লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২১]

ছিদ্রান্বেষণসংজ্ঞী সূত্র

একসময় ভগবান শ্রাবস্তীতে অনাথপিণ্ডিক শ্রেষ্ঠীর দানকৃত জেতবন বিহারে অবস্থান করছেন। তথায় ‘ছিদ্রান্বেষণসংজ্ঞী’ নামক একদল দেবতা রাত্রের শেষভাগে পুরো জেতবন দিব্যজ্যোতিতে আলোকিত করে ভগবানের সমীপে এসে উপস্থিত হলেন। ভগবান বুদ্ধকে শ্রদ্ধাভিবাদন জানিয়ে একপার্শ্বে দাঁড়ালেন। অমনি এক দেবতা ভগবানকে এরূপ বললেন :

‘যে ব্যক্তি অন্যের অধিকারভুক্ত দ্রব্য নিজের বলে দাবি করে আর চুরি করেও তা স্বীকার করে না, সেই ঠক ও ধূর্ত লোকের যাবতীয় ভোগসম্পদ চুরির দ্বারা লাভ হয়ে থাকে।’

‘যা করবে তা বলবে। যা করবে না তা বলবে না। যারা বলার অনুসারে করে না, পণ্ডিত ব্যক্তিগণ তাদেরকে মিথ্যুক বলে নিন্দা করেন।’

(এবার ভগবান বললেন) ‘এই (ধর্মানুধর্ম) মার্গ এতোই কঠিন যে শুধুমাত্র বলার দ্বারা বা শুনার দ্বারা অনুসরণ করা সম্ভব নয়। এই মার্গ দ্বারা ধীর ও ধ্যানী ব্যক্তিগণ দুঃখ থেকে মুক্ত হন, মারের বন্ধন থেকে মুক্ত হন। পণ্ডিত ব্যক্তিগণ কখনো নিজেকে শুধু বলা ও শুনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন না। তাঁরা সংসারের গতিবিধি জ্ঞাত হয়ে প্রজ্ঞা দ্বারা সর্ব তৃষ্ণা নিবৃত্তি করেন, দুরতিক্রম্য ভবসাগর উত্তীর্ণ হন।’

তখন সেই দেবতাগণ মাটিতে অবতরণ করে ভগবানের পাদ বন্দনা করলেন। আর বলে উঠলেন, ‘ভন্তে, আমাদের অন্যায় হয়ে গেছে। আমরা মূর্খের মতো, জ্ঞানহীনের মতো ও অদক্ষ বা বেকুবের মতো ভগবানকে শিক্ষা দিতে চেয়েছি। ভন্তে, ভগবান আমাদের দোষ ক্ষমা করুন। ভবিষ্যতে এরূপ ভুল আর হবে না।’

অনন্তর ভগবান স্মিত হাসি হাসলেন। এবার সেই দেবতারা আকাশে উঠে গেলেন। এক দেবতা ভগবানের সম্মুখে এসে এই গাথা বললেন :

‘যে অপরাধ স্বীকারকারীকে ক্ষমা করে না, অন্তরে ক্রোধ ধারণ করে রাখে, সেই মহাক্রোধী ব্যক্তির বৈরিতা অবসান হয় না বরং বেড়েই চলে।’

‘যদি দোষ বা অপরাধ কিছু না থাকে, (সংসারে) কেউই কোনো ভুল না করে এবং বৈরিতার অবসান না হয়, তাহলে কে জ্ঞানী হতে পারে?’

‘মন্দ কার কাছেই থাকে না? কারই বা ভুল নেই? কে গাফিলতি করে বসে না? কোনো পণ্ডিত কী সবসময় স্মৃতিমান থাকেন?’

(এবার ভগবান বললেন) ‘তথাগত বুদ্ধ সব প্রাণীর প্রতি অনুকম্পা-পরায়ণ বা দয়া প্রদর্শনকারী। তাঁর কোনো মন্দ নেই। তিনি কোনো ভুল করেন না এবং কখনো গাফিলতি করেন না। এই পণ্ডিত ব্যক্তি সব সময় স্মৃতিমান। যে অন্তরে ক্রোধ ধরে রাখে ও দ্বেষাভিভূত হয়ে অপরাধ স্বীকারকারীদের (অপরাধ)ক্ষমা করে, তার বৈরিতা অবসান হয় না। আমি সে বৈরিতা অভিনন্দন করি না, তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করছি।’

ব্যাখ্যা [২]