লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৯]

উপসেন আশীবিষ সূত্র

আমি এরূপ শুনেছি। এক সময় আয়ুষ্মান সারিপুত্র এবং আয়ুষ্মান উপসেন রাজগৃহে অবস্থান করতেছিলেন, সীতবনে, সর্পশৌন্ডিক গুহায়। সেই সময় আয়ুষ্মান উপসেনের দেহের উপর একটি সর্প পতিত হয়েছিল। তখন আয়ুষ্মান উপসেন ভিক্ষুগণকে আহ্বান করলেন, “বন্ধুগণ, এদিকে আসুন, মুষ্টিস্থিত শষ্যের ভুষির মতো নিক্ষিপ্ত হওয়ার পূর্বে আমার এই দেহকে মঞ্চে স্থাপন করে বাইরে নিয়ে যান।”

এরূপ উক্ত হলে আয়ুষ্মান সারিপুত্র আয়ুষ্মান উপসেনকে বললেন, “আমরা কিন্তু আয়ুষ্মান উপসেনের দেহের ইতস্ততভাব (অস্থিরতা) বা ইন্দ্রিয়সমূহের পরিবর্তন দেখছি না।” তখন আয়ুষ্মান উপসেন বললেন, “বন্ধু সারিপুত্র, যার নিকট এরূপ দৃষ্টি (ধারণা) বিদ্যমান-আমিই চক্ষু বা চক্ষু আমার, আমিই শ্রোত্র (কর্ণ) বা শ্রোত্র আমার, আমিই ঘ্রাণ (নাসিকা) বা ঘ্রাণ আমার, আমিই জিহ্বা বা জিহ্বা আমার, আমিই কায় (দেহ), বা কায় আমার, আমিই মন বা মন আমার। বন্ধু সারিপুত্র, নিশ্চয়ই তার দেহের চঞ্চলতা বা ইন্দ্রিয়সমূহের পরিবর্তনশীলতা পরিলক্ষিত হবে। বন্ধু সারিপুত্র, আমার কিন্তু এরূপ দৃষ্টি (ধারণা) উৎপন্ন হয় না, ‘আমিই চক্ষু বা চক্ষু আমার, আমিই শ্রোত্র বা শ্রোত্র আমার, আমিই ঘ্রাণ বা ঘ্রাণ আমার, আমিই জিহ্বা বা জিহ্বা আমার, আমিই কায় বা কায় আমার, আমিই মন বা মন আমার।’ সেহেতু কিরূপেই বা আমার দেহের চঞ্চলতা বা ইন্দ্রিয়সমূহের পরিবর্তনশীলতা পরিলক্ষিত হবে?”

যেহেতু দীর্ঘকাল যাবৎ আয়ুষ্মান উপসেনের অহংকার, মমঙ্কার (অনুরাগ), মানানুশয় সুপ্রশমিত (মূলোৎপাটিত) সেহেতু তাঁর এরূপ ধারণা অবিদ্যমান, ‘আমিই চক্ষু বা চক্ষু আমার, আমিই শ্রোত্র বা শ্রোত্র আমার, আমিই ঘ্রাণ বা ঘ্রাণ আমার, আমিই জিহ্বা বা জিহ্বা আমার, আমিই কায় বা কায় আমার, আমিই মন বা মন আমার।’

অতঃপর সেই ভিক্ষুগণ আয়ুষ্মান উপসেনের দেহকে মঞ্চে স্থাপন করে বাইরে নিয়ে গেলেন। তখন মুষ্টিস্থিত শষ্যের ভুষির মতো আয়ুষ্মান উপসেনের দেহ নিক্ষিপ্ত হলো।”

সপ্তম সূত্র সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [১]