লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২২]

বজিরা সূত্র

শ্রাবস্তী নিদান। তখন বজিরা ভিক্ষুণী পূর্বাহ্ণ সময়ে চীবর পরিধানপূর্বক পাত্র-চীবর (সঙ্ঘাটি) নিয়ে শ্রাবস্তীতে পিণ্ডার্থে প্রবেশ করলেন। তথায় পিণ্ডচারণ করে ভোজনের পর তিনি দিনের বেলা অবস্থানের জন্য অন্ধবনে উপস্থিত হলেন। অন্ধবনে প্রবেশ করে অন্য একটি বৃক্ষমূলে দিবা-অবস্থানের জন্য উপবেশন করলেন। অনন্তর পাপীরাজ মার বজিরা ভিক্ষুণীর ভয়, ত্রাস, লোমহর্ষণ উৎপাদনের জন্য এবং সমাধি হতে চ্যুত করার জন্য সোমা ভিক্ষুণীর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে গাথায় বলল :

‘এই সত্ত্ব কার দ্বারা সৃষ্ট? সত্ত্বের সৃষ্টিকারক কে? সত্ত্ব কোথায় উৎপন্ন হয় এবং কোথায় নিরুদ্ধ হয়?’

তখন বজিরা ভিক্ষুণী চিন্তা করলেন, ‘এই গাথাটি মনুষ্য কিংবা অমনুষ্য কে ভাষণ করল?’ অনন্তর তাঁর এরূপ মনে হলো : ‘ইনি নিশ্চয়ই পাপীরাজ মার, আমাকে ভয়, ত্রাস, লোমহর্ষণ উৎপাদনের জন্য এবং সমাধি হতে চ্যুত করার জন্য গাথা ভাষণ করছে।’ তখন বজিরা ভিক্ষুণী ‘ইনি পাপীরাজ মার’ এরূপ জ্ঞাত হয়ে তাকে গাথায় প্রত্যুত্তর দিলেন :

‘হে মার, সত্ত্ব বলে মনে কর কেন? তুমি আসলেই মিথ্যাদৃষ্টিসম্পন্ন। এই দেহ শুধু সংস্কারপুঞ্জ, এখানে (পরমার্থ দৃষ্টিতে) সত্ত্ব বলে কিছু নেই। ঈষ, অক্ষ, চক্র, পঞ্জর প্রভৃতি অঙ্গসম্ভারে যেমন ‘রথ’শব্দ ব্যবহৃত হয়; তেমনি পঞ্চস্কন্ধের বিদ্যমানে শুধু (ব্যবহারিকভাবে) ‘সত্ত্ব’ বলে সম্মুতি দেয়া হয়। এভাবে পঞ্চস্কন্ধ দুঃখই উৎপন্ন হয়, স্থিতি হয়, অর্ন্তহিত হয়। পঞ্চস্কন্ধ দুঃখ ব্যতীত কিছু উৎপন্ন হয় না, কিছু নিরুদ্ধও হয় না।’

তখন পাপীরাজ মার ‘বজিরা ভিক্ষুণী আমাকে জেনেছেন’ বলে দুঃখী ও দুর্মনা হয়ে সেখানেই অন্তর্ধান করল।

ভিক্ষুণী-সংযুক্ত সমাপ্ত।

স্মারক-গাথা :

আলবিকা, সোমা, গৌতমী আর বিজয়া,
উৎপলবর্ণা, চালা, উপচালা, শিশুপচালা,
সেলাসহ দশ গণে শেষে উক্ত বজিরা।

ব্যাখ্যা [২]