লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২০]

উপাদান গুচ্ছ (পরিপবত্ত) সূত্র

শ্রাবস্তীতে উৎপত্তি :

‘হে ভিক্ষুগণ, এই হলো পঞ্চ উপাদানস্কন্ধ। এই পঞ্চ কিরূপ? রূপ-উপাদানস্কন্ধ, বেদনা-উপাদানস্কন্ধ, সংজ্ঞা-উপাদানস্কন্ধ, সংস্কার-উপদানস্কন্ধ, বিজ্ঞান-উপাদানস্কন্ধ। হে ভিক্ষুগণ, যতদিন পর্যন্ত আমি এই পঞ্চ উপাদানস্কন্ধ ও চারি গুচ্ছকে যথাভূত জানতে সক্ষম হইনি; ততদিন পর্যন্ত দেবলোকসহ মারলোকে, ব্রহ্মলোকে শ্রমণ-ব্রাহ্মণ, দেব-মনুষ্যদের নিকট অনুত্তর সম্যকসম্বোধিতে অভিসম্বুদ্ধত্ব লাভ করেছি বলে প্রকাশ করিনি। হে ভিক্ষুগণ, যখন আমি এই পঞ্চ উপাদানস্কন্ধ ও চারি গুচ্ছকে যথাভূত জানতে সক্ষম হয়েছি; তখনই দেবলোকে, মনুষ্যলোকে, ব্রহ্মলোকে শ্রমণ-ব্রাহ্মণ, দেব-মনুষ্যদের নিকট অনুত্তর সম্যকসম্বোধিতে অভিসম্বুদ্ধত্ব লাভ করেছি বলে প্রকাশ করেছি।’

‘চারি গুচ্ছ কিরূপ? রূপকে জানতে পেরেছি, রূপের উৎপত্তিকে জানতে পেরেছি, রূপের নিরোধকে জানতে পেরেছি, রূপের নিরোধগামী প্রতিপদাকে জানতে পেরেছি। বেদনা…. সংজ্ঞা…. সংস্কার…. বিজ্ঞানকে জানতে পেরেছি, বিজ্ঞানের উৎপত্তিকে জানতে পেরেছি, বিজ্ঞানের নিরোধকে জানতে পেরেছি, বিজ্ঞানের নিরোধগামী প্রতিপদাকে জানতে পেরেছি।’

‘হে ভিক্ষুগণ, রূপ কিরূপ? চারি মহাভূত এবং চারি মহাভূত হতে উৎপন্ন রূপ। হে ভিক্ষুগণ, একেই বলা হয় রূপ। আহার- সমুদয় হলে রূপ-সমুদয় হয়। আহার-নিরোধ হলে রূপ-নিরোধ হয়। এই আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গই রূপ-নিরোধগামী প্রতিপদা; যেমন : সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক আজীব, সম্যক প্রচেষ্টা, সম্যক স্মৃতি ও সম্যক সমাধি।’

‘হে ভিক্ষুগণ, যে-সমস্ত শ্রমণ-ব্রাহ্মণ এভাবে রূপকে জ্ঞাত হয়ে, এভাবে রূপ-সমুদয়কে জ্ঞাত হয়ে, এভাবে রূপ-নিরোধকে জ্ঞাত হয়ে, এভাবে রূপ-নিরোধগামী প্রতিপদাকে জ্ঞাত হয়ে রূপের নির্বেদ, বিরাগ ও নিরোধের জন্য প্রতিপন্ন হয়, তারা হলো সুপ্রতিপন্ন। যারা সুপ্রতিপন্ন, তারা এই ধর্মবিনয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত।’

‘হে ভিক্ষুগণ, যে-সমস্ত শ্রমণ-ব্রাহ্মণ এভাবে রূপকে জ্ঞাত হয়ে…. এভাবে রূপ-নিরোধগামী প্রতিপদাকে জ্ঞাত হয়ে, রূপের নির্বেদ, বিরাগ, নিরোধ ও অনুৎপত্তি হয়ে বিমুক্ত তারা সুবিমুক্ত [অর্হত্ত্বফল বিমুক্তিতে সুষ্ঠু বিমুক্ত]। যারা সুবিমুক্ত তারা কৃতকৃত্য। যারা কৃতকৃত্য তাদের প্রজ্ঞাপনের জন্য বৃত্ত থাকে না। [কারণ তারা অশৈক্ষ্যভূমিতে উপনীত হয়েছেন]।’

‘হে ভিক্ষুগণ বেদনা কিরূপ? হে ভিক্ষুগণ, এই হলো ছয় প্রকার বেদনাকায়―চক্ষু-সংস্পর্শজ বেদনা, শ্রোত্র-সংস্পর্শজ বেদনা, ঘ্রাণ-সংস্পর্শজ বেদনা, জিহ্বা-সংস্পর্শজ বেদনা, কায়-সংস্পর্শজ বেদনা, মন-সংস্পর্শজ বেদনা। হে ভিক্ষুগণ, একেই বলা হয় বেদনা। স্পর্শ-সমুদয় হলে বেদনা সমুদয় হয়। স্পর্শ-নিরোধ হলে বেদনা নিরোধ হয়। এই আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গই বেদনা-নিরোধগামী প্রতিপদা; যেমন : সম্যক দৃষ্টি…. সম্যক সমাধি।’

‘হে ভিক্ষুগণ, যে-সমস্ত শ্রমণ-ব্রাহ্মণ এভাবে বেদনাকে জ্ঞাত হয়ে, এভাবে বেদনা-সমুদয়কে জ্ঞাত হয়ে, এভাবে বেদনা-নিরোধকে জ্ঞাত হয়ে, এভাবে বেদনা-নিরোধগামী প্রতিপদাকে জ্ঞাত হয়ে বেদনার নির্বেদ, বিরাগ ও নিরোধের জন্য প্রতিপন্ন হয়, তারা হলো সুপ্রতিপন্ন। যারা সুপ্রতিপন্ন, তারা এই ধর্মবিনয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত।’

‘হে ভিক্ষুগণ, যে-সমস্ত শ্রমণ-ব্রাহ্মণ এভাবে বেদনাকে জ্ঞাত হয়ে…. এভাবে বেদনা-নিরোধগামী প্রতিপদাকে জ্ঞাত হয়ে…. তাদের প্রজ্ঞাপনের জন্য বৃত্ত থাকে না। [কারণ তারা অশৈক্ষ্যভূমিতে উপনীত হয়েছেন]।’

‘হে ভিক্ষুগণ সংজ্ঞা কিরূপ? হে ভিক্ষুগণ, এই হলো ছয় প্রকার সংজ্ঞাকায়―রূপ-সংজ্ঞা, শব্দ-সংজ্ঞা, গন্ধ-সংজ্ঞা, রস-সংজ্ঞা, স্পষ্টব্য-সংজ্ঞা ও ধর্ম-সংজ্ঞা। হে ভিক্ষুগণ, একেই বলা হয় সংজ্ঞা। স্পর্শ-সমুদয় হলে সংজ্ঞা-সমুদয় হয়। স্পর্শ-নিরোধ হলে সংজ্ঞা-নিরোধ হয়। এই আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গই সংজ্ঞা-নিরোধগামী প্রতিপদা; যেমন : সম্যক দৃষ্টি…. সম্যক সমাধি…. তাদের প্রজ্ঞাপনের জন্য বৃত্ত থাকে না। [কারণ তারা অশৈক্ষ্যভূমিতে উপনীত হয়েছেন]।’

‘হে ভিক্ষুগণ সংস্কার কিরূপ? হে ভিক্ষুগণ, এই হলো ছয় প্রকার চেতনাকায়―রূপ-সঞ্চেতনা, শব্দ-সঞ্চেতনা, গন্ধ-সঞ্চেতনা, রস-সঞ্চেতনা, স্পষ্টব্য-সঞ্চেতনা ও ধর্ম-সঞ্চেতনা। স্পর্শ-সমুদয় হলে সংস্কার-সমুদয় হয়। স্পর্শ-নিরোধ হলে সংস্কার-নিরোধ হয়। এই আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গই সংজ্ঞা-নিরোধগামী প্রতিপদা; যেমন : সম্যক দৃষ্টি…. সম্যক সমাধি।’

‘হে ভিক্ষুগণ, যে-সমস্ত শ্রমণ-ব্রাহ্মণ এভাবে সংস্কারকে জ্ঞাত হয়ে, এভাবে সংস্কার-সমুদয়কে জ্ঞাত হয়ে, এভাবে সংস্কার-নিরোধকে জ্ঞাত হয়ে, এভাবে সংস্কার-নিরোধগামী প্রতিপদাকে জ্ঞাত হয়ে সংস্কারের নির্বেদ, বিরাগ ও নিরোধের জন্য প্রতিপন্ন হয়, তারা হলো সুপ্রতিপন্ন। যারা সুপ্রতিপন্ন, তারা এই ধর্মবিনয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত।’

‘হে ভিক্ষুগণ, যে-সমস্ত শ্রমণ-ব্রাহ্মণ এভাবে সংস্কারকে জ্ঞাত হয়ে…. এভাবে সংস্কার-নিরোধগামী প্রতিপদাকে জ্ঞাত হয়ে, সংস্কারের নির্বেদ, বিরাগ, নিরোধ ও অনুৎপত্তি হয়ে বিমুক্ত তারা সুবিমুক্ত [অর্হত্ত্বফল বিমুক্তিতে সুষ্ঠু বিমুক্ত]। যারা সুবিমুক্ত তারা কৃতকৃত্য। যারা কৃতকৃত্য তাদের প্রজ্ঞাপনের জন্য বৃত্ত থাকে না। [কারণ তারা অশৈক্ষ্যভূমিতে উপনীত হয়েছেন]।’

‘হে ভিক্ষুগণ বিজ্ঞান কিরূপ? হে ভিক্ষুগণ, এই হলো ছয় প্রকার বিজ্ঞানকায়―চক্ষু-বিজ্ঞান, শ্রোত্র-বিজ্ঞান, ঘ্রাণ-বিজ্ঞান, জিহ্বা-বিজ্ঞান, কায়-বিজ্ঞান, মন-বিজ্ঞান। হে ভিক্ষুগণ, একেই বলা হয় বিজ্ঞান। নামরূপ-সমুদয় হলে বিজ্ঞান সমুদয় হয়। নামরূপ-নিরোধ হলে বিজ্ঞান-নিরোধ হয়। এই আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গই বিজ্ঞান-নিরোধগামী প্রতিপদা; যেমন : সম্যক দৃষ্টি…. সম্যক সমাধি।’

‘হে ভিক্ষুগণ, যে-সমস্ত শ্রমণ-ব্রাহ্মণ এভাবে বিজ্ঞানকে জ্ঞাত হয়ে, এভাবে বিজ্ঞান-সমুদয়কে জ্ঞাত হয়ে, এভাবে বিজ্ঞান-নিরোধকে জ্ঞাত হয়ে, এভাবে বিজ্ঞান-নিরোধগামী প্রতিপদাকে জ্ঞাত হয়ে বিজ্ঞানের নির্বেদ, বিরাগ ও নিরোধের জন্য প্রতিপন্ন হয়, তারা হলো সুপ্রতিপন্ন। যারা সুপ্রতিপন্ন, তারা এই ধর্মবিনয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত।’

‘হে ভিক্ষুগণ, যে-সমস্ত শ্রমণ-ব্রাহ্মণ এভাবে বিজ্ঞানকে জ্ঞাত হয়ে…. এভাবে বিজ্ঞান-নিরোধগামী প্রতিপদাকে জ্ঞাত হয়ে, বিজ্ঞানের নির্বেদ, বিরাগ, নিরোধ ও অনুৎপত্তি হয়ে বিমুক্ত তারা সুবিমুক্ত [অর্হত্ত্বফল বিমুক্তিতে সুষ্ঠু বিমুক্ত]। যারা সুবিমুক্ত তারা কৃতকৃত্য। যারা কৃতকৃত্য তাদের প্রজ্ঞাপনের জন্য বৃত্ত থাকে না। [কারণ তারা অশৈক্ষ্যভূমিতে উপনীত হয়েছেন]।’ [চতুর্থ সূত্র]

ব্যাখ্যা [১]