লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৬]

দ্বিতীয় মিগজাল সূত্র

অতঃপর আয়ুষ্মান মিগজাল যেখানে ভগবান ছিলেন সেখানে উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদন করে একপাশে উপবেশন করলেন। একপাশে উপবিষ্ট আয়ুষ্মান মিগজাল ভগবানকে বললেন, “ভন্তে, আমার পক্ষে উত্তম (মঙ্গল) হবে, ভগবান আমাকে সংক্ষিপ্তভাবে ধর্মদেশনা করুন; যাতে আমি ভগবানের ধর্ম শ্রবণ করে একাকী, বিছিন্ন, অপ্রমত্ত, বীর্যবান (উদ্যমশীল) তদ্‌গত চিত্তে (নির্বাণগত চিত্তে) অবস্থান করতে পারি।”

“হে মিগজাল, চক্ষুবিজ্ঞেয় রূপ আছে, তা আনন্দদায়ক, মুগ্ধকর, মনোরম, প্রিয়রূপ, কামসংযুক্ত ও রমণীয়। যদি ভিক্ষু তাতে আনন্দ লাভ করে, উল্লাস প্রকাশ করে এবং তাতে অনুরক্ত হয়ে থাকে। সেই আনন্দ, উল্লাস ও অনুরক্তি হতে নন্দি উৎপন্ন হয়। হে মিগজাল, নন্দিরাগ (আসক্তি) সমুদয় হতে দুঃখসমুদয় হয় বলে আমি বলি।” শ্রোত্র-বিজ্ঞেয় শব্দ, ঘ্রাণ-বিজ্ঞেয় গন্ধ, জিহ্বা-বিজ্ঞেয় রস, কায়-বিজ্ঞেয় স্প্রষ্টব্য ও মনো-বিজ্ঞেয় ধর্ম সম্বন্ধেও এইরূপ।

“হে মিগজাল, চক্ষু-বিজ্ঞেয় রূপ আছে, তা আনন্দদায়ক, মুগ্ধকর, মনোরম, প্রিয়রূপ, কামসংযুক্ত ও রমণীয়। যদি ভিক্ষু তাতে আনন্দ লাভ না করেন, উল্লাস প্রকাশ না করেন, অনুরক্ত হয়ে না থাকেন। সেজন্য তার নন্দি নিরুদ্ধ হয়। হে মিগজাল, নন্দি রাগ নিরোধ হেতু দুঃখ নিরোধ হয় বলে আমি বলি।” শ্রোত্র-বিজ্ঞেয় শব্দ, ঘ্রাণ-বিজ্ঞেয় গন্ধ, জিহ্বা-বিজ্ঞেয় রস, কায়-বিজ্ঞেয় স্প্রষ্টব্য ও মনো-বিজ্ঞেয় ধর্ম সম্বন্ধেও এইরূপ।

অতঃপর আয়ুষ্মান মিগজাল ভগবানের ভাষণ অভিনন্দন ও অনুমোদন করে আসন হতে উঠে ভগবানকে অভিবাদন ও প্রদক্ষিণ করে প্রস্থান করলেন। তখন আয়ুষ্মান মিগজাল একাকী, বিচ্ছিন্ন, অপ্রমত্ত, বীর্যবান, নির্বাণগত চিত্তে অবস্থান করে অচিরেই যেজন্য কুলপুত্রগণ সম্যকভাবে আগার (গৃহ) হতে অনাগারিক (গৃহহীন) প্রব্রজিত হন, সেই সর্বোত্তম ব্রহ্মচর্যের চরম লক্ষ্য ইহজীবনেই স্বয়ং অভিজ্ঞা দ্বারা সাক্ষাৎকার করে, উপলব্ধি করে, অবস্থান করতে লাগলেন এবং তিনি প্রকৃষ্টরূপে জানতে পারলেন, ‘(আমার) জন্মবীজ ক্ষীণ হলো, ব্রহ্মচর্যব্রত উদ্‌যাপিত হলো, করণীয় কৃত হলো আর এই জীবনে (আসবক্ষয়ের জন্য) অপর কর্তব্য নাই’। আয়ুষ্মান মিগজাল অর্হৎদের অন্যতর হলেন।

দ্বিতীয় সূত্র সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [১]