লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৬]

আবরণ-নীবরণ সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, প্রজ্ঞা দ্বারা দুর্বল প্রাপ্ত হয় এমন পঞ্চবিধ আবরণ, নীবরণ ও চিত্তের উপক্লেশ রয়েছে। সেই পঞ্চ কী কী? কামচ্ছন্দরূপ আবরণ, নীবরণ ও চিত্তের উপক্লেশ প্রজ্ঞা দ্বারা দুর্বল প্রাপ্ত হয়। অনুরূপভাবে ব্যাপাদ, স্ত্যানমিদ্ধ (আলস্য-তন্দ্রা), ঔদ্ধত্য-কৌকৃত্য (অনুশোচনা) এবং বিচিকিৎসারূপ আবরণ, নীবরণ ও চিত্তের উপক্লেশ প্রজ্ঞা দ্বারা দুর্বল প্রাপ্ত হয়। ভিক্ষুগণ, এই পঞ্চবিধ আবরণ, নীবরণ ও চিত্তের উপক্লেশসমূহ প্রজ্ঞা দ্বারা দুর্বল প্রাপ্ত হয়।”

ভিক্ষুগণ, অনাবরণ, অনীবরণ ও চিত্তের অনুপক্লেশরূপ এই সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে বিদ্যা-বিমুক্তিফল সাক্ষাতের জন্য সংবর্তিত হয়। সেই সপ্ত কী কী? অনাবরণ, অনীবরণ ও চিত্তের অনুপক্লেশরূপ স্মৃতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা বিদ্যা-বিমুক্তিফল সাক্ষাতের জন্য সংবর্তিত হয়। অনুরূপভাবে অনাবরণ, অনীবরণ ও চিত্তের অনুপক্লেশরূপ ধর্মবিচয়-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, বীর্য-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, প্রীতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, প্রশ্রদ্ধি (প্রশান্তি)-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, সমাধি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ এবং উপেক্ষা-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে বিদ্যা-বিমুক্তিফল সাক্ষাতের জন্য সংবর্তিত হয়। ভিক্ষুগণ, অনাবরণ, অনীবরণ ও চিত্তের অনুপক্লেশরূপ এই সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে তা বিদ্যা-বিমুক্তিফল সাক্ষাতের জন্য সংবর্তিত হয়।

ভিক্ষুগণ, যেই সময়ে আর্যশ্রাবক প্রকৃতি বা স্বভাব জ্ঞাত হয়ে, মনোযোগ দিয়ে এবং সম্পূর্ণরূপে চিত্তকে একত্রিত করে কান পেতে (মনোযোগের সাথে) ধর্মশ্রবণ করে, সেই সময়ে তার এই পঞ্চ নীবরণ বিদ্যমান থাকে না। সেই সময়ে তার সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা পরিপূর্ণ থাকে।

ভিক্ষুগণ, সেই সময়ে কোন পঞ্চ নীবরণ বিদ্যমান থাকে না? সেই সময়ে কামচ্ছন্দ-নীবরণ বিদ্যমান থাকে না। অনুরূপভাবে সেই সময়ে ব্যাপাদ, স্ত্যানমিদ্ধ (আলস্য-তন্দ্রা), ঔদ্ধত্য-কৌকৃত্য (অনুশোচনা) এবং বিচিকিৎসা-নীবরণ বিদ্যমান থাকে না। সেই সময়ে এই পঞ্চ নীবরণ বিদ্যমান থাকে না।

ভিক্ষুগণ, সেই সময়ে কোন সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা পরিপূর্ণ থাকে? সেই সময়ে স্মৃতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা পরিপূর্ণ থাকে। অনুরূপভাবে সেই সময়ে ধর্মবিচয়-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, বীর্য-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, প্রীতি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, প্রশ্রদ্ধি (প্রশান্তি)-সম্বোজ্ঝাঙ্গ, সমাধি-সম্বোজ্ঝাঙ্গ এবং উপেক্ষা-সম্বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা পরিপূর্ণ থাকে। সেই সময়ে এই সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা পরিপূর্ণ থাকে। ভিক্ষুগণ, যেই সময়ে আর্যশ্রাবক প্রকৃতি বা স্বভাব জ্ঞাত হয়ে, মনোযোগ দিয়ে এবং সম্পূর্ণরূপে চিত্তকে একত্রিত করে কান পেতে (মনোযোগের সাথে) ধর্মশ্রবণ করে, সেই সময়ে তার এই পঞ্চ নীবরণ বিদ্যমান থাকে না। সেই সময়ে তার সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ ভাবনা পরিপূর্ণ থাকে।” অষ্টম সূত্র।

ব্যাখ্যা [০]