লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৮]

মার্গ সূত্র

শ্রাবস্তী নিদান। তথায় ভগবান ভিক্ষুগণকে আহ্বান করলেন, “হে ভিক্ষুগণ, প্রথম অভিসম্বুদ্ধত্ব প্রাপ্ত হয়ে একসময় আমি উরুবেলার নৈরঞ্জনা নদীর তীরে অজপাল নিগ্রোধ বৃক্ষমূলে অবস্থান করছিলাম। তখন নির্জনে, একাকী অবস্থান করার সময় আমার এরূপ চিত্ত-পরিবিতর্ক উৎপন্ন হলো-“সত্ত্বগণের বিশুদ্ধির জন্য, শোক-পরিদেবন সম্যকরূপে অতিক্রমের জন্য, দুঃখ-দৌর্মনস্য তিরোধানের জন্য, ন্যায় মার্গ লাভ ও নির্বাণ সাক্ষাতের জন্য ইহাই একমাত্র পথ; যথা : চারি স্মৃতিপ্রস্থান।

সেই চারি প্রকার কী কী? এক্ষেত্রে ভিক্ষুর বীর্যবান, সম্প্রজ্ঞানী ও স্মৃতিমান হয়ে এবং জগতে অভিধ্যা ও দৌর্মনস্য অপনোদন করে কায়ে কায়ানুদর্শী হয়ে অবস্থান করা উচিত। অনুরূপভাবে ভিক্ষুর বীর্যবান, সম্প্রজ্ঞানী ও স্মৃতিমান হয়ে এবং জগতে অভিধ্যা ও দৌর্মনস্য অপনোদন করে বেদনায় বেদনানুদর্শী, চিত্তে চিত্তানুদর্শী ও ধর্মে (মনোগোচর বিষয়ে) ধর্মানুদর্শী হয়ে অবস্থান করা উচিত। সত্ত্বগণের বিশুদ্ধির জন্য, শোক-পরিদেবন সম্যকরূপে অতিক্রমের জন্য, দুঃখ-দৌর্মনস্য তিরোধানের জন্য, ন্যায় মার্গ লাভ ও নির্বাণ সাক্ষাতের জন্য চারি স্মৃতিপ্রস্থানই একমাত্র পথ।

অনন্তর ব্রহ্মা সহম্পতি আমার চিত্ত-পরিবিতর্ক জ্ঞাত হয়ে, বলবান পুরুষ যেমন সঙ্কুচিত বাহু প্রসারণ করে, প্রসারিত বাহু সঙ্কোচন করে, ঠিক সেরূপেই ব্রহ্মলোকে অন্তর্হিত হয়ে আমার সম্মুখে প্রাদুর্ভূত হলো। অতঃপর ব্রহ্মা সহম্পতি উত্তরীয়বস্ত্র একাংশ করে আমার দিকে প্রণাম করে আমাকে এরূপ বলল, ‘ভগবান, তা এরূপই সুগত, তা এরূপই যে, সত্ত্বগণের বিশুদ্ধির জন্য, শোক-পরিদেবন সম্যকরূপে অতিক্রমের জন্য, দুঃখ-দৌর্মনস্য তিরোধানের জন্য, ন্যায় মার্গ লাভ ও নির্বাণ সাক্ষাতের জন্য ইহাই একমাত্র পথ; যথা : চারি স্মৃতিপ্রস্থান।’

সেই চারি প্রকার কী কী? ভন্তে, এক্ষেত্রে ভিক্ষুর বীর্যবান, সম্প্রজ্ঞানী ও স্মৃতিমান হয়ে এবং জগতে অভিধ্যা ও দৌর্মনস্য অপনোদন করে কায়ে কায়ানুদর্শী হয়ে অবস্থান করা উচিত। অনুরূপভাবে ভিক্ষুর বীর্যবান, সম্প্রজ্ঞানী ও স্মৃতিমান হয়ে এবং জগতে অভিধ্যা ও দৌর্মনস্য অপনোদন করে বেদনায় বেদনানুদর্শী, চিত্তে চিত্তানুদর্শী ও ধর্মে (মনোগোচর বিষয়ে) ধর্মানুদর্শী হয়ে অবস্থান করা উচিত। সত্ত্বগণের বিশুদ্ধির জন্য, শোক-পরিদেবন সম্যকরূপে অতিক্রমের জন্য, দুঃখ-দৌর্মনস্য তিরোধানের জন্য, ন্যায় মার্গ লাভ ও নির্বাণ সাক্ষাতের জন্য চারি স্মৃতিপ্রস্থানই একমাত্র পথ।’

ভিক্ষুগণ, ব্রহ্মা সহম্পতি এরূপ বলল। এরূপ বলার পর আবার এই গাথা ভাষণ করল :

“জন্ম ক্ষয়ের উপায় জ্ঞাতা, হিতকামী, দয়াবান,
যথাযথ জানেন তিনি একায়ন মার্গ সোপান;
সেই মার্গে সত্ত্ব বহু হয়েছে দুঃখস্রোত পার,
অনাগতে হবে আরও এখনো হচ্ছে পারাপার॥” তৃতীয় সূত্র।

ব্যাখ্যা [১]