“হে ভিক্ষুগণ, পাঁচ প্রকার ইন্দ্রিয় আছে। সেই পাঁচ প্রকার কী কী? সুখ-ইন্দ্রিয়, দুঃখ-ইন্দ্রিয়, সৌমনস্য-ইন্দ্রিয়, দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয় ও উপেক্ষা-ইন্দ্রিয়। ভিক্ষুগণ, যেই যেই শ্রমণ বা ব্রাহ্মণগণ সুখ-ইন্দ্রিয় জানে না, সুখ-ইন্দ্রিয়ের সমুদয় জানে না, সুখ-ইন্দ্রিয়ের নিরোধ জানে না এবং সুখ-ইন্দ্রিয় নিরোধগামিনী প্রতিপদা জানে না। অনুরূপভাবে দুঃখ-ইন্দ্রিয় জানে না, দুঃখ-ইন্দ্রিয়ের সমুদয় জানে না, দুঃখ-ইন্দ্রিয়ের নিরোধ জানে না এবং দুঃখ-ইন্দ্রিয় নিরোধগামিনী প্রতিপদা জানে না; সৌমনস্য-ইন্দ্রিয় সৌমনস্য-ইন্দ্রিয় জানে না, সৌমনস্য-ইন্দ্রিয়ের সমুদয় জানে না, সৌমনস্য-ইন্দ্রিয়ের নিরোধ জানে না এবং সৌমনস্য-ইন্দ্রিয় নিরোধগামিনী প্রতিপদা জানে না; দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয় দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয় জানে না, দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয়ের সমুদয় জানে না, দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয়ের নিরোধ জানে না ও দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয় নিরোধগামিনী প্রতিপদা জানে না; এবং উপেক্ষা-ইন্দ্রিয় জানে না, উপেক্ষা-ইন্দ্রিয়ের সমুদয় জানে না, উপেক্ষা-ইন্দ্রিয়ের নিরোধ জানে না এবং উপেক্ষা-ইন্দ্রিয় নিরোধগামিনী প্রতিপদা জানে না, তাদের আমি শ্রমণ বা ব্রাহ্মণ বলি না। তারা শ্রমণগণের মধ্যে শ্রমণ কিংবা ব্রাহ্মণগণের মধ্যে ব্রাহ্মণ বলে গণ্য হয় না। সেই আয়ুষ্মানগণ শ্রমণ্যার্থ বা শ্রমণ্যফল, ব্রাহ্মণ্যার্থ বা ব্রাহ্মণ্যফল এবং ইহজীবনে স্বয়ং অভিজ্ঞা প্রত্যক্ষ ও লাভ না করে অবস্থান করে।
ভিক্ষুগণ, যেই যেই শ্রমণ বা ব্রাহ্মণগণ সুখ-ইন্দ্রিয় জানে, সুখ-ইন্দ্রিয়ের সমুদয় জানে, সুখ-ইন্দ্রিয়ের নিরোধ জানে এবং সুখ-ইন্দ্রিয় নিরোধগামিনী প্রতিপদা জানে। অনুরূপভাবে দুঃখ-ইন্দ্রিয় জানে, দুঃখ-ইন্দ্রিয়ের সমুদয় জানে, দুঃখ-ইন্দ্রিয়ের নিরোধ জানে এবং দুঃখ-ইন্দ্রিয় নিরোধগামিনী প্রতিপদা জানে; সৌমনস্য-ইন্দ্রিয় সৌমনস্য-ইন্দ্রিয় জানে, সৌমনস্য-ইন্দ্রিয়ের সমুদয় জানে, সৌমনস্য-ইন্দ্রিয়ের নিরোধ জানে এবং সৌমনস্য-ইন্দ্রিয় নিরোধগামিনী প্রতিপদা জানে; দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয় দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয় জানে, দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয়ের সমুদয় জানে, দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয়ের নিরোধ জানে ও দৌর্মনস্য-ইন্দ্রিয় নিরোধগামিনী প্রতিপদা জানে; এবং উপেক্ষা-ইন্দ্রিয় জানে, উপেক্ষা-ইন্দ্রিয়ের সমুদয় জানে, উপেক্ষা-ইন্দ্রিয়ের নিরোধ জানে এবং উপেক্ষা-ইন্দ্রিয় নিরোধগামিনী প্রতিপদা জানে, তাদের আমি শ্রমণ বা ব্রাহ্মণ বলি। তারা শ্রমণগণের মধ্যে শ্রমণ কিংবা ব্রাহ্মণগণের মধ্যে ব্রাহ্মণ বলে গণ্য হয়। সেই আয়ুষ্মানগণ শ্রমণ্যার্থ বা শ্রমণ্যফল, ব্রাহ্মণ্যার্থ বা ব্রাহ্মণ্যফল এবং ইহজীবনে স্বয়ং অভিজ্ঞা প্রত্যক্ষ ও লাভ করে অবস্থান করে।” পঞ্চম সূত্র।
ব্যাখ্যা [০]