লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৯]

আধ্যাত্মিক অনিত্য সূত্র

আমি এরূপ শুনেছি। এক সময় ভগবান শ্রাবস্তীর জেতবনে অনাথপিণ্ডিকের বিহারে অবস্থান করছিলেন। সেই সময় ভগবান ভিক্ষুগণকে আহ্বান করলেন :

‘হে ভিক্ষুগণ,’ ‘হ্যাঁ ভদন্ত’ বলে ভিক্ষুগণ উত্তর প্রদান করলেন। ভগবান এরূপ বললেন :

“হে ভিক্ষুগণ, চক্ষু অনিত্য। যা অনিত্য তা দুঃখ, যা দুঃখ তা অনাত্ম। যা অনাত্ম ‘তা আমার নয়, তা আমি নই; তা আমার আত্মা নয়’। এরূপে সম্যক প্রজ্ঞার দ্বারা বিষয়টি যথাযথভাবে দর্শন করা উচিত।

শ্রোত্র অনিত্য। যা অনিত্য তা দুঃখ; যা দুঃখ তা অনাত্ম। যা অনাত্ম তা আমার নয়, তা আমি নই; তা আমার আত্মা নয়। এরূপে সম্যক প্রজ্ঞার দ্বারা বিষয়টি যথাযথভাবে দর্শন করা উচিত।

ঘ্রাণ অনিত্য। যা অনিত্য তা দুঃখ; যা দুঃখ তা অনাত্ম। যা অনাত্ম তা আমার নয়, তা আমি নই; তা আমার আত্মা নয়। এরূপে সম্যক প্রজ্ঞার দ্বারা বিষয়টি যথাযথভাবে দর্শন করা উচিত।

জিহ্বা অনিত্য। যা অনিত্য তা দুঃখ; যা দুঃখ তা অনাত্ম। যা অনাত্ম তা আমার নয়, তা আমি নই; তা আমার আত্মা নয়। এরূপে বিষয়টি সম্যক প্রজ্ঞার দ্বারা যথাযথভাবে দর্শন করা উচিত।

কায় অনিত্য। যা অনিত্য তা দুঃখ, যা দুঃখ তা অনাত্ম। যা অনাত্ম তা আমার নয়, তা আমি নই; তা আমার আত্মা নয়। এরূপে বিষয়টি সম্যক প্রজ্ঞার দ্বারা যথাযথভাবে দর্শন করা উচিত।

মন অনিত্য। যা অনিত্য তা দুঃখ, যা দুঃখ তা অনাত্ম। যা অনাত্ম তা আমার নয়, তা আমি নই; তা আমার আত্মা নয়। এরূপে বিষয়টি সম্যক প্রজ্ঞার দ্বারা যথাযথভাবে দর্শন করা উচিত।”

“হে ভিক্ষুগণ, শ্রুতবান আর্যশ্রাবক বিষয়টি এভাবে দর্শন করে চক্ষুতে নির্বেদ (অনাসক্ত) প্রাপ্ত হন, শ্রোত্রে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, ঘ্রাণে নির্বেদপ্রাপ্ত হন, জিহ্বায় নির্বেদ প্রাপ্ত হন, কায়ে নির্বেদপ্রাপ্ত হন ও মনে নির্বেদ প্রাপ্ত হন। নির্বেদ প্রাপ্ত হয়ে বিরাগ (রাগমুক্ত) হন, বিরাগ হতে বিমুক্ত হন, বিমুক্তিতে ‘বিমুক্ত হয়েছি’ বলে জ্ঞানের সঞ্চার হয় এবং তিনি প্রকৃষ্টরূপে জানতে পারেন, ‘আমার জন্মবীজ ক্ষীণ হয়েছে, ব্রহ্মচর্যব্রত উদ্‌যাপিত হয়েছে, করণীয় কার্য কৃত হয়েছে, এ জীবনে (আসব ক্ষয়ের জন্য) আর অন্য কর্তব্য নাই।”

প্রথম সূত্র সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [১]