লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৭]

দ্বিতীয় গ্লান সূত্র

একসময় ভগবান রাজগৃহের বেলুবনে কলন্দক-নিবাপে অবস্থান করছিলেন। সে-সময় আয়ুষ্মান মহামৌদগল্লায়ন পীড়িত, দুঃখিত ও অত্যধিক রোগাক্রান্ত হয়ে গৃধ্রকূট পর্বতে অবস্থান করছিলেন। অতঃপর ভগবান সায়াহ্ন সময়ে ধ্যানরূপ নির্জনতা হতে উঠে এসে আয়ুষ্মান মহামৌদগল্লায়নের নিকট উপস্থিত হয়ে প্রজ্ঞাপ্ত আসনে উপবেশন করলেন। উপবিষ্ট ভগবান আয়ুষ্মান মহামৌদগল্লায়নকে এরূপ বললেন :

“হে মৌদগল্লায়ন, তুমি রোগের যন্ত্রণা সহ্য করতে সক্ষম হচ্ছ কি? তোমার দুঃখ-বেদনা পরিক্ষীণ হচ্ছে নাকি বৃদ্ধি পাচ্ছে? রোগ বৃদ্ধির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে নাকি অবসানের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে?” (তখন মহামৌদগল্লায়ন বললেন) “ভন্তে, আমার রোগের যন্ত্রণা সহ্য হচ্ছে না। আমার দুঃখ-বেদনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, পরিক্ষীণ হচ্ছে না। রোগ বৃদ্ধির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, অবসানের কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।”

“হে মৌদগল্লায়ন, মৎকর্তৃক সম্যকরূপে ব্যাখ্যাত, ভাবিত ও বহুলীকৃত সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ অভিজ্ঞা, পরিজ্ঞান ও নির্বাণ লাভের জন্য সংবর্তিত হয়। সেই সপ্ত কী কী? মৎকর্তৃক সম্যকরূপে ব্যাখ্যাত, ভাবিত ও বহুলীকৃত স্মৃতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ অভিজ্ঞা, পরিজ্ঞান ও নির্বাণ লাভের জন্য সংবর্তিত হয়। অনুরূপভাবে মৎকর্তৃক সম্যকরূপে ব্যাখ্যাত, ভাবিত ও বহুলীকৃত ধর্মবিচয়-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, বীর্য-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, প্রীতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, প্রশ্রদ্ধি (প্রশান্তি)-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, সমাধি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ এবং উপেক্ষা-সম্বোজ্ঝাঙ্গ অভিজ্ঞা, পরিজ্ঞান ও নির্বাণ লাভের জন্য সংবর্তিত হয়। মৎকর্তৃক সম্যকরূপে ব্যাখ্যাত, ভাবিত ও বহুলীকৃত এই সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ অভিজ্ঞা, পরিজ্ঞান ও নির্বাণ লাভের জন্য সংবর্তিত হয়।” “ভগবান, বোজ্ঝাঙ্গ তদ্রুপ, সুগত, বোজ্ঝাঙ্গ তদ্রুপই।”

ভগবান এরূপ বললেন। আয়ুষ্মান মহামৌদগল্লায়ন আনন্দিত হয়ে ভগবানের ভাষণ অনুমোদন করলেন। অতঃপর আয়ুষ্মান মহামৌদগল্লায়ন সেই রোগ হতে উত্থিত হলেন। সেইরূপে আয়ুষ্মান মহামৌদগল্লায়নের রোগ প্রহীন হয়েছিল।” পঞ্চম সূত্র।

ব্যাখ্যা [০]