লোড হচ্ছে

Monastic Law

PLI-TV-BU-VB-SS3 দুট্ঠুল্ল কথা সম্বন্ধীয় শিক্ষাপদ

অনুবাদসমূহ [৬]

দুট্ঠুল্ল কথা সম্বন্ধীয় শিক্ষাপদ

স্থান : শ্রাবস্তী

সে সময়ে ভগবান বুদ্ধ শ্রাবস্তীর অনাথপিণ্ডিক কর্তৃক নির্মিত জেতবন আরামে অবস্থান করছিলেন। ঐ সময়ে আয়ুষ্মান উদায়ী অরণ্যে বাস করছিলেন। সেই আয়ুষ্মানের বিহার দেখতে অভিরূপ, দর্শনীয় ও প্রাসাদিক ছিল। তখন স্বল্পসংখ্যক স্ত্রীলোক সেই আরামে গিয়ে যেস্থানে আয়ুষ্মান উদায়ী সেস্থানে উপস্থিত হয়ে; আয়ুষ্মান উদায়ীকে এরূপ বললেন, “ভন্তে, আমরা আর্যের এই বিহার পরিদর্শন করতে ইচ্ছুক।” তখন আয়ুষ্মান উদায়ী সেই স্ত্রীলোকদেরকে বিহার পরিদর্শন করিয়ে তাদেরকে গুহ্যদ্বার ও প্রস্রাব দ্বারাদি সম্বন্ধীয় কথা উত্থাপন করে, সেগুলোর গুণাগুণ বর্ণনা করছিলেন। অসদ্ধর্ম সেবনের জন্য অনুরোধ জ্ঞাপন করছিলেন। মৈথুন সেবনাদির কথা জিজ্ঞাসা করছিলেন এবং সেই সম্পর্কে প্রতিজিজ্ঞাসা করছিলেন। কামসংসর্গের সংকেত দিচ্ছিলেন; ইশারা করছিলেন; পরামর্শ করছিলেন এবং সেই সম্বন্ধে বিভিন্ন ধরনের লক্ষণসমূহ ব্যাখ্যা করছিলেন। আয়ুষ্মান উদায়ী কর্তৃক এরূপ বলা হলে, যে সকল স্ত্রীলোক পাপের প্রতি ভয়হীন, ধূর্তা, নির্লজ্জী তারা আয়ুষ্মান উদায়ীর সঙ্গে মৃদুহাঁস্য করছিলেন; উচ্চহাঁস্য, মহাহাঁস্য করছিলেন। কাম সম্ভোগের জন্যে নানাবিধ প্রলোভনের কথা বলছিলেন। ‘এটি পণ্ডক (নপুংসক), পুরুষ নয়’ এরূপ বলে তারা পরিহাস করছিলেন; ঠাট্টা করছিলেন। আর যারা লজ্জাশীলী, তারা সে স্থান ত্যাগ করে ভিক্ষুদের সম্মুখে এ বলে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে লাগলেন, “ভন্তে, এটি বড়ই অন্যায়, বড়ই অনুপযোগী যে, যেখানে আমাদের স্বামীরা পর্যন্ত যা বলার ইচ্ছা করেন না; কী করে সেখানে আর্য উদায়ী এরূপ দুষ্ট বাক্য ব্যবহার করছেন; মন্দ আচরণ করছেন?” যে সকল ভিক্ষু অল্পেচ্ছু, সন্তুষ্টিপরায়ণ, লজ্জাশীল, অনুসন্ধিৎসু, শিক্ষাকামী তাঁরাও এটি শুনে এ বলে নিন্দা, আন্দোলন ও ভর্ৎসনা করতে লাগলেন, “কী করে আয়ুষ্মান উদায়ী মাতৃজাতিকে দুষ্ট বাক্য দ্বারা নিজের অসৎ অভিপ্রায়ের কথা প্রকাশ করলেন?” তখন সেই ভিক্ষুগণ আয়ুষ্মান উদায়ীকে বহুভাবে নিন্দা ও ভর্ৎসনা করে ভগবানকে এ বিষয়ে প্রকাশ করলেন।

অতঃপর ভগবান এ কারণে এ হেতুতে ভিক্ষুসংঘকে সমবেত করিয়ে আয়ুষ্মান উদায়ীকে জিজ্ঞাসা করলেন, “সত্যই কি উদায়ী, তুমি মাতৃজাতিকে মন্দ বাক্য দ্বারা নিজের অসৎ অভিপ্রায়ের কথা প্রকাশ করেছ?”

“হ্যাঁ ভগবান, তা সত্য।”

ভগবান এ বলে নিন্দা করে বললেন, এটি তোমার পক্ষে অত্যন্তই অনুপযুক্ত, অননুকূল, অশোভনীয়, অশ্রমণোচিত, অগ্রহণযোগ্য এবং অকরণীয় কার্য হয়েছে। মোঘপুরুষ, কী করে তুমি মাতৃজাতিকে পাপজনক বাক্য দ্বারা অসৎ ইচ্ছার কথা প্রকাশ করতে পারলে?”

“হে মোঘপুরুষ, আমার দ্বারা কী বহু প্রকারে বিরাগের ধর্ম দেশিত হয় নাই? যা সরাগের ধর্ম নয়, বিসংযোগের ধর্ম দেশিত হয় নাই? যা সসংযোগের ধর্ম নয়, অনুপাদানের ধর্ম দেশিত হয় নাই? যা স-উপাদানের ধর্ম নয়!”

“হে মোঘপুরুষ, মৎ-কর্তৃক যেখানে বিরাগের ধর্ম দেশিত হয়েছে, কেন তুমি সেখানে সরাগের বিষয়ে চিন্তা করবে? যেখানে বিসংযোগের ধর্ম দেশিত হয়েছে, কেন সেখানে সংযোগের বিষয়ে চিন্তা করবে? যেখানে অনুপাদানের ধর্ম দেশিত হয়েছে, কেন সেখানে স-উপাদানের বিষয়ে চিন্তা করবে?”

“হে মোঘপুরুষ, নিশ্চয়ই মৎ-কর্তৃক অনেক প্রকারে রাগ-বিরাগের ধর্ম, মদ-বশীভূতকরণ, পিপাসা-বিনয় (আসক্তি দমন), আলয় সমুদ্ঘাত (আকাঙ্ক্ষার মূলোৎপাটন), ভবচক্রে উচ্ছেদ, তৃষ্ণাক্ষয়, বিরাগ, নিরোধ এবং নির্বাণের ধর্ম দেশিত হয়েছে।”

“হে মোঘপুরুষ, মৎ-কর্তৃক অনেক প্রকারে কামের প্রহান (পরিহার) সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কামসংজ্ঞার পরিজ্ঞা সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কামপিপাসার প্রতিবিনয় (দমন) সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং কাম যন্ত্রণার উপশম সম্বন্ধেও বিশেষরূপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।”

“হে মোঘপুরুষ, তোমার এরূপ কার্যে কিছুতেই অপ্রসন্নদের প্রসন্নতা উৎপাদনে এবং প্রসন্নদের প্রসন্নতা বৃদ্ধির সহায়ক নয়। অধিকন্তু, মোঘপুরুষ, এটি অপ্রসন্নদের অপ্রসন্নতা বৃদ্ধি এবং প্রসন্নদের কারো কারো মনে অন্যথাভাব আনয়নে সহায়ক হবে।”

অতঃপর ভগবান আয়ুষ্মান উদায়ীকে এরূপে অনেক প্রকারে তিরস্কার করে চঞ্চলতা, অবিনীতা, মহাতৃষ্ণা, অসন্তুষ্টিতা, সঙ্গপ্রিয়তা এবং অলসতার কুফল বর্ণনা করলেন। তিনি অনেক প্রকারে গাম্ভীর্যতা, সুবিনীতা, অল্পেচ্ছুতা, সন্তুষ্টিতা, সল্লেখ (তৃষ্ণাদির সংযমতা), ধুতাঙ্গব্রত, সংঘ-সেবাপ্রিয়তা, পুনর্জন্মক্ষয়ের জন্য বীর্যারম্ভের (উৎসাহশীলতার) সুফল বর্ণনা করে তদনুযায়ী এবং তদনুরূপ ধর্মদেশনা উত্থাপন করে ভিক্ষুগণকে সম্বোধন করে বললেন, “হে ভিক্ষুগণ, আমি দশবিধ প্রত্যয় ও অর্থবশে ভিক্ষুসংঘের জন্য শিক্ষাপদ প্রজ্ঞাপ্ত করব; যথা : ১. সংঘের সুষ্ঠুতা, ২. সংঘের শান্তিভাব বৃদ্ধির জন্যে, ৩. দুর্দম্য ভিক্ষুগণকে দমনের জন্যে, ৪. সদাচারী (শীলবান) ভিক্ষুদের শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থানের জন্যে, ৫. বর্তমানে উৎপন্ন তৃষ্ণাসমূহ সংবরণের জন্যে, ৬. অনাগত জন্মের আসবসমূহের উৎপত্তিকে প্রতিঘাতের জন্যে, ৭. অপ্রসন্নের প্রসাদ উৎপত্তির জন্যে, ৮. প্রসন্নের প্রসাদ বৃদ্ধির জন্যে, ৯. সদ্ধর্মের স্থিতির জন্যে এবং ১০. বিনয়কে অনুগ্রহের জন্যে যা একান্তই হিতবহ। তদ্ধেতু হে ভিক্ষুগণ, আমি ভিক্ষুদের জন্য এই শিক্ষাপদ প্রজ্ঞাপ্ত করছি :

যেই ভিক্ষু কামচিত্তে মনুষ্য-স্ত্রীলোকের সঙ্গে গুহ্যদ্বার ও প্রস্রাবদ্বার সম্বন্ধীয় কথা উল্লেখ করে মৈথুন বিষয়ক অশ্লীল বাক্য প্রয়োগ করে, যেমন কোনো যুবক কোনো যুবতীর সঙ্গে মৈথুন সম্পর্কে আলাপ করে থাকে, সেরূপ মৈথুন বিষয়ক আলাপ করলে সেই ভিক্ষুর ‘সংঘাদিশেষ’ অপরাধ হবে।

‘যো পনাতি’ অর্থে যা যেরূপ,… অথবা মধ্যম ইত্যাদি ভিক্ষুকে বুঝায়।

‘ভিক্খূতি’ বলতে ভিক্ষান্নজীবী ভিক্ষু,… জ্ঞপ্তি চতুর্থ কর্মবাক্য দ্বারা উপসম্পদাপ্রাপ্ত ভিক্ষুকে বুঝায়। এস্থলে এই অর্থেই ভিক্ষু অভিপ্রেত।

‘ওতিন্নো’ অর্থে অনুরক্ত, ভোগেচ্ছা, কামাসক্ত চিত্তকে বুঝায়।

‘বিপরিণতন্তি’ বলতে কাম-বাসনা জড়িতচিত্ত, হিংসাযুক্ত চিত্ত এবং অজ্ঞান চিত্তকে বিপথগামী চিত্ত বুঝায়। তবে এখানে কামাসক্ত চিত্তই অভিপ্রেত।

‘মাতুগামো’ বলতে মনুষ্যজাতীয়া স্ত্রীলোক বুঝায়। যক্ষী, প্রেতী অথবা তির্যগ্‌জাতীয় স্ত্রীকে নয়। যেই স্ত্রী বুদ্ধিমতী, দক্ষতাসম্পন্না, যে বিজ্ঞগণের ন্যায় উপলব্ধি করতে পারে, কোনটি সুভাষিত বাক্য আর কোনটি দুর্ভাষিত বাক্য আর কোনটি ন্যায় আর কোনটি অন্যায় বাক্য।

‘দুট্ঠুল্লা’ অর্থে গুহ্যদ্বার-প্রস্রাবদ্বার এবং মৈথুনবিষয়ক আলাপকে বুঝায়।

‘যথা তং যুবাযুবতিন্তি’ বলতে যুবক, যুবতী, তরুণ, তরুণী এবং কামভোগী পুরুষ ও কামভোগিনী স্ত্রী।

‘মেথুনুপসংহিতাহীতি’ বলতে মৈথুনধর্ম (ব্যভিচার) প্রতিসংযুক্ত আলাপ-আলোচনা বুঝায়।

‘সংঘাদিসেসাতি’ অর্থে যেই ভিক্ষু অপরাধ করেন তার অপরাধ মুক্তির জন্যে ভিক্ষুসংঘ কর্তৃক তাকে প্রথমে ‘পরিবাস কর্ম’, মধ্যভাগে ‘মানত্ত কর্ম’ প্রদান করা হয়, ‘মূলেপ্রতিকর্ষণ’ দেয়া হয় এবং শেষান্তে সংঘের মধ্যে ‘আহ্বান’ করেন। এই দণ্ডসমূহ একজন বা কয়েকজন ভিক্ষু দিতে পারেন না; সংঘ কর্তৃক দেয়া হয় বলে ‘সংঘাদিশেষ’ বলা হয়। সে জাতীয় দণ্ড কর্মের অন্তর্ভুক্ত আপত্তিসমূহকে তাই ‘সংঘাদিশেষ’ আপত্তি নামে অভিপ্রেত।

দ্বিবিধ মার্গাদির সম্পর্কে গুণ বর্ণনা করে, অগুণ বর্ণনা করে, যাচ্ঞা করে, অনুরোধ করে, জিজ্ঞাসা করে, প্রতিজিজ্ঞাসা করে, বর্ণনা করে, পরামর্শ করে এবং আক্রোশ করে।

‘বণ্ণং ভণতি বা গুণ বর্ণনা করে’ বলতে গুহ্যদ্বার ও প্রস্রাব দ্বার এই দ্বিবিধ দ্বারের গুণ বর্ণনা করে, প্রশংসা করে।

‘অবণ্ণংভণতি বা অগুণ বর্ণনা করে’ বলতে দ্বিবিধ দ্বার সম্পর্কে নিন্দা করে, ভর্ৎসনা করে, তিরস্কার করে।

‘যাচতি বা যাচ্ঞা করে’ অর্থে ‘এটি আমাকে দাও; আমাকে দিলে উত্তম হবে’ এরূপে যাচ্ঞা করে।

‘আযাচিতি বা প্রার্থনা করে’ বলতে “কখন তোমার মাতাপিতা ও দেবতাদেরকে সন্তুষ্টি বিধান করবে? কখন সেই সুখ-শান্তি ও সুমুহূর্ত আসবে? কখন আমি তোমার সঙ্গে মৈথুনধর্ম সেবনে সমর্থ হব?”

‘পুচ্ছতি বা জিজ্ঞাসা করে’ অর্থে ‘কিরূপে তুমি তোমার স্বামীকে দাও?’ ‘কিরূপে উপপতীকে দাও?’

‘পটিপুচ্ছতি বা প্রতিজিজ্ঞাসা করে’ বলতে “তুমি নাকি তোমার স্বামীকে এরূপে দাও? এরূপে নাকি তোমার উপপতিকে দাও?”

‘আচিক্খতি বা বর্ণনা করে’ বলতে জিজ্ঞাসা করে সে বলে “এভাবে দিবে’ এভাবে দিলে পতীর প্রিয়া ও মনাপ (আনন্দ বর্ধনকারিণী) হবে।”

‘অনুসাসতি বা পরামর্শ করে’ বলতে জিজ্ঞাসা না করেই সে বলে, “এভাবে দিবে’ এরূপে দিলে তুমি তোমার স্বামীর প্রিয়া ও মনাপ হবে।”

‘অক্কোসতি বা আক্রোশ করে’ বলতে তুমি পুরুষত্বহীন, তুমি পুরুষত্ব হতে বিচ্যুত, তুমি রক্তহীন, তোমার রক্ত নাই, তুমি স্ত্রীলিঙ্গযুক্ত, তুমি স্ত্রী-নপুংসক, তুমি বেপুরুষ (নারীসদৃশ), তোমার পুরুষত্ব ক্ষীণ, তুমি উভয়ব্যঞ্জনক (উভয় লিঙ্গবিশিষ্ট)।

ভিক্ষু স্ত্রীকে স্ত্রী ধারণায় আসক্তচিত্তে স্ত্রীকে গুহ্যদ্বার ও প্রস্রাব- দ্বারাদির গুণ বর্ণনা করলে সেগুলোর সম্পর্কে আলোচনা করলে; অসদ্ধর্ম সেবনের জন্যে যাচ্ঞা করলে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানালে; মৈথুন সেবনাদির কথা জিজ্ঞেস করলে এবং সেই সম্বন্ধে প্রতিজিজ্ঞাসা করলে বর্ণনা করলে পরামর্শ করলে এবং আক্রোশ করলে ভিক্ষুর ‘সংঘাদিশেষ’ অপরাধ হয়।

ভিক্ষু দুজন স্ত্রীকে দুজন স্ত্রী ধারণায় আসক্তচিত্তে দুই স্ত্রীকে গুহ্যদ্বার ও প্রস্রাব- দ্বারাদির গুণ বর্ণনা করলে সেগুলোর সম্পর্কে আলোচনা করলে; অসদ্ধর্ম সেবনের জন্যে যাচ্ঞা করলে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানালে; মৈথুন সেবনাদির কথা জিজ্ঞেস করলে এবং সেই সম্বন্ধে প্রতিজিজ্ঞাসা করলে বর্ণনা করলে পরামর্শ করলে এবং আক্রোশ করলে ভিক্ষুর একত্রে দুটি ‘সংঘাদিশেষ’ আপত্তি হয়।

ভিক্ষু স্ত্রী ও নপুংসক উভয়কে স্ত্রী ধারণায় আসক্তচিত্তে উভয়কে গুহ্যমার্গ ও প্রস্রাবমার্গাদির গুণ বর্ণনা করলে সেগুলোর সম্পর্কে আলোচনা করলে; অসদ্ধর্ম সেবনের জন্যে যাচ্ঞা করলে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানালে; মৈথুন সেবনাদির কথা জিজ্ঞেস করলে এবং সেই সম্বন্ধে প্রতিজিজ্ঞাসা করলে বর্ণনা করলে পরামর্শ করলে এবং আক্রোশ করলে ভিক্ষুর একটি ‘সংঘাদিশেষ’ ও একটি ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়।

ভিক্ষু স্ত্রীকে স্ত্রী ধারণায় আসক্তচিত্তে স্ত্রীকে গুহ্যদ্বার ও প্রস্রাব- দ্বারাদির কথা না বলে শুধু কণ্ঠাস্থির নীচ হতে হাঁটুর উপরিভাগ পর্যন্ত গুণ বর্ণনা করলে সেগুলোর সম্পর্কে আলোচনা করলে; অসদ্ধর্ম সেবনের জন্যে যাচ্ঞা করলে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানালে; মৈথুন সেবনাদির কথা জিজ্ঞেস করলে এবং সেই সম্বন্ধে প্রতিজিজ্ঞাসা করলে বর্ণনা করলে পরামর্শ করলে এবং আক্রোশ করলে ভিক্ষুর ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়।

ভিক্ষু দুজন স্ত্রীকে দুজন স্ত্রী ধারণায় আসক্তচিত্তে দুজন স্ত্রীকে গুহ্যদ্বার ও প্রস্রাব- দ্বারাদির কথা না বলে শুধু কণ্ঠাস্থির নিচ হতে হাঁটুর উপরিভাগ পর্যন্ত গুণ বর্ণনা করলে সেগুলোর সম্পর্কে আলোচনা করলে; অসদ্ধর্ম সেবনের জন্যে যাচ্ঞা করলে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানালে; মৈথুন সেবনাদির কথা জিজ্ঞেস করলে এবং সেই সম্বন্ধে প্রতিজিজ্ঞাসা করলে বর্ণনা করলে পরামর্শ করলে এবং আক্রোশ করলে ভিক্ষুর একত্রে দুটি ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়।

ভিক্ষু স্ত্রী ও নপুংসক উভয়কে স্ত্রী ধারণায় আসক্তচিত্তে উভয়কে গুহ্যদ্বার ও প্রস্রাব- দ্বারাদির কথা না বলে শুধু কণ্ঠাস্থির নিচ হতে হাঁটুর উপরিভাগ পর্যন্ত গুণ বর্ণনা করলে সেগুলোর সম্পর্কে আলোচনা করলে; অসদ্ধর্ম সেবনের জন্যে যাচ্ঞা করলে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানালে; মৈথুন সেবনাদির কথা জিজ্ঞেস করলে এবং সেই সম্বন্ধে প্রতিজিজ্ঞাসা করলে বর্ণনা করলে পরামর্শ করলে এবং আক্রোশ করলে ভিক্ষুর একটি ‘থুল্লচ্চয়’ ও একটি ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়।

ভিক্ষু স্ত্রীকে স্ত্রী ধারণায় আসক্তচিত্তে স্ত্রীকে কণ্ঠাস্থির উপরের অংশ হতে হাঁটুর নিচের অংশ পর্যন্ত গুণ বর্ণনা করলে সেগুলোর সম্পর্কে আলোচনা করলে; অসদ্ধর্ম সেবনের জন্যে যাচ্ঞা করলে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানালে; মৈথুন সেবনাদির কথা জিজ্ঞেস করলে এবং সেই সম্বন্ধে প্রতিজিজ্ঞাসা করলে বর্ণনা করলে পরামর্শ করলে এবং আক্রোশ করলে ভিক্ষুর ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়।

ভিক্ষু দুজন স্ত্রীকে দুজন স্ত্রী ধারণায় আসক্তচিত্তে দুজন স্ত্রীকে কণ্ঠাস্থির উপরের অংশ হতে হাঁটুর নিচের অংশ পর্যন্ত গুণ বর্ণনা করলে সেগুলোর সম্পর্কে আলোচনা করলে; অসদ্ধর্ম সেবনের জন্যে যাচ্ঞা করলে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানালে; মৈথুন সেবনাদির কথা জিজ্ঞেস করলে এবং সেই সম্বন্ধে প্রতিজিজ্ঞাসা করলে বর্ণনা করলে পরামর্শ করলে এবং আক্রোশ করলে ভিক্ষুর একত্রে দুটি ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়।

ভিক্ষু স্ত্রী ও নপুংসক উভয়কে স্ত্রী ধারণায় আসক্তচিত্তে উভয়কে কণ্ঠাস্থির উপরের অংশ হতে হাঁটুর নিচের অংশ পর্যন্ত গুণ বর্ণনা করলে সেগুলোর সম্পর্কে আলোচনা করলে; অসদ্ধর্ম সেবনের জন্যে যাচ্ঞা করলে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানালে; মৈথুন সেবনাদির কথা জিজ্ঞেস করলে এবং সেই সম্বন্ধে প্রতিজিজ্ঞাসা করলে বর্ণনা করলে পরামর্শ করলে এবং আক্রোশ করলে ভিক্ষুর একত্রে দুটি ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়।

ভিক্ষু স্ত্রীকে স্ত্রী ধারণায় আসক্তচিত্তে স্ত্রীকে পরিধেয় বস্ত্রালংকারাদির গুণ বর্ণনা করলে সেগুলোর সম্পর্কে আলোচনা করলে; অসদ্ধর্ম সেবনের জন্যে যাচ্ঞা করলে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানালে; মৈথুন সেবনাদির কথা জিজ্ঞেস করলে এবং সেই সম্বন্ধে প্রতিজিজ্ঞাসা করলে বর্ণনা করলে পরামর্শ করলে এবং আক্রোশ করলে ভিক্ষুর ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়।

ভিক্ষু দুজন স্ত্রীকে দুজন স্ত্রীধারণায় আসক্তচিত্তে দুজন স্ত্রীকে পরিধেয় বস্ত্রালংকারাদির গুণ বর্ণনা করলে সেগুলোর সম্পর্কে আলোচনা করলে; অসদ্ধর্ম সেবনের জন্যে যাচ্ঞা করলে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানালে; মৈথুন সেবনাদির কথা জিজ্ঞেস করলে এবং সেই সম্বন্ধে প্রতিজিজ্ঞাসা করলে বর্ণনা করলে পরামর্শ করলে এবং আক্রোশ করলে ভিক্ষুর একত্রে দুটি ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়।

ভিক্ষু স্ত্রী ও নপুংসক উভয়কে স্ত্রী ধারণায় আসক্তচিত্তে উভয়কে পরিধেয় বস্ত্রালংকারাদির গুণ বর্ণনা করলে সেগুলোর সম্পর্কে আলোচনা করলে; অসদ্ধর্ম সেবনের জন্যে যাচ্ঞা করলে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানালে; মৈথুন সেবনাদির কথা জিজ্ঞেস করলে এবং সেই সম্বন্ধে প্রতিজিজ্ঞাসা করলে বর্ণনা করলে পরামর্শ করলে এবং আক্রোশ করলে ভিক্ষুর একত্রে দুটি ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়।

অনাপত্তি : ধর্মার্থ বর্ণনায়, ধর্মদেশনা-হেতু, অনুশাসন-হেতু, উন্মাদ হলে এবং আদিকর্মিকের।

বিনীত বত্থু, উদান গাথা

লোহিত, কর্কশ, বিকীর্ণ, খর্ব, দীর্ঘ আর বপনে,

‘আশা করি এ পথ শেষ হবে’, শ্রদ্ধা, দান, সুকর্ম সম্পাদনে।

বিনীত বত্থু

সে সময়ে জনৈকা স্ত্রীলোককে রক্তবর্ণের নতুন কম্বল পরিহিতা দেখে অন্যতর ভিক্ষু আসক্তচিত্তে সেই স্ত্রীকে এরূপ জিজ্ঞেস করলেন, “হে ভগিনী, এটি কি লোহিত কম্বল?” “সেই স্ত্রীলোক এটি বুঝতে না পেরে উত্তর দিলেন-হ্যাঁ আর্য, এটি রক্তবর্ণের নতুন কম্বল।” এরূপ জিজ্ঞেস করাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সংশয় উদয় হলো : “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপ্ত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘সংঘাদিশেষ’ অপরাধী হয়েছি?” ভগবানকে এ বিষয়ে জ্ঞাত করলে ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন, “হে ভিক্ষু, তোমার ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়েছে; ‘সংঘাদিশেষ’ আপত্তি নয়।”

সে সময়ে খসখসে কম্বল পরিহিতা জনৈকা স্ত্রীলোককে দেখে জনৈক ভিক্ষু আসক্তচিত্তে এরূপ জিজ্ঞেস করলে, “হে ভগিনী, এটি কী খসখসে কম্বল?” “সেই স্ত্রীলোক এটি বুঝতে না পেরে উত্তর দিলেন-হ্যাঁ আর্য, এটি খসখসে কম্বল।” এরূপ জিজ্ঞাসা করাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সংশয় উদয় হলো : “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘সংঘাদিশেষ’ আপত্তিগ্রস্ত হয়েছি?” ভগবানকে এটি জ্ঞাত করলে ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন, “হে ভিক্ষু, তোমার ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়েছে; ‘সংঘাদিশেষ’ আপত্তি নয়।”

সে সময়ে নতুন প্রস্তুতকৃত কম্বল পরিহিতা অন্যতরা স্ত্রীকে দেখে জনৈক ভিক্ষু আসক্তচিত্তে এরূপ জিজ্ঞেস করলেন, “হে ভগিনী, এটি কী ঘনলোম বিশিষ্ট কম্বল?” “সেই স্ত্রীলোক এটি বুঝতে না পেরে উত্তর দিলেন-হ্যাঁ আর্য, এটি নতুন প্রস্তুতকৃত কম্বল।” এরূপ জিজ্ঞাসা করাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সংশয় উদয় হলো : “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘সংঘাদিশেষ’ আপত্তিগ্রস্ত হয়েছি?” ভগবানকে এ ব্যাপারে জানালে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন, “হে ভিক্ষু, তুমি ‘দুক্কট’ আপত্তিগ্রস্ত হয়েছ; ‘সংঘাদিশেষ’ আপত্তি নয়।”

সে সময়ে রুক্ষ কম্বল পরিহিতা জনৈকা স্ত্রীলোককে দেখে জনৈক ভিক্ষু আসক্তচিত্তে এরূপ জিজ্ঞেস করলেন, “হে ভগিনী, এটি রুক্ষ কম্বল?” “সেই স্ত্রীলোক এটি বুঝতে না পেরে উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ আর্য, এটি রুক্ষ কম্বল।” এরূপ জিজ্ঞেস করাতে তার মনে এরূপ সংশয় উদয় হলো : “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘সংঘাদিশেষ’ আপত্তিগ্রস্ত হয়েছি?” ভগবানকে এটি জ্ঞাত করলে ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন, “হে ভিক্ষু, তোমার ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়েছে; ‘সংঘাদিশেষ’ আপত্তি নয়।”

সে সময়ে দীর্ঘলোম বিশিষ্ট আবরণ পরিহিতা জনৈকা স্ত্রীকে দেখে জনৈক ভিক্ষু এরূপ জিজ্ঞাসা করলেন, “হে ভগিনী, এটি কি দীর্ঘলোমবিশিষ্ট বস্ত্র?” “সেই স্ত্রীলোক এটি বুঝতে না পেরে উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ আর্য, তাই বটে।” এরূপ জিজ্ঞাসা করাতে তার মনে এরূপ সংশয় উদয় হলো : “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘সংঘাদিশেষ’ আপত্তিগ্রস্ত হয়েছি?” ভগবানকে এটি জ্ঞাত করলে ভগবান বললেন, “হে ভিক্ষু, তোমার ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়েছে; ‘সংঘাদিশেষ’ আপত্তি নয়।”

সে সময়ে অন্যতরা স্ত্রীলোক ক্ষেত্রে বপন করাতে এসেছেন দেখে, জনৈক ভিক্ষু কামাসক্তচিত্তে সেই স্ত্রীলোককে এরূপ জিজ্ঞেস করলেন, “হে ভগিনী, আপনি কি বপন করাতে এসেছেন?’ “সেই স্ত্রীলোক এটি বুঝতে না পেরে উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ আর্য, তাই বটে।” এ হেতু সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সংশয় উদয় হলো : “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘সংঘাদিশেষ’ আপত্তিগ্রস্ত হয়েছি?” ভগবানকে এটি জানালে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন, “হে ভিক্ষু, তোমার ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়েছে; ‘সংঘাদিশেষ’ আপত্তি নয়।”

সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু জনৈকা পরিব্রাজিকাকে প্রতি পথে দেখে কামাসক্তচিত্তে এরূপ জিজ্ঞাসা করলেন, “হে ভগিনী, আমি আশা করি যে, এই পথ এখানেই শেষ?” “সেই স্ত্রীলোক এটি বুঝতে না পেরে উত্তর দিলেন-হ্যাঁ ভন্তে, আপনি এই পথই অনুসরণ করুন।” এরূপ জিজ্ঞাসা করাতে তার মনে এরূপ সংশয় উদয় হলো : “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘সংঘাদিশেষ’ আপত্তিগ্রস্ত হয়েছি?” ভগনাকে এ ব্যাপারে জানালে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন, “হে ভিক্ষু, তোমার ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়েছে; ‘সংঘাদিশেষ’ আপত্তি নয়।”

সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু আসক্তচিত্তে জনৈকা স্ত্রীকে এরূপ বললেন, “হে ভগিনী, আপনি খুবই শ্রদ্ধাবতী। অধিকন্তু আপনি আপনার স্বামীকে যা প্রদান করেন, তা আমাকে প্রদান করেন না কেন?” “কী ভন্তে?” “মৈথুনধর্ম।” এরূপ বলাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সংশয় উদয় হলো : “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘সংঘাদিশেষ’ আপত্তিগ্রস্ত হয়েছি?” ভগবানকে এটি জ্ঞাত করলে ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন, “হে ভিক্ষু, তোমার ‘সংঘাদিশেষ’ অপরাধ হয়েছে, অসদ্ধর্ম যাচ্ঞা করার কারণে।”

সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু কামাসক্তচিত্তে জনৈকা স্ত্রীকে এরূপ বললেন, “হে ভগিনী, আপনি শ্রদ্ধাবতী। তথাপি যা অগ্রদান তা আমাকে দেন না কেন?” “ভন্তে, অগ্রদান কী?” “মৈথুনধর্ম।” এরূপ প্রকাশ করাতে তার মনে এরূপ সংশয় উদয় হলো : “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘সংঘাদিশেষ’ আপত্তিগ্রস্ত হয়েছি?” ভগবানকে এটি জ্ঞাত করলে ভগবান তাকে বললেন, “হে ভিক্ষু, তোমার ‘সংঘাদিশেষ’ আপত্তি হয়েছে।”

সে সময়ে জনৈকা স্ত্রীলোক কাজ করছিলেন। তখন জনৈক ভিক্ষু আসক্তচিত্তে সেই স্ত্রীকে এরূপ বললেন, “হে ভগিনী, আপনি দাঁড়ান; আমি আপনার কাজ করে দিব… আপনি বসুন; আমি আপনার কাজ করে দিব… আপনি শয়ন করুন; আমি আপনার কাজ করে দিব।” এরূপ বলাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সংশয় উদয় হলো : “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘সংঘাদিশেষ’ আপত্তিগ্রস্ত হয়েছি?” ভগবানকে এটি জ্ঞাত করলে ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন, “হে ভিক্ষু, তোমার ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়েছে; ‘সংঘাদিশেষ’ আপত্তি নয়।”

দুট্ঠুল্ল কথা সম্বন্ধীয় শিক্ষাপদ সমাপ্ত

ব্যাখ্যা [০]