ্ঞান-স্থিতি। সত্ত্বগণ বিদ্যমান যাঁহারা রূপ-সংজ্ঞাকে সর্বতোভাবে অতিক্রম করিয়া, প্রতিঘ-সংজ্ঞা বিনাশ করিয়া, নানাত্ব-সংজ্ঞায় উদাসীন হইয়া “আকাশ অনন্ত” এই অনুভূতির সহিত “আকাশ-অনন্ত-আয়তন” স্তরে গমন করিয়াছেন। ইহাই পঞ্চম বিজ্ঞান-স্থিতি। সত্ত্বগণ বিদ্যমান যাঁহারা “আকাশ-অনন্ত-আয়তন” সর্বতোভাবে অতিক্রম করিয়া “বিজ্ঞান অনন্ত” এই অনুভূতির সহিত “বিজ্ঞান-অনন্ত-আয়তন” স্তরে গমন করিয়াছেন। ইহাই ষষ্ঠ বিজ্ঞান-স্থিতি। সত্ত্বগণ বিদ্যমান যাঁহারা “বিজ্ঞান-অনন্ত-আয়তন” সর্বতোভাবে অতিক্রম করিয়া “কিছুই নাই” এই অনুভূতির সহিত “আকিঞ্চন আয়তন” স্তরে গমন করিয়াছেন। ইহাই সপ্তম বিজ্ঞান-স্থিতি। এই সাত ধর্ম জ্ঞাতব্য।

(৪) কোন সাত ধর্ম পরিত্যাজ্য? সাত অনুশয় : কাম-রাগ, প্রতিঘ, মিথ্যা দৃষ্টি, বিচিকিৎসা, মান, ভব-রাগ, অবিদ্যা। এই সাত ধর্ম পরিত্যাজ্য।

(৫) কোন সাত ধর্ম হান-ভাগীয়? সাত অসদ্ধর্ম। ভিক্ষু শ্রদ্ধাহীন, হ্রীহীন, ঔত্তাপ্যহীন হন; অল্প-শ্রুত, অলস, মূঢ়-স্মৃতি এবং দুষ্প্রজ্ঞ হন। এই সাত ধর্ম হান-ভাগীয়।

(৬) কোন সাত ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়? সাত সদ্ধর্ম : ভিক্ষু শ্রদ্ধা, হ্রী, ঔত্তাপ্য সমন্বিত হন, বহু-শ্রুত ও আরব্ধ-বীর্য হন, উপস্থিত-স্মৃতিসম্পন্ন ও প্রজ্ঞাবান হন। এই সাত ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়।

(৭) কোন সাত ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য? সাত সৎপুরুষ ধর্ম। ভিক্ষু ধর্মজ্ঞ, অর্থজ্ঞ, আত্মজ্ঞ, মাত্রাজ্ঞ, কালজ্ঞ, পরিষদজ্ঞ এবং পুদ্গলজ্ঞ হন। এই সাত ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য।

(৮) কোন সাত ধর্ম উৎপাদনীয়? সাত সংজ্ঞা : অনিত্য-সংজ্ঞা, অনাত্ম-সংজ্ঞা, অশুভ-সংজ্ঞা, অমঙ্গল-সংজ্ঞা, প্রহাণ-সংজ্ঞা, বিরাগ-সংজ্ঞা, নিরোধ-সংজ্ঞা। এই সাত ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য।

(৯) কোন সাত ধর্ম অভিজ্ঞেয়? সাত নির্দেশ বস্তু : ভিক্ষু শিক্ষা গ্রহণে তীব্র অনুরাগবিশিষ্ট হন, ভবিষ্যতে ও উহার গ্রহণে ওইরূপ মনোবিশিষ্টই হন। ধর্মে অন্তর্দৃষ্টি লাভে, তৃষ্ণার দমনে, নির্জন বাসে, বীর্যারম্ভে, স্মৃতি-কুশলতায়, দৃষ্টি-প্রতিবেধে ওইরূপই মনোভাববিশিষ্ট হন। এই সাত ধর্ম অভিজ্ঞেয়।

(১০) কোন সাত ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়? সাত ক্ষীণাসব-বল। ক্ষীণাসব ভিক্ষুর নিকট সর্ব সংস্কারের অনিত্যতা সম্যক প্রজ্ঞা দ্বারা যথারূপ সুদৃষ্ট হয়। ইহা ভিক্ষুর বল স্বরূপ, যে বল হেতু তিনি “আমার আসবসমূহ বিনষ্ট” এইরূপ আসবক্ষয়ের জ্ঞানে উপনীত হন। পুনশ্চ, অনাসব ভিক্ষুর নিকট অগ্নিকুণ্ড-সম কামসমূহ সম্যক প্রজ্ঞা দ্বারা যথা : রূপ সৃদৃষ্ট হয়, ইহা ক্ষীণাসব ভিক্ষুর বলস্বরূপ, যে বল-হেতু তিনি “আমার আসবসমূহ বিনষ্ট” এইরূপ আসবক্ষয়ের জ্ঞানে উপনীত হন। পুনশ্চ, ক্ষীণাসব ভিক্ষুর চিত্ত বিবেকগামী, বিবেক-প্রবণ, বিবেক-প্রাগ্‌ভার, বিবেকস্থ, নৈষ্কাম্যাভিরত সম্পূর্ণরূপে আসবস্থানীয় সর্ব ধর্মের অতীত হয়। ইহা ক্ষীণাসব ভিক্ষুর বলস্বরূপ, যে বল হেতু তিনি “আমার আসবসমূহ বিনষ্ট” এইরূপ আসবক্ষয়ের জ্ঞানে উপনীত হন। পুনশ্চ, ক্ষীণাসব ভিক্ষু কর্তৃক চারিস্মৃতি-প্রস্থান ভাবিত হয়, সুভাবিত হয়। ইহা ক্ষীণাসব ভিক্ষুর বলস্বরূপ, যে বলহেতু তিনি “আমার আসবসমূহ বিনষ্ট” এইরূপ আসবক্ষয়ের জ্ঞানে উপনীত হন। পুনশ্চ, ক্ষীণাসব ভিক্ষুর পঞ্চইন্দ্রিয় ভাবিত হয়, সুভাবিত হয়। ইহা ক্ষীণাসব ভিক্ষুর বলস্বরূপ, যে বলহেতু তিনি “আমার আসবসমূহ বিনষ্ট” এইরূপ আসবক্ষয়ের জ্ঞানে উপনীত হন, পুনশ্চ, ক্ষীণাসব ভিক্ষুর সপ্তবোধ্যঙ্গ ভাবিত হয়, সুভাবিত হয়। ইহা ক্ষীণাসব ভিক্ষুর বলস্বরূপ, যে বলহেতু তিনি “আমার আসবসমূহ বিনষ্ট” এইরূপ আসবক্ষয়ের জ্ঞানে উপনীত হন। পুনশ্চ, ক্ষীণাসব ভিক্ষুর আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ ভাবিত হয়, সুভাবিত হয়। ইহা ক্ষীণাসব ভিক্ষুর বলস্বরূপ, যে বলহেতু তিনি “আমার আসবসমূহ বিনষ্ট” এইরূপ আসবক্ষয়ের জ্ঞানে উপনীত হন। এই সাত ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়?

তথাগত কর্তৃক সম্যকরূপে অভিসম্বুদ্ধ এই সপ্ততি ধর্ম ভূত, তথ্য এইরূপ অবিতথ, নিশ্চিত।

প্রথম ভাণবার সমাপ্ত।

৩৫৮. আট ধর্ম বহু উপকারী। আট ধর্ম ভাবিতব্য, আট ধর্ম জ্ঞাতব্য, আট ধর্ম পরিত্যাজ্য, আট ধর্ম হান-ভাগীয়, আট ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়, আট ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য, আট ধর্ম উৎপাদনীয়, আট ধর্ম অভিজ্ঞেয়, আট ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়।

(১) কোন আট ধর্ম বহু উপকারী? আদি ব্রহ্মচর্য্য সম্বন্ধীয় অপ্রাপ্ত প্রজ্ঞার প্রাপ্তি, প্রাপ্তির বৃদ্ধি, বিপুলতা, ভাবনা এবং পূর্ণতার অনুকূল আট হেতু ও আট প্রত্যয়। বন্ধুগণ, কেহ শাস্তা অথবা গুরুস্থানীয় অপর কোনো সব্রহ্মচারীর নিকট অবস্থান করেন, যাহাতে তিনি তীব্র হ্রী-ঔত্তাপ্য, প্রেম ও গৌরবে প্রতিষ্ঠিত হন। ইহা প্রথম হেতু, প্রথম প্রত্যয়। ওই অবস্থায় তিনি সময়ে সময়ে তাঁহাদের নিকট গমন করিয়া প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন, অনুসন্ধান করেন, “ভন্তে, ইহা কিরূপ? ইহার অর্থ কী?” আয়ুষ্মানগণ উত্তরে যাহা অপ্রকাশিত তাহা প্রকাশ করেন, অসরলকে সরল করেন, অনেক প্রকার সংশয়জনক বিষয়ে সংশয় দূর করেন। ইহা দ্বিতীয় হেতু, দ্বিতীয় প্রত্যয়। ওই ধর্ম শ্রবণ করিয়া তিনি বিশুদ্ধ দেহে ও মনে উহা পালন করেন। ইহা তৃতীয় হেতু, তৃতীয় প্রত্যয়। পুনশ্চ, ভিক্ষু শীলবান হন, তিনি প্রাতিমোক্ষ-সংযম দ্বারা সংযত হইয়া বিহার করেন, আচার-গোচরসম্পন্ন হইয়া অনুমাত্র পাপে ভয়দর্শী হইয়া শিক্ষাপদসমূহ গ্রহণপূর্বক উহাতে শিক্ষিত হন। ইহা চতুর্থ হেতু, চতুর্থ প্রত্যয়। পুনশ্চ, ভিক্ষু বহু-শ্রুত, শ্রুত-ধর, এবং শ্রুত-সন্নিচয় হন, যে-সকল ধর্ম আদিতে কল্যাণময়, মধ্যে কল্যাণময়, অন্তে কল্যাণময়, যাহা অর্থ ও ব্যঞ্জনসম্পন্ন যাহা সর্বাঙ্গীন পূর্ণতাপ্রাপ্ত ও বিশুদ্ধ ব্রহ্মচর্যের প্রকাশক ওই সকল ধর্মে বহু-শ্রুত হন, উহাদের ধারক হন, ওই সকল ধর্ম আবৃত্তি দ্বারা তৎকর্তৃক সুরক্ষিত হয়, তিনি ওই সকলে একাগ্র-চিত্ত হন এবং অন্তর্দৃষ্টি দ্বারা উহাতে গভীরভাবে প্রবেশ করেন। ইহা পঞ্চম হেতু, পঞ্চম প্রত্যয়। পুনশ্চ, ভিক্ষু অকুশলধর্মসমূহের দূরীকরণের নিমিত্ত কুশলধর্মসমূহের উৎপাদনের নিমিত্ত আরব্ধ-বীর্য, অবিচলিত, দৃঢ় পরাক্রমশালী এবং কুশলধর্মসমূহে অচ্যুত হইয়া বিহার করেন। ইহা ষষ্ঠ হেতু, ষষ্ঠ প্রত্যয়। পুনশ্চ, ভিক্ষু স্মৃতি-মান হন, শ্রেষ্ঠ স্মৃতি ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন হন, বহু পূর্বে কৃত এবং ভাষিতের স্মরণ করেন, অনুস্মরণ করেন। ইহা সপ্তম হেতু, সপ্তম প্রত্যয়। পুনশ্চ, ভিক্ষু পঞ্চ উপাদান স্কন্ধে উদয়-ব্যয়-দর্শী হইয়া বিহার করেন, “ইহা রূপ, ইহা রূপের সমুদয়, ইহা রূপের বিলয়, ইহা বেদনা, ইহা বেদনার সমুদয়, ইহা বেদনার বিলয়, ইহা সংস্কার, ইহা সংস্কারের সমুদয়, ইহা সংস্কারের বিলয়, ইহা বিজ্ঞান, ইহা বিজ্ঞানের সমুদয়, ইহা বিজ্ঞানের বিলয়।” ইহা অষ্টম হেতু, অষ্টম প্রত্যয়। এই আট ধর্ম বহু উপকারী।

(২) কোন আট ধর্ম ভাবিতব্য? আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ; যথা : সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্মান্ত, সম্যক আজীব, সম্যক ব্যায়াম, সম্যক স্মৃতি, সম্যক সমাধি। এই আট ধর্ম ভাবিতব্য।

(৩) কোন আট ধর্ম জ্ঞাতব্য? আট লোকধর্ম : লাভ, অলাভ, অযশ, যশ, নিন্দা, প্রশংসা, সুখ, দুঃখ। এই আট ধর্ম জ্ঞাতব্য।

(৪) কোন আট ধর্ম পরিত্যাজ্য? অষ্ট মিথ্যাত্ব : মিথ্যাদৃষ্টি, মিথ্যা সংকল্প, মিথ্যা বাক্য, মিথ্যা কর্মান্ত, মিথ্যা আজীব, মিথ্যা ব্যায়াম, মিথ্যা স্মৃতি, মিথ্যা সমাধি। এই আট ধর্ম পরিত্যাজ্য।

(৫) কোন আট ধর্ম হীন-ভাগীয়? আট আলস্যের ভিত্তি : ভিক্ষুর করণীয় কর্তব্য আছে। তাঁহার মনে এইরূপ হয়, “আমাকে কর্তব্য করিতে হইবে, কর্তব্য কর্ম করিতে হইলে আমার দেহ ক্লান্ত হইবে, তবে এইবার শয়ন করি।” তিনি শয়ন করেন, অকৃতের করণার্থ, অসম্পাদিতের সম্পাদনার্থ, অলব্ধের লাভার্থ তিনি প্রয়াস করেন না। ইহাই প্রথম আলস্যের ভিত্তি। পুনশ্চ, ভিক্ষুর করণীয় কর্তব্য আছে। তাঁহার মনে এইরূপ হয়, “আমি কর্ম করিয়াছি” কর্ম করিতে গিয়া আমার দেহ ক্লান্ত হইয়াছে, এইবার আমি শয়ন করি।” তিনি শয়ন করেন, অকৃতের করণার্থ, অসম্পাদিতের সম্পাদনার্থ, অলব্ধের লাভার্থ তিনি প্রয়াস করেন না। ইহাই দ্বিতীয় আলস্যের ভিত্তি। পুনশ্চ, ভিক্ষুকে পথ ভ্রমণ করিতে হইবে। তাঁহার মনে এইরূপ হয়, “আমাকে পথ ভ্রমণ করিতে হইবে, উহা করিতে হইলে আমার দেহ ক্লান্ত হইবে, এইবার আমি শয়ন করি।” তিনি শয়ন করেন, অকৃতের করণার্থ, অসম্পাদিতের সম্পাদনার্থ, অলব্ধের লাভার্থ তিনি প্রয়াস করেন না। ইহা তৃতীয় আলস্যের ভিত্তি। পুনশ্চ, ভিক্ষু পথ ভ্রমণরত হইয়াছেন। তাঁহার মনে এইরূপ হয়, “আমি পথ ভ্রমণ করিয়াছি, এইরূপে আমার দেহ ক্লান্ত হইয়াছে, এইবার আমি শয়ন করি।” তিনি শয়ন করেন, অকৃতের করণার্থ, অসম্পাদিতের সম্পাদনার্থ, অলব্ধের লাভার্থ তিনি প্রয়াস করেন না। ইহা চতুর্থ আলস্যের ভিত্তি। পুনশ্চ, ভিক্ষু গ্রাম অথবা নিগমে পিণ্ডার্থ ভ্রমণ করিয়া হীন অথবা প্রণীত ভোজ্য পর্যাপ্তরূপে লাভ করেন না। তাঁহার মনে এইরূপ হয়, “আমি গ্রাম অথবা নিগমে পিণ্ডার্থ ভ্রমণ করিয়া হীন অথবা উৎকৃষ্ট ভোজ্য পর্যাপ্তরূপে প্রাপ্ত হই নাই, আমার দেহ ক্লান্ত ও অকর্মণ্য হইয়াছে, এইবার আমি শয়ন করি।” তিনি শয়ন করেন, অকৃতের করণার্থ, অসম্পাদিতের সম্পাদনার্থ, অলব্ধের লাভার্থ তিনি প্রয়াস করেন না। ইহা পঞ্চম আলস্যের ভিত্তি। পুনশ্চ, ভিক্ষু পূর্বোক্তরূপে পিণ্ডার্থ ভ্রমণ করিয়া হীন অথবা উৎকৃষ্ট ভোজ্য পর্যাপ্তরূপে প্রাপ্ত হন, তাঁহার মনে এইরূপ হয়, “আমি গ্রাম অথবা নিগমে পিণ্ডার্থ ভ্রমণ করিয়া হীন অথবা উৎকৃষ্ট ভোজ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে লাভ করিয়াছি, এইরূপে আমার দেহ গুরুভার এবং অকর্মণ্য হইয়াছে, এইবার আমি শয়ন করি।” তিনি শয়ন করেন, অকৃতের করণার্থ, অসম্পাদিতের সম্পাদনার্থ, অলব্ধের লাভার্থ তিনি প্রয়াস করেন না। ইহাই ষষ্ঠ আলস্যের ভিত্তি। পুনশ্চ, ভিক্ষু অল্পমাত্র অসুস্থতা অনুভব করেন। তাঁহার মনে এইরূপ হয়, “আমি অল্পমাত্র অসুস্থতা অনুভব করিতেছি, এই অবস্থায় আমার শয়ন করা উচিত, এইবার আমি শয়ন করি।” তিনি শয়ন করেন, অকৃতের করণার্থ, অসম্পাদিতের সম্পাদনার্থ, অলব্ধের লাভার্থ তিনি প্রয়াস করেন না। ইহা সপ্তম আলস্যের ভিত্তি। পুনশ্চ, ভিক্ষু রোগমুক্ত হন, তিনি অনতিকাল পূর্বে নিরাময় হইয়াছেন। তাঁহার মনে এইরূপ হয়, “আমি রোগমুক্ত হইয়াছি, অনতিকাল পূর্বে নিরাময় হইয়াছি, আমার দেহ দুর্বল ও অকর্মণ্য, আমি শয়ন করি।” তিনি শয়ন করেন, অকৃতের করণার্থ, অসম্পাদিতের সম্পাদনার্থ, অলব্ধের লাভার্থ তিনি প্রয়াস করেন না। ইহা অষ্টম আলস্যের ভিত্তি। এই আট ধর্ম হান-ভাগীয়।

(৬) কোন আট ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়? কোনো বিশিষ্ট কর্ম সম্পাদনের আট ভিত্তি। ভিক্ষুর কর্তব্য কর্ম আছে। তাঁহার মনে এইরূপ হয়, “আমাকে কর্তব্য কর্ম করিতে হইবে, কিন্তু উহা করিতে হইলে বুদ্ধদিগের উপদেশে মনঃসংযোগ করা আমার পক্ষে সুকর হইবে না, আমি অপ্রাপ্তের প্রাপ্তির নিমিত্ত, অসম্পাদিতের সম্পাদনার্থ, অলব্ধের লাভার্থ বীর্য প্রয়োগ করিব।” ওই উদ্দেশ্যে তিনি বীর্য প্রয়োগ করেন। ইহাই প্রথম ভিত্তি। পুনশ্চ, ভিক্ষুর কর্তব্য কর্ম আছে। তাঁহার এইরূপ মনে হয়, “আমি কর্ম করিয়াছি, কিন্তু উহা করিতে গিয়া আমি বুদ্ধগণের উপদেশে মনঃসংযোগ করিতে পারি নাই, আমি অপ্রাপ্তের প্রাপ্তির নিমিত্ত, অসম্পাদিতের সম্পাদনার্থ, অলব্ধের লাভার্থ বীর্য প্রয়োগ করিব।” ওই উদ্দেশ্যে তিনি বীর্য প্রয়োগ করেন। ইহা দ্বিতীয় ভিত্তি। পুনশ্চ, ভিক্ষুকে পথ ভ্রমণ করিতে হইবে। তাঁহার মনে এইরূপ হয়, “আমাকে পথ ভ্রমণ করিতে হইবে, উহা করিতে হইলে বুদ্ধগণের উপদেশে মনঃসংযোগ করা আমার পক্ষে সুকর হইবে না, আমি অপ্রাপ্তের প্রাপ্তির নিমিত্ত, অসম্পাদিতের সম্পাদনার্থ, অলব্ধের লাভার্থ বীর্য প্রয়োগ করিব।” ওই উদ্দেশ্যে তিনি বীর্য প্রয়োগ করেন। ইহা তৃতীয় ভিত্তি। পুনশ্চ, ভিক্ষু পথ ভ্রমণে রত হন। তাঁহার মনে এইরূপ হয়, “আমি ভ্রমণ করিয়াছি, উহা করিতে গিয়া আমি বুদ্ধগণের উপদেশে মনঃসংযোগ করিতে পারি নাই। আমি অপ্রাপ্তের প্রাপ্তির নিমিত্ত, অসম্পাদিতের সম্পাদনার্থ, অলব্ধের লাভার্থ বীর্য প্রয়োগ করিব।” ওই উদ্দেশ্যে তিনি বীর্য প্রয়োগ করেন। ইহা চতুর্থ ভিত্তি। পুনশ্চ, ভিক্ষু গ্রাম অথবা নিগমে পিণ্ডার্থ ভ্রমণ করিয়া হীন অথবা উৎকৃষ্ট ভোজ্য পর্যাপ্তরূপে প্রাপ্ত হন না। তাঁহার মনে এইরূপ হয়, “আমি গ্রাম অথবা নিগমে পিণ্ডার্থ ভ্রমণ করিয়া হীন অথবা উৎকৃষ্ট ভোজ্য পর্যাপ্তরূপে প্রাপ্ত হই নাই, এইরূপে আমার দেহ লঘু এবং কর্মণ্য হইয়াছে, আমি অপ্রাপ্তের প্রাপ্তির নিমিত্ত, অসম্পাদিতের সম্পাদনার্থ, অলব্ধের লাভার্থ বীর্য প্রয়োগ করিব।” ওই উদ্দেশ্যে তিনি বীর্য প্রয়োগ করেন। ইহা পঞ্চম ভিত্তি। পুনশ্চ, ভিক্ষু গ্রাম অথবা নিগমে পিণ্ডার্থ ভ্রমণ করিয়া হীন অথবা উৎকৃষ্ট ভোজ্য পর্যাপ্তরূপে প্রাপ্ত হন। তাঁহার মনে এইরূপ হয়, “আমি গ্রাম অথবা নিগমে পিণ্ডার্থ ভ্রমণ করিয়া হীন অথবা উৎকৃষ্ট ভোজ্য পর্যাপ্তরূপে প্রাপ্ত হইয়াছি, এইরূপে আমার দেহ বলসম্পন্ন এবং কর্মণ্য হইয়াছে, এইবার আমি অপ্রাপ্তের প্রাপ্তির নিমিত্ত, অসম্পাদিতের সম্পাদনার্থ, অলব্ধের লাভার্থ বীর্য প্রয়োগ করিব।” ওই উদ্দেশ্যে তিনি বীর্য প্রয়োগ করেন। ইহা ষষ্ঠ ভিত্তি। পুনশ্চ, ভিক্ষু অল্পমাত্র অসুস্থতা অনুভব করেন। তাঁহার মনে এইরূপ হয়, “আমি অল্পমাত্র অসুস্থতা অনুভব করিতেছি, কিন্তু আমার অসুস্থতা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইবার সম্ভাবনা আছে, অতএব আমি অপ্রাপ্তের প্রাপ্তির নিমিত্ত, অসম্পাদিতের সম্পাদনার্থ, অলব্ধের লাভার্থ বীর্য প্রয়োগ করিব।” ওই উদ্দেশ্যে তিনি বীর্য প্রয়োগ করেন। ইহা সপ্তম ভিত্তি। পুনশ্চ, ভিক্ষু রোগমুক্ত হন, তিনি অনতিকাল পূর্বে নিরাময় হইয়াছেন। তাঁহার মনে এইরূপ হয়, “আমি রোগমুক্ত হইয়াছি, অনতিকাল পূর্বে নিরাময় হইয়াছি, কিন্তু রোগের পুনরাবির্ভাবের সম্ভাবনা আছে, অতএব আমি অপ্রাপ্তের প্রাপ্তির নিমিত্ত, অসম্পাদিতের সম্পাদনার্থ, অলব্ধের লাভার্থ বীর্য প্রয়োগ করিব।” ওই উদ্দেশ্যে তিনি বীর্য প্রয়োগ করেন। ইহা অষ্টম ভিত্তি। এই আট ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়।

(৭) কোন আট ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য? ব্রহ্মচর্য্য বাসের আট অক্ষণ অসময়। জগতে তথাগত অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধের আবির্ভাব হইয়াছে, উপশম ও পরিনির্বাণদায়ী, সম্বোধগামী সুগত-প্রজ্ঞাপিত ধর্ম উপদিষ্ট হইয়াছে; কিন্তু এই পুরুষ ওই সময় নিরয়ে উৎপন্ন হইয়াছে। ব্রহ্মচর্য্য বাসের এই প্রথম অক্ষণ অসময়। পুনশ্চ, জগতে তথাগত অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধের আবির্ভাব হইয়াছে, উপশম ও পরিনির্বাণদায়ী, সম্বোধগামী সুগত-প্রজ্ঞাপিত ধর্ম উপদিষ্ট হইয়াছে; কিন্তু এই পুরুষ ওই সময় পশুযোনিতে উৎপন্ন হইয়াছে; ব্রহ্মচর্য্য বাসের এই দ্বিতীয় অক্ষণ অসময়! পুনশ্চ, জগতে তথাগত অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধের আবির্ভাব হইয়াছে, উপশম ও পরিনির্বাণদায়ী, সম্বোধগামী সুগত-প্রজ্ঞাপিত ধর্ম উপদিষ্ট হইয়াছে; কিন্তু এই পুরুষ ওই সময় প্রেতলোকে উৎপন্ন হইয়াছে, ব্রহ্মচর্য্য বাসের এই তৃতীয় অক্ষণ অসময়। পুনশ্চ, জগতে তথাগত অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধের আবির্ভাব হইয়াছে, উপশম ও পরিনির্বাণদায়ী, সম্বোধগামী সুগত-প্রজ্ঞাপিত ধর্ম উপদিষ্ট হইয়াছে; কিন্তু এই পুরুষ ওই সময় অসুর দেহ প্রাপ্ত হইয়াছে, ব্রহ্মচর্য্য বাসের এই চতুর্থ অক্ষণ অসময়। পুনশ্চ, জগতে তথাগত অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধের আবির্ভাব হইয়াছে, উপশম ও পরিনির্বাণদায়ী, সম্বোধগামী সুগত-প্রজ্ঞাপিত ধর্ম উপদিষ্ট হইয়াছে; কিন্তু এই পুরুষ ওই সময় দীর্ঘায়ু হইয়া কোন দেবলোকে উৎপন্ন হইয়াছে, ব্রহ্মচর্য্য বাসের এই পঞ্চম অক্ষণ অসময়। পুনশ্চ, জগতে তথাগত অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধের আবির্ভাব হইয়াছে, উপশম ও পরিনির্বাণদায়ী, সম্বোধগামী সুগত-প্রজ্ঞাপিত ধর্ম উপদিষ্ট হইয়াছে; কিন্তু এই পুরুষ ওই সময় প্রত্যন্ত জনপদে জ্ঞানহীন ম্লেচ্ছদিগের মধ্যে পুনর্জন্ম লাভ করিয়াছে, যেখানে ভিক্ষু, ভিক্ষুণী, উপাসক, উপাসিকাদিগের গতি নাই। ব্রহ্মচর্য্য বাসের ইহা ষষ্ঠ অক্ষণ অসময়। পুনশ্চ, জগতে তথাগত অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধের আবির্ভাব হইয়াছে, উপশম ও পরিনির্বাণদায়ী, সম্বোধগামী সুগত-প্রজ্ঞাপিত ধর্ম উপদিষ্ট হইয়াছে; কিন্তু এই পুরুষ ওই সময় মধ্য দেশে জন্মগ্রহণ করিয়াছে, কিন্তু মিথ্যাদৃষ্টি ও বিপরীত দর্শনসম্পন্ন-দান নাই, যজ্ঞ নাই, হবন নাই, সুকৃতি দুষ্কৃতির ফল নাই, ইহলোক নাই, পরলোক নাই, মাতা-পিতা নাই, ঔপপাতিক সত্ত্ব নাই, পূর্ণতাপ্রাপ্ত সম্যক দৃষ্টিসম্পন্ন শ্রমণ-ব্রাহ্মণ নাই যাঁহারা ইহলোক ও পরলোক স্বয়ং জানিয়া ও সাক্ষাৎ করিয়া উহার প্রকাশ করেন।” ইহা ব্রহ্মচর্য্য বাসের সপ্তম অক্ষণ অসময়। পুনশ্চ, জগতে তথাগত অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধের আবির্ভাব হইয়াছে, উপশম ও পরিনির্বাণদায়ী, সম্বোধগামী সুগত-প্রজ্ঞাপিত ধর্ম উপদিষ্ট হইয়াছে; কিন্তু এই পুরুষ ওই সময় মধ্যদেশে পুনর্জন্ম লাভ করিয়া দুষ্প্রজ্ঞ, জড়, বধির ও মূক হইয়াছে, সুভাষিত অথবা দুর্ভাষিতের অর্থ গ্রহণ করিতে অক্ষম। ইহা ব্রহ্মচর্য্য বাসের অষ্টম অক্ষণ অসময়। এই আট ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য?

(৮) কোন আট ধর্ম উৎপাদনীয়? আট মহাপুরুষ-বিতর্ক “এই ধর্ম যিনি অল্পেচ্ছু তাঁহার জন্য, যিনি মহেচ্ছু তাঁহার জন্য নহে; যিনি সন্তুষ্ট তাঁহার জন্য, যিনি অসন্তুষ্ট তাঁহার জন্য নহে; প্রবিবিক্তের জন্য, সঙ্গপ্রিয়ের জন্য নহে; যিনি আরব্ধবীর্য তাঁহার জন্য, অলসের জন্য নহে; যিনি প্রত্যুৎপন্নমতি তাঁহার জন্য, যিনি মূঢ়-স্মৃতি তাঁহার জন্য নহে, যিনি সমাহিত তাঁহার জন্য, অসমাহিতের জন্য নহে; প্রজ্ঞাবানের জন্য, প্রজ্ঞাহীনের জন্য নহে; যিনি প্রপঞ্চ হীনতায় আনন্দ লাভ করেন, তাঁহার জন্য, প্রপঞ্চ-যুক্তের জন্য নহে।” এই আট ধর্ম উৎপাদনীয়।

(৯) কোন আট ধর্ম অভিজ্ঞেয়? আট অভিভূ আয়তন। কেহ অধ্যাত্মে রূপ-সংজ্ঞী হইয়া বাহিরে সুবর্ণ অথবা দুর্বর্ণরূপ ক্ষুদ্ররূপে দর্শন করেন, তিনি উহা অভিভূত করিয়া “জানিতেছি, দেখিতেছি” এইরূপ সংজ্ঞা উৎপাদন করেন। ইহা প্রথম অভিভূ-আয়তন। কেহ অধ্যাত্মে রূপ-সংজ্ঞী হইয়া বাহিরে সুবর্ণ অথবা দুর্বর্ণ অপ্রমেয় রূপ দর্শন করেন, তিনি উহা অভিভূত করিয়া “জানিতেছি, দেখিতেছি” এইরূপ সংজ্ঞা উৎপাদন করেন। ইহা দ্বিতীয় অভিভূ-আয়তন। কেহ অধ্যাত্মে অরূপ-সংজ্ঞী হইয়া বাহিরে সুবর্ণ অথবা দুর্বর্ণ রূপ ক্ষুদ্ররূপে দর্শন করেন, তিনি উহা অভিভূত করিয়া “জানিতেছি, দেখিতেছি” এইরূপ সংজ্ঞা উৎপাদন করেন। ইহা তৃতীয় অভিভূ-আয়তন। কেহ অধ্যাত্মে-অরূপ-সংজ্ঞী হইয়া বাহিরে সুবর্ণ অথবা দুর্বর্ণ অপ্রমেয় রূপ দর্শন করেন, তিনি উহা অভিভূত করিয়া “জানিতেছি, দেখিতেছি”, এইরূপ সংজ্ঞা উৎপাদন করেন। ইহা চতুর্থ অভিভূ-আয়তন। কেহ অধ্যাত্মে অরূপ-সংজ্ঞী হইয়া বাহিরে রূপ দর্শন করেন-নীল, নীলবর্ণ, নীল-নিদর্শন, নীলোভাস; যথা : নীল, নীলবর্ণ, নীল-নিদর্শন, নীলোভাস সম্পন্ন উমা পুষ্প, অথবা উভয় দিক সুমার্জিত নীল, নীলবর্ণ, নীল-নিদর্শন, নীলোভাস বারাণসীর বস্ত্র; এইরূপ অধ্যাত্মে অরূপ-সংজ্ঞী হইয়া বাহিরে রূপ দর্শন করেন-নীল, নীলবর্ণ, নীল-নিদর্শন, নীলোভাস, তিনি উহা অভিভূত করিয়া “জানিতেছি, দেখিতেছি” এইরূপ সংজ্ঞা উৎপাদন করেন। ইহা পঞ্চম অভিভূ-আয়তন। কেহ অধ্যাত্মে অরূপ-সংজ্ঞী হইয়া বাহিরে রূপ দর্শন করেন-পীত, পীতবর্ণ, পীত-নিদর্শন, পীতোভাস; যথা : পীত, পীতবর্ণ, পীত-নিদর্শন, পীতোভাস কর্ণিকার পুষ্প, অথবা উভয় দিক সুমার্জিত পীত, পীতবর্ণ, পীত-নিদর্শন, পীতোভাস বারাণসীর বস্ত্র; এইরূপ অধ্যাত্মে অরূপ-সংজ্ঞী হইয়া বাহিরে রূপ দর্শন করেন-পীত, পীত-বর্ণ, পীত-নিদর্শন, পীতোভাস, তিনি উহা অভিভূত করিয়া “জানিতেছি, দেখিতেছি”, এইরূপ সংজ্ঞা উৎপাদন করেন। ইহা ষষ্ঠ অভিভূ-আয়তন। কেহ অধ্যাত্মে অরূপ-সংজ্ঞী হইয়া বাহিরে রূপ দর্শন করেন-লোহিত, লোহিত-বর্ণ, লোহিত-নিদর্শন, লোহিতোভাস; যথা : লোহিত, লোহিত-বর্ণ, লোহিত-নিদর্শন লোহিতোভাস বন্ধুজীবক পুষ্প অথবা উভয়দিক সুমার্জিত লোহিত, লোহিত-বর্ণ, লোহিত-নিদর্শন, লোহিতোভাস বারাণসীর বস্ত্র; এইরূপ অধ্যাত্মে অরূপ-সংজ্ঞী হইয়া বাহিরে রূপ দর্শন করেন-লোহিত, লোহিত-বর্ণ, লোহিত-নিদর্শন, লোহিতোভাস, তিনি উহা অভিভূত করিয়া “জানিতেছি, দেখিতেছি”, এইরূপ সংজ্ঞা, উৎপাদন করেন। ইহা সপ্তম অভিভূ-আয়তন। কেহ অধ্যাত্মে অরূপ-সংজ্ঞী হইয়া বাহিরে রূপ দর্শন করেন-শুভ্র, শুভ্র-বর্ণ, শুভ্র-নিদর্শন, শুভ্রোভাস; যথা : শুভ্র, শুভ্র-বর্ণ, শুভ্র-নিদর্শন, শুভ্রোভাস ওষধি-তারকা, অথবা উভয়দিক সুমার্জিত শুভ্র, শুভ্র-বর্ণ, শুভ্র-নিদর্শন, শুভ্রোভাস বারাণসীর বস্ত্র; এইরূপ অধ্যাত্মে অরূপ-সংজ্ঞী হইয়া বাহিরে রূপ দর্শন করেন-শুভ্র, শুভ্র-বর্ণ, শুভ্র-নিদর্শন, শুভ্রোভাস, তিনি উহা অভিভূত করিয়া “জানিতেছি, দেখিতেছি” এইরূপ সংজ্ঞা উৎপাদন করেন। ইহা অষ্টম অভিভূ-আয়তন। এই আট ধর্ম অভিজ্ঞেয়।

(১০) কোন আট ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়? আট বিমোক্ষ। রূপী রূপ দর্শন করে। ইহা প্রথম বিমোক্ষ। অধ্যাত্মে অরূপ-সংজ্ঞী বাহিরে রূপ দর্শন করে। ইহা দ্বিতীয় বিমোক্ষ। “সুন্দর!” এই চিন্তায় অভিনিবিষ্ট হয়। ইহা তৃতীয় বিমোক্ষ। রূপ-সংজ্ঞাকে সর্বতোভাবে অতিক্রম করিয়া, প্রতিঘ সংজ্ঞা বিনাশ করিয়া, নানাত্ব সংজ্ঞায় উদাসীন হইয়া “আকাশ-অনন্ত” এই অনুভূতির সহিত আকাশ-অনন্ত-আয়তন উপলব্ধি করিয়া বিহার করে। ইহা চতুর্থ বিমোক্ষ। আকাশ-অনন্ত-আয়তন সর্বতোভাবে অতিক্রম করিয়া “বিজ্ঞান অনন্ত” এই অনুভূতির সহিত বিজ্ঞান-অনন্ত-আয়তন উপলব্ধি করিয়া বিহার করে। ইহা পঞ্চম বিমোক্ষ। বিজ্ঞান-অনন্ত-আয়তন সর্বতোভাবে অতিক্রম করিয়া “কিছুই নাই” এই অনুভূতির সহিত আকিঞ্চন-আয়তন উপলব্ধি করিয়া বিহার করে। ইহা ষষ্ঠ বিমোক্ষ। আকিঞ্চন-আয়তন সর্বতোভাবে অতিক্রম করিয়া নৈবসংজ্ঞা না-অসংজ্ঞা-আয়তন উপলব্ধি করিয়া বিহার করে। ইহা সপ্তম বিমোক্ষ। নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞা-আয়তন সর্বতোভাবে অতিক্রম করিয়া সংজ্ঞা-বেদয়িত-নিরোধ উপলব্ধি করিয়া বিহার করে। ইহা অষ্টম বিমোক্ষ। এই আট ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়।

তথাগত কর্তৃক সম্যকরূপে অভিসম্বুদ্ধ এই অশীতি ধর্ম ভূত, তথ্য, এইরূপ, অবিতথ, নিশ্চিত।

৩৫৯. নয় ধর্ম বহু উপকারী। নয় ধর্ম ভাবিতব্য, নয় ধর্ম জ্ঞাতব্য, নয় ধর্ম পরিত্যাজ্য, নয় ধর্ম হান-ভাগীয়, নয় ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়, নয় ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য, নয় ধর্ম উৎপাদনীয়, নয় ধর্ম অভিজ্ঞেয়, নয় ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়।

(১) কোন নয় ধর্ম বহু উপকারী? নয় সুশৃঙ্খল চিন্তা-মূলক ধর্ম। সুশৃঙ্খল চিন্তা হইতে প্রামোদ্যের উৎপত্তি হয়, প্রমুদিতের প্রীতি উৎপন্ন হয়, প্রীতিযুক্ত মনসম্পন্নের দেহ শান্ত হয়, শান্ত দেহ সুখানুভব করে, সুখীর চিত্ত সমাহিত হয়, সমাহিত চিত্তের দ্বারা যথারূপ জ্ঞাত ও দৃষ্ট হয়, উহা হইতে বিতৃষ্ণা জন্মে, বিতৃষ্ণা হইতে বৈরাগ্যের উৎপত্তি হয়, যিনি বীতরাগ তিনি মুক্ত হন। এই নয় ধর্ম বহু উপকারী।

(২) কোন নয় ধর্ম ভাবিতব্য? নয় পরিশুদ্ধি-প্রধানীয় অঙ্গ : শীল বিশুদ্ধি, চিত্ত-বিশুদ্ধি, দৃষ্টি-বিশুদ্ধি, সংশয়-মুক্তি-বিশুদ্ধি, মার্গামার্গজ্ঞান-দর্শন-বিশুদ্ধি, প্রতিপদাজ্ঞানদর্শন-বিশুদ্ধি, জ্ঞানদর্শন-বিশুদ্ধি, প্রজ্ঞা-বিশুদ্ধি, বিমুক্তি-বিশুদ্ধি। এই নয় ধর্ম ভাবিতব্য।

(৩) কোন নয় ধর্ম জ্ঞাতব্য? নয় সত্ত্বাবাস-সত্ত্বগণ বিদ্যমান যাঁহারা নানারূপ দেহসম্পন্ন এবং নানারূপ সংজ্ঞাসম্পন্ন; যথা : কোনো কোনো মনুষ্য, দেবতা এবং বিনিপাতিক (নিরয়বাসী)। ইহা প্রথম সত্ত্বাবাস। সত্ত্বগণ বিদ্যমান যাঁহারা নানারূপ দেহসম্পন্ন কিন্তু একইরূপ সংজ্ঞাবিশিষ্ট; যথা : ব্রহ্মলোকবাসী দেবগণ যাঁহারা প্রথম ধ্যানের অনুশীলনে ওইস্থানে উৎপন্ন হইয়াছেন। ইহা দ্বিতীয় সত্ত্বাবাস। সত্ত্বগণ বিদ্যমান যাঁহারা একইরূপ দেহবিশিষ্ট কিন্তু নানারূপ সংজ্ঞাসম্পন্ন; যথা :আভাস্বর দেবগণ। ইহা তৃতীয় সত্ত্বাবাস। সত্ত্বগণ বিদ্যমান যাঁহারা একইরূপ দেহ ও সংজ্ঞাবিশিষ্ট যথা : শুভ-কৃৎস্ন দেবগণ। ইহা চতুর্থ সত্ত্বাবাস। সত্ত্বগণ বিদ্যমান যাঁহাদের সংজ্ঞা নাই, বেদনা নাই; যথা : অসংজ্ঞ-সত্ত্ব দেবগণ। ইহা পঞ্চম সত্ত্বাবাস। সত্ত্বগণ বিদ্যমান যাঁহারা রূপ-সংজ্ঞাকে সর্বতোভাবে অতিক্রম করিয়া, প্রতিঘ-সংজ্ঞা বিনাশ করিয়া, নানাত্ব সংজ্ঞায় উদাসীন হইয়া “অনন্ত আকাশ” এই অনুভূতির সহিত আকাশ-অনন্ত-আয়তন স্তরে উপনীত হন। ইহা ষষ্ঠ সত্ত্বাবাস। সত্ত্বগণ, বিদ্যমান যাঁহারা আকাশ-অনন্ত-আয়তন সর্বতোভাবে অতিক্রম করিয়া “বিজ্ঞান অনন্ত” এই অনুভূতির সহিত বিজ্ঞান-অনন্ত-আয়তন স্তরে উপনীত হন। ইহা সপ্তম সত্ত্বাবাস। সত্ত্বগণ বিদ্যমান যাঁহারা বিজ্ঞান অনন্ত-আয়তন সর্বতোভাবে অতিক্রম করিয়া “কিছুই নাই” এই অনুভূতির সহিত আকিঞ্চণ্য-আয়তন স্তরে উপনীত হন। ইহা অষ্টম সত্ত্বাবাস। সত্ত্বগণ বিদ্যমান যাঁহারা আকিঞ্চণ্য-আয়তন সর্বতোভাবে অতিক্রম করিয়া “নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞা” আয়তন স্তরে উপনীত হন। ইহা নবম সত্ত্বাবাস। এই নয় ধর্ম জ্ঞাতব্য।

(৪) কোন নয় ধর্ম পরিত্যাজ্য? নয় তৃষ্ণা-মূলক ধর্ম : তৃষ্ণা হইতে পর্যেষণা, পর্যেষণা হইতে লাভ, লাভ হইতে বিনিশ্চয়, বিনিশ্চয় হইতে ছন্দ-রাগ, ছন্দ-রাগ হইতে সংসক্তি, সংসক্তি হইতে পরিগ্রহ, পরিগ্রহ হইতে মাৎসর্য, মাৎসর্য হইতে আরক্ষ, আরক্ষ হইতে দণ্ড গ্রহণ, শস্ত্র গ্রহণ, কলহ-বিগ্রহ-বিবাদ-দ্বন্দ্ব-পৈশুণ্য-মৃষাবাদ রূপ অনেক পাপ অকুশলের উৎপত্তি হয়। এই নয় ধর্ম পরিত্যাজ্য।

(৫) কোন নয় ধর্ম হান-ভাগীয়? নয় শত্রুতার ভিত্তি। “আমার অনিষ্ট করিয়াছে” এইরূপে শত্রুতা পোষণ করে। “আমার অনিষ্ট করিতেছে” এইরূপে শত্রুতা পোষণ করে। “আমার অনিষ্ট করিবে” এইরূপে শত্রুতা পোষণ করে। “আমার প্রিয় ও প্রীতির পাত্রের অনিষ্ট করিয়াছে অথবা করিতেছে অথবা করিবে” এইরূপে শত্রুতা পোষণ করে। এই নয় ধর্ম হান-ভাগীয়।

(৬) কোন নয় ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়? শত্রুতার ভিত্তির নয় প্রকার দমন। “আমার অনিষ্ট করিয়াছে” কিন্তু এইরূপ চিন্তা পোষণ করিয়া কী ফল লাভ হইবে?” এইরূপে শত্রুতা দমন করে। “আমার অনিষ্ট করিতেছে, কিন্তু এইরূপ চিন্তা করিয়া কি ফল লাভ হইবে?” এইরূপে শত্রুতা দমন করে। “আমার অনিষ্ট করিবে, কিন্তু এইরূপ চিন্তায় কী ফল লাভ হইবে? এইরূপে শত্রুতা দমন করে। “আমার প্রিয় ও প্রীতির পাত্রের অনিষ্ট করিয়াছে অথবা করিতেছে অথবা করিবে, কিন্তু এইরূপ চিন্তায় কী ফল লাভ হইবে? এইরূপে শত্রুতা দমন করে। এই নয় ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়।

(৭) কোন নয় ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য? নয় নানাত্ব : ধাতুর নানাত্ব হেতু স্পর্শের নানাত্ব জন্মে, স্পর্শের নানাত্ব হেতু বেদনার নানাত্ব জন্মে; বেদনার নানাত্ব হেতু সংজ্ঞার নানাত্ব জন্মে, সংজ্ঞার নানাত্ব হেতু সংকল্পের নানাত্ব জন্মে; সংকল্পের নানাত্ব হেতু ছন্দের নানাত্ব জন্মে, ছন্দের নানাত্ব হেতু প্রদাহের নানাত্ব জন্মে, প্রদাহের নানাত্ব হেতু পর্যেষণার নানাত্ব জন্মে; পর্যেষণার নানাত্ব হেতু লাভের নানাত্ব জন্মে। এই নয় ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য।

(৮) কোন নয় ধর্ম উৎপাদনীয়? নয় সংজ্ঞা : অশুভ-সংজ্ঞা, মরণ-সংজ্ঞা, আহারে প্রতিকূল সংজ্ঞা, সর্বলোকে অনভিরতি-সংজ্ঞা, অনিত্য-সংজ্ঞা, অনিত্যে-দুঃখ-সংজ্ঞা, দুঃখে অনাত্ম-সংজ্ঞা, প্রহাণ-সংজ্ঞা, বিরাগ-সংজ্ঞা। এই নয় ধর্ম উৎপাদনীয়।

(৯) কোন নয় ধর্ম অভিজ্ঞেয়? নয় অনুপূর্ব বিহার। ভিক্ষু কাম হইতে বিবিক্ত হইয়া, অকুশলধর্ম হইতে বিবিক্ত হইয়া, সবিতর্ক সবিচার বিবেকজ প্রীতিসুখ মণ্ডিত প্রথম ধ্যান লাভ করিয়া বিহার করেন। বিতর্ক-বিচারের উপশমে অধ্যাত্ম-সমপ্রসাদী, চিত্তের একীভাব আনয়নকারী, অবিতর্ক অবিচার সমাধিজ প্রীতিসুখ-মণ্ডিত দ্বিতীয় ধ্যান লাভ করিয়া বিহার করেন। প্রীতিতেও বৈরাগ্য উৎপাদন করিয়া উপেক্ষাসম্পন্ন, স্মৃতিমান ও সমপ্রজ্ঞাত হইয়া বিহার করেন; তিনি কায়ে সুখ অনুভব করেন-যে সুখ সম্বন্ধে আর্যগণ বলিয়া থাকেন “উপেক্ষক, স্মৃতিমান, সুখবিহারী” এবং এইরূপে তৃতীয় ধ্যান লাভ করিয়া বিহার করেন; সুখ ও দুঃখ উভয়ই বর্জন করিয়া, পূর্বেই সৌমনস্য-দৌর্মনস্যের তিরোভাব সাধন করিয়া অদুঃখ অসুখ রূপ উপেক্ষা ও স্মৃতি দ্বারা পরিশুদ্ধ চিত্তে চতুর্থ ধ্যান লাভ করিয়া বিহার করেন। রূপ-সংজ্ঞাকে সর্বতোভাবে অতিক্রম করিয়া, প্রতিঘ-সংজ্ঞা বিনাশ করিয়া, নানাত্ব-সংজ্ঞায় উদাসীন হইয়া “আকাশ-অনন্ত” এই অনুভূতির সহিত আকাশ অনন্ত-আয়তন উপলব্ধি করিয়া বিহার করেন। আকাশ-অনন্ত-আয়তন সর্বতোভাবে অতিক্রম করিয়া “বিজ্ঞান অনন্ত” এই অনুভূতির সহিত বিজ্ঞান-অনন্ত-আয়তন উপলব্ধি করিয়া বিহার করেন। বিজ্ঞান অনন্ত-আয়তন সর্বতোভাবে অতিক্রম করিয়া “কিছুই নাই” এই অনুভূতির সহিত আকিঞ্চন-আয়তন উপলব্ধি করিয়া বিহার করেন। আকিঞ্চন-আয়তন সর্বতোভাবে অতিক্রম করিয়া নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞা-আয়তন উপলব্ধি করিয়া বিহার করেন। নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞা-আয়তন সর্বতোভাবে অতিক্রম করিয়া সংজ্ঞা-বেদয়িত নিরোধ উপলব্ধি করিয়া বিহার করেন। এই নয় ধর্ম অভিজ্ঞেয়।

(১০) কোন নয় ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়? নয় অনুপূর্ব নিরোধ। যাঁহারা প্রথম ধ্যানে উপনীত তাঁহাদের কাম সংজ্ঞা নিরুদ্ধ হয়। যাঁহারা দ্বিতীয় ধ্যানে উপনীত তাঁহাদের বিতর্ক-বিচার নিরুদ্ধ হয়। যাঁহারা তৃতীয় ধ্যানে উপনীত তাঁহাদের প্রীতি নিরুদ্ধ হয়। যাঁহারা চতুর্থ ধ্যানে উপনীত তাঁহাদের আশ্বাস প্রশ্বাস নিরুদ্ধ হয়। যাঁহারা আকাশ-অনন্ত-আয়তন স্তরে উপনীত তাঁহাদের রূপ-সংজ্ঞা নিরুদ্ধ হয়। যাঁহারা বিজ্ঞান-অনন্ত-আয়তন স্তরে উপনীত তাঁহাদের আকাশ-অনন্ত-আয়তন সংজ্ঞা নিরুদ্ধ হয়। যাঁহারা আকিঞ্চন-আয়তন স্তরে উপনীত তাঁহাদের বিজ্ঞান- অনন্ত-আয়তন সংজ্ঞা নিরুদ্ধ হয়। যাঁহারা নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞা-আয়তন স্তরে উপনীত তাঁহাদের আকিঞ্চন আয়তন সংজ্ঞা নিরুদ্ধ হয়। যাঁহারা সংজ্ঞা-বেদয়িত-নিরোধ স্তরে উপনীত তাঁহাদের সংজ্ঞা ও বেদনা উভয়ই নিরুদ্ধ হয়। এই নয় ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়।

তথাগত কর্তৃক সম্যকরূপে অভিসম্বুদ্ধ এই নবতি ধর্ম ভূত, তথ্য, এইরূপ, অবিতথ, নিশ্চিত।

৩৬০. দশ ধর্ম বহু উপকারী, দশ ধর্ম ভাবিতব্য, দশ ধর্ম জ্ঞাতব্য, দশ ধর্ম পরিত্যাজ্য, দশ ধর্ম হান-ভাগীয় দশ ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়, দশ ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য, দশ ধর্ম উৎপাদনীয়, দশ ধর্ম অভিজ্ঞেয়, দশ ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়।

(১) কোন দশ ধর্র্র্র্ম বহু উপকারী? দশ নাথ-করণ ধর্ম। ভিক্ষু শীলবান এবং প্রাতিমোক্ষ-সংবর সংবৃত হইয়া বিহার করেন, আচার-গোচরসম্পন্ন এবং অনুমাত্র পাপে ভয়দর্শী হইয়া শিক্ষাপদসমূহ গ্রহণপূর্বক উহাদের পালন শিক্ষা করেন। ইহা নাথ-করণ ধর্ম। পুনশ্চ, ভিক্ষু বহুশ্রুত, শ্রুতধর এবং শ্রুত-সঞ্চয়সম্পন্ন হন। যে-সকল ধর্মের প্রারম্ভ কল্যাণময়, মধ্যকল্যাণময়, অন্তকল্যাণময়, যাহা অর্থ ও শব্দ সম্পদপূর্ণ, সর্বাঙ্গীন পূর্ণতাপ্রাপ্ত বিশুদ্ধ ব্রহ্মচর্যের প্রকাশক, ওই সকল ধর্মে তিনি বহুশ্রুত হন, উহাদিগকে ধারণ করেন, আবৃত্তি দ্বারা অনুক্ষণ উহাদের অনুশীলন করেন, উহাতে একাগ্রচিত্ত হন এবং সূক্ষ্ম দৃষ্টি দ্বারা উহাদের অন্তরে প্রবেশ করেন। ইহাও নাথ-করণ ধর্ম। পুনশ্চ, ভিক্ষু চরিত্রবানের মিত্র সহায় এবং ঘনিষ্ট বন্ধু হন। ইহাও নাথ-করণ ধর্ম। পুনশ্চ, ভিক্ষু সুবচ, বিনয়ানুকূল ধর্ম সমন্বিত, সহিষ্ণু অনুশাসনী গ্রহণে নিপুণ হন। ইহাও নাথ-করণ ধর্ম। পুনশ্চ, ভিক্ষু সব্রহ্মচারীগণের বিবিধ, কর্তব্যে দক্ষ ও অনলস হন, ওই সকলের পালন প্রণালির মীমাংসা করণে সক্ষম হন, কর্ম সম্পাদনে এবং সুব্যবস্থাকরণে সক্ষম হন। ইহাও নাথ-করণ ধর্ম। পুনশ্চ, তিনি ধর্ম ও ধর্মালাপে অনুরক্ত হন এবং অভিধর্ম ও অভিবিনয়ে বিপুল প্রীতিলাভ করেন। ইহাও নাথ-করণ ধর্ম। পুনশ্চ, ভিক্ষু যেকোনো প্রকার চীবর, পিণ্ডপাত, বাসস্থান এবং পীড়াকালের ওষুধ ও পথ্যে সন্তুষ্ট হন। ইহাও নাথ-করণ ধর্ম। পুনশ্চ, ভিক্ষু অকুশল ধর্মের পরিহারের নিমিত্ত, কুশলধর্ম লাভের নিমিত্ত বীর্যসম্পন্ন হন, তিনি কুশলধর্মসমূহে স্থামবান ও দৃঢ়পরাক্রম হন, কখনোই ভারনিক্ষেপ করেন না। ইহাও নাথ-করণ ধর্ম। পুনশ্চ, ভিক্ষু স্মৃতিসম্পন্ন হন, তিনি শ্রেষ্ঠ স্মৃতি-প্রাখর্যসমন্বিত হইয়া বহু পূর্বে কথিত অথবা কৃতের স্মরণ করেন। ইহাও নাথ-করণ ধর্ম। পুনশ্চ, ভিক্ষু প্রজ্ঞাবান হন, বস্তুসমূহের উৎপত্তি ও বিনাশের জ্ঞানসমন্বিত হন, আর্য, তীক্ষ্ম, সম্যক দুঃখ-ক্ষয়-প্রদায়িণী প্রজ্ঞা সমন্বিত হন। ইহাও নাথ-করণ ধর্ম। এই দশ ধর্ম বহু উপকারী।

(২) কোন দশ ধর্ম ভাবিতব্য? দশ কৃৎস্ন-আয়তন। কেহ ঊর্ধ্ব, অধঃ, তির্যক দিক অদ্বিতীয়, অপ্রমেয় পৃথিবী-কৃৎস্নরূপে অনুভব করে। কেহ ঊর্ধ্ব, অধঃ, তির্যক দিক অদ্বিতীয়, অপ্রমেয় আপ- কৃৎস্নরূপে অনুভব করে। কেহ ঊর্ধ্ব, অধঃ, তির্যক দিক অদ্বিতীয়, অপ্রমেয় তেজ- কৃৎস্নরূপে অনুভব করে। কেহ ঊর্ধ্ব, অধঃ, তির্যক দিক অদ্বিতীয়, অপ্রমেয় বায়ু- কৃৎস্নরূপে অনুভব করে। কেহ ঊর্ধ্ব, অধঃ, তির্যক দিক অদ্বিতীয়, অপ্রমেয় নীল-কৃৎস্নরূপে অনুভব করে। কেহ ঊর্ধ্ব, অধঃ, তির্যক দিক অদ্বিতীয়, অপ্রমেয় পীত-কৃৎস্নরূপে অনুভব করে। কেহ ঊর্ধ্ব, অধঃ, তির্যক দিক অদ্বিতীয়, অপ্রমেয় লোহিত-কৃৎস্নরূপে অনুভব করে। কেহ ঊর্ধ্ব, অধঃ, তির্যক দিক অদ্বিতীয়, অপ্রমেয় শুভ্র-কৃৎস্নরূপে অনুভব করে। কেহ ঊর্ধ্ব, অধঃ, তির্যক দিক অদ্বিতীয়, অপ্রমেয় আকাশ-কৃৎস্নরূপে অনুভব করে। কেহ ঊর্ধ্ব, অধঃ, তির্যক দিক অদ্বিতীয়, অপ্রমেয় বিজ্ঞান কৃৎস্নরূপে অনুভব করে। এই দশ ধর্ম ভাবিতব্য।

(৩) কোন দশ ধর্র্র্র্ম জ্ঞাতব্য? দশ-আয়তন : চক্ষু-আয়তন, রূপ-আয়তন, শ্রোত্র-আয়তন, শব্দায়তন, ঘ্রানায়তন, গন্ধায়তন, জিহ্বায়তন, রসায়তন, কায়ায়তন, স্প্রষ্টব্য-আয়তন। এই দশ ধর্ম জ্ঞাতব্য।

(৪) কোন দশ ধর্ম পরিত্যাজ্য? দশ মিথ্যাত্ব : মিথ্যাদৃষ্টি, মিথ্যা সংকল্প, মিথ্যা বাক্য, মিথ্যা কর্মান্ত, মিথ্যা আজীব, মিথ্যা ব্যায়াম, মিথ্যা স্মৃতি, মিথ্যা সমাধি, মিথ্যাজ্ঞান, মিথ্যাবিমুক্তি। এই দশ ধর্ম পরিত্যাজ্য।

(৫) কোন দশ ধর্ম হান-ভাগীয়? দশ অকুশল কর্মপথ। প্রাণাতিপাত, অদত্তের গ্রহণ, ব্যভিচার, মৃষাবাদ, পিশুনবাক্য, কর্কশবাক্য, তুচ্ছপ্রলাপ, অভিধ্যা, ব্যাপাদ, মিথ্যাদৃষ্টি। এই দশ ধর্ম হান-ভাগীয়।

(৬) কোন দশ ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়? দশ কুশল কর্মপথ। প্রাণাতিপাত হইতে বিরতি, অদত্তের গ্রহণ হইতে বিরতি, ব্যভিচার হইতে বিরতি, মৃষাবাদ হইতে বিরতি, পিশুনবাক্য হইতে বিরতি, কর্কশবাক্য হইতে বিরতি, তুচ্ছ প্রলাপ হইতে বিরতি, অনভিধ্যা, অব্যাপাদ, সম্যক দৃষ্টি। এই দশ ধর্ম বিশেষ-ভাগীয়।

(৭) কোন দশ ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য? দশ আর্যাবাস। ভিক্ষু পঞ্চাঙ্গ-বিপ্রহীন হন, ষড়াঙ্গযুক্ত হন, একারক্ষ হন, চতুর্বিধ আশ্রয়সমন্বিত হন, সাম্প্রদায়িক মতামত ত্যাগী হন, সম্পূর্ণরূপে বাসনামুক্ত হন, অনাবিল-সংকল্প হন, প্রশ্রদ্ধ-কায়-সংস্কার হন, সুবিমুক্ত-চিত্ত ও সুবিমুক্ত-প্রজ্ঞ হন। ভিক্ষু কিরূপে পঞ্চাঙ্গ-বিপ্রহীন হন? তিনি কামছন্দ, ব্যাপাদ, স্ত্যানমিদ্ধ, ঔদ্ধত্য-কৌকৃত্য এবং বিচিকিৎসা পরিহার করেন। এইরূপে তিনি পঞ্চাঙ্গ-বিপ্রহীন হন। ভিক্ষু কিরূপে ষড়াঙ্গযুক্ত হন? তিনি চক্ষু দ্বারা রূপ দর্শন করিয়া সুমনা অথবা দুর্মনা হন না, তিনি উপেক্ষা, স্মৃতি ও সম্প্রজ্ঞানসমন্বিত হইয়া বিহার করেন। শ্রোত্র দ্বারা শব্দ শ্রবণ করিয়া সুমনা অথবা দুর্মনা হন না, তিনি উপেক্ষা, স্মৃতি ও সম্প্রজ্ঞানসমন্বিত হইয়া বিহার করেন। ঘ্রাণ দ্বারা গন্ধ আঘ্রাণ করিয়া সুমনা অথবা দুর্মনা হন না, তিনি উপেক্ষা, স্মৃতি ও সম্প্রজ্ঞানসমন্বিত হইয়া বিহার করেন। জিহ্বার দ্বারা রস আস্বাদন করিয়া সুমনা অথবা দুর্মনা হন না, তিনি উপেক্ষা, স্মৃতি ও সম্প্রজ্ঞানসমন্বিত হইয়া বিহার করেন। কায় দ্বারা স্প্রষ্টব্য স্পর্শ করিয়া সুমনা অথবা দুর্মনা হন না, তিনি উপেক্ষা, স্মৃতি ও সম্প্রজ্ঞানসমন্বিত হইয়া বিহার করেন। মন দ্বারা ধর্ম বিজ্ঞাত হইয়া সুমনা অথবা দুর্মনা হন না, তিনি উপেক্ষা, স্মৃতি ও সম্প্রজ্ঞানসমন্বিত হইয়া বিহার করেন। এইরূপে ভিক্ষু ষড়াঙ্গযুক্ত হন।

কীরূপে ভিক্ষু একারক্ষ হন? ভিক্ষু স্মৃতি-রক্ষিত চিত্তসমন্বিত হন। এইরূপে তিনি একারক্ষ হন। কিরূপে ভিক্ষু চতুর্বিধ আশ্রয়সমন্বিত হন? ভিক্ষু সম্যক বিচারান্তে বস্তু বিশেষের সেবা করেন, ওইরূপে বস্তু বিশেষ স্বীকার করিয়া লন, বস্তু বিশেষ বর্জন করেন, বস্তু বিশেষ দমন করেন। এইরূপে ভিক্ষু চতুর্বিধ আশ্রয়সমন্বিত হন। কিরূপে ভিক্ষু সাম্প্রদায়িক মতামত ত্যাগী হন? শ্রমণ ও ব্রাহ্মণগণের সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িক মতামত ভিক্ষু কর্তৃক দূরীভূত হয়, উদ্গীর্ণ হয়, মুক্ত হয়, লুপ্ত হয়, পরিবর্জিত হয়। এইরূপে ভিক্ষু সাম্প্রদায়িক মতামত ত্যাগী হন। কিরূপে ভিক্ষু সর্ব বাসনা হইতে মুক্ত হন? ভিক্ষুর কামেষণা ও ভবেষণা পরিত্যক্ত হয়, ব্রহ্মচর্যেষণা শান্ত হয়। এইরূপে ভিক্ষু সর্ববাসনা হইতে মুক্ত হন। কিরূপে ভিক্ষু অনাবিল-সংকল্প হন? ভিক্ষুর কাম-সংকল্প পরিত্যক্ত হয়, ব্যাপাদ ও বিহিংসা-সংকল্প পরিত্যক্ত হয়। এইরূপে ভিক্ষু অনাবিল-সংকল্প হন। ভিক্ষু কিরূপে প্রশ্রব্ধ-কায় সংস্কার হন? ভিক্ষু সুখ ও দুঃখ উভয়ই বর্জন করিয়া, পূর্বেই সৌমনস্য-দৌর্মনস্যের তিরোভাব সাধন করিয়া, না-দুঃখ-না-সুখ রূপ উপেক্ষা ও স্মৃতি দ্বারা পরিশুদ্ধ চিত্তে চতুর্থ ধ্যান লাভ করিয়া বিরাজ করেন। এইরূপে ভিক্ষু প্রশ্রব্ধ-কায়-সংস্কার হন। কিরূপে ভিক্ষু সুবিমুক্ত-চিত্ত হন? ভিক্ষুর চিত্ত রাগ হইতে বিমুক্ত হয়, দ্বেষ হইতে বিমুক্ত হয়, মোহ হইতে বিমুক্ত হয়। ভিক্ষু এইরূপে সুবিমুক্ত-চিত্ত হন। কিরূপে ভিক্ষু সুবিমুক্ত-প্রজ্ঞ হন? ভিক্ষু অবগত হন যে, তাঁহার রাগ, দ্বেষ, ও মোহ পরিত্যক্ত, উচ্ছিন্ন-মূল, ভিত্তিচ্যুত তালবৃক্ষ-সম, অস্তিত্বহীন এবং পুনরায় উৎপত্তির অযোগ্য হইয়াছে। এইরূপে ভিক্ষু সুবিমুক্ত-প্রজ্ঞ হন। এই দশ ধর্ম দুষ্প্রতিবেধ্য।

(৮) কোন দশ ধর্ম উৎপাদনীয়? দশ সংজ্ঞা : অশুভ-সংজ্ঞা, মরণ-সংজ্ঞা, আহারে প্রতিকূল সংজ্ঞা, সর্বলোকে অনভিরতি-সংজ্ঞা, অনিত্য-সংজ্ঞা, অনিত্যে-দুঃখ-সংজ্ঞা, দুঃখে অনাত্ম-সংজ্ঞা, প্রহাণ-সংজ্ঞা, বিরাগ-সংজ্ঞা এবং নিরোধ সংজ্ঞা। এই দশ ধর্ম উৎপাদনীয়।

(৯) কোন দশ ধর্ম অভিজ্ঞেয়? দশ নির্জর-বস্তু : সম্যক দৃষ্টিসম্পন্নের মিথ্যাদৃষ্টি ক্ষীণ হইয়া যায়, যে-সকল পাপ-অকুশলধর্ম মিথ্যাদৃষ্টি হইতে উৎপন্ন হয়, ওই সকলও তাঁহার ক্ষীণ হইয়া যায়, সম্যক দৃষ্টি হেতু বহু কুশলধর্ম ভাবনা দ্বারা পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়। সম্যক সংকল্পসম্পন্নের মিথ্যা সংকল্প ক্ষীণ হইয়া যায়, যে-সকল পাপ-অকুশলধর্ম মিথ্যা সংকল্প হইতে উৎপন্ন হয়, ওই সকলও তাঁহার ক্ষীণ হইয়া যায়, সম্যক সংকল্প হেতু বহু কুশলধর্ম ভাবনা দ্বারা পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়। সম্যক বাক্যসম্পন্নের মিথ্যা বাক্য ক্ষীণ হইয়া যায়, যে-সকল পাপ-অকুশলধর্ম মিথ্যা বাক্য হইতে উৎপন্ন হয়, ওই সকলও তাঁহার ক্ষীণ হইয়া যায় সম্যক বাক্য হেতু বহু কুশলধর্ম ভাবনা দ্বারা পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়। সম্যক কর্মান্তসম্পন্নের মিথ্যা কর্মান্ত ক্ষীণ হইয়া যায়, যে-সকল পাপ-অকুশলধর্ম মিথ্যা কর্মান্ত হইতে উৎপন্ন হয়, ওই সকলও তাঁহার ক্ষীণ হইয়া যায়, সম্যক কর্মান্তহেতু বহু কুশলধর্ম ভাবনা দ্বারা পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়। সম্যক আজীবসম্পন্নের মিথ্যা আজীব ক্ষীণ হইয়া যায়, যে-সকল পাপ-অকুশলধর্ম মিথ্যা আজীব হইতে উৎপন্ন হয়, ওই সকলও তাঁহার ক্ষীণ হইয়া যায়, সম্যক আজীব হেতু বহু কুশলধর্ম ভাবনা দ্বারা পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়। সম্যক ব্যায়ামসম্পন্নের মিথ্যা ব্যায়াম ক্ষীণ হইয়া যায়, যে-সকল পাপ-অকুশলধর্ম মিথ্যা ব্যায়াম হইতে উৎপন্ন হয়, ওই সকলও তাঁহার ক্ষীণ হইয়া যায়, সম্যক ব্যায়াম হেতু বহু কুশলধর্ম ভাবনা দ্বারা পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়। সম্যক স্মৃতিসম্পন্নের মিথ্যা স্মৃতি ক্ষীণ হইয়া যায়, যে-সকল পাপ-অকুশলধর্ম মিথ্যা স্মৃতি হইতে উৎপন্ন হয়, ওই সকলও তাঁহার ক্ষীণ হইয়া যায়, সম্যক স্মৃতি হেতু বহু কুশলধর্ম ভাবনা দ্বারা পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়। সম্যক সমাধিসম্পন্নের মিথ্যা সমাধি ক্ষীণ হইয়া যায়, যে-সকল পাপ-অকুশলধর্ম মিথ্যা সমাধি হইতে উৎপন্ন হয়, ওই সকলও তাঁহার ক্ষীণ হইয়া যায়, সম্যক সমাধি হেতু বহু কুশলধর্ম ভাবনা দ্বারাপূর্ণতা প্রাপ্ত হয়। সম্যক জ্ঞানসম্পন্নের মিথ্যাজ্ঞান ক্ষীণ হইয়া যায়, যে-সকল পাপ-অকুশলধর্ম মিথ্যাজ্ঞান হইতে উৎপন্ন হয়, ওই সকলও তাঁহার ক্ষীণ হইয়া যায়, সম্যক জ্ঞান হেতু বহু কুশলধর্ম ভাবনা দ্বারা পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়। সম্যক বিমুক্তিসম্পন্নের মিথ্যাবিমুক্তি ক্ষীণ হইয়া যায়, যে-সকল পাপ-অকুশলধর্ম মিথ্যাবিমুক্তি হইতে উৎপন্ন হয়, ওই সকলও তাঁহার ক্ষীণ হইয়া যায়, সম্যক বিমুক্তিহেতু বহু কুশলধর্ম ভাবনা দ্বারা পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়। এই দশ ধর্ম অভিজ্ঞেয়।

(১০) কোন দশ ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়? দশ অশৈক্ষ্য ধর্ম : সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্মান্ত, সম্যক আজীব, সম্যক ব্যায়াম, সম্যক স্মৃতি, সম্যক সমাধি, সম্যক জ্ঞান (অন্তর্দৃষ্টি), সম্যক বিমুক্তি। এই দশ ধর্ম সাক্ষাৎ করণীয়।

তথাগত কর্তৃক সম্যকরূপে অভিসম্বুদ্ধ এই শত ধর্ম ভূত, তথ্য, এইরূপ, অবিতথ, নিশ্চিত।

আয়ুষ্মান সারিপুত্র এইরূপ বলিলেন। আনন্দিত হইয়া ভিক্ষুগণ সারিপুত্রের বাক্যের অভিনন্দন করিলেন।

দসুত্তর সূত্রান্ত সমাপ্ত।

পাথিক-বর্গ সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [২]