লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [৪৪]

সর্বাসব-সূত্র

আমি এইরূপ শুনিয়াছি।

১. একসময় ভগবান শ্রাবস্তী-সমীপে অবস্থান করিতেছিলেন-জেতবনে, অনাথপিণ্ডিকের আরামে। ভগবান (সমবেত) ভিক্ষুদিগকে আহ্বান করিলেন, ‘হে ভিক্ষুগণ’। ‘হাঁ ভদন্ত’ বলিয়া ভিক্ষুগণ প্রত্যুত্তরে সম্মতি জানাইলেন। ভগবান কহিলেন, হে ভিক্ষুগণ, আমি সর্বাসবসংবর-পর্যায় (সর্বাসবসংবর-সূত্র) তোমাদের নিকট উপদেশ প্রদান করিব, তাহা শ্রবণ করো, উত্তমরূপে মনোনিবেশ করো, আমি তাহা বিবৃত করিতেছি। ‘যথা আজ্ঞা, প্রভো’ বলিয়া ভিক্ষুগণ প্রত্যুত্তরে সম্মতিজ্ঞাপন করিলেন। ভগবান কহিলেন :

২. হে ভিক্ষুগণ, আমি সত্যই আসবক্ষয় জানিয়া এবং দেখিয়া তদ্‌বিষয় বিবৃত করিতেছি, না জানিয়া, না দেখিয়া নহে। কিরূপে এই বিষয়টি জানিলে, কিরূপে দেখিলে আসবক্ষয় সাধিত হয়? মনস্কার দুই প্রকার : যোনিশ (অবধানত), অযোনিশ (অনবধানত)। অযোনিশ অনবধানত মনস্কার করিলে অনুৎপন্ন আসব উৎপন্ন হয়, উৎপন্ন আসব প্রবর্ধিত হয়। [পক্ষান্তরে] যোনিশ অবধানত মনস্কার করিলে শুধু অনুৎপন্ন আসব উৎপন্ন হয় না নহে, উৎপন্ন আসবও পরিত্যক্ত হয়। হে ভিক্ষুগণ, এমন কতকগুলি আসব আছে যাহা দর্শন দ্বারা পরিত্যক্ত হয়, কতকগুলি সংবর দ্বারা, কতকগুলি প্রতিসেবন দ্বারা, কতকগুলি অধিবাসন দ্বারা, কতকগুলি পরিবর্জন দ্বারা, কতকগুলি অপনোদন দ্বারা আর কতকগুলি ভাবনা দ্বারা পরিত্যক্ত হয়।

৩. হে ভিক্ষুগণ, কোন কোন আসব দর্শন দ্বারা পরিত্যক্ত হয়? হে ভিক্ষুগণ, অশ্রুতবান পৃথগ্‌জন (অনভিজ্ঞ সাধারণজন), যে আর্যগণের দর্শন লাভ করে নাই, যে আর্যধর্মে অকোবিদ, আর্যধর্মে অবিনীত, যে সৎপুরুষগণের দর্শন লাভ করে নাই, যে সৎপুরুষধর্মে অকোবিদ, সৎপুরুষ-ধর্মে অবিনীত, যে মনস্করণীয় (মননযোগ্য) ধর্ম কী ভালোরূপে জানে না, অমনস্করণীয় (অমননযোগ্য) ধর্ম কী তাহাও ভালোরূপে জানে না, সে মনস্করণীয় ধর্ম কী ভালো না জানিয়া, অমনস্করণীয় ধর্ম কী তাহাও ভালো না জানিয়া যে-সকল ধর্ম (বিষয়) মনস্করণীয় (মননযোগ্য) নহে সে-সকল ধর্মে (বিষয়ে) মনস্কার করে। যে-সকল ধর্ম (বিষয়) মনস্করণীয় (মননযোগ্য) সে-সকল ধর্মে (বিষয়ে) মনস্কার করে না। কোন কোন ধর্ম মনস্করণীয় নহে, অথচ সে-সকল বিষয়ে মনস্কার করে? হে ভিক্ষুগণ, যে-সকল ধর্ম মনন করিলে অনুৎপন্ন কামাসব উৎপন্ন হয়, উৎপন্ন কামাসব প্রবর্ধিত হয়, অনুৎপন্ন ভবাসব উৎপন্ন এবং উৎপন্ন ভবাসব প্রবর্ধিত হয়, অনুৎপন্ন অবিদ্যাসব উৎপন্ন এবং উৎপন্ন অবিদ্যাসব প্রবর্ধিত হয়, এই সকল ধর্ম মনস্করণীয় নহে, যে-সকল ধর্ম সে মনন করে। কোন কোন ধর্ম মনস্করণীয় (মননযোগ্য) যে-সকল সে মনন করে না? হে ভিক্ষুগণ, যে-সকল ধর্ম মনন করিলে অনুৎপন্ন কামাসব উৎপন্ন হয় না, উৎপন্ন কামাসব প্রহীন হয়, অনুৎপন্ন ভবাসব উৎপন্ন হয় না, উৎপন্ন ভবাসব প্রহীন হয়, অনুৎপন্ন অবিদ্যাসব উৎপন্ন হয় না, উৎপন্ন অবিদ্যাসব প্রহীন হয়, এই সকল ধর্ম মনস্করণীয় যে-সকল সে মনন করে না। অমনস্করণীয় (অমননযোগ্য) ধর্ম মনন এবং মনস্করণীয় (মননযোগ্য) ধর্ম মনন না করিবার ফলে তাহার অনুৎপন্ন আসব উৎপন্ন হয় এবং উৎপন্ন আসব প্রবর্ধিত হয়। সে এইরূপে অযোনিশ অনবধানত মনন করিতে থাকে : ‘আমি পূর্বে, সুদীর্ঘ অতীতে কি ছিলাম কিংবা ছিলাম না? কীভাবে ছিলাম, কী হইতে পরে কী হইয়াছিলাম? আমি কি ভবিষ্যতে, সুদীর্ঘ অনাগতে থাকিব কিংবা থাকিব না? কীভাবে থাকিব, কী হইতে বা কী হইব?’ সে প্রত্যুৎপন্ন (বর্তমান) সম্বন্ধেও নিজে নিজে ‘কথংকথী’ (সংশয়াপন্ন) হয় : ‘আমি এখন আছি কি নাই? কীভাবে আছি? আমার এই সত্তা কোথা হইতে আসিয়াছে এবং কোথায়ই বা যাইবে?’ এইরূপে অযোনিশ অনবধানত মনন করিবার ফলে নিম্নোক্ত ছয় দৃষ্টির (ছয় প্রকার ধারণার) কোনো না কোনো একটি উপজাত হয়; তাহাতে সত্যত, যথার্থত এইরূপ ধারণা বা দৃষ্টি উপজাত হয় : (১) ‘আমার আত্মা আছে’, (২) ‘আমার আত্মা বলিয়া কিছু নাই’, (৩) ‘আমি আত্মার দ্বারা আত্মাকে জানিতে পারি’, (৪) ‘আমি আত্মার দ্বারা অনাত্মাকে জানিতে পারি’, (৫) ‘আমি অনাত্মার দ্বারা আত্মাকে জানিতে পারি’, অথবা এইরূপ দৃষ্টি (ধারণা) জন্মে : (৬) ‘এই যে আমার আত্মা যাহা স্বয়ং বেত্তা (জ্ঞাতা) এবং বেদ্য (জ্ঞেয়), যাহা তত্র তত্র, জন্মজন্মান্তরে পাপ-কল্যাণ, শুভাশুভ কর্মের বিপাক (পরিণাম) ভোগ করে, সেই আমার নিত্য ধ্রুব অবিপরিণামী আত্মা শাশ্বতকাল, চিরদিন, একইভাবে থাকিবে।’ হে ভিক্ষুগণ, ইহাকেই বলে দৃষ্টিগতি, দৃষ্টিগহন, দৃষ্টিকান্তার, দৃষ্টিকৌতুক, দৃষ্টি-বিস্পন্দন, দৃষ্টি-সংযোজন, দৃষ্টি-বৈচিত্র্যের অভ্যুদয়। হে ভিক্ষুগণ, আমি বলি, দৃষ্টি-সংযোজন-সংযুক্ত (একদেশদর্শী, মতবাদনিবদ্ধ,) অশ্রুতবান পৃথগ্‌জন (অনভিজ্ঞ সাধারণজন) জন্ম, জরা, মরণ, শোক, পরিদেবন, দুঃখ, দৌর্মনস্য ও নৈরাশ্য হইতে, সংক্ষেপে দুঃখ (অন্তর্দ্বন্দ্ব) হইতে পরিমুক্ত হইতে পারে না।

[পক্ষান্তরে] হে ভিক্ষুগণ, যিনি শ্রুতবান আর্যশ্রাবক, উন্নত বুদ্ধশিষ্য, যিনি আর্যগণের দর্শন লাভ করিয়াছেন, আর্যধর্মে কোবিদ, আর্যধর্মে সুবিনীত, যিনি সৎপুরুষগণের দর্শন লাভ করিয়াছেন, যিনি সৎপুরুষধর্মে কোবিদ, সৎপুরুষধর্মে সুবিনীত, মনস্করণীয় ধর্ম ভালোরূপে জানেন, অমনস্করণীয় ধর্মও জানেন, যিনি মনস্করণীয় ধর্ম ভালোরূপে জানিয়া, অমনস্করণীয় ধর্মও ভালোরূপে জানিয়া যে-ধর্ম মনস্করণীয় নহে তাহা মনন করেন না, যে-ধর্ম মনস্করণীয় তাহা মনন করেন। কোন কোন ধর্ম মনস্করণীয় নহে যাহা তিনি মনন করেন না? যে-ধর্ম মনন করিলে অনুৎপন্ন কামাসব উৎপন্ন হয়, উৎপন্ন কামাসব প্রবর্ধিত হয়, অনুৎপন্ন ভবাসব ও অবিদ্যাসব উৎপন্ন হয়, উৎপন্ন ভবাসব ও অবিদ্যাসব প্রবর্ধিত হয়, এই সকল ধর্ম মনস্করণীয় নহে যে-সকল ধর্ম তিনি মনন করেন না। হে ভিক্ষুগণ, কোন কোন ধর্ম মনস্করণীয় যে-সকল তিনি মনন করেন? যে-ধর্ম মনন করিলে অনুৎপন্ন কামাসব উৎপন্ন হয় না, উৎপন্ন কামাসব প্রহীন হয়, অনুৎপন্ন ভবাসব ও অবিদ্যাসব উৎপন্ন হয় না, উৎপন্ন ভবাসব ও অবিদ্যাসব প্রহীন হয়, এই সকল ধর্ম মনস্করণীয় যে-সকল তিনি মনন করেন। অমনস্করণীয় ধর্ম মনন না করিলে, মনস্করণীয় ধর্ম মনন করিলে অনুৎপন্ন আসব উৎপন্ন হয় না, উৎপন্ন আসব প্রহীন হয়। তিনি এইরূপে যোনিশ (অবধানত) মনন করিয়া থাকেন : ‘ইহা দুঃখ’, ‘ইহা দুঃখসমুদয়’, ‘ইহা দুঃখনিরোধ’, ‘ইহাই দুঃখনিরোধগামী প্রতিপদ’। এইরূপে যোনিশ মনন অভ্যাস করিলে ত্রিবিধ সংযোজন প্রহীন হয় : প্রথম সংযোজন সৎকায়-দৃষ্টি (আত্মবাদ), দ্বিতীয়, বিচিকিৎসা (সংশয়বাদ), তৃতীয়, শীলব্রত-পরামর্শ (ব্রতশুদ্ধিবাদ)। হে ভিক্ষুগণ, এই সকল আসবই দর্শন দ্বারা পরিত্যক্ত হয়।

৪. হে ভিক্ষুগণ, কোন কোন আসব সংবর দ্বারা পরিত্যক্ত হয়? ভিক্ষু প্রতিসংখ্যা যোনিশ (তদভিমুখী জ্ঞানাবধান দ্বারা) চক্ষু-ইন্দ্রিয়-সংবর-সংবৃত হইয়া, চক্ষু-ইন্দ্রিয়-সংযম দ্বারা সংযত হইয়া অবস্থান করেন। চক্ষু-ইন্দ্রিয়-সংবর বিষয়ে অসংবৃত হইয়া অবস্থান করিলে যে-সকল আসব ও ক্লেশপরিদাহ উৎপন্ন হইয়া থাকে, চক্ষু-ইন্দ্রিয়-সংবর দ্বারা সংবৃত হইয়া অবস্থান করিলে সে-সকল আসব ও ক্লেশপরিদাহ উৎপন্ন হয় না। শ্রবণ-ইন্দ্রিয়, ঘ্রাণ-ইন্দ্রিয়, রসনা-ইন্দ্রিয়, ত্বক-ইন্দ্রিয়, মন-ইন্দ্রিয়-সংবর সম্বন্ধেও এইরূপ। হে ভিক্ষুগণ, এই সকল আসবই সংবর দ্বারা পরিত্যক্ত হয়।

৫. হে ভিক্ষুগণ, কোন কোন আসব প্রতিসেবন দ্বারা পরিত্যক্ত হয়? ভিক্ষু প্রতিসংখ্যা যোনিশ (তদভিমুখী জ্ঞানাবধান দ্বারা) চীবর প্রতিসেবন (ব্যবহার) করেন, শীতোষ্ণ-দংশ-মশক-বাতাতপ-সরীসৃপ-সংস্পর্শ প্রতিহত করিবার পক্ষে যতটা প্রয়োজন, লজ্জা নিবারণের জন্য, দেহাচ্ছাদনের জন্য যতটা প্রয়োজন। তিনি এইভাবে পিণ্ডপাত (ভিক্ষান্ন) প্রতিসেবন করেন : তাহা মদোল্লাসের জন্য নহে, দেহ-সৌষ্ঠবের জন্য নহে, তাহা শুধু দেহস্থিতির জন্য, ব্রহ্মচর্য-অনুগ্রহার্থ, ‘যাহাতে অতীত বেদন প্রতিহনন করিতে পারি’, ‘নূতন বেদন উৎপাদন না করি’, ‘যাহাতে আমার জীবনযাত্রা অনবদ্য ও স্বচ্ছন্দবিহার হয়’। তিনি এইভাবে শয্যাসন প্রতিসেবন করেন, শীতোষ্ণ-দংশ-মশক-বাতাতপ-সরীসৃপ-সংস্পর্শ প্রতিহত করিবার পক্ষে যতটা প্রয়োজন, প্রচ্ছন্ন ঋতুভীতি অপনোদনের জন্য যতটা প্রয়োজন। তিনি এইভাবেই রোগীপথ্য ও ভৈষজ্যোপকরণ প্রতিসেবন করেন, উৎপন্ন ব্যথাবেদনা প্রতিহত করিবার জন্য, অবৈকল্য-পরমতা সাধনের জন্য যতটা প্রয়োজন। উক্ত প্রকারে ব্যবহার্য বস্তুসমূহ প্রতিসেবন না করিলে যে-সকল আসব ও ক্লেশপরিদাহ উৎপন্ন হয়, তৎসমস্ত প্রতিসেবন করিলে তাহাতে সে-সকল আসব ও ক্লেশপরিদাহ উৎপন্ন হয় না। হে ভিক্ষুগণ, এই সকল আসব প্রতিসেবন দ্বারা পরিত্যক্ত হয়।

৬. হে ভিক্ষুগণ, কোন কোন আসব অধিবাসন দ্বারা পরিত্যক্ত হয়? ভিক্ষু প্রতিসংখ্যা যোনিশ (তদভিমুখী জ্ঞানাবধান দ্বারা) শীতোষ্ণ, ক্ষুৎপিপাসা, দংশ-মশক-বাতাতপ-সরীসৃপ-সংস্পর্শ সহনক্ষম হন, দুর্ভাষ (দুর্বাক্য), উৎপন্ন শারীরিক বেদনা, স্বভাবত তীব্র তীক্ষ্ণ কটুত্ব, অসাত (বিরক্তিকর), অমনোজ্ঞ এবং প্রাণহর দুঃখ অধিবাসন-সমর্থ হন। হে ভিক্ষুগণ, অধিবাসন (সহ্য) না করিলে যে-সকল আসব ও ক্লেশপরিদাহ উৎপন্ন হয়, অধিবাসন করিবার ফলে সে-সকল আসব ও ক্লেশপরিদাহ উৎপন্ন হয় না। হে ভিক্ষুগণ, এই সকল আসবই অধিবাসন দ্বারা পরিত্যক্ত হয়।

৭. হে ভিক্ষুগণ, কোন কোন আসব পরিবর্জন দ্বারা পরিত্যক্ত হয়? ভিক্ষু প্রতিসংখ্যা যোনিশ (তদভিমুখী জ্ঞানাবধান দ্বারা) চণ্ড-হস্তী, চণ্ড-অশ্ব, গোবৃষ, অহি-কুক্কুর পরিবর্জন করেন, স্থাণুকণ্টক, শ্বভ্র-প্রপাত, চন্দনিকা অবটগল্লা পরিহার করেন, যে-রূপ অনাসনে, অযোগ্য আসনে, উপবেশন করিলে, যে-রূপ অগোচরে, অবিচরণযোগ্য স্থানে, বিচরণ করিলে, যাদৃশ পাপমিত্রের সাহচর্য করিলে বিজ্ঞ সহবিহারিগণ ব্যক্তিবিশেষকে পাপস্থানগত বলিয়া ধারণা করিতে পারেন, সেরূপ অনাসন, অগোচর ও তাদৃশ পাপমিত্র পরিহার করিয়া চলেন। যে-সমস্ত পরিবর্জন না করিলে যে-সকল আসব ও ক্লেশপরিদাহ উৎপন্ন হয়, তৎসমস্ত পরিহার করিবার ফলে সে-সকল আসব ও ক্লেশপরিদাহ উৎপন্ন হয় না। হে ভিক্ষুগণ, এই সকল আসবই পরিবর্জন দ্বারা পরিত্যক্ত হয়।

৮. হে ভিক্ষুগণ, কোন কোন আসব অপনোদন দ্বারা পরিত্যক্ত হয়? ভিক্ষু প্রতিসংখ্যা যোনিশ (তদভিমুখী জ্ঞানাবধান দ্বারা) উৎপন্ন কাম-বিতর্ক, ব্যাপাদ-বিতর্ক, বিহিংসা-বিতর্ক পোষণ না করিয়া পদত্যাগ করেন, অপনোদন করেন, অস্তিত্ব লুপ্ত করেন, অনুৎপন্ন পাপ অকুশল ধর্মসমূহও পোষণ করেন না। যে-সমস্ত অপনোদন না করিলে যে-সকল আসব ও ক্লেশপরিদাহ উৎপন্ন হয়, তৎসমস্ত অপনোদন করিবার ফলে সে-সকল আসব ও ক্লেশপরিদাহ উৎপন্ন হয় না। হে ভিক্ষুগণ, এই সকল আসবই অপনোদন দ্বারা পরিত্যক্ত হয়।

৯. হে ভিক্ষুগণ, কোন কোন আসব ভাবনা দ্বারা পরিত্যক্ত হয়? ভিক্ষু প্রতিসংখ্যা যোনিশ (তদভিমুখী জ্ঞানাবধান দ্বারা) স্মৃতি, ধর্মবিচয় (ধর্মবিচার), বীর্য, প্রীতি, প্রশ্রদ্ধি (প্রশান্তি), সমাধি ও উপেক্ষা, এই সপ্তবোধ্যঙ্গ ভাবেন, বর্ধিত করেন। যে-সমস্ত ভাবনা না করিলে যে-সকল আসব ও ক্লেশপরিদাহ উৎপন্ন হয়, তৎসমস্ত ভাবনা করিবার ফলে সে-সকল আসব ও ক্লেশপরিদাহ উৎপন্ন হয় না। হে ভিক্ষুগণ, এই সকল আসবই ভাবনা দ্বারা পরিত্যক্ত হয়।

১০. যেহেতু সেই ভিক্ষুতে যে-সকল আসব দর্শন দ্বারা পরিত্যাজ্য তাহা দর্শন দ্বারা পরিত্যক্ত হয়, যে-সকল আসব সংবর, প্রতিসেবন, অধিবাসন, পরিবর্জন, অপনোদন ও ভাবনা দ্বারা পরিত্যাজ্য তাহা সংবর, প্রতিসেবন, অধিবাসন, পরিবর্জন, অপনোদন ও ভাবনা দ্বারা পরিত্যক্ত হয়, তদ্ধেতু কথিত হয়, তিনি সর্বাসব-সংবরে সংবৃত হইয়া অবস্থান করেন, তৃষ্ণা ছেদন করিয়াছেন, সংযোজন ব্যাবর্তন করিয়াছেন, সম্পূর্ণরূপে অভিমানের মূল অভিজ্ঞাত হইয়া সর্বদুঃখের অন্তসাধন করেন।

ভগবান ইহা বিবৃত করিলেন। ভিক্ষুগণ প্রসন্নমনে তাহা শ্রবণ করিয়া আনন্দ প্রকাশ করিলেন।

সর্বাসব-সূত্র সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [৫]